অল্প টাকায় ভিডিও রেকর্ডিং এর সেরা মাইক্রোফোন রিভিউ

অল্প টাকায় ভিডিও রেকর্ডিং এর সেরা মাইক্রোফোন রিভিউ সম্পর্কে জানতে চান? তাহলে প্রো লেভেল সাউন্ড পেয়ে যাবেন মাত্র ৫০০ টাকায়। বিশ্বাস হচ্ছে না? Boya থেকে FIFINE- মাইকটা আসলেই  অনেক ভাল। 

অল্প-টাকায়-ভিডিও-রেকর্ডিং-এর-সেরা-মাইক্রোফোন-রিভিউ

নয়েজ ছাড়া ক্লিয়ার ভয়েস চান? ইউটিউব ভিডিওর জন্য ৫ টি মাইক সবচেয়ে বেস্ট। ভুল মাইক কিনে টাকা নষ্ট করার আগে এই কনটেন্ট টা ১ মিনিট পড়ুন আপনার উপকারে আসবে। 

সূচিপত্রঃঅল্প টাকায় ভিডিও রেকর্ডিং এর সেরা মাইক্রোফোন রিভিউ নিয়ে ৫০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে কয়েকটি টপ মাইক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা 

অল্প টাকায় ভিডিও রেকর্ডিং এর সেরা মাইক্রোফোন রিভিউ সম্পর্কে জরুরী টিপস

অল্প টাকায় ভিডিও রেকর্ডিং এর সেরা মাইক্রোফোন রিভিউ সম্পর্কে জানতে চান কিন্তু বাজেট মাত্র ৫০০ টাকা? কোন টেনশন নাই। দশ হাজার টাকার মাইক এর মত ক্লিয়ার সাউন্ড এখন মাত্র ৫০০ থেকে ২০০০ টাকাতেই পাওয়া সম্ভব। আমরা নিজেইBoya,Mano,FIFINE, এই মাইকগুলো কিনে পরীক্ষা করে দেখেছি। রাস্তার শব্দ, ফ্যানের শব্দ বাদ দিয়ে শুধু আপনার ভয়েস কতটা ক্লিয়ার আসে সেটাই দেখার জন্য।

 ইউটিউব ভিডিও facebook রিয়েল অনলাইন কোর্স সব কিছুর জন্য কোন মাইকটা আসল সেটা আজকে বলে দেব। ভুল মাই কিনে টাকা নষ্ট আর সময় দুইটাই নষ্ট করার আগে পাঁচ মিনিটে রিভিউটা করে তারপরে কোন মাইক কিনবেন সেটা সিদ্ধান্ত নেন এতে আপনার উপকার হবে। অনেকে মনে করে কম দামি মাইক মানে ঘর ঘর শব্দ। এটা একদম ভুল ধারণা। এখনকার মাইকগুলোতে নয়েজ ক্যান্সিলিং টেকনোলজি চলে এসেছে। যেকোনো মাইক মোবাইলের সাথে প্লাগ এন্ড প্লে, কোনটায় তার ৬ মিটার লম্বা কোনটাই কোন উইন্শিল্ড ফ্রি পাবেন সব কিছু ভালোভাবে দেখেছি। 

অনেক মাইক আছে যেগুলোতে সাউন্ড টেস্ট করে রেজাল্টও দিয়ে দেয় যাতে করে আপনি নিজের কানে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কোনটা নিবেন। দ্বারা যে নকল মাই কিভাবে চিনবেন সেটাও বলে দেয়া হবে। তাহলে আর দেরি কেন? প্রো ভিডিও বানাতে চাইলে আগে পুরো অডিও লাগবে। মনে রাখবেন মানুষ আপনার ভিডিওর কোয়ালিটি খারাপ হলেও দেখবে কিন্তু সাউন্ড খারাপ হলে তিন সেকেন্ডে স্কিপ করে চলে যাবে। তাই আগে সাউন্ড যাতে ভালো হয় সেই মাইক টাই নিয়ে কাজ করতে হবে। তাহলে ভালো একটা রেজাল্ট পাওয়া যাবে। 

