কম দামের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং শেখার সেরা ওয়েবসাইট

 কম দামের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং শেখার সেরা ওয়েবসাইট খুঁজছেন? তাহলে আর দেরি নয়, নতুন থেকে শুরু করে অ্যাডভান্স লেভেল পর্যন্ত সবকিছুই শিখুন। এখানে পাবেন একদম ফ্রি থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে অনেক ভালো একটা কোর্স। 

কম-দামের-মধ্যে-ফ্রিল্যান্সিং-শেখার-সেরা-ওয়েবসাইট

Fiverr, Upwork এসব থেকে কাজ পাওয়ার গোপন টিপসহ আরো অনেক কিছু। এখানে কোন টাকা নষ্ট হবে না এটা রিয়েল এবং প্র্যাকটিক্যাল সাইট। তাই আজই শুরু করুন আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়ুন কম বাজেটে।

সূচিপত্রঃ কম দামের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং শেখার সেরা ওয়েবসাইট সম্পর্কে বিস্তারিত নিচে দেওয়া হল 

কম দামের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং শেখার সেরা ওয়েবসাইট বাছাই করার ৬ টি ধাপ

কম দামের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং শেখার ওয়েবসাইট বাছাই করার ছয়টি ধাপ মেনে চললে ফাঁদে পড়ার হাত থেকে বেঁচে যাবেন। নতুনরা অনেক সময় কম টাকার কথা শুনে লোভে পড়ে ভুল করে ফেলে। ভুল করে ফেক সাইটে ভর্তি হয়ে টাকা নষ্ট করে। ভর্তি হয় ঠিকই কিন্তু ঠিকমতো ক্লাস করায় না বা শেখায় না। আবার অনেক সময় সম্পূর্ণটাই ভুয়া হয়। তাই দেখে শুনে ভালো সাইডে ভর্তি হওয়াই ভালো। এখনো ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে অনেক কোয়ালিটি কোর্স আছে, যেগুলো দিয়ে একদম এক্সপার্ট লেভেলের স্কিল শেখা যায়। 

শুধু সঠিক জায়গা চিনতে হবে আর একটু অনুসন্ধান করতে হবে, তারমানে একটু কষ্ট করতে হবে, কষ্ট করে সাইডগুলো দেখে, শুনে, বুঝে কাজ শুরু করতে হবে। আমি আপনাদেরকে ছয়টি ধাপ দেখিয়ে দেবো যাতে আপনি টেনশন ছাড়াই এই কোর্সটি শুরু করতে পারেন। 

  1. প্রথম ধাপ হল রিভিউ চেক করা, যে ওয়েবসাইট থেকে কাজ শিখতে চাচ্ছেন, সেই ওয়েবসাইটের পুরনো স্টুডেন্টদের ফিডব্যাক কেমন রেটিং আর কমেন্ট আছে কিনা ভালো করে দেখে নেবেন। 
  2. দ্বিতীয় ধাপ হল কোর্সের সিলেবাস টা দেখে নেওয়া, একটি কোর্স শিখতে গেলে সেই কোর্সের ভেতরে আপনার শেখার মত জানার মত ডিটেলস কিছু আছে কিনা সেটা অবশ্যই দেখতে হবে।
  3. তৃতীয় ধাপ হল সাপোর্ট আছে কিনা সেটা অবশ্যই জেনে নেবেন। কারণ ফ্রিল্যান্সিং শিখতে গেলে সাপোর্টের অবশ্যই প্রয়োজন আছে। আপনি আজকে ক্লাস করে গেলেন কিছু অংশ বুঝতে পারলেন না, সেই বুঝতে না পারা অংশটুকু আপনি পরবর্তীতে গিয়ে আবার বুঝে নিতে পারবেন কিনা। সেরকম সাপোর্ট দেওয়ার মত কেউ আছে কিনা এটা জানা অবশ্যই দরকার। কারণ ফ্রিল্যান্সিং শিখতে গেলে সাপোর্টের অবশ্যই প্রয়োজন হয়। 
  4. চতুর্থ ধাপ হল প্র্যাকটিস প্রজেক্ট, প্র্যাকটিসের জন্য ওইখানে ল্যাপটপ বা পিসি আছে কিনা জেনে নিতে হবে। কারণ ওখানে শুধু দেখলে যদি নিজে প্র্যাকটিস না করা যায় তাহলে বাসায় এসে কাজটা করা অনেক কঠিন হয়ে যায়।
  5. পঞ্চম ধাপ হলো সার্টিফিকেট ভ্যালু আছে কিনা, এটাও জানা দরকার কারণ টাকা দিয়ে কাজ শিখে যদি সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে ব্যাপারটা কেমন হয়ে গেল না। অনেক সময় সার্টিফিকেট অনেক কাজে লাগে তাই এটাও জেনে নেওয়া দরকার। 
  6. ষষ্ঠতম ধাপ হল কন্টেন্ট আপডেট আছে কিনা সেটা চেক করে নিতে হবে। কনটেন্ট নতুন না অনেক পুরনো সেটা চেক করে নেওয়া অবশ্যই দরকার। এই ছয়টি ধাত ঠিক মতো মেনে চললে ০ টাকা ইনভেস্ট করেও আপনি ভাল একটা কাজ ধরতে পারবেন খুব সহজেই। মনে রাখবেন দাম কম হলেই কোয়ালিটি খারাপ হয় এমন কোন কথা নেই। অনেক সময় বাজেট কম হলেও স্মার্টলি বাছাই করলে ফিভার, আপু ওয়ার্ক এর মত মার্কেটপ্লেস এ কাজ করার জন্য প্রস্তুত হতে পারবেন। শুধু ধৈর্য ধরে শিখতে হবে আর প্রতিদিন ২-৩ ঘন্টা প্র্যাকটিস করতে হবে।

