ফেসবুক পেজ মনিটাইজেশন করে টাকা আয় করার নিয়ম

 ফেসবুক পেজ মনিটাইজেশন করে টাকা আয় করার নিয়ম সম্পর্কে জেনে ঘরে বসেই টাকা ইনকাম করা এখন অনেক সহজ। শুধু প্রয়োজন নিজের ইচ্ছা শক্তি আগ্রহ আর কিছু নিয়মকানুন। তাহলে ঘরে বসে ফেসবুক পেজ থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

ফেসবুক-পেজ-মনিটাইজেশন-করে-টাকা-আয়-করার-নিয়ম

 নিয়মিত কনটেন্ট , কপিরাইট ফ্রি ভিডিও আর অরজিনাল কনটেন্ট পাবলিস্ট করতে হবে। নিয়ম মেনে কাজ করতে পারলে ফেসবুক পেজ থেকে প্যাসিভ ইনকাম করা সম্ভব। আর দেরি নয় চলুন শুরু করি। 

সূচিপত্র: ফেসবুক পেজ মনিটাইজেশন করে টাকা আয় করার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো

ফেসবুক পেজ মনিটাইজেশন করে টাকা আয় করার নিয়ম ২০২৬

ফেসবুক পেজ মনিটাইজেশন করে টাকা আয় করার নিয়ম ২০২৬ সালের আপডেট অনুযায়ী এখন আগের থেকে অনেক সহজ হয়ে গেছে। ফেসবুক এখন নতুন কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য আগে যে যোগ্যতা বা শর্ত লাগতো, এখন কমিয়ে দিয়েছে। আগে ১০ হাজার ফলোয়ার লাগতো এখন মাত্র ৫০০০ ফলোয়ার হলে মনিটাইজেশন এর আবেদন করা যায়। আবার ওয়াচ টাইম এর ক্ষেত্রেও পরিবর্তণ এসেছে, আগে সাত হাজার মিনিট ওয়াচটাইম ছিল এখন ৪০ হাজার মিনিট ওয়াচ টাইম হলেই চলবে। 

তবে কনটেন্ট অবশ্যই নিজের বানানো অরজিনাল হতে হবে। আর ফেসবুকের কমিউনিটি গাইডলাইন মেনে কাজ করতে হবে। যদি ফেসবুকের গাইডলাইন মেনে কাজ করা যায় তাহলে ফেসবুকের বিভিন্ন জায়গা থেকে ইনকাম করা সম্ভব। যেমন ভিএলস এবং লং ভিডিও এ দুটা থেকেই আলাদা আলাদা ভাবে টাকা ইনকাম করা যায়। ২০২৬ সালের যেমন অনেক কিছুই সহজ করেছে।  তেমন এ আই এর মাধ্যমে কপিরাইট কনটেন্ট খুব সহজেই ধরে ফেলতে পারে। তাই ২০২৬ সালের টিকে থাকতে হলে নিজের তৈরি করা ভিডিও পোস্ট করতে হবে। 

এই আপডেটের ফেসবুক নতুন তিনটি আ এর পথ যোগ করে দিয়েছে। তার মধ্যে হল বোনাস program, subscription, আর Branded content,in stream ads এখন সব ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যেটা আগে ছিল না। টাকা পেমেন্ট সিস্টেমে আপডেট হয়েছে। ফেসবুক এখন অনেক কিছুই আপডেট করে ফেলেছে। এখন বিকাশ এবং নগদের মাধ্যমে ও টাকা উঠানো যাবে। আবেদন প্রক্রিয়া ও আরো সহজ করে দিয়েছে । Facebook professional dashboard এ এখন আয়ের হিসাব একবারে সঠিক সময়ে দেখা যায়।

কোন ভিডিও থেকে কত টাকা আসছে সেটাও আলাদা আলাদা দেখায়। এই সুবিধাগুলোর কারণে নতুন কনটেন্ট ক্রিয়েটররা খুব সহজেই শুরু করতে পারবে। তবে ২০০৬ সালের আপডেট ফেসবুক কঠোর হয়েছে অনেক বিষয়। ফেক এনগেজমেন্ট বট ফলোয়ার বা ভিউ কিনলে সাথে সাথে সাথেই পেজ নষ্ট হয়ে যাবে। একই ভিডিও বারবার আপলোড করলে মনিটাইজেশন পাওয়া যাবে না। তাই কনটেন্ট বানাতে হবে চিন্তা ভাবনা করে আর পোস্টও করতে হবে চিন্তা ভাবনা করে। কমপক্ষে সপ্তাহে তিনটা লং ভিডিও আর প্রতিদিন দুইটা রিয়েলস ভিডিও দিতে হবে। 