অল্প টাকায় ভিডিও রেকর্ডিং এর জন্য যে পাঁচটি মাইক পাওয়া যায়

অল্প টাকায় ভিডিও রেকর্ডিং করার জন্য যে পাঁচটি মাইক ভালো পাওয়া যায় সেগুলো হলো-

  1. Boya BY-MI লাভালিয়ার মাইক্রোফোন, ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে এই মাইক্রোফোনটা সবচেয়ে ভালো। Mobile, DSLR, PC, সব কিছুতেই এগুলো চালানো যায়। হয় মিটার লম্বা তার এর সাথে ব্যাটারি লাগেনা। সাউন্ড মোটামুটি ক্লিয়ার তবে একটু নয়েজ আছে সাথে ক্লিপ আর উইন্ডশিল্ড ফ্রি একদম ফ্রি। 
  2. Maono AU-100 কনডেন্সার মাইক্রোফোন মাইক্রোফোন ১০০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। পিসি এবং ল্যাপটপে USB দিয়ে সরাসরি কানেক্ট করা হয়। ইউটিউব ভিডিও আর ভয়েস over এর জন্য এটা অনেক ভালো। nois reduction ভালো, সাউন্ড প্রো লেভেলের কাছাকাছি এইটার সাথে  ট্রাইপড সাউন্ড ফ্রি থাকে। 
  3. FIFINE K6698 কনডেন্সার মাইক্রোফোন এই মাইক্রোফোন ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। লাইভ স্ট্রিমিং আর গেমিংয়ের জন্য এটা সবথেকে ভালো। ফ্লাগ এন্ড প্লে কোন সেটআপ লাগে না। ভয়েস অনেক ক্লিয়ার এবং পেজ অনেক ভালো। ভলিউম কন্ট্রোল ন ব আছে আর এটার টেকসই অনেক কোয়ালিটি সম্পন্ন। 
  4. Maono AU-400 লাভলিয়ার মাইক্রোফোন, এই মাইক্রোফোন ১৮ থেকে ৯০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে। তারমানে একসাথে দুইজন রেকর্ড করতে পারবে। মোবাইল যারা blog বানাই তাদের জন্য এটা সবথেকে সেরা। নয়েজ একটু কম কিন্তু সাউন্ড অনেক ভালো ব্যাটারি ছাড়াই চলে। 
  5. Comical CBM-V 01 হট গান মাইক্রোফোন, এই মাইক্রোফোনটা ১৮০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে ইনশাল্লাহ।DSLR এবং ক্যামেরার উপরে লাগানোর জন্য এটা থাকে। ডিরেকশনাল মাইক তাই এটা সামনে থাকে আর সামনের শব্দই বেশি ধরবে। বাইরের ভিডিওর জন্য নয়েজ অনেক কম। অল্প টাকার ভিতরে এই মাইকগুলো সব থেকে সেরা। 

ইউটিউবারদের জন্য কোন মাইক্রোফোন গুলো ভালো হবে

ইউটিউবে সফল হতে চাইলে ভিডিওর কোয়ালিটির সাথে সাথে অডিও কোয়ালিটি ও ভালো হতে হবে। কারণ মানুষ একটু ঝাপসা ভিডিও হলে তাও দেখতে চাই যদি ভিডিওর কোয়ালিটি ভালো হয়। ভিডিওটা দেখতে ভালো লাগে। কিন্তু ঘর ঘর শব্দ বা সাউন্ড ৫-১০ সেকেন্ড আসে না। অথবা এমন ভাবে আসে যে পাঁচ সেকেন্ডেও সহ্য করা যাবে না। এরকম হলে কেউই ১০ সেকেন্ডও সহ্য করবে না। একবারে নতুন ইউটিউবারদের জন্যBoya BY-M1 হল সবচেয়ে ভালো। মাত্র ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে এটা পাওয়া যাবে। 