নতুনদের জন্য একদম ফ্রি ৫ টি ওয়েবসাইট

কম দামের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং শেখার ওয়েবসাইটের মধ্যে নতুনদের জন্য একদম ফ্রি কয়েকটা ওয়েবসাইট আছে। তাই যদি আপনার বাজেট একদম শূন্য হয় তাহলে টেনশনের কোন কারণ নেই। কারণ কি জানেন কিছু কিছু ওয়েবসাইট আছে যেখানে এক টাকাও খরচ না করে ফ্রিল্যান্সিং শেখা যায়। আর এটাই নতুনদের জন্য একদম উপযুক্ত ওয়েবসাইট। অনেকেই ভাবে টাকা ছাড়া কোন কিছু শেখা যায় না। কিন্তু এটা ভুল টাকা ছাড়াও শেখা যায়। আবার কিছু কিছু স্যার আছে যেগুলোতে একেবারে সামান্য কিছু খরচ হলেই ভালো কিছু শেখা যায়। 

একদম কম দামের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং শেখার সেরা ওয়েবসাইটের লিস্টের এই পাঁচটা সাইট একদম উপরে থাকে। সেগুলো হল গ্রাফিক্স ,মার্কেটিং, রাইটিং, ওয়েব,  সবকিছু বেসিক থেকে অ্যাডভান্স পর্যন্ত শিখতে পারবেন। এর জন্য প্রয়োজন শুধু ধৈর্য আর প্রতিদিন ২-৩ ঘন্টা সময়। তাহলেই একসময় সফলতা অর্জন করা সম্ভব। এই পাঁচটা সাইটের মধ্যে youtube হল এক নম্বর। এখানে বাংলায় হাজারটা ফুল কোর্স প্লেলিস্ট আছে যেখানে প্রথম থেকে শুরু করে সব বুঝায়ে দেয়। তারমানে A-Z পর্যন্ত যা কিছু আছে সব ভেঙে ভেঙে বুঝিয়ে দেয়। 

তারপর google ডিজিটালGarage ১০০% ফ্রি তার সাথে সার্টিফিকেট দেয়।Coursera তে, বড় ইউনিভার্সিটি কোর্স audit এ করে যা ফ্রিতে দেখা যায়। সবকিছুই আলিশান ভাবে ফ্রিতে শেখা যায় শুধু সার্টিফিকেটের জন্য কিছু টাকা লাগে। সামান্য কিছু টাকা দিয়ে যদি এত ভালো কিছু শেখা যায় তাহলে সমস্যা কি তাই না। তারা এক মাস স্কিল শেয়ার ফ্রী টায়াল দেয়। তাই কম দামের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং শেখার সেরা ওয়েবসাইট খুঁজতে এ পাসটা মিস করলে আপনি অনেক কিছু হারিয়ে ফেলবেন। 

