ইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রতি মাসে আয়ের সহজ পদ্ধতি

 ইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রতি মাসে আয়ের সহজ পদ্ধতি খুঁজতে খুঁজতে বিরক্ত হয়ে গেছেন? এটা আসলে কঠিন কিছুই না।মুখ না দেখিয়ে, ভয়েস ছাড়া শুধু মোবাইল দিয়ে কিভাবে শুরু করবেন আজকে সহজ ভাষায় সবকিছু বুঝিয়ে দিলাম। 

ইউটিউব-চ্যানেল-থেকে-প্রতি-মাসে-আয়ের-সহজ-পদ্ধতি

সূচিপত্রঃইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রতি মাসে আয়ের সহজ পদ্ধতি সম্পর্কে সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দিলাম 

ইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রতি মাসে আয়ের সহজ পদ্ধতি কি মোবাইল দিয়ে সম্ভব

ইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রতি মাসে আয়ের সহজ পদ্ধতি  এখন আর  এখন ল্যাপটপ বা কম্পিউটার লাগে না। আপনার হাতে একটা স্মার্ট ফোন আর সাথে নেট সংযোগ থাকলেই যথেষ্ট। বর্তমানে আপনার হাতের ফোনটা দিয়েই ইউটিউব থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। আগে যেমন ইউটিউব চ্যানেল থেকে টাকা আয় করতে হলে অনেক কিছুই প্রয়োজন হয়েছে।

 যেমন ধরুন ভালো ক্যামেরা, মাইক, আবার ছিল এডিটিং এর ঝামেলা। কিন্তু এখন ২০২৬ সালে এসে এসব আর কোন কিছুরই প্রয়োজন হয় না। আপনার হাতের ফোনটা দিয়েই সবকিছু কাজ করতে পারবেন। আপনি যদি চান তাহলে শর্টস বানিয়ে, ভয়েস দিয়ে, এমনকি শুধু স্কিন রেকর্ড করেও মাসে ভালো টাকা আয় করা সম্ভব। মোবাইল দিয়ে ইনকাম করার সব থেকে সহজ উপায় হল শর্টস আর ফেসলেস ভিডিও বানিয়ে।এখন মুখ না দেখাইও ইনকাম করা সম্ভব। আপনি যদি মুখ দেখাতে না চান তাহলে সে ব্যবস্থাও আছে। এই বিষয়ে পরে বলছি।  

যারা মুখ না দেখে ইনকাম করতে চান তারা অবশ্যই ইউটিউব থেকে ইনকাম করতে পারবেন। তবে সব কাজেরই জন্যই ধৈর্যের প্রয়োজন। ধৈর্য সময় এই দুইটা দিয়ে যদি লেগে থাকতে পারেন তাহলে অবশ্যই আপনি youtube থেকে সফল হতে পারবেন। তবে youtube এর একটা নিয়ম আছে আপনার যদি ১০ হাজার সাবস্ক্রাইব হয় আর ১০ মিলিয়ন shorts ভিউ হয় তাহলে আপনি ইউটিউব থেকে ইনকাম করা শুরু করবেন। একদিনেই কিন্তু এত সাবস্ক্রাইবার আবার এত ভিউ হবে না তাই ধৈর্য সহকারে লেগে থাকতে হবে। আর নিয়মিত ভিডিও পোস্ট করতে হবে। 

ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় করার জন্য কি টাকা দেওয়া লাগে

ইউটিউব চ্যানেল খুলতে বা ভিডিও আপলোড করতে কোন ধরনের টাকা-পয়সা লাগে না। তবে যারা খুলতে জানেনা বা বুঝতে পারেনা তাদের কাছে অনেকেই টাকা নিয়ে খুলে দেয়। তবে বর্তমানে ২০২৬ সালে আমার মনে হয় না যে এমন কোন মানুষ নাই যারা নিজেরাই ইউটিউব খুলতে পারে না। আপনার কাছে যদি একটা মোবাইল নেট সংযোগসহ থাকে তাহলে আপনি আপনার একটা জিমেইল দিয়ে খুব সহজেই ইউটিউব চ্যানেল খুলে নিতে পারেন। তার জন্য কাউকে কোন টাকা পয়সা দেওয়া লাগবে না। 