মোবাইল আর DSLR এই দুটাতেই এইগুলো চলে। যারা নতুন ব্লগ বানায় রিভিউ করে ইন্টারভিউ যায় তাদের কলারে ক্লিক করে নিলেই প্রো লেভেলে ভয়েস পাওয়া যাবে। ৬ মিটার তার থাকায় স্বাধীনতা বেশি থাকে। কম বাজেটের মধ্যে শুরু করার জন্য এর থেকে আর কোন ভালো অপশ নেই বললেই চলে। আর যারা রুমে বসে টিউটোরিয়াল, গেমিং বা পটকাস্ট করেন তাদের জন্য Maono AU-100আর FIFINE K669B সবচেয়ে ভালো। এইটার দাম ১০০০ থেকে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত। 

USB দিয়ে লাগালে এটা রেডি। নয়েজ অনেক কম, ভয়েস অনেক ক্লিয়ার আর ভারী শোনা যায়। দর্শক ভিডিও শেষ পর্যন্ত দেখার অন্যতম কারণই হলো ভালো সাউন্ড। তাহলে বুঝতেই পারছেন একটা ভিডিও বানাতে গেলে ছবির সাথে সাথে তার সাউন্ড অনেক জরুরী। এই  দুইটা মাইক দিয়েই কম টাকায় চ্যানেলকে প্রো লোভেলে নিয়ে যেতে পারবেন। একটা কথা সবসময় মনে রাখতে হবে ভালো কনট্যান্টের সাথে ভালো সাউন্ড অবশ্যই প্রয়োজন। 

Boya BY-M1 মাইক্রোফোনের রিভিউ সম্পর্কে

Boya BY-M1 এই মাইক্রোফোনের রিভিউ সম্পর্কে বলতে গেলে সবার আগে যেটা চোখে পড়ে সেটা হল এর দাম আর ভ্যালু। মাত্র ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে আপনি যে ফিচার পাবেন সেটা আসলেই অবিশ্বাস্য। এটা একটা ক্যামেলিয়ার মাইক। তার মানে হচ্ছে কলারে ক্লিপ করে কথা বলার মাইক। এইটা ৬ মিটার লম্বা তার সাথে ফোম আর ক্লিপ ফ্রি। সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট হল এটা মোবাইল,DSLR, camera, PC, laptop, সবকিছুতেই চলে। 

সুইচ ঘুরিয়ে দিলেই মোবাইল বা ক্যামেরার মুড সেট হয়ে যায় ব্যাটারি ও লাগেনা। তাই নতুন ইউ youtube আর নতুন ব্লগ যারা করে তাদের এটা প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত। আর যদি সাউন্ড কোয়ালিটির কথা বলি তাহলে ৫০০ টাকার হিসাবে ৮থেকে ১০ টা দেওয়া যাবে। ইনডোরে ভয়েস অনেক ক্লিয়ার আসে। বাইরে বাতাসে থাকলে একটু নয়েজ আসে, কিন্তু সাথে দেওয়া উইন্ডসিল্ড লাগালে নয়েজ টা অনেক কমে যায়। এইটার বেশ কম কিন্তু কথা বোঝার জন্য একবারে উপযুক্ত। 

বিল্ড কোয়ালিটি প্লাস্টিক হলেও তারটা অনেক মজবুত। তাই হাজার হাজার বাংলাদেশী ইউটিউবে মাইক দিয়েই কাজ করে চ্যানেল গ্রো করে চলছে। সবশেষে একটা কথা না বললেই নয়, কম টাকায় প্রো সাউন্ড চাইলে Boya BY-M1 এর কোন বিকল্প নেই। তাই আমিও বলব যারা নতুন অল্প টাকার মধ্যে মাইক নিতে চান তাহলে এটাই নিবেন। 