সবথেকে বড় কথা হলো ফ্রি মানে খারাপ না । যদি এই পাঁচটা সাইট সিরিয়াসলি বা গুরুত্ব সহকারে ফলো করেন নোট করেন আর প্র্যাকটিস করেন তাহলে বেশি দিন না মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে আপনি ফিভারে একটা প্রোফাইল খুলে কাজের জন্য এপ্লাই করতে পারবেন। এর জন্য কোন টাকা লাগবে না শুধু মোবাইল আর ইচ্ছা শক্তি লাগবে। তাই আজই শুরু করুন ।ফ্রিতে শিখে ইনকাম শুরু করার পর যদি আপনার মন চায় তাহলে, পেইড কোর্সটা করতে পারেন। তখন আপনি নিজের টাকা দিয়েই আরো ভালো কিছু শিখতে পারবেন। আমার পরামর্শ হলো প্রথমে ফ্রিতে কাছে থাকাই ভালো হবে।

ফ্রিল্যান্সিং শেখার আগে যে বিষয়গুলো জানা দরকার

ফ্রিল্যান্সিং শেখার আগে যে বিষয়গুলো জানা দরকার তার মধ্যে, যে বিষয়টা আগে আসে সেটা হল ধৈর্য। যেকোনো কাজে প্রথমেই ধৈর্য ধরতে হবে। ধৈর্যের সাথে ওই কাজের সাথে লেগে থাকা। অনেকের মুখে শোনা যায় মানুষ সাত দিনই লাখো প্রতি হয়েছে অমকজন। আসলে এগুলা শুধু সোনাই যাই বাস্তবে তা আর হয় না। ফ্রিল্যান্সিং শেখার সবথেকে ভালো ওয়েবসাইট থেকে কাজ শিখলেও তিন থেকে চার মাস লেগে যায়। তাই আগেই মন-মানসিকতা ঠিক করতে হবে। 

তারপরের বিষয় হল স্কিল শেখা। প্রথমে নিজেকে আগে বাছাই করে নিতে হবে কোন বিষয় নিয়ে কাজ করলে ভাল হয়। সব বিষয়েই শিখতে গেলে শেষে দেখা যাবে কোনটাই শেখা যাবে না। তাই আগে যে বিষয়ে স্কিন শিখতে চান সেই বিষয় নিয়ে ট্রেনিং করা। বিষয়গুলোর মধ্যে হল, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, কন্টেন্ট রাইটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এইসব বিষয়গুলোর মধ্যে যেকোন একটা বিষয় বেছে নিয়ে কাজ করতে হবে। আর ক্লায়েন্টের সাথে কথা বলার জন্য ইংরেজি একটু ভালো জানলে ভাল হয়। কারণ অনেক সময় ক্লায়েন্টের সাথে কথা বলতে হয়। তারপরে লাগবে একটা স্মার্টফোন আর সাথে নেট সংযোগ। 

ফ্রিল্যান্সিং শিখতে গেলে আরো কিছু বিষয় জানা দরকার। তার মধ্যে ফিভার আপ ওয়ার্ক এসব বিষয় সম্বন্ধে জানা। কোনরকম কাজ শেখার পরে কি খুলে বসে থাকবেন না। আগে মার্কেট রিসার্চ করতে হবে তার মানে হল, আগে মার্কেটে দেখতে হবে কোন বিষয় বেশি চলছে, কম্পিটিটাররা কি করছে তা দেখতে হবে। তারপর কাজ শিখতে হবে। কারণ ক্লায়েন্ট রেজাল্ট বা সার্টিফিকেট দেখেনা ক্লায়েন্ট দেখে তার কাজ, ভালো কাজ হলে অনেক সময় টাকা একটু ধরিয়ে দেয়। আর সব থেকে বড় কথা ভুয়া সাইড থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

আরো পড়ুনঃঅনলাইন টাইপিং জব ডেলি পেমেন্ট

২০০ টাকার মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং শেখার বেস্ট ওয়েবসাইট