নতুনদের জন্য ফেসবুকে মনিটাইজেশন পাওয়ার উপায়

নতুনদের জন্য ফেসবুকে মনিটাইজেশন পাওয়ার প্রথম শর্তে হল একটি প্রফেশনাল পেজ তৈরি করা। ব্যক্তিগত ফেসবুকে কখনোই মনিটাইজেশন পাওয়া সম্ভব নয় ।তাই একটা পেজ খুলে প্রফেশনাল ড্যাশবোর্ড অন করে রাখতে হবে। এরপর পেজে নিয়মিত অরজিনাল নিজের ভয়েজ দিয়ে কন্টেন্ট পোস্ট করতে হবে। কপিরাইট ভিডিও মিউজিক বা অন্যের কনটেন্ট দিলে মনিটাইজেশন রিজেক্ট হয়ে যাবে। এখন ৫ হাজার ফলোয়ার এবং ৪০ হাজার মিনিট ওয়াচ টাইম হলেই ফেসবুকের শর্ত পূরণ হয়। 

তাই প্রতিদিন এক থেকে দুইটা রিয়েল এবং সপ্তাহে দুই থেকে তিনটা লং ভিডিও দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এভাবে যদি ২-৩ মাস কাজের সাথে লেগে থাকা যায় তাহলে খুব দ্রুত আপনার মনের আশা পূরণ করতে পারবেন। মনিটাইজেশন পাওয়ার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ উপায় হল এনগেজমেন্ট বাড়ানো। শুধু ভিডিও পোস্ট করলেই হবে না কমেন্টের রিপ্লাই দিতে হবে এবং লাইভে এসে দর্শকের সাথে কথা বলতে হবে। 

আপনি যে টপিক নিয়ে ভিডিও বানাবেন সেটা যেন মানুষের সমস্যার সমাধান হয় বা মানুষের যেন উপকারে আসে। ডেন্ডিং টপিক অর্থাৎ যেই টপিকে অনেকেই ভিডিও বানিয়ে ভাইরাল হয়েছে সেই টপিক নিয়ে পোস্ট করলে বা হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করলে অনেক রিচ বাড়ে। তাই সঠিক সময়ে পোস্ট করবেন। যোগ্যতা পূরণ হলে প্রফেশনাল ড্যাশবোর্ড থেকে আবেদন করতে পারবেন। facebook রিভিউ করে দুই থেকে তিন সপ্তাহে অনুমোদন দিয়ে দেবে। 

ফেসবুক পেজ প্রফেশনাল মোডে সেটআপ করার পদ্ধতি

ফেসবুক পেজ প্রফেশনাল মোডে সেটআপ কোড করতে হলে প্রথমেই আপনাকে ফেসবুক অ্যাপ থেকে আপনার পেজে যেতে হবে। পেজের ওপরে ডান দিকে তিনটা ডট অনেকেই বলে থ্রিডট ওইখানে যেতে হবে। ওই অপশনে গিয়ে ওইখানে ক্লিক করতে হবে। ক্লিক করার পর ওখানে থেকে কিছু তথ্য দেখাবে। টার্ন অন বাটনে ক্লিক করলে আপনার প্রোফাইল প্রফেশনাল মোড়ে চলে যাবে। এরপরে আপনাকে ক্যাটাগরি সিলেক্ট করতে বলবে। আপনার কনটেন্ট অনুযায়ী আপনি সেটা দিয়ে দেবেন। 

আপনি কি ধরনের কাজ করতে চান সেটা ওখানে দিবেন আপনার পছন্দমত। দেওয়ার পরে দান বাটনে ক্লিক করলে সেটা হয়ে যাবে। প্রফেশনাল মোড অন করার পর কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেটিং স দেখাবে সেগুলো ঠিক করতে হবে। প্রথমে এবাউট সেকশনে গিয়ে আপনার ঠিকানা ইমেল যোগাযোগের তথ্য দিতে হবে। প্রফেশনাল ড্যাশবোর্ডে গিয়ে ইনস্ট্যান্ট এবং মনিটাইজেশন অপশন চেক করবেন। এখানে থেকে আপনি আপনার পেজের গ্রোথ এবং আই ট্যাগ করতে পারবেন। 

কনটেন্ট ফরমেটে গিয়ে রিলস লাইভ পোস্ট এর জন্য আলাদা অপশন দেখতে পাবেন। প্রাইভেসে সেটিংস থেকে আপনাকে ফলো করতে পারবে সেই সেটিং টা ঠিক করে ফেলবেন। সব সেটা শেষ হলে নিয়মিত কনটেন্ট পোস্ট করা শুরু করবেন। ফেসবুক যে নিয়ম নীতিগুলো বেঁধে দিয়েছে সেই নিয়ম নীতি মেনে কাজ করতে হবে। তাহলে খুব তাড়াতাড়ি সফলতা অর্জন করা যাবে। ফেসবুক যেগুলো নিষেধ করেছে সে কাজগুলো কখনোই করা যাবে না।