আরো পড়ুনঃকোন ইনভেস্টমেন্ট ছাড়াই ডাটা এন্ট্রি কাজের সহজ উপায়

মোবাইলের জন্য ওয়্যারলেস মাইক্রোফোন

মোবাইলের জন্য ওয়্যারলেস মাইক্রোফোন এখন ইউটিউবার আর কনটেন্ট টিউটরদের স্বপ্নের জিনিস হয়ে উঠেছে। কারণ কি জানেন? কারণ হচ্ছে এই মাইক্রোফোনে তারের কোন ঝামেলা নেই। ঝামেলা ছাড়াই বিশ থেকে ৫০মিটার দূর থেকেও ক্লিয়ার ভয়েস রেকর্ড করা যায়।Boya, Comical,Maono এর ডুয়েল ওয়ারলেস মাইকগুলো এখন ২০০০ থেকেও ৩০০০ টাকার মধ্যেও পাওয়া যায়। একটা ছোট রিসিভার মোবাইলের চার্জিং পোর্টে লাগিয়ে দুইটা মাইক কলারে ক্লিপ করে নিবেন, তাহলেই কাজ শেষ।

যারা ব্লগ ইন্টারভিউ, প্রোডাক্ট রিভিউ যাচাই করেন, ঐ সময় হাঁটতে হাঁটতে কথা বললে ও সাউন্ড একদম স্টুডিওর মতো আসবে। কোন নয়েজ আসবেনা। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল যেমন ভাবে ইচ্ছা তেমন ভাবে ব্যবহার করতে পারা যাবে। তারে পা আটকাবে না। ক্যামেরা থেকে দূরে গিয়েও কথা বলতে পারা যাবে। বেশিরভাগ ওয়ারলেস মাইকে নয়ে জ ক্যান্সেলিং থাকে তাই রাস্তা বা বাজারের শব্দ অনেক কম আসে। ব্যাটারি ব্যাকআপ ৬ থেকে ৮ ঘন্টা সাথে চার্জিং কেসও পাবেন।

আগে যেই মাইক্রোফোনটা ১৫ হাজার টাকার কাজ ছিল সেটা এখন মাত্র তিন হাজার টাকাতেই করা যায়। মোবাইল দিয়ে পুরো লেভেল কনটেন্ট বানাতে চাইলে ওয়ারলেস মাই ক এর তুলনা হয় না। যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে এই মাইক্রোফোনটা নিয়ে কাজ করে দেখতে পারেন। 

কমদামের মাইকে কতটা ক্লিয়ার সাউন্ড পাওয়া যায়

সত্যি কথা বলতে কি ৫০০ থেকে ২০০০ টাকার মাইকে ও এখন অনেক ভালো সাউন্ড পাওয়া যায়। Boya BY-M1,Mano au-100 এর মতো বাজেট মাইকগুলো ইনডোরে ব্যবহার করলে ভয়েস প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ % ক্লিয়ার আসে। যা মোবাইলের বিল্ড ইন মাইকের তুলনায় তিনগুণ ভালো। কথা বোঝা যায় ,নয়েজ কম থাকে, আর পিছনের শব্দ অনেক কমে যায়। ইউটিউবে প্রথম বেশ কিছু ভিডিওর জন্য এই কোয়ালিটি একবারে সঠিক। 

কোন দর্শক বুঝতেই পারবে না এটা এত কম দামের মাইক ।তবে একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে। ৫০০ টাকার মাইক আর ১৫০০০ টাকার মাইকের সাউন্ড এক কখনোই হবে না। কথায় আছে না যত গুড তত মিষ্টি। কোন জিনিস কিনতে গেলে যেমন টাকা দেবেন প্রোডাক্ট তো ঠিক তেমনই পাবেন ।তার ওয়ারেন্টি ,গ্যারান্টি সবকিছুই বেশি থাকবে বেশি দামের জিনিসে। কমদামের মাইকে পেজ একটু কম হবে ।আবার বাইরের বাতাস বা গাড়ি শব্দ থাকলে নয়েজ একটু আসবেই।