বাংলাদেশের এখনো অনেক সাইট আছে যেগুলো খুব কম খরচের মধ্যেই ফ্রিল্যান্সিং শেখা যায়। তার মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং শেখার বেস্ট ওয়েবসাইটের নাম নিলে যেটা প্রথমে আসে, সেটা হলUdemy এটাতে প্রায় সময় ১৬৯ টাকা ১৯৯ টাকা অফারে অনেকগুলো কোর্স পাওয়া যায়। এখানে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়ার্ডপ্রেস, ক্যানভা, ডিজিটাল মার্কেটিং, সহ সবকিছু আছে। পুরো কোর্স চলাকালীন অ্যাক্সেস থাকে। তাই একবার ১৯৯ টাকা দিয়ে কিনলেই বারবার দেখতে পাবেন। 

কম দামের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং শেখার সেরা ওয়েবসাইটের লিস্টে Udemy ১৯৯ টাকার যে অফারটা সব সময় সবার উপরে থাকবে কারণ রিভিউ আর সিলেবাস অনেক স্ট্রং। তারপরে বেস্ট অপশন হল ফেসবুক গ্রুপ। আর টেলিগ্রাম এর পেইড কোর্স ব্যান্ডেল আছে। অনেক টক মেন্টর ৯৯ টাকা বা দেড়শ টাকায় ১০ থেকে ১৫ টা কোর্সের লিংক দেয়। সাথে সাপোর্ট গ্রুপে থাকে আরেকটা হল দশ মিনিটের কিছু মিনি কোর্স ১৫০ টাকার মধ্যে।

 ২০০ টাকার নিচে ফ্রিল্যান্সিং শেখার বেস্ট ওয়েবসাইট মানে এই তিনটায়। মনে রাখবেন, ২০০ টাকায় আপনি সার্টিফিকেট না পেলেও ওইখান থেকে আপনি যে স্কিন শিখতে পারবেন তা হাজার টাকা দিয়ে শেখার থেকে কোন কিছু কম নয়। সার্টিফিকেট না পেলেও ১০০% আপনি একটা ভালো স্কিল পাবেন। আর একটা কথা সবসময়ই শুধু অফারের সময় কোর্স কিনবেন না । প্রতিদিন নিয়মিত ধৈর্য ধরে প্র্যাকটিস করতে হবে, তবেই সফলতা অর্জন হবে।

৫০০ টাকার মধ্যে ভালো প্রিমিয়াম ফ্রীলান্সিং কোর্সের ওয়েবসাইট

সব সময় ফ্রি সাইটের পেছনে না ঘুরে টাকা দিয়ে প্রিমিয়াম কোর্স করা অনেক লাভজনক হবে। ৫০০ টাকার মধ্যে ভাল প্রিমিয়াম ফ্রিল্যান্সিং কোর্সের ওয়েবসাইট বলতে বোঝায় যেখানে শুধু ভিডিও না সাথে মেন্টর সাপোর্ট লাইভ ক্লাস, আবার একটা কিছু বুঝতে না পারলে বারবার বুঝিয়ে দেওয়া। তার সাথে সার্টিফিকেটেরও ব্যবস্থা থাকা। এই টাকার মধ্যে সব থেকে ভালো 'ক্রিয়েটিভ আইটি ইন্সটিটিউট'এর অফার কোর্স।

স্কিল বাজার বিডি আর youtube এর কিছু মেন্টরের প্রাইভেট ব্যাচ। ৪৯৯ টাকায় তারা গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, এর সম্পূর্ণ কোর্স দিয়ে থাকে। ৫০০ যে কোর্সটা করবেন সেটার ভ্যালু এবং কোয়ালিটি দুটাই পাওয়া যায়। ৫০০ টাকার কোর্স যদি আপনি কিনেন তাহলেUdemy থেকেও তিনগুণ বেশি সুবিধা পাবেন কারণ এখানে whatsapp টেলিগ্রাম, সাপোর্ট গ্রুপ থাকে। সেখানে যদি আপনি আটকে যান তাহলে মেন্টর সরাসরি উত্তর দেয়। আর কোর্স শেষে পোর্টফোলিও বানানো আবার ফিভার রেডি করার গাইডলাইন ও থাকে। 