ফেসবুক থেকে আয়ের কয়েকটি জনপ্রিয় উপায়

ফেসবুক পেজ থেকে আয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায় হল in stream ads। লং ভিডিওতে ফেসবুক নিজে থেকে বিজ্ঞাপন দেখাবে এবং তার বিনিময়ে আপনাকে টাকা দেবে। তবে যেমন তেমন ভিডিও বানালে হবে না ভিডিও এক মিনিটের বেশি হতে হবে আর মানসম্মত বা যোগ্যতা সম্পন্ন হতে হবে। আর একটা উপায় হল রিলস প্লে বোনাস। ছোট ভিডিও ভাইরাল হলে ফেসবুক আপনাকে বোনাস দেবে। তৃতীয় উপায় হল স্টার। যখন কেউ লাইফ করে আর লাইভের সময় কোন দর্শক আপনাকে স্টার গিফট করলে অনেক বড় বড় স্টার সেন্টারে আছে যারা স্টার উপহার দেয়।

স্টার স্ট্যান্ডারদের সাথে সুসম্পর্ক রাখলে তারা মাঝে মাঝেই স্টার গিফট করে। এই তিনটা উপায়ে নতুন কনটেন্টকে অর্ডাররা খুব সহজে আয় শুরু করতে পারে। আরো কিছু জনপ্রিয় উপায় আছে যেমন সাবসক্রিপশন, ব্র্যান্ডেড কন্টেন্ট।সাবস্ক্রিপসনে আপনার ঠান্ডা যারা আপনাকে ভালোবাসে তারা মাসে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে আপনার এক্সক্লুসিভ কন্টেন্ট গুলো দেখবে। ব্র্যান্ডেড কনটেন্ট এর মানে হচ্ছে কোম্পানি আপনাকে টাকা দিয়ে তাদের প্রোডাক্ট বিক্রি করার প্রমোট করাবে।

এছাড়া এফিলেট মার্কেটিং করেও আয় করা যায়। প্রোডাক্টের লিংক শেয়ার করলে কেউ যদি কিনে তাহলে আপনি কমিশন পাবেন। অনেক পেজের মাধ্যমে নিজের প্রোডাক্ট বা কোর্স বিক্রি করা যায়। এভাবে একটা পেজ থেকে পাঁচ থেকে ছয়টা উপায়ে ইনকাম করা সম্ভব। তবে ফেসবুকে কাজ করতে হলে ফেসবুকের কিছু নিয়ম কানুন আছে যেগুলো মেনে কাজ করতে হবে।

কপিরাইট ফ্রি কনটেন্ট বানানোর সেরা উপায়

কপিরাইট ফ্রি কনটেন্ট বানানোর প্রথম নিয়ম হলো নিজের ফোন থেকে ভিডিও বানানো । নিজের কন্ঠ দিয়ে ভিডিও বানাতে হবে আর সেই ভিডিও পোস্ট করতে হবে। কখনো অন্যের ভিডিও দেওয়া যাবে না। গান বা ছবি ডাউনলোড করেও ব্যবহার করা যাবে না। ফেসবুকের সাউন্ড কালেকশন থেকে ফ্রী মিউজিক ব্যবহার করা যায়। ক্যানভা, pexele, pixabay থেকে ফ্রি ছবি এবং ভিডিও ক্লি প নিতে পারবেন। স্কিন রেকর্ড করে টিউটোরিয়াল বানালে ও কপিরাইট আসবেনা।

আরো পড়ুন: কম দামের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং শেখার সেরা ওয়েবসাইট

আবার নিজের ফেস দেখে যদি ভিডিও করা হয় তাহলে মানুষ এটা তো আরো বেশি বিশ্বাসী হয়। কনটেন্টকে নতুন ভাবে তৈরি করতে হবে। কোন বিষয় দেখে আইডিয়া নিয়ে নিজের ভাষায় লিখে এআই দিয়ে ছবি এবং ভয়েস জেনারেট করে ব্যবহার করতে পারবেন। ফানি ভিডিও বানিয়েও ইনকাম করা যায়। আবার ফানি ভিডিও বানালে নিচে এডিট করে ওইখানে টেক্সট এড করতে পারবেন। অন্যের লাইভ বা ভিডিও থেকে ক্লিপ কেটে ব্যবহার কর যাবেনা।

প্রতিটা ভিডিওর শুরুতে এবং শেষে নিজের লোগো দিয়ে দিবেন এভাবে ১০% অরজিনাল কনটেন্ট বানালে মনিটাইজেশন খুব সহজেই পাওয়া যাবে রিজেক্ট হবে না। তাই বলি নিজে ভিডিও বানিয়ে নিজের কন্ঠে ভিডিও পোস্ট করবেন। ফেসবুকে যেসব ফ্রি মিউজিক আছে যদি ইচ্ছা হয় ওইগুলো ব্যবহার করবেন। আর কনটেন্ট কপি না করে সেটা আইডিয়া নিয়ে নিজে সুন্দর করে বানিয়ে পোস্ট করুন। এইভাবে অরজিনাল কনটেন্ট দিলে মনিটাইজেশন খুব তাড়াতাড়ি পাওয়া যায় আর পেজটা অনেক ভালো থাকে। 