তবে রুমের ভিতরে ফ্যান অফ করে উইন্ডশিল্ড লাগিয়ে রেকর্ড করলে সাউন্ড অনেক কম আসবে। এডিট করার সময় একটু নয়েজ রিএকশন করে দিলে তো আর কোন কথাই নাই। তাই বাজেট কম থাকলে টেনশন নেওয়ার কোন দরকার নাই। কম দামের মাইকে যে কাজ করা যাবে না তা নয়। প্রথমে কাজ করতে হলে কম দামের মাইক দিয়ে শুরু করবেন। কনটেন্ট যদি ভাল হয় তাহলে সাউন্ড নিয়ে কেউ তেমন অভিযোগ করবে না। তারপরে যখন আপনি একটু বেশি অভিজ্ঞ হয়ে যাবেন তখন দামি মাইক্রোফোন কিনে কাজ করতে পারবেন। 

মোবাইল দিয়ে ভিডিও রেকর্ডিং করার জন্য দুইটা সস্তা মাইক্রোফোন

মোবাইল দিয়ে ভিডিও রেকর্ডিং করবেন কিন্তু বাজেট কম? তাহলে আমি বলবBoya BY M1 লাভেলিয়ার মাইক্রোফোনের কথা। এইটার দাম মাত্র ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে। এই মাইক টার সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এটা সরাসরি হেডফোন যাকে লাগালেই হয়। স্মার্টফোনে দিয়ে কালার এ ক্লিক করে নিলেই এইটার কাজ শেষ। ছয় মিটার তার ঢাকায় দূরে হেটে ও যারা ব্লক করে তারা এটা করতে পারবেন। সাউন্ড মোবাইলের মাইকের থেকেও তিন গুণ ক্লিয়ার আসে বাতাসের জন্য একটু নয়েজ হলেও কোন সমস্যা হয় না। 

অল্প-টাকায়-ভিডিও-রেকর্ডিং-এর-সেরা-মাইক্রোফোন-রিভিউ

যদি দুইজন একসাথে ভিডিও করতে চান তাহলে Maono Au-400 ডুয়েল ল্যাভেলিয়ার মায়ের মাইক্রোফোন সবথেকে বেটার। এইটার দাম ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা হবে। এটার মধ্যে দুইটা মাইক আর একটা স্টিকার থাকে। তার মানে দুইজন একসাথে রেকর্ড করতে পারবেন। মোবাইলে লাগানোর সাথে সাথেই এটা কাজ করে। কোন অ্যাপ বা সেটা করা লাগে না। নয়েজ মোটামুটি কন্ট্রোলের মধ্যেই থাকে। আর ভয়েস ঠিকমতোই আসে প্রায়। ইন্টারভিউ বা পডকাস্ট টাইপ ভিডিওর জন্য এটা অনেক ভালো একটা অপশন আপনার জন্য। 

নয়েজ ক্যান্সেলেশান মাইক্রোফোনের দাম সম্পর্কে

নয়েজ ক্যান্সলেশন মাইক্রোফোনের দাম বাজেট অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের থাকে। একবারে কম দাম থেকে শুরু করতে চাইলে ,Boya BY-M1 পাবেন মাত্র ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে। এটার বিল্ডিং নয়েজ ফিল্টার আছে ।সাথে ফোম দিলে বাতাসের শব্দ প্রায় 70% কমে যায়। একটু ভালো চাইলেMaono AU-100বা FIFINE K669B এইটা নিতে পারেন। এগুলোর দাম ১০০০ থেকে ১৮০০ টাকার মধ্যে। USB মাইক, রুমের ফ্যান এসি এর শব্দ অনেক কম ধরে। ভয়েসে অনেক ক্লিয়ার আসে। নতুন ইউটিউবারদের জন্য এটাই সব থেকে ভালো। 

আর যদি একটু ভালো লেভেলের নয়েজ ক্যান্সলশন চান বা নয়েজ কম আসুক এরকম চান তাহলে, ওয়ারলেস মাইক দেখলে ভালো হয়। Boya BY-WM3, Comica Boomx-D এর মত দুয়াল ওয়ারলেস মাইকের দাম ২৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। এগুলোতে রিয়েল টাইম নয়েজ এডুকেশন চিপ থাকে। রাস্তার শব্দ, গাড়ির শব্দ, বাজারের শব্দ এগুলো কেটে দেওয়া যায় । ব্যাটারির ব্যাকআপ ৬ থেকে৮ ঘন্টা। দাম একটু বেশি হলেও মোবাইল দিয়ে বাইরে ভিডিও করার জন্য এই মাইকগুলো অনেক ভালো সার্ভিস দেয়। 