তাই বলছি ২০০ টাকার ফ্রি কোর্স থেকে ৫০০ টাকার প্রিমিয়াম কোর্স করে যদি আপনি কাজ শিখেন তাহলে, অন্ততপক্ষে এক মাস আগেই আপনি আপনার ইনকাম শুরুটা করতে পারবেন। বাজেট ৫০০ টাকা হলেও চোখ বন্ধ করে এগুলোই বেস্ট। সব সময় ফিরে আসা করা যায় না। অনেক সময় ফ্রি কাজ শিখতে গিয়ে সময় আর কষ্ট দুইটাই বৃথা চলে যায়। তাই বলি ৫০০ টাকা লাগলেও প্রিমিয়াম কোর্সটা করা ভালো। 

মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শেখার সেরা অ্যাপ

ল্যাপটপ নেই? কোন সমস্যা নাই। কারণ এখন মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শেখা যায়। তবে ফ্রিল্যান্সিং শেখার জন্য যেটা সর্বপ্রথম প্রয়োজন সেটা হলো ইচ্ছা এবং ধৈর্য। এই দুইটা যদি থাকে তাহলে আপনি ঘরে বসে মোবাইল দিয়ে অনেক ভাল স্কিল শিখতে পারবেন। এটার জন্য চারটা অ্যাপ বেস্ট সেটা হল, YouTube, Googl skillshop, sololearn, canber ইউটিউব দিয়ে গ্রাফিক্স ডিজাইন মার্কেটিং রাইটিং সব শেখা যায়। 

Sololearn দিয়ে HTML,CSS, Python এর কোডিং শিখবেন। আর মোবাইল দিয়ে canva অ্যাপ দিয়ে ডিজাইন প্র্যাকটিস করলেই হবে। কম দামের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং শেখার সেরা ওয়েবসাইট খুঁজতে গিয়ে এই অ্যাপসগুলো কখনোই মিস করবেন না। এই অ্যাপগুলোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল আপনি যে কোন জায়গায় গিয়ে এগুলো শিখতে পারবেন। বাসে, চায়ের দোকানে, যেকোনো জায়গায় বসেও 15 মিনিট সময় দিলেই হবে। google skillshop একদম ফ্রি এখানে সার্টিফিকেট ও দেয়। 

আর canvas Pro এর অনেক ফিচার মোবাইলে ফ্রিতেই চলে। তাই আপনার কাছে মোবাইল আছে মানে একটা ফুল ফ্রিল্যান্সিং সাইড আপনার হাতের মুঠোয়। এর জন্য প্রয়োজন শুধু প্রতিদিন দুই ঘন্টা সময় ।তাহলেই দেখবেন একসময় ২-৩ মাসের মধ্যে আপনি মোবাইল দিয়ে প্রথম প্রথম কাজ ধরতে পারবেন। তাই বর্তমানে ল্যাপটপ বা পিসি না থাকলেও ফ্রিল্যান্সিং কাজ করা যায়। 

গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার কম দামি সাইট কোনটা

ফ্রিল্যান্সিং এর মধ্যে অনেক ভাগ আছে আপনার যেটা ভালো লাগে সেই সম্পর্কে ভালোভাবে স্কিল করবেন। তার মধ্যে একটা হচ্ছে গ্রাফিক্স ডিজাইন। কম দামে গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখতে চাইলে যে নামটি প্রথমে আসি সেটা হচ্ছে canva design school। আর Piximperfect YouTube channel। এর মধ্যে কেন ভাই একদম ফ্রি এখানে লোগো, পোস্টার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট সবকিছু টেমপ্লেট দিয়ে শেখানো হয়। আর Piximperfect এর বাংলা প্লেট লিস্টে ফটোশপের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ফ্রিতে পাওয়া যায়। 

কম দামের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং শেখার সেরা ওয়েবসাইট খুঁজলে গ্রাফিক্সের জন্য এই দুইটাই ভালো নতুনদের জন্য। শূন্য টাকা খরচ করেই পোস্টার ,ব্যানার ,থাম্বেল ডিজাইন শিখতে পারবেন। যদি 300 থেকে 500 টাকা বাজেট থাকে তাহলে স্কিল বাজার বিডি আর ১০ মিনিট স্কুলের গ্রাফিক্স কোর্স নিতে পারেন। এগুলো ফ্রি করছে থেকে বেশি সুবিধা পাওয়া যায়। আবার প্রাইভেট গ্রুপে সাপোর্ট পাওয়া যায় গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার জন্য দামি সাইট মানে আপনি ভাল কিছু শিখতে পারবেন। প্রতিদিন যদি একটা করে ডিজাইন প্র্যাকটিস করা যায়, তাহলে ৩০ দিনেই ফিভারে লোগো ডিজাইন গিগ দিয়ে প্রথম অর্ডার ধরা সম্ভব। 