দ্রুত ওয়াচ টাইম বাড়ানোর কয়েকটি সেরা উপায়

দ্রুত ওয়াচ টাইম বাড়ানোর জন্য প্রথমে কয়েক মিনিটের লং ভিডিও বানাতে হবে। ভিডিওর প্রথমে কয়েক সেকেন্ড এমন কিছু বলতে হবে যাতে পুরো ভিডিওটা মানুষ দেখতে চায়। এমন একটা কথা বলতে হবে ধরেন বলবেন শেষে একটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস আছে বা শেষে না দেখলে মিস করবেন, শেষটার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। এরকম একটা কথা বলে রাখলে মানুষের একটা আগ্রহ থাকে। যেমন এরকম ভিডিও গুলো আমি নিজেই দেখি। কিন্তু মাঝে মাঝে যখন সে সে কোন কিছু থাকে না তখন আবার রাগ হয় যে মিথ্যা কথা বলেছে। তাই মিথ্যা কথা না বলে শেষে একটা আকর্ষণীয় কোন কিছু রাখলে ভালো হয়। 

এভাবে কয়েকটা পাট বানালে যাদের প্রথম পাট টা দেখলে ভালো লাগবে। তারা পরবর্তী পার দেখার জন্য অনেক আগ্রহী হবে। এভাবে বেশ কয়েকটা আকর্ষণীয় ভিডিও বানালে অনেক বেশি দর্শক পাওয়া যায়। আর দর্শকেরা আগ্রহ করে দেখতে থাকে। আবার লাইভে এসে ২০-৩০ মিনিট কথা বললে ওয়াচ টাইম সবথেকে বেশি হয়। নিয়মিত পোস্ট করলে ফেসবুক এলগরিদম আপনার ভিডিও বেশি বেশি মানুষকে দেখাবে। আরো উপায় হল দর্শককে ধরে রাখার কৌশল ব্যবহার করা। 

ভিডিওর মাঝে প্রশ্ন করুন করলে আবার কমেন্টে কমেন্টে উত্তর বললে অনেকেই প্রশ্ন করে আবার উত্তর দেয় এভাবে ফলোয়ার বাড়বে। পেন্ডিং টপিক নিয়ে ভিডিও বানালে রিচ এবং ওয়াচ টাইম দুটোই বাড়ে। পুরনো ভাইরাল ভিডিও গুলো পিন করে প্রোফাইলে রাখলেও মানুষ এসে ভিডিওগুলো দেখলে ওয়াচ টাইম বাড়ে। এই টিপস গুলো যদি ফলো করতে পারেন তাহলে এক থেকে দুই মাসেই ৪০ হাজার মিনিট পূরণ করা সম্ভব হতে পারে। 

পেজে ফলোয়ার বাড়ানোর গোপন কিছু টিপস

ফলোয়ার দ্রুত বাড়ানোর গোপন টিপস হল নিস ঠিক করা। তারমানে একটা পেজে সব ধরনের ভিডিও না দিয়ে আগে চিন্তা ভাবনা করে নেবেন আপনি কোন বিষয়ে ভিডিও বানাতে চাচ্ছেন। বাপন বিষয় নিয়ে আপনি ফেসবুক পেজে কাজ করতে চাচ্ছেন সেটা আগে ঠিক করে নিতে হবে। যেমন, রান্নাবান্না,, কোরআন হাদিসের কথা, ফানি ভিডিও, মোটিভেশন করা যায় এরকম ভিডিও, এর মধ্যে যেকোনো একটা বেছে নিয়ে কাজ করতে হবে। আর প্রতিদিন একই সময় পোস্ট করলে আপনাকে রেলগারিদম আপনার ভিডিও সম্পর্কে তার ভালো ধারণা থাকবে। 

কয়েকটা রিলেভেন্ট হ্যাসট্রাক ব্যবহার করবেন । আবার অনেক বড় বড় পেজে গিয়ে একটা গঠনমূলক কমেন্ট করবেন। এতে করে ওইখানকার অনেক ফলোয়ার আপনার প্রোফাইলে এসে ফলো করবে। আর একটা উপায় হল মানুষের সাথে ভাল কানেকশন তৈরি করা। মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করা যাবে না। ভালো ভালো কমেন্ট করতে হবে। কেউ কমেন্ট করলে কমেন্টের রিপ্লাই দিতে হবে। প্রতি সপ্তাহে একবার লাইভে এসে ফলোয়ারদের সাথে ভালো ভালো কথা বলেন। প্রয়োজনীয় কথা বলেন প্রশ্ন করে উত্তর দেন এভাবে অনেক ফলোয়ার বেড়ে যায়। 

ফেসবুক পেজ মনিটাইজেশন করে টাকা আয় করার নিয়ম এর আবেদন প্রক্রিয়া

ফেসবুক পেজ মনিটাইজেশন করতে হলে প্রথমে ফেসবুক অ্যাপ ওপেন করে নিজের পেজে যেতে হবে। তারপর প্রফেশনাল ড্যাশবোর্ড এ ক্লিক করতে হবে ।সেখানে মনিটাইজেশন নামে একটা অপশন থাকবে সেখানে ক্লিক করতে হবে। সেইখানে ক্লিক করলে তারা দেখায় দিবে যে আপনার পেজটা মনিটাইজেশনের যোগ্য কিনা। যদি পাঁচ হাজার ফলোয়ার আর ৪০ হাজার মিনিট ওয়াচ টাইম পূরণ হয় তাহলে এপ্লাই নাউন বাটন আসবে। সেখানে ক্লিক করে ফেসবুকের নীতি এবং শর্তগুলো মেনে এগ্রি করুন। 