এখন ইউটিউব আপনাকে নিজেই ফ্রি স্টোরেজ দেবে,ফ্রি এডিটিং টুলস দিবে , ফ্রি মিউজিক দিবে তাই আমার মতে যে জিনিসগুলো দিয়েই আপনি খুব সুন্দর করে ভিডিও বানিয়ে ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করতে পারবেন। এর জন্য এক্সট্রা ভাবে কোন টাকা পয়সা খরচ করার দরকার নাই। প্রথম অবস্থায় কি সবকিছু দিয়ে ভিডিও বানানো শুরু করলেই ভালো আমার মনে হয়। 

ইউটিউবে ভিডিও বানাতে তখনই টাকা লাগে যখন আপনি উন্নত মানের ভিডিও বানাতে চাইবেন তখন। অনেক ভালো ভালো ভিডিও বানানোর জন্য প্রফেশনাল ক্যামেরা, লাইট, মাইক এগুলো প্রয়োজন হয়। কিন্তু এগুলো ছাড়া প্রথম অবস্থায় মোবাইল দিয়েও কাজ শুরু করা যায়। ইউটিউব থেকে ইনকাম শুরু হবে তখন youtube আপনার ভিডিওতে এড দেখাবে। আর এই ভিডিওতে যে অ্যাড দেখাবে ওইখান থেকেও আপনাক টাকা দিবে।

মুখ না দেখিয়ে ভিডিও বানানোর সহজ উপায়

বর্তমান সময়ে অনেক কিছুই করার সহজ হয়ে গেছে। যেমন এখন যদি আপনি মুখ দেখাতে লজ্জা পান বা মুখ না দেখিয়ে ভিডিও করতে না চান তাহলে কোন সমস্যা নেই। মুখ না দেখিয়ে ভিডিও করেও আপনি ইনকাম করতে পারবেন ইউটিউবের মাধ্যমে। এই নিয়ে টেনশনের কিছু নেই। এখন মোবাইল দিয়ে ফেসলেস ইউটিউব চ্যানেল খোলা যায়। মুখ না দেখে ইনকাম করার সবথেকে সহজ পদ্ধতি হলো স্কিন রেকর্ড করে ভিডিও করা। 

আপনি যা ইচ্ছা করলে ক্যানভাতে ফ্রি ছবি বা ভিডিও বানিয়ে নিয়ে নিজের ভয়েস রেকর্ড করে youtube এ ছাড়তে পারবেন। রান্না, টেক টিপস, গল্প বানিয়ে, কাটুন ভিডিও বানিয়ে, কোরআন তেলাওয়াত বা ইসলামিক গজল বানিয়ে কে আপনি ইনকাম করতে পারেন। এই গুলো করলে আপনাকে মুখ না দেখালেও চলবে। বর্তমানে অনেক মেয়ে মানুষ আছে যারা মুখ না দেখিয়ে ভিডিও বানিয়ে ইনকাম করছে। 

আর একটা উপায় হল ইনশর্ট আর স্লাইড শো ভিডিও বানিয়ে। ইনশট বা ক্যাপ-ক্যাটে কিছু ফ্রী ছবি বা ভিডিও ক্লিপ আছে ওইগুলোর উপরে লেখা দিয়ে , পেছন থেকে লাগিয়ে দিলেই ভিডিও রেডি হয়ে গেল। বর্তমান সময়ে এআই দিয়ে এমন করা যাচ্ছে না। এয়ার মাধ্যমে ভয়েসটা ও দেওয়া যায়। মানুষ কন্টিন দেখে যে কেমন হয়েছে মানুষের মুখ দেখতে চায় না। তাই তাই নিয়মিত ভালো আছে এরকম ভিডিও আপলোড করে খুব তাড়াতাড়ি ইউটিউব চ্যানেলকে গ্রো করতে পারবেন। 