কম টাকার মধ্যে ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার জন্য কোন সাইট ভালো

কম টাকার মধ্যে ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার জন্য Google Digital Garage সবচেয়ে ভালো সাইট। কারণ এটা ১০০% ফ্রি আর গুগল নিজস্ব সার্টিফিকেট ও দেয়। এখানে SEO, Facebook, ads, email marketing, analytics সব কিছু একবারে বেসিক থেকে বোঝানো আছে। কম দামের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং শেখার সেরা ওয়েবসাইটের লিস্টে ডিজিটাল মার্কেটিং সবসময় টপে থাকবে। ০ টাকা খরচ করেই, একটা ইন্টারন্যাশনাল সার্টিফিকেট নিয়ে ফিভার প্রোফাইলে লাগাতে পারবেন। 

কম-দামের-মধ্যে-ফ্রিল্যান্সিং-শেখার-সেরা-ওয়েবসাইট

যদি ৫০০ টাকার মধ্যে প্রিমিয়াম সাইড চান তাহলে ১০ মিনিট স্কুল এর digital marketing with Ayman sadiq এই কোর্সটা সবথেকে ভালো। এখানে লাইভ ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট আর ফেসবুক সাপোর্ট গ্রুপ আছে। ফ্রি করছে শুধু ভিডিও পাবেন কিন্তু ৫০০ টাকার কোর্সে হাতে ধরে কাজ করায়। অনেক কিছুই শিখতে পারবেন। তাই বলি বাজেট শূন্য হলেও গুগল আর বাজেট ৫০০ হলেও এ ১০ মিনিট স্কুল এই কোর্সটি নিবেন। এই দুইটাই কম টাকার মধ্যে ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার জন্য সবচেয়ে বেস্ট। 

কন্টেন রাইটিং ও ডাটা এন্ট্রি কাজ কোথায় শিখলে ভালো হয়

কন্টেন রাইটিং ও ডাটা এন্ট্রি কাজ যদি শিখতে চান তাহলে YouTubeআর sabsport academy এখানে শিখতে পারেন। ইউটিউবে ফ্রিল্যান্সার নাসিম আর শিখবো সবাই এর ফুল বাংলা প্লেট লিস্ট ফ্রি আছে। এখানে SEO FRIENDLY ARTICLE লেখা থেকে শুরু করে ফিভার এ গিট বানানো সব কিছুই শেখানো হয়। আর ডাটা এন্ট্রির জন্য মাইক্রোসফট এক্সেল এর ফ্রী কোর্স ইউটিউবে সার্চ দিলেই পেয়ে যাবেন। 

কম দামের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং শেখার সেরা ওয়েবসাইটের মধ্যে ইউটিউব সবথেকে ভালো কারণ তারা কোন টাকা লাগেনা। যদি ৩-৪ হাজার টাকার মধ্যে প্রিমিয়াম সাপোর্ট নিতে চান বা প্রিমিয়াম স্কিল শিখতে চান। তাহলে ক্রিয়েটিভ আইটি বা স্কিল বাজার বিডি এর কনটেন্ট রাইটিং ব্যাচে ভর্তি হতে পারেন। এখানে আপনার লেখার ভুল মেন্টর রা ধরিয়ে দেবে ।

আবার ডাটা এন্ট্রির জন্য কমপ্লিট ডাটা এন্ট্রি কোর্স অল্প টাকাতেই পেয়ে যাবেন। তাই বাজেট যদি ০ শূন্য থাকে তাহলে youtube আর বাজেট যদি ৪০০ বা ৫০০ টাকা থাকে তাহলে পেটকোট করতে পারবেন। ইচ্ছা করলে আপনি ফ্রি শেখার পরে পেট কোর্সটা করতে পারবেন ।তাহলে স্কিল অনেক ভালো হবে আর অল্প দিনের মধ্যেই upwork এ বিড করা শুরু করতে পারবেন।