সব কাজ শেষ হয়ে গেলে সাবমিট করলে আপনার আবেদন ফেসবুকের কাছে চলে যাবে। আবেদন করার পর ফেসবুক এলগরিদম আপনার পেজ দুই থেকে তিন সপ্তাহ রিভিউ করবে। ভালোভাবে চেক করে দেখবে সবকিছু ঠিক আছে কিনা। সবকিছু ঠিক থাকলে, কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড ভায়োলেশন আছে কিনা সেটাও দেখবে। অনুমোদন হয়ে গেলে আপনাকে ইমেইল এবং নোটিফিকেশন এর মাধ্যমে জানাবে। এরপর আপনাকে ব্যাংক একাউন্ট এবং ট্যাক্স ইন পর্যন্ত করতে হবে। 

দেওয়া উঠ সেটা প যদি আসে তাহলে সেটাও সম্পূর্ণ করতে হবে। পেয়াউট সেটাআপ করলে ,সম্পূর্ণভাবে যদি আপনি সেটআপ করতে পারেন, তাহলে আপনি ইনকাম শুরু করতে পারবেন। অনেক সময় আবার পে আউট সেটআপটা রিজেক্ট হয়ে যায়। কি জন্য আপনার সেটআপ রিজেক্ট হলো সেটার কারণটা দেখিয়ে দেবে। যদি কারণটা ঠিক করতে পারেন তাহলে আবার আবেদন করতে পারবেন। পরবর্তীতে আবার ঠিক হয়ে যাবে। 

ফেসবুক পেমেন্ট এবং ব্যাংক একাউন্ট সেটআপ

মনিটাইজেশন অনুমোদন পাওয়ার পর প্রথমে প্রফেশনাল ড্যাশবোর্ডে চলে যাবেন। সেখানে পেয়াউট অপশনে ক্লিক করবেন তারপরে সেটআপ বাটনে ক্লিক করতে হবে। তারপরে ওখানে আপনার সমস্ত তথ্য দিতে বলবে ,একটা একটা করে সব তথ্য সঠিকভাবে দেবেন। প্রথমেই দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সিলেক্ট করতে হব। তারপরের ট্যাগ ফরম পূরণ করতে হবে। এরপর nid বা পাসপোর্ট অনুযায়ী নাম ঠিকানা হুবহু দিতে হবে। ইমেইল আর ফোন নাম্বার ভেরিফাই করতে হবে। 

সব তথ্য সঠিক ভাবে দিলে পরের ধাপে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যুক্ত করতে পারবেন। ব্যাংক একাউন্ট যুক্ত করার জন্য এট পেমেন্ট মেথরে ক্লিক করতে হবে। তারপরে অ্যাকাউন্ট অথবা পেপাল সিলেক্ট করতে হবে যে কোন একটা। বাংলাদেশের জন্য ব্যাংক একাউন্ট সবথেকে ভালো বিকাশ নগদ এখনো সাপোর্ট করে না। যার নামে অ্যাকউন্ট তার নাম ব্যাংকের নাম এগুলো দিতে হবে। Swift code দিতে কখনোই ভুলবেন না এটা ডলার পেমেন্টের জন্য কিন্তু অনেক জরুরী। 

আপাতত সঠিকভাবে দেওয়ার পরে ফেসবুক ছোট একটা টেস্ট পেমেন্ট পাঠাবে। মাসে যখন ১০০ ডলার হবে তখন অটো পেমেন্ট আপনার ব্যাংকে চলে আসবে। এগুলো সম্ভব কেবল ফেসবুকে নিয়ম অনুযায়ী কাজ করা। নিয়মিত পোস্ট ভিডিও রিয়েল এগুলো ছাড়া কমেন্টের রিপ্লাই দেওয়া এসব কাজগুলো করলে খুব তাড়াতাড়ি মনিটাইজেশন পাওয়া সম্ভব।

ফেসবুক পেজ যেসব কারণে রিজেক্ট হয়

ফেসবুক পেইজ রিজেক্ট হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো কপিরাইট কনটেন্ট পোস্ট করা। অন্যের ভিডিও গান ছবি, এইসব নিয়ে নিজের পেজে পোস্ট করলে কপিরাইট ইস্যু চলে আসে। কারণ এখন এআইয়ের যুগ, কপিরাইট থাকলে সে সাথে সাথে বুঝে ফেলে তখন পেজের সমস্যা হয়ে যায়। আর একটা কারণ হলো কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড ভায়োলেশান। ফেসবুকের নিয়ম নীতি না মেনে যদি ভিডিও দেওয়া হয় বা পোস্ট করা হয় তাহলে সেটাতেও পেজ রিজেক্ট হয়ে যায়। যেমন রাজনীতির ধর্ম মারামারি রক্ত ও তথ্য এসব নিয়ে ভিড়েও বানালে পেজ রিজেক্ট হয়ে যাবে। 