ইউটিউব চ্যানেল খোলার উপায়

ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় করতে হলেপ্রথমে দরকার ইউটিউব চ্যানেল কিভাবে খুলতে হয়। বর্তমান সময়ে এমন অনেক মানুষ আছে যারা ইউটিউব চ্যানেল খুলতে পারে না। যেমন আমি নিজেই খুলতে পারিনি অন্যজনকে দিয়ে খুলে নিয়েছিলাম। youtube চ্যানেল খোলা আসলেই অনেক সহজ। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইউটিউব চ্যানেল খোলা যায়। তবে একটা কথা মাথায় রাখবেন youtube চ্যালেঞ্জ শুধু খুললেই হবে না এসইও করে তারপরে খুলবেন করে google বুঝতে পারে আপনার একটা ইউটিউব চ্যানেল আছে। 

ইউটিউব চ্যানেল একদম ফ্রিতে খোলা যায়। প্রথমে আপনার মোবাইল দিয়ে ইউটিউব চ্যানেল ওপেন করবেন। তারপরে দেখবেন আপনার প্রোফাইল আইকন টা আছে ওইখানে ক্লিক করবেন। ওইখানে ক্লিক করার পরে দেখবেন create a channel কোথায় লেখা আছে সেখানে ক্লিক করবেন। যখন ওটা সিলেক্ট হয়ে যাবে তখন আপনি আপনার চ্যানেলের একটা নাম দিবেন লোগো দিবেন।তাহলেই তৈরি হয়ে গেল আপনার একটা ইউটিউব চ্যানেল এর জন্য কোন টাকা পয়সা খরচ করা লাগবে না। 

ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের প্রয়োজন নেই। শুধু আপনার হাতের ফোন ইন্টারনেট সংযোগ আর একটা জিমেইল আইডি থাকলেই হবে। ইউটিউব চ্যানেল যখন খোলা হয়ে গেল তখন অল্প কিছু কাজ আছে, চ্যানেলটাকে ভালোভাবে নতুন করে করে সাজাতে হবে। আপনি কি ধরনের ভিডিও বানাতে চান সে ধরনের ভিডিওর নাম গুলো লিখতে হবে। ব্যানার বানাতে হবে। আপনি ইচ্ছা করলে কেন বা থেকে ফ্রি ব্যানার বানিয়ে নিতে পারেন। 

একটা কথা অবশ্যই মনে রাখবেন আপনি চ্যানেলের নামটা কি দিলেন আর কি নিয়ে কাজ করবেন সই ঠিক রাখবেন তাহলে আপনার অর্ধেক কাজ প্রায় শেষ হয়ে যাবে। আপনি চ্যানেলের নাম অ্যাড দিলেন ভিডিও বানালেন আর একরকম তাহলে কিন্তু হবে না। ভিডিও গুলোর একটা নিস থাকতে হবে তাহলে খুব তাড়াতাড়ি youtube চ্যানেলটা গ্রো করবে। এই কাজটা করার পরে এখন ভিডিও বানানো আর আপলোড করা তাহলে কাজ শেষ। 

মোবাইল দিয়ে এডিটিং করে টাকা আয়

এখন মোবাইল দিয়ে এডিটিং করে ও ভালো টাকা ইনকাম করা যায়। এর জন্য কোন ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের প্রয়োজন হয় না। এডিটিং করার জন্য বেশ কিছু ফ্রি এডিটিং অ্যাপস আছে।in shot, capcut,  Canvas এই অ্যাপসগুলো ফ্রি এগুলো ব্যবহার করে আপনি ভিডিও এডিটিং করে টাকা ইনকাম করতে পারেন। নিজের ভিডিও কারো কাছ থেকে এডিটিং না করে, নিজে নিজে শর্ট রিলস এগুলো এডিটিং করে পোস্ট করলে অনেক টাকায় বেঁচে যাবেন। 

এরপরে যখন আপনার একটা স্কিল চলে আসবে এডিটিং করার তখন বন্ধু বা অন্য কারো ভিডিও এডিটিং করে আপনি টাকা ইনকাম করতে পারেন। একটা শর্ট রিস্ক যদি এডিটিং করে দেন এখান থেকে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত ইনকাম করতে পারবেন। আবার ক্যানভাস থেকে পোস্টার বা ব্যানার বানিয়ে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। ছোট ব্যবসায়ী আর ইউটিউবারদের প্রতিদিন থাম্বেল প্রয়োজন হয়। আর এসব থাম্বেল বানানোর তাদের সময় থাকে না। এসব বানিয়ে নেওয়ার জন্য তারা মানুষ খোজে। আপনি তাদের কাজ ধরে মোবাইল দিয়ে সুন্দর ডিজাইন করে তাদেরকে কয়েকটা ফ্রি দিয়ে দিবেন। 