কনটেন্ট রাইটিং লিখে মাসে কত টাকা ইনকাম করা যায়

শুধু কনটেন্ট লিখলেই হবে না। কনটেন্ট ভালো বিষয় নিয়ে লিখতে হবে। কনটেন্ট লিখে মাসে বেশ ভালোই টাকা ইনকাম করা যায়। তবে তার জন্য থাকতে হবে নিজের অভিজ্ঞতা, লেখার স্পিড, ধৈর্য আর পরিশ্রম এসবের ওপর নির্ভর করে আপনি মাসে কত টাকা ইনকাম করবেন শুধু কনটেন্ট লিখে। প্রতিদিন ৩থেকে ৪ ঘন্টা কাজ করলে মাসে 8 থেকে 15 হাজার টাকা ইনকাম করা সহজ বললেই চলে। তবে নতুন অবস্থায় এত টাকা পাওয়া যাবে না। কারণ প্রথমে কনটেন্ট রাইটিং বেশি ভালো হয় না লিখা ভুল হয় স্পিড কম থাকে সেজন্য। 

আবার যখন SEO রিসার্চ আর ইংরেজি লেখায় দক্ষ হয়ে যাবেন, তখন মাসে অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন। up work এর প্রো রাইটাররা মাসে ৫০ থেকে ১ লাখ টাকা ও ইনকাম করে। SaaS, finance, Tech এই নিস গুলো নিয়ে কাজ করলে ক্লাইন্ট নিজেই মাসিক ৪০০০০ টাকার মত রিটেইনার হায়ার করে নেয়। তাই শুরুতে কম হলেও ছয় মাস প্র্যাকটিস করলে কন্টেন রাইটিং দিয়ে ফুলটাইম কাজ করে নিজের ক্যারিয়ার টা অনেক সুন্দর ভাবে তৈরি করতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং কোর্স শেষে প্র্যাকটিস করার সাইট

শুধু ফ্রিল্যান্স কোর্স না, যে কোন কাজ শেখার পরে যদি প্র্যাকটিস না করা হয় তাহলে ভুলে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। তাই ফ্রিল্যান্সিং কোর্স শেষ করে প্রাকটিক্স করার সাইট যদি না থাকে, তাহলে স্কিল শেখাটাই বৃথা। আর যাই হোক ভিডিও দেখে কখনোই স্কিল আসে না। অভিজ্ঞতা বাড়ানোর জন্য অবশ্যই প্র্যাকটিস বা প্র্যাকটিক্যালি করার দরকার। গ্রাফিক্স ডিজাইন এর জন্যBehance আরDribbble এই দুটাই সব থেকে ভালো। 

কোডিং বা ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখলে Codepen.io আর GitHub এই দুইটা হল একদম ফ্রি প্র্যাক্টিস ওয়েবসাইট। ডাটা এন্ট্রির জন্যExcel,CSV ফাইল ডাউনলোড করে কাজ করবেন। আর কম দামের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং শেখার সেরা ওয়েবসাইট থেকে কোর্স করার পর এই সাইটগুলোতে কমপক্ষে ৩০ বা ৪০ দিন টানা প্র্যাকটিস করলেই আপনার স্কিল অনেক ভালো হবে। সব থেকে বড় কথা হলো কোন কাজ শেখার পর বসে থাকলে চলবে না। ওইটা সব সময় প্যাকটিস এর ওপর রাখতে হবে। তাহলে অভিজ্ঞতাও বাড়বে নিজের স্কিলও বাড়বে। 

আরো পড়ুনঃইনভেস্ট ছাড়া স্টুডেন্টদের মোবাইলে অনলাইন ইনকাম ২০২৬

কম দামের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং শিখলে যে সব সমস্যা হয়