পেয়েছে টিকেট হওয়ার আর একটা কারণ হলো ওয়াচ টাইম এবং ফলোয়ার পূরণ না হওয়া। আরেকটা বড় সমস্যা হল শুধু ছবির উপর ভয়েস দিলেই হবে না। আবার একই ধরনের কনটেন্ট বা পোস্ট করলেও ফেসবুক এটাকে কোয়ালিটি সম্পূর্ণ মনে করে না। তাই নতুন নতুন ভালো কনটেন্ট পোস্ট করতে হবে। আরো কিছু কারণ আছে যেমন ফেক এনগেজমেন্ট। লাইক ফলোয়ার এসব কিনলে যদি ধরা পড়ে তাহলেও পেজ রিজেক্ট হয়ে যায়। 

আবার কেউ যদি বর দিয়ে ফলোয়ার এনগেজমেন্ট বাড়ায় তাহলে ধরা পড়বেই। পেজের নাম প্রোফাইল পিকচার এবং এবাউট সেকশন ফাঁকা থাকলেও সমস্যা ।অতিরিক্ত টেক্সট clickbait টাইটেল দিলেও স্কুলে যায়। ভিডিওতে বারবার বিজ্ঞাপন চাওয়া বা স্প্যাম দিলেও রিজেক্ট হয়ে যায় পেজ। একটি ডিভাইসে একাধিক পেজ থেকে কপি কনটেন্ট পোস্ট করলে সব পেজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই সব সময় নিজের অরজিনাল কনটেন্ট এবং ফেসবুকের নিয়ম নীতি মেনে চলে কাজ করলে পেজ রিজেক্ট হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে কম থাকে। 

ফেসবুকের নিয়ম অনুযায়ী কনটেন্ট পোস্ট করার নিয়ম

ফেসবুকের নিয়ম অনুযায়ী কনটেন্ট পোস্ট করার প্রথম নিয়ম হলো অরজিনাল কনটেন্ট বানিয়ে পোস্ট করা। নিজে নিজেই ভিডিও বানাতে হবে নিজের কন্ঠ দিতে হবে আবার নিজেও এডিট করে ওই ভিডিও পোস্ট করতে হবে।। অন্যের কনটেন্ট কপি করে সামান্য এডিট করলে মনিটাইজেশন কখনোই পাবেন না। আবার পোস্টে কোন সহিংসতা ,গুজব, ভুয়া খবর বা একজনের ওপর মিথ্যা কথা বলে ঘৃণা ছাড়ানো। আবার মারামারি রক্তাক্ত খুনখারাবি এসব পোস্ট করা যাবে না। 

ফেসবুক-পেজ-মনিটাইজেশন-করে-টাকা-আয়-করার-নিয়ম

আবার যতদিন ফেসবুকের নিয়ম অনুযায়ী ফলোয়ার না বাড়বে বা মনিটাইজেশন না পাওয়া যাবে ততদিন মিউজিক ব্যবহার করা যাবে না। তবে কপিরাইট মিউজিকের বদলে ফেসবুক সাউন্ড কালেকশন এর ফ্রি মিউজিক ব্যবহার করতে পারবেন। টাইটেলে এবং থাম্বেলে clickbait বা মিথ্যা কথা লেখা যাবে না। প্রতিদিন একটা থেকে দুইটা মানসম্মত পোস্ট করতে হবে। তাহলে রিস এবং রিভিউ দুটাই ভালো হবে। তারপরে নিয়ম হলো কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলা। নগ্নতা, মাদক, অস্ত্র বা আত্মহত্যা নিয়ে কোন কন্টেন্ট দেওয়া যাবে না। 

কমেন্টে স্প্যাম, শেখ লিংক বা অন্য পেজের প্রমোশন কখনোই করা যাবে না। পলিটিক্স এবং ধর্ম নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট সবসময় এড়িয়ে চলতে হবে। ভিডিওর দৈর্ঘ্য 1 মিনিটের বেশি হলে ইন স্ট্রিম এডস এর জন্য ভালো। পোস্ট করার আগে ক্যাপশন হ্যাশট এবং ক্যাটাগরি ঠিক করে দিতে হবে। এই নিয়ম গুলো মানলে পে জ একদম সেভ আর ভালো থাকবে। এক কথায় ফেসবুকের নিয়ম অনুযায়ী যদি সব কাজ করা হয় তাহলে পেজে খুব তাড়াতাড়ি মনিটাইজেশন পাওয়া যাবে। 