যদি তাদের পছন্দ হয় তাহলে দেখবেন প্রতি মাসে আপনার কাছ থেকেই তারা এই সবকিছু বানিয়ে নেবে। এভাবে যদি আপনার স্কিলা আর  ফোন আর নেট সংযোগ থাকে তাহলে আপনি ঘরে বসেই টাকা ইনকাম করতে পারবেন। বর্তমানে অনলাইনে ইনকাম করা অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে। এখন বেশিরভাগ মানুষই অনলাইনে দিকে ঝুকে পড়েছে। তাই আপনি যদি ইচ্ছা করেন তাহলে শুরু করতে পারেন। 

ইউটিউব চ্যানেল  মনিটাইজেশন ২০২৬

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ২০২৬ সালে ইউটিউব চ্যানেল মনিটাইজেশন একদম সহজ হয়ে গেছে। আগে মনিটাইজেশন পাওয়া অনেক কঠিন ছিল। বর্তমানে দুইটা উপায়ে আপনি ইউটিউবে মনিটাইজেশন পেয়ে যাবেন। আপনার লম্বা ভিডিওর জন্য লাগবে ৫০০ জন সাবস্ক্রাইবার। আর শর্ট রিলসে ভিউ লাগবে লাস্ট, ৩০০০ হাজার ঘন্টা ওয়াচ টাইম।

আরো পড়ুনঃক্যাপচা এন্ট্রি করে টাকা আয় করার আসল ওয়েবসাইট 

 আর শট ভিডিওর জন্য লাগবে, ৫০০ জন সাবস্ক্রাইবার আর ৯০ দিনে ৩০ লক্ষ শর্ট ভিওয়ার লাগবে। এই দুইটা টার্গেট যদি আপনি পূরণ করতে পারেন তাহলে আপনি ইউটিউবে আবেদন করতে পারবেন মনিটাইজেশনের জন্য। ইউটিউব এটা চেক করে দেখবে যদি সব কিছু ঠিকঠাক থাকে তাহলে আপনি এক মাসের মধ্যেই মনিটাইজেশন পেয়ে যাবেন। মনিটাইজেশন অন করার পরে আপনার তিন জায়গা থেকে টাকা আসবে। 

  1. ১,ভিডিওতে এড দেখিয়ে টাকা, আপনি যখন মনিটাইজেশন পেয়ে যাবেন তখন আপনার ভিডিওতে ইউটিউব নিজে থেকেই আপনার ভিডিওর মাঝে প্রথমে অ্যাড দেখাবে সেখান থেকে আপনি টাকা ইনকাম করতে পারবেন। 
  2. ২,মানুষের দেওয়া টিপস, মানুষের দেওয়া টিপ থেকেও আপনি টাকা ইনকাম করতে পারবেন। আপনার ভিডিও যদি কারো ভালো লেগে থাকে তাহলে আপনাকে টাকা খুশি হয়ে টাকা দিতে পারবেন। ভিডিওর নিচে থ্যাংকস বাটন থাকে ওইখানে চাপ দিয়ে কেউ ৫০ টাকা ১০০ টাকা ২০ টাকা আপনাকে দিতে পারবে। 
  3. ৩,মেম্বারশিপ থেকে টাকা আয় করা, আপনি ভিডিও করতে করতে আপনার অনেক ফ্যান হয়ে যাবে। যারা আপনাকে অনেক ভালোবাসবে। আর মানুষ ভালবাসার মানুষকে কিছু দিতে পেরে অনেক খুশি হয়ে যায়। এরকম কিছু পাগল ফ্যান আছে যারা প্রতি মাসে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিয়ে আপনার চ্যানেলের মেম্বার হতে পারবে। এভাবে মনিটাইজেশন পাওয়ার পর অনেক স্টাইলকাম করা যায়। তাইতো সবাই বলে মনিটাইজেশন পাওয়া মানে সোনার হরিণ পাওয়া। 

ইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রতি মাসে আয়ের সহজ পদ্ধতি এর গোপন কথা

ইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রতি মাসে আয়ের সহজ পদ্ধতি এর কিছু গোপন কথা আজকে আপনাদের সাথে আমি শেয়ার করি। অনেকেই ভাবে যে ভাইরাল ভিডিও বানালেই ইউটিউব চ্যানেল থেকে টাকা ইনকাম করা যায়। কিন্তু আসল গোপন কথা হলো, আপনি যদি প্রতিদিন একটা করে শট ভিডিও আর সপ্তাহে দুইটা লং ভিডিও পোস্ট করেন, তাহলে কয়েক মাসের মধ্যে আপনার ইউটিউব চ্যানেলটা একটা ভালো পজিশনে দাঁড়িয়ে যাবে। 

তবে এখানে আর একটা কথা আছে ভিডিও নিয়মিত ভাবে আপলোড করতে হবে। আর সময়টাও মেইনটেন্স করে পোস্ট করতে হবে। একদিন এক টাইমে আর একদিন আর এক টাইমে এভাবে পোস্ট করলে youtube চ্যানেল গ্রো হবে না। যখন আপনি নিয়ম মেনে ভিডিও আপলোড করবেন তখন ইউটিউব নিজে থেকেই আপনার ভিডিওগুলো নতুন নতুন মানুষের কাছে পৌঁছে দেবে। 

 আরেকটা গোপন টিপস হল একটা নির্দিষ্ট নিশ নিয়ে কাজ করা, একটা ইউটিউব চ্যানেল খোলার আগে আপনি ভালো করে চিন্তা ভাবনা করে নিবেন আপনি কোন বিষয়ে কাজ করতে চাচ্ছেন। যদি রান্নার কাজ করতে চান তাহলে প্রতিদিনই রান্নার ভিডিও ছাড়তে হবে। রান্নার ভিডিও, একদিন গেম, একদিন ইসলামিক ভিডিও, একদিন কার্টুন ভিডিও এভাবে এক এক দিন এক এক রকম ভিডিও ছাড়লে youtube চ্যানেল কখনোই গ্রো হবে না। 

কারণ ইউটিউব বুঝতে পারবে না যে  আসলে আপনি কোন বিষয়ে মানুষের কাছে তুলে ধরতে চাচ্ছেন। আর আপনি যদি যেকোন একটা বিষয় নিয়ে ভিডিও দেন তাহলে ইউটিউব বুঝতে পারবে যে আসলে আপনি কোন বিষয় নিয়ে কাজ করছেন তখন youtube নিজে থেকেই সেই মানুষগুলোর কাছে আপনার ভিডিওগুলো পৌঁছে দেবে। তাই আগে কোন বিষয়ে কাজ করবেন সেই বিষয়টা ঠিক করে নেবেন। 

ইউটিউব চ্যানেল থেকে টাকা আয়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা

ইউটিউব থেকে টাকা আয় করা মানুষ যতটা সহজ মনে করে আসলে ততটাও সহজ নয়। কারণ আমি নিজেই তার প্রমাণ। মানুষের দেখাদেখি আমারও খুব ইচ্ছা হয়েছিল একটা youtube চ্যানেল খুলবো। কিন্তু কিভাবে খুলব সেটাও আমি জানতাম না। কারো কাছে খুলে নিতে গেলে বলে টাকা লাগবে।একসময় আমি চ্যাট ডিপিটির হেল্প নিয়ে খুলে ফেললাম। এরপর থেকে প্রতিদিন নিয়ম করে শর্ট রিলস পোস্ট করতে লাগলাম। 

এভাবে করতে করতে দুই মাস গেল তিন মাস গেল কোন উন্নতি হচ্ছিল না। না সাবস্ক্রাইবার বাড়ে না ভিউ বাড়ে।মাঝে মাঝে খুব কান্না আসতো। মনে হতো আমাকে দ্বারা হবে না। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। আর একটা কথা বলতে ভুলে গেছি, সেটা হল ইউটিউব চ্যানেল খুলবো তখন আমার কাছে নতুন ফোনও ছিল না। একটা পুরাতন ফোন অল্প কিছু এমবি এটা দিয়ে শুরু করেছিলাম। তারপরে একটা কথা আছে না সবুরে মেওয়া ফলে। ধৈর্য ধরে কাজ করেছিলাম বলে হঠাৎ একদিন দেখছি আমার একটা ভাইরাল হয়ে গেছে। 