পডকাস্ট রেকর্ডিং মাইক্রোফোন সম্পর্কে

ব্রডকাস্ট এর জন্য সবচেয়ে জরুরী যে বিষয়টা হলো ,সেটা হচ্ছে ক্লিয়ার আর ভালো মানের ভয়েস। তাই কম বাজেটে শুরু করতে চাইলেMaono AU-100 USB কনডন্সার মাইক্রোফোন সবচেয়ে ভালো। এটার দাম ১০০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে। এটা সরাসরি পিসি বা ল্যাপটপে ইউএসবি দিয়ে লাগে। সাথে ছোট ট্রাইপড স্ট্যান্ড ফ্রি থাকে। নয়েজ অনেক কম ধরে আর ভয়েস একদম ক্লিয়ার শোনা যায়। একে পডকাস্ট বা কোর্স রেকর্ডিং ও বলা চলে। প্লাগ আর প্লে তাই কোন ঝামেলা নেই।

আর যদি দুইজন নিয়ে ব্রডকাস্ট করেন তাহলে, FIFINE K669B বা Maono PD100 দেখতে পারেন। এটার দাম ১৫০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে। এই মাইকগুলোর সাউন্ড আরো ভারী আর ভালো লেভেলের হয়। এটার বেশ ভালো হয়, তাই কথা শুনতে অনেক ভালো লাগে। ভলিয়ম নব আর হেডফোন জ্যাক থাকে তাই লাইভ মনিটরিং ও করা যায়। মনে রাখবেন পডকাস্টে ভিডিওর থেকে সাউন্ডই আসল। তাই ভিডিও করার আগে সুন্দর শোনা যায় এরকম একটা মাইক নিয়ে নিতে হবে। ভালো মাইক কিনলে আপনার যারা শ্রোতা আছে তারা আরো অনেক গুণ বেড়ে যাবে।

আরো পড়ুনঃউইন্ডোজ ১১ ইন্সটল করার সহজ পদ্ধতি

কমদামি মাইক কেনার সময় যে ভুলগুলো করা যাবে না

যে কোন জিনিস কিনতে গেলে যদি শুনি যে দাম কম তাহলেই হয়েছে কাজ।  দাম কম এই কথা শোনার সাথে সাথেই মনে হয় মাথায় আর কোন কাজ করে না। তাড়াহুড়ো করে নেওয়া শুরু করে দেই। কিন্তু আসলে এটা উচিত নয়। মাইকের ক্ষেত্রেও একই রকম, কম দামে বাইক কিনতে গিয়ে সবার আগে যে ভুলটা আমরা করি সেটা হলো শুধু দাম দেখে কিনে ফেলি। 300 টাকার মাইক আর ৮০০ টাকার মাইকের সাউন্ড কি এক হবে কখনোই না অনেক কম বেশি হবে। 

কম দামি নরমাল মাইকে প্রচুর শব্দ আসে। আবার ভয়েজও অনেক চিকন লাগে। তাইBoya BY-M1,Maono au-100 এর মত ব্র্যান্ডের বাজেটের মাইক নিলে ভালো হয়। আরেকটা ভুল হল মোবাইল ক্যামেরা কম্পিটিবিলিটি না দেখা। অনেক মাইক আছে যেগুলো পিসিতে চলে। মোবাইলে টিআরআরএস সাপোর্ট করে না। তাই কেনার আগে স্মার্টফোন কমপেটিবেল লেখা আছে কিনা অবশ্যই চেক করে নিবেন। 