কমিউনিটি স্ট্যান্ডার মেনে ভিডিও ভাইরাল করার টিপস

কমিউনিটি স্ট্যান্ডার মেনে ভিডিও ভাইরাল করার প্রথম শর্তেই হলো পজেটিভ কনটেন্ট লিখে পোস্ট করা। তারপরে শিক্ষামূলক পোস্ট ,মোটিভেশনাল, রান্না, বিভিন্ন ধরনের টিপস বিষয়ক আবার কমেডি ভিডিও সবচেয়ে বেশি রিচ বাড়ে। ভিডিওর প্রথম তিন সেকেন্ড অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা দিয়ে শুরু করতে হবে যাতে করে মানুষ স্কুল করে না চলে যায়। এমন কথা বলতে হবে যাতে তারা পুরো ভিডিও দেখার আগ্রহ পায়। আর পেন্ডিং বিষয় নিয়ে নিজের মতো করে অরজিনাল ভিডিও বানালে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। 

আবার ক্যাপশনে প্রশ্ন করতে হবে যাতে মানুষ কমেন্ট করে এতে এনগেজমেন্ট বাড়বে। ফেসবুকের ফ্রি মিউজিক এবং ইফেক্ট ব্যবহার করলে পোস্ট বা ভিডিও দেখতে ভালো লাগে। তবে কপিরাইট পোস্ট বা ভিডিও করা থেকে সবসময়ই এড়িয়ে চলতে হবে। নিয়মিত একই সময়ে যদি পোস্ট করা হয় তাহলে আলগাডিদম সব থেকে বেশি মানুষকে দেখাবে। তারপরের উপায় হল অডিয়েন্সের সাথে সংযুক্ত থাকা। ভিডিওতে নিজের ফেস দেখানো এতে মানুষের বিশ্বাসটা বাড়ে। 

সাবটাইটেল দিতে হবে কারন ৮০% মানুষ শব্দ ছাড়া ভিডিও দেখে। বিতর্কিত সহিংসতা বা ভুয়া তথ্য সব সময় এড়িয়ে চলতে হবে। লাইভে এসে ফলোয়ারদের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, তাহলে এখান থেকেও রিচ বাড়ে। অন্য কনটেন্টদের সাথে বিশেষ করে যারা ভাইরাল হয়েছে তাদের সাথে গিয়ে ভিডিও করলেও ভিডিও ভাইরাল হয়। এভাবে সব নিয়ম মেনে যদি কাজ করা যায় তাহলে কয়েক মাসের মধ্যেই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার চান্স থাকে। তাই কেউ যদি ভিডিও ভাইরাল করতে চান তাহলে সব নিয়ম মেনে ভিডিও পোস্ট করবেন। 

ফেসবুক পেজ গ্রো করার জন্য ফ্রি টুলস

স্পেস গ্রো করার জন্য সর্বপ্রথমে মেয়েটা বিজনেস সাইট ব্যবহার করতে হবে। এখানে থেকে পোস্ট সিডিউল, রিচ , এনগেজমেন্ট এক কথায় সবকিছু ফ্রিতে দেখতে পাবেন। ফেসবুক ক্রিয়েটর স্টুডিও দিয়ে ভিডিওর যে পারফরম্যান্স এবং ওয়াচ টাইম চেক করে নিতে হবে। হাম্বনের এবং পোস্ট ডিজাইনের জন্য ক্যানভা একদম ফ্রি এবং সহজ টুলস। কেপকাট অ্যাপিয়ার ও প্রফেশনাল ভিডিও এডিট ক্যাপশন এবং ইফেক্ট এড করা যায়। Google trends দিয়ে পেন্ডিং টপিক খুঁজেছে অনুযায়ী কনটেন্ট বানালে ফেসবুক পেজ গ্রো হয়।

আরো পড়ুন: হারিয়ে যাওয়া ফেসবুক আইডি রিকভার করার সহজ নিয়ম

স্কিনশট দিয়ে মোবাইলে দ্রুত এডিট করা যায়। কিছু রিসার্চ এবং এনালাইসিস টুল খুব কাজে দেয়। মেয়েটা সাউন্ড কালেকশন থেকে কপিরাইট ফ্রি মিউজিক এবং সাউন্ড নিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। অ্যানসার দা পাবলিক দিয়ে মানুষ কোন বিষয়ে সার্চ করছে সেটা বের করলে আরো ভালো হয়। হ্যাশট্যাগ জেনারেটর দিয়ে ভিডিওর জন্য ৩-৫ হ্যাসট্রেট ব্যবহার করতে পারবেন। পিক্সেল এবং পিক্সাবে থেকে ফ্রি ছবি ও ভিডিও ক্লিপ ডাউন করে পেজকে গ্রো করা যায়। আবার চ্যাট জিপিটি দিয়ে স্ক্রিপ্ট এবং ক্যাপশনের আইডিয়া ও নিতে পারবেন।