ইউটিউব-চ্যানেল-থেকে-প্রতি-মাসে-আয়ের-সহজ-পদ্ধতি

এটা তো আমার কাছে স্বপ্নের মত মনে হয়েছিল। আমি বারবার দেখছিলাম এটা কি সত্যি ইউটিউব থেকেই হয়েছে। পরে দেখলাম আসলেই সত্যি তখন তো আমার আনন্দের কোন সীমা থাকে না। এবার আমার সাবস্ক্রাইব হয়ে গেল। তারপরে আমি সাজেশন এর আবেদন করলাম। অবশেষে মনিটাইজেশনটা পেয়ে গেলাম। এখন আলহামদুলিল্লাহ আমার ইনকাম শুরু হয়ে গেছে। তাই আমি বলব আপনারা কখনো ধৈর্য হারাবেন না। ধৈর্য নিয়ে কাজ করবেন আল্লাহ ধৈর্য ধারণকারী কে পছন্দ করেন। আর ধৈর্যের ফল সব সময় মিষ্টি হয়। 

ইউটিউব থেকে অনেকেই টাকা ইনকাম করে কিন্তু যা কেউ বলে না

ইউটিউব চ্যানেল থেকে অনেকেই টাকা ইনকাম করে। কিন্তু কিছু গোপন বিষয় আছে যা সবাই শেয়ার করতে চাই না। সেই বিষয়গুলো আজ আমি আপনাদের কাছে শেয়ার করব। আমাদের মনে একটা ধারণা আছে যে শুধু সাবস্ক্রাইবার বাড়লে আমরা টাকা ইনকাম করতে পারব। আসলে কিন্তু এ কথা ঠিক না। এভাবে টাকা আসে না টাকা আসে মানুষের সমস্যার সমাধান দিয়ে। সেই বিষয়ে কোন টিপসের ভিডিও বানিয়ে।  

আপনি ভাবছেন যে আপনার দশ হাজার সাবস্ক্রাইবার হলে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। কিন্তু অনেকে আছে যার ৫২ সাবস্ক্রাইবার নিয়ে মাসে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা ইনকাম করছে। তার টাকা ইনকামের গোপন রহস্য হলো সে এমন একটা বিষয় নিয়ে ভিডিও বানিয়েছে যা প্রতিদিন মানুষ google এ গিয়ে সার্চ করে। যেমন বলি বিকাশ থেকে টাকা তুলতে গিয়ে ভুল হলে করণীয় কি? এরকম যদি কেউ ভিডিও বানায় এই ভিডিওগুলো সারা জীবন মানুষের কাজে লাগে। আর একটা ভিডিও থেকে মাসের পর মাস ইনকাম হতে থাকে। 

আর একটা কথা বলি, নতুনদের জন্য ইউটিউব থেকে টাকা ইনকাম করা এখন অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে। কারন কি জানেন? নতুনরা মাত্র ৫০০ সাবস্ক্রাইব হলেই হাফ মনিটাইজেশন পেয়ে যায়। তখন থ্যাংকস আর মেম্বারশিপ থেকে ইনকাম করা শুরু করতে পারবে। আর যদি ১ হাজার সাবস্ক্রাইবার হয় তাহলে পুরো এডের টাকা পাওয়া যাবে। এর জন্য পাঁচ হাজার বা দশ হাজার সাবস্ক্রাইব এর প্রয়োজন হবে না। 

নতুন চ্যানেলে ভিউ কম আসার কারণ ও সমাধান

নতুন চ্যানেলে ভিউ না আসার আসল কারণ হচ্ছে, নিশ ঠিক না করেই কাজ করা। আজকে রান্নার ভিডিও কালকে একটা কার্টুন ভিডিও, পরের দিন একটা ইসলামিক ভিডিও এভাবে যদি ভিডিও ছাড়া হয় তাহলে বুঝতে পারেনা আসলে আপনি কোন বিষয় নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছেন। তখন চ্যানেলটা ভালোভাবে গ্রো করতে পারে না। তখন youtube আপনার ভিডিও কারো কাছে নিয়ে যায় না। 