আরেকটা বড় ভুল হল শুধু মাইক দেখা সাথে কি পাচ্ছেন সেটা না দেখা। অনেক সময় ৬০০ টাকার মাইকের সাথে ক্লিপ ,উইন্ডশিল্ড, লম্বা তার এগুলো ফ্রি থাকে। আবার ৫০০ টাকার মাইকে এগুলো আলাদা আলাদা কিনতে হয়। তারের লেন্থ দেখে নেবেন ১.৫ মিটারের মাইক দিয়ে ব্লক করা যায় না। কমপক্ষে ৪ থেকে ৬ মিটার লম্বা তার লাগে। youtube এর রিভিউ না দেখে অন্ধভাবে অর্ডার করবেন না কখনোই। এইটা আর একটা ভুল। ৫০০ টাকা বাঁচাতে গিয়ে ছয় মাস আফসোস করার থেকে একটু চিন্তা ভাবনা করে ভালো মাইকেনাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। 

ব্যবহারকারীদের রিভিউ এ কোন মাইকটা সবচেয়ে ভালো

ব্যবহারকারীদের রিভিউ দেখলে বাংলাদেশ বয়া এম ওয়ান, আর maono au-100 এই দুইটা মাইক এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভালো আর কম বাজেটে পাওয়া যায়। আর এটা ব্লগারদের জন্য এক নাম্বার পছন্দের মাইক। এটার দাম ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। যা তা অনুযায়ী অনেক ভালো। মোবাইল ডিএসএলআর সব ডিভাইসে ফ্ল্যাগ এবং প্লে। নতুনরা খুব আরাম পায় এই মাইকটা ব্যবহার করে। অনেক ইউজাররা বলে ইনডোর ভয়েস হচ্ছে ৮৫% ক্লিয়ার আসে। আর হাজার হাজার ছোট ইউটিউব ব্রা এই মাইক দিয়ে চ্যানেল বড় করে তুলছে। 

তাই ব্লগ রিভিউ ইন্টারভিউ এর জন্য এটা সবথেকে ভালো বলে মনে করছি। আর পিসি ল্যাপটপ ইউজারদের রিভিউতে এই মাইকটা ৪.৭ থেকে ৫। এটার দাম ১০০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে। ইউজাররা সবচেয়ে বেশি যেটা পছন্দ করছে ,সেটা হলো নয়েজ কম যেন ধরা পড়ে এরকম একটা মাইক। আর শব্দটা যেন অনেক সুন্দর আসে। ইউ এস বি ক্লাগ করলে এটা রেডি হয়ে যায়। কোন সেটআপ করতে হয় না ।সাথে আবার স্ট্যান্ড ফ্রী পাওয়া যায়। টিউটোরিয়াল, গেমিং, পডকাস্ট, করে তাদের জন্য এত ভালো সাউন্ড হয় না। যারা রুমে বসে কথা বলেন তাদের জন্য এটা রিভিউতে অনেক ভালো। 

দারাজ এবং অনলাইনে আস- নকল মাইক চেনার উপায় কি

দারাজের মাই কেনার সময় সবার আগে দামের দিকে লক্ষ্য করতে হবে। আসল বয়া এম ওয়ান এর দাম কখনোই ৫০০ টাকার নিচে নামে না। সাধারণত ৬০০ থেকে ৭০০ টাকাও হয়। যদি কেউ ৩০০ বা ৪০০ টাকায় দেয় তাহলে বুঝবেন এটা ১০০ % নকল। তারপর দোকান চেক করবেন।"DarazMall" লিখা বা"Official store"ট্যাগ আছে এমন দোকান থেকে নিবেন। এই দোকানগুলো হল আসল আর প্রোডাক্ট ও আসল দেই, আবার রিটার্ন ও নেয়।