সফল কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা

সফল কনটেন্ট ক্রিয়েটর বলে কনসিসটেন্সি সবথেকে বড় অস্ত্র। তার মানে হচ্ছে প্রতিদিন আপনি যদি ভিডিও দেন তাহলে যে টাইমে ভিডিও দিবেন একই সময় দেবেন। আর যদি সপ্তাহে দিতে চান তাহলে সপ্তাহে দিবেন। কিন্তু নিয়ম মেনে একই টাইমে দিতে হবে। তাহলে ফেসবুক এল গরিদম সবসময় আপনাকে সাপোর্ট করে যাবে। তারা বলে অন্যের কপি না করে নিজের স্টাইলে ভিডিও বা পোস্ট বানিয়ে আপলোড করুন। নিজের ফেস দেখিয়ে ভিডিও বানালে খুব তাড়াতাড়ি সফল হওয়া সম্ভব। 

কারণ যারা অডিয়েন্স আছে তারা মানুষকে ফলো করে। তারপরে কনটেন্ট কে ফলো করে। তাই প্রথম ১০ হাজার ফলোয়ার পেতে ছয় থেকে বারো মাস সময় লাগতেই পারে। এতে হতাশ হওয়া যাবে না। আর ভাইরাল হওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে নিজের সম্পূর্ণ মেধা দিয়ে ভিডিও দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। তাহলে আপনাকে ভিডিও ভাইরাল হওয়া নিয়ে টেনশন করতে হবে না ভিডিও এমনিতেই ভাইরাল হয়ে যাবে। আর যদি মাথাতে একবার ভিডিও ভাইরালের চিন্তা ঢুকে যায় তাহলে কিন্তু ঠিকমতো কাজ করতে পারবেন না। 

আর একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা হল কোন কিছু শেখা বা জানা কখনোই বন্ধ করবেন না। কারণ শেখা বা জানার কোন বয়স লাগে না । জ্ঞান অর্জন কখনো শেষ হয় না। আর পেজ খুললে ভালো খারাপ মানুষ সব জায়গাতেই থাকে, তেমন পেজেও থাকবে। যারা নেগেটিভ বা খারাপ কমেন্ট করবে তাদেরকে সব সময় ইগনোর করে চলবেন। তাদের দিকে কান না দিয়ে কাজের দিকে মন দিবেন। কোন ভিডিওতে ওয়াচ টাইম বেশি সেটা বুঝে তারপরের কনটেন্ট যখন বানবেন, তখন বুঝে শুনে আগের কন্টেনের তুলনায় আরো ভালো করে ভিডিও বানাবেন। প্রথম কয়েক মাস ভাইরাল হওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে নিজের লক্ষ্য এবং স্কিন এর দিকে নজর দিবেন। 

ফেসবুক পেজ মনিটাইজেশন করে টাকা আয় করার নিয়ম এর গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

ফেসবুক পেজ মনিটাইজেশন করে টাকা আয় করার নিয়ম মেনে কাজ করলে সফলতা আসবেই। শুধু তাড়াহুড়া করে না প্রতিদিন একটু একটু করে অরজিনাল কনটেন্ট ভিডিও পোস্ট করবেন। আর সফল হতে চাইলে প্রথমেই একটা বিষয় নির্ধারণ করে নেবেন অরজিনাল কনটেন্ট বানানোর জন্য। ওয়াচ টাইম বাড়ানোর জন্য এক মিনিটের বেশি ভিডিও এবং সাবটাইটেল ব্যবহার করতে হবে। ফলোয়ারদের সাথে কমেন্টে কথা বললে ভাল হয় এবং লাইভে এসে বিভিন্ন পেজের সাথে কানেকশন বা যোগাযোগ তৈরি করবেন। 

আগে টাকার পেছনে ছুটলে চলবে না তাই আগে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। যখন মানুষ আপনাকে বিশ্বাস করা শুরু করবে তখন ইনকাম এমনিতে চলে আসবে। তারপরে পরামর্শ হলো ফেসবুকের নীতি ১০০% মেনে চলতে হবে। যেমন কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড, কপিরাইট এবং মানুষের কনটেন্ট চুরি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। একটা পেজে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট না মিশিয়ে যেকোনো একটা বিষয়ে কনটেন্ট ভিডিও করবেন। স্টেজের অ্যাবাউট প্রোফাইল পিকচার আবার কভার প্রফেশনাল রাখবেন সবসময়ই। 

এইভাবে সবকিছু মেনে চললে খুব তাড়াতাড়ি সফলতা হাতের মুঠোয় চলে আসবে। ফেসবুক পেজ মনিটাইজেশন করে টাকা আয় করার নিয়ম সম্পর্কে আমি বিস্তারিত বলার চেষ্টা করেছি। সুবিধা, অসুবিধা থেকে শুরু করে কি করা যাবে ,কোনটা করা যাবে না, এসব নিয়ম সম্পর্কে বলেছি। এইসব লিখতে গিয়ে লিখার মাঝে যদি কোন ভুল থাকে অথবা কোন কিছু ইনফরমেশন দিতে ভুলে যায় তাহলে আমাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। আর কোন কিছু জানার প্রয়োজন হলে আমাকে জানাবেন আমি বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ।




এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপনি যদি ইচ্ছা পুরন এর কোন পোস্টে কমেন্ট করতে চান, তাহলে এর নীতি মেনে কমেন্ট করুন। কারন প্রত্যেকটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url