আরেকটা কারণ হলো, ইউটিউব থাম্বেল আর টাইটেল দুর্বল হওয়া। থাম্বেল যদি আকর্ষণীয় না হয় তাহলে মানুষ স্ক্রল করতে উপরে উঠে যাবে। আপনার ভিডিও দেখে সে থামবেও না ক্লিকও করবেনা। থাম্বেল যদি নজর করা না হয় তাহলে মানুষ কিভাবে আপনার ভিডিও দেখবে আর কিভাবে বা ভিউ আসবে। এই দুইটা কারণ এর নতুন চ্যানেলে অনেক কম ভিউ আসে। 

এবার আসি সমাধানে, নতুন চ্যানেলে ভিউ আসার সমাধান একটাই। যেকোনো একটা নির্দিষ্ট নিশ নিয়ে কাজ করা । যদি স্টুডেন্টদের জন্য ভিডিও বানাতে চান তাহলে অনলাইনে ইনকাম সম্পর্কে ভিডিও বানাবেন। কারণ স্টুডেন্টরা বেশি অনলাইন ইনকামের দিকে ঝুকে পড়েছে। তারা এখন অনলাইন ইনকাম সম্পর্কে জানতে চাই। আর প্রতিদিন একটা করে শর্ট রিল ছাড়বেন। আর থাম্বেল টা দিবেন অনেক আকর্ষণীয় কয়েকটা লেখা দিবেন বড় বড় আর নিজের একটা রিঅ্যাকশন দিয়ে ছবি দিবেন। এভাবে নিয়মিত করলে ইনশাল্লাহ আপনার ইউটিউব চ্যানেলে ভিউ আসবে। 

যারা সফল হয়েছে তারা কোন ভুলগুলো করেনি

সত্যি কথা বলতে কি যারা সফল হয়েছে তারা কখনোই হাল ছেড়ে দেয়নি। ধৈর্য ধরে এটার পিছনে লেগে থেকেছে তারপরেই একদিন সফলতার মুখ দেখেছে। একটা কথা মনে রাখবেন, কষ্ট ছাড়া আর ধৈর্য ছাড়া কেউ কখনো সফল হতে পারেনি। যারা আজকে ভাইরাল হয়েছে প্রথমে কিন্তু তাদের ভিডিওতে বিশটাও ভিউ আসে নি। এই বলে তারা হাল ছেড়ে দেয়নি। নিয়ম ভাবে প্রতিদিন কাজ করে গেছে। আর তখন গুগল বোঝা গেছে যে তারা হাল ছাড়ার মানুষ নয়। তখন তার ভিডিও ভাইরাল করে দিয়েছে। 

যারা সফল হয়েছে তারা ধৈর্য ধরেছে কিন্তু হাল ছেড়ে দেয়নি। আর যারা আজকে সফল তারা কিন্তু বিভিন্ন ধরনের ভিডিও ইউটিউবে ফেসবুকে আপলোড করেনি। তারা যেকোনো একটা বিষয় বেছে নিয়ে সেই বিষয়ের উপর ভিডিও বানিয়েছে। যখন আপনি একটা বিষয় নিয়ে ভিডিও রেগুলার পোস্ট করতে থাকবেন তখন google নিজে থেকেই সেইসব মানুষের কাছে আপনার ভিডিওগুলো পাঠিয়ে দিবে।কিন্তু আপনার নিশ যদি ঠিক না থাকে তাহলে গুগল নিজেও বুঝতে পারে না আসলে আপনি ভিডিওগুলো কার জন্য বানাচ্ছেন।

তাই আমি আবারও বলছি ইউটিউবে যদি ভিডিও দিয়ে ইনকাম করতে চান তাহলে আগে একটা নির্দিষ্ট নিস সিলেট করুন। আর এই বিষয়ের ওপর লেগে থাকুন দেখবেন একদিন ইনশাআল্লাহ আপনিও সফল হবেন। আর সফলতার গল্পটা একদিন আপনিও আমাদেরকে শোনাবেন ইনশাআল্লাহ। তাই আর দেরি নয় আজকে থেকেই শুরু করে দেন আপনার ইউটিউব চ্যানেলের যাত্রা। 