কথাতেই আছে যত গুণ তত মিষ্টি ।তার মানে কোন জিনিস যদি অল্প টাকায় কেনা হয় তাহলে সেই জিনিসটার টেকসইও অল্প দিন হয়। আবার কোন জিনিস যদি বেশি টাকা দিয়ে কেনা হয় তাহলে সে তার গ্যারান্টি ওয়ারেন্টি সব থাকে। ফ্রিল্যান্সিং শেখার ক্ষেত্রেও একই কথা। কম টাকা দিয়ে শিখলে ভালো শেখা যায় না অনেক সমস্যা হয়। আর যদি বেশি টাকা দিয়ে শেখা যায় বা পেইড কোর্স করা যায় তাহলে ওইখান থেকে অনেক কিছুই দেখা যায়। 

কম দামের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং শিখলে যেসব সমস্যা হয়, তার মধ্যে এক নাম্বার হল সাপোর্ট না পাওয়া। অল্প টাকায় বা ২০০ অথবা ৫০০ টাকার কোর্স করলে ইউটিউবে যদি কোন বিষয়ে আটকে গেলে জিজ্ঞাসা করার মতো কেউ থাকেনা। ভিডিও দেখে সব বুঝতে পারলেও নিজে কাজ করতে গিয়ে অনেক কিছুই বোঝা যায় না আবার যখন কোন কিছু Error আসে তখন বসে থাকতে হয়। এরকম অবস্থা যখন হয় তখন অনেকেই মাঝপথে হাল ছেড়ে দেয়। আর ফ্রি করছে পুরা বিষয় এলোমেলো থাকে A থেকেZ পর্যন্ত কোনো বিষয় বা সিলেবাস সাজানো থাকে না। 

আর একটা বড় সমস্যা হল প্র্যাকটিসের অভাব। কম দামের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং শিখলে ওয়েবসাইট থেকে ও তারা অ্যাসাইনমেন্ট চেক করে দেয় না। যদিও প্রথমে বলে সবকিছু করে দেওয়া হবে কিন্তু প্র্যাকটিক্যালি সবকিছু করেনা। যখন চেক করবে না আপনি মনে মনে হয়তো ভাববেন যে আপনি সবকিছু শিখে গেছেন কিন্তু প্র্যাকটিক্যালি যখন আপনি নিজে নিজে করতে যাবেন তখন অনেক কিছুই ভুলে যাবেন। নিজে নিজে করতে পারবেন না। টাইপ একটু বেশি টাকার কোর্স নিয়ে ভালোভাবে স্কিল তৈরি করে নিজের ক্যারিয়ারটা গড়ে তুলুন। 

শেষ কথাঃকম দামের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং শেখার সেরা ওয়েবসাইট ২০২৬

কম দামের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং শেখার সেরা ওয়েবসাইট ২০২৬ সালের নতুনদের জন্য কিছু ভালো ওয়েবসাইটের বর্ণনা উপরে দেওয়া হয়েছে। কম দামের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং শেখার ওয়েবসাইট খুঁজতে গেলে সবার আগে মাথায় রাখতে হবে টাকা কম হলেও কোয়ালিটি যেন ভালো হয়। কারণ কোয়ালিটি যদি ভালো না হয় বা শেখানোর মান যদি ভালো না হয় তাহলে এই কাজ শিখে কোন লাভ নেই। প্রথমে ফ্রি কাজ শিখলেও পরে অল্প টাকার ভিতরে পেইড কোর্স করা ভালো। তাহলে অনেক কিছু শেখা যাবে। 

কম দামের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং শেখার সেরা ওয়েবসাইট সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। ভালো দিক খারাপ দিক বুঝিয়ে বলেছি। তারপরে একটা কথা আছে মানুষ মাত্রই ভুল। এই কনটেন্ট লিখতে গিয়ে যদি কোথাও ভুল হয়ে থাকে বা আপনাদের বুঝতে অসুবিধা হয়, তাহলে আমাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। যদি কোন কিছু বুঝে নেওয়ার প্রয়োজন হয় তাহলে আমাকে জানাবেন আমি বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব। শেষে একটা কথা না বললেই নয়, যদি কেউ ফ্রিল্যান্সিং কোর্স করতে চান তাহলে ফ্রি কোর্স করবেন নাকি পেইড কোর্স করবেন ভালোভাবে চিন্তা-ভাবনা করে করবেন।




এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপনি যদি ইচ্ছা পুরন এর কোন পোস্টে কমেন্ট করতে চান, তাহলে এর নীতি মেনে কমেন্ট করুন। কারন প্রত্যেকটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url