আর রিভিউ টা দেখে নেবেন। যে মাইকের ৪.৫ বা এর চেয়ে বেশি রেটিং আর ৩০০ থেকে ৪০০টা রিভিউ আছে ওইটা নেওয়া আপনার জন্য ভালো হবে । নতুন দোকানগুলো শূন্য রিভিউ থাকে এটা দেখলে আপনি স্কিপ করে চলে যাবেন। আর হাতে পেয়ে তিনটা জিনিস মিলিয়ে নেবেন। পার্সেল হাতে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে বাসায় নিয়ে চলে আসবেন না। পার্সেল হাতে পাওয়ার পরে বক্স যে আপনি খুলবেন সেটার ভিডিও করবেন ।তারপর তিনটা জিনিস দেখবেন। 

প্রথমে তারের লেন্থ চেক করে নিতে হবে। আসল বয়া এম ওয়ান এর তার ৬ মিটার লম্বা আর অনেক নরম হয়। আর নকল তার তিন থেকে চার মিটার লম্বা আর অনেক শক্ত প্লাস্টিকের মত। দ্বিতীয়ত দেখে নিতে হবে মাইক্রোফোনের সাথে কি আছে। আসল বক্সের ভেতর মাইক ছাড়াও ক্লিপ লোমওয়ালা ফোম আর একটা ছোট ব্যাটারি ফ্রি থাকে। নকল বক্সের মধ্যে শুধু মাইক থাকে। দ্বিতীয়ত হল সাউন্ড টেস্ট করে নেওয়া। মোবাইলে লাগিয়ে সাউন্ড কেমন সেটা দেখে নেবেন। 

যে মাইক টা আসল হবে সেটার ভয়েস মোটা এবং সুন্দর শোনা যাবে আর কন্ঠ একদম ক্লিয়ার। আর যে মাইক নকল হবে সেটাতে প্রচুর শত শব্দ আসবে ।কথা ক্লিয়ার আসবে না একটা কথা বোঝা যাবে তো আর একটা কথা বোঝা যাবে না তার মানে বেধে বেধে আসবে। তখন শুনতে অনেক বিরক্ত লাগবে। এই তিনটা ঠিক থাকলে বুঝবেন আপনি আসল মাইক টাই হাতে পেয়েছেন। তাই কেনার সময় এই বিষয়গুলো অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। 

শেষকথাঃঅল্প টাকায় ভিডিও রেকর্ডিং এর সেরা মাইক্রোফোন রিভিয়ের শেষ কথা

অল্প টাকায় ভিডিও রেকর্ডিং এর সেরা মাইক্রোফোন রিভিউ সম্পর্কে যদি ছোট করে বলি তাহলে ব্লগের জন্য বয়া এম ওয়ান ।আর রুমের পডকাস্টের জন্য maono au-100 এখনো সবচেয়ে ভালো। ৫০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে এই দুইটা মাইক পাওয়া যাবে। আরে দুইটা মাইক দিয়েই আপনি মোবাইলের থেকে তিনগুণ ক্লিয়ার সাউন্ড ভালো পাবেন। আসল নকল দেখে কিনে একটু ভালোভাবে ব্যবহার করলে নিয়ম-কানুন মেনে যদি ব্যবহার করেন তাহলে কম বাজেট হলেও ভিডিও অনেক ভাল হবে এবং কথাও শোনা যাবে।

অল্প টাকায় ভিডিও রেকর্ডিং এর সেরা মাইক্রোফোন রিভিউ এ সম্পর্কে আমি ডিটেইলস বলার চেষ্টা করেছি। কোনটাই সুবিধা আছে কোনটাতে অসুবিধা আছে কোনটা ভালো, কোনটা খারাপ সব সম্পর্কে বলেছি। এই বিষয়ে বলতে গিয়ে যদি আমি কোন ভুল করে থাকি বা কোন কিছু ছাড়া পড়ে যায় তাহলে আমাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। ক্ষমা হচ্ছে একটা মহৎ গুণ। আর কোন অংশে যদি বুঝতে সমস্যা হয় তাহলে আমাকে জানাবেন আমি সাহায্য করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপনি যদি ইচ্ছা পুরন এর কোন পোস্টে কমেন্ট করতে চান, তাহলে এর নীতি মেনে কমেন্ট করুন। কারন প্রত্যেকটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url