ভাইরাল থাম্বেল বানানোর সহজ উপায়

ভিডিওতে ভিউ আনার পেছনে থাম্বেলেরও একটা হাত আছে। থাম্বেল যদি আকর্ষণীয় হয় তাহলে মানুষ আপনার ভিডিওতে ক্লিক করে ফেলবে। তাই থাম্বেল বানানোর সময় একটা অবাক করা ছবি বা রাগী ছবি দিয়ে থাম্বেল বানাবেন। আরফিলের পেছনে আছেন সেই বিষয়ে একটা ছবি দিয়ে দিবেন। আর এগুলো এখন সব ফ্রি ভাবে করা যায়। কোন টাকা পয়সা লাগেনা। 

আর একটা কথা লিখবেন না তিন-চারটা শব্দ বড় করে লিখেবেন। ১-২ টা কালার দিয়ে লেখাগুলো লিখবেন। আর এইগুলো নি ক্যান ভাই অ্যাপ দিয়ে সুন্দরভাবে নিজে নিজেই করে নিতে পারবেন তাও আবার একদম ফ্রিতে কোন টাকা পয়সা লাগবে না। তাই আর দেরি না করে আজকে থেকে শুরু করে দেন ভাইরাল থাম্বেল বানানো। যাতে থাম্বেল দেখেই মানুষের আপনার ভিডিও দেখার আগ্রহ জাগে। 

শেষ কথাঃইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রতি মাসে আয়ের সহজ পদ্ধতি সম্পর্কে শেষ পরামর্শ

ইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রতি মাসে আয়ের সহজ পদ্ধতি সম্পর্কে আমার শেষ পরামর্শ হলো -আপনারা নিয়মিত ভিডিও ছাড়বেন তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমি আগেও বলেছি এখনও আবার বলছি একটা নিস ঠিক করে ভিডিও বানাবেন। কোন বিষয়ে আপনি ভিডিও বানাতে চান সেই বিষয় নিয়ে আপনাকে ভিডিও ছাড়তে হবে। যাতে গুগল বুঝতে পারে আপনি কোন বিষয়টা মানুষের মাঝে তুলে ধরতে চান। তাহলে গুগল সেই মানুষগুলোর কাছে আপনার ভিডিওটা সাজেস্ট করবে। 

শুধু সাবস্ক্রাইব এর দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। আপনি নিয়ম মত কাজ করতে থাকেন ইউটিউব নিজে থেকে আপনাকে ভাইরাল বানিয়ে দেবে। তাই আমি আবারও বলছি দুইটা জিনিস মাথায় রাখবেন এক নাম্বার হচ্ছে যে বিষয় নিয়ে ভিডিও করতে চাচ্ছেন একটা বিষয় নিয়ে ভিডিও বানাবেন। দ্বিতীয়ত হচ্ছে, নিয়মিত ভিডিও আপলোড করবেন।আজকে সকালে কালকে রাত্রে এভাবে করবেন না। 

আরো পড়ুনঃফেসবুক পেজ মনিটাইজেশন করে টাকা আয় করার নিয়ম 

যাইহোক ইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রতি মাসে আয়ের সহজ পদ্ধতি সম্পর্কে আমি একবারে বিস্তারিত বলার চেষ্টা করেছি। এর মাঝে যদি কোন কিছু বাদ পড়ে যায় বা আমার লিখার মাঝে যদি কোন ভুল ভ্রান্তি হয়ে থাকে তাহলে আমাকে অবশ্যই ক্ষমা করে দেবেন। আবার মাঝে মাঝে কিছু বিষয় আপডেট হয় সেগুলো আপডেট ভিডিও গুলো দেখে ঠিক করে নেবেন। আর কোন কিছু বোঝার যদি সমস্যা হয় তাহলে আমাকে জানাবেন আমি বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ। 

 



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপনি যদি ইচ্ছা পুরন এর কোন পোস্টে কমেন্ট করতে চান, তাহলে এর নীতি মেনে কমেন্ট করুন। কারন প্রত্যেকটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url