ঘরের জন্য কম বিদ্যুৎ খরচের সেরা এয়ার কন্ডিশনার
ঘরের জন্য কম বিদ্যুৎ খরচের সেরা এয়ার কন্ডিশনার এখন হাতের নাগালে। বিদ্যুৎ বিল নিয়ে টেনশন করছেন? এই AC গুলোতে বিল আসবে ৫০% কম। Inverter আর energy sevar টেকনোলজি দিয়ে দ্রুত ঠান্ডা করা হয় কম খরচে।
কম দামে বেশি সুবিধা, সাথে কোম্পানির ওয়ারেন্টি তো আছেই। এরকম সুবিধাকে না পেতে চায়। যদি আপনার প্রয়োজন থাকে, তাহলে আজকে পোস্টটি পড়ে আপনার ঘরের জন্য একটা পারফেক্ট এসি বেছে নেবেন।
সূচিপত্রঃঘরের জন্য কম বিদ্যুৎ খরচের সেরা এয়ার কন্ডিশনার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো
- ঘরের জন্য কম বিদ্যুৎ খরচের সেরা এয়ার কন্ডিশনার কেনার নিয়ম
- ঘরের জন্য কম বিদ্যুৎ খরচের এয়ারকন্ডিশন চেনার কয়েকটি উপায়
- কম বিদ্যুৎ খরচের এসি ব্যবহারের সব থেকে বড় সুবিধা কি
- ইনভার্টার এসি কেন ঘরের জন্য এত ভালো
- এসি এর ইকো মোড এবং স্লিপ মোড কিভাবে বিল কমায়
- বাংলাদেশ ওয়ালটন এসির রিভিউ কেমন
- এসি চালিয়ে বিদ্যুৎ বিল কমানোর উপায় কি
- প্রতিদিন আট ঘন্টা AC চালালে মাসে কত টাকা বিল আসবে
- ঘরের জন্য কম বিদ্যুৎ খরচের সেরা এয়ার কন্ডিশনার এর বর্তমান দাম কেমন
- এসি কেনার আগে যে ভুলগুলো একদম করা যাবে না
- নিয়মিত সার্ভিসিং করে কিভাবে বিদ্যুৎ বিল কমানো যায়
- ছোট বেডরুম আর বড় বিল্ডিং রুমের জন্য কোন এসি ভালো
- অনলাইন নাকি শোরুম থেকে এসে কিনলে লাভ বেশি
- শেষ কথাঃঘরের জন্য কম বিদ্যুৎ খরচের সেরা এয়ার কন্ডিশনার বাছাইয়ের শেষ পরামর্শ
ঘরের জন্য কম বিদ্যুৎ খরচের সেরা এয়ার কন্ডিশনার কেনার নিয়ম
ঘরের জন্য কম বিদ্যুৎ খরচের সেরা এয়ার কন্ডিশনার কেনার নিয়ম জানা না থাকলে, অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। এমনকি কম দামের পণ্যটি আপনি বেশি দাম দিয়ে কিনে ফেলতে পারেন। আবার যেই AC তে বেশি বিল আসে সেটাও কিনে নিতে পারেন। তাই প্রথমে রুমের সাইজ মেপে ১ টোন, এসি ১.৫ টন নাকি ২ টন লাগবে সেটা ভালোভাবে মেপে দেখবেন। তারপরে ঠিক করবেন কোনটা নিবেন। তারপরে অবশ্যই Inverter এবং 5 star energy rating আছে এরকম এসি বাছাই করবেন।
এই এই এসি গুলোই বিদ্যুৎ বিল ৪০% থেকে ৫০% পর্যন্ত কমিয়ে দেয়। ব্র্যান্ডের ওয়ারেন্টি, সার্ভিস সুবিধা এবং দামও মাথায় রেখে কিনতে হবে। শুধু বিদ্যুৎ বিল কম এটা শুনে নিয়ে নেবেন না। কারণ বিদ্যুৎ বিল কম শুনে নিয়ে যদি ওয়ারেন্টিক গ্যারান্টি না থাকে তাহলে কয়দিন পর দেখবেন নষ্ট হয়ে যাবে তখন ঝামেলার মধ্যে পড়ে যাবেন। তাই কেনার সময় সবদিক ভেবেচিন্তে কিনতে হবে। আবার কেনার আগে অবশ্যই যারা ব্যবহার করেছে তাদের রিভিউ নিবেন। আবার যারা এসব বিষয়ে বেশি অভিজ্ঞ তাদের সাথে পরামর্শ করবেন। কারণ সবার এসি কেনার সামর্থ্য থাকে না। শখ করে অনেক কষ্ট করেও যদি কিনে তারপরে যদি ভালো না হয় তাহলে অনেক কষ্টের ব্যাপার।
তাই সবার মতামত নিবেন পরামর্শ নিবেন তারপরে কিনবেন।Eco Mode, sleep mode, fast cooling এর মত ফিচার আছে কিনা চেক করে নিবেন। অনলাইন ও শোরুম দুই জায়গাতেই দাম বাছাই করবেন, একটার সাথে আর একটা তুলনা করবেন তারপরে কিনবেন। আপনি যদি সঠিক নিয়মে এসএসসি সিলেক্ট করেন তাহলে একদিকে যেমন ঘর ঠান্ডা থাকবে অন্যদিকে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল নিয়েও আপনার কোন টেনশন হবে না। মানে বিদ্যুৎ বিল তুলনামূলক কম আসবে। তাই এসি কেনার সময় সব দিকে চিন্তা ভাবনা করে পরামর্শ করে নিবেন।
ঘরের জন্য কম বিদ্যুৎ খরচের এয়ারকন্ডিশন চেনার কয়েকটি উপায়
ঘরের জন্য কম বিদ্যুৎ খরচের এয়ারকন্ডিশন চেনার উপায় যদি আপনি জেনে থাকেন তাহলে বেশি বিলের এসি না নিয়ে কম দামের এসি নিতে পারবেন। কম দামের এসি নিতে গেলে সবার প্রথমে এসি এর গায়ে লাগানো energy rating sticker দেখবেন আছে কিনা। 5 starবা 4 Star রেটিং যুক্ত inverter AC গুলোই সবচেয়ে কম বিদ্যুৎ খরচের। এরপর EER বা ISEER ভ্যালু চেক করে নিবেন। এই সংখ্যার যত বেশি হবে এসি তত বেশি energy efficient হবে। এছাড়া Eco Mode, sleep mode এবং smart inverter টেকনোলজি আছে কিনা সেটাও দেখে নিতে হবে।
দ্বিতীয় চেনার উপায় হল এসি এর ওয়ার্ড এবং এম্পিয়ার হিসাব করে দেখা। কম ওয়াটের এসি মানে কম বিল এটা প্রায় সবাই জানে। সাধারণত এক টন inverter AC ৯০০-১১০০ ওয়াটের মধ্যে হয়ে থাকে। ব্র্যান্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে মডেলের বিদ্যুৎ খরচের চারটা ও দেখে নিবেন। তাহলে নিজের জন্যেই ভালো হবে। সবশেষে যারা এটা ব্যবহার করেছে তাদের রিভিউ পড়ুন দেখুন তারপরে কিনুন। তারপরে যারা ব্যবহার করেছে তাদের কাছে গিয়ে শুনুন, এ বিষয়ে যারা বেশি অভিজ্ঞ তাদের কাছে গিয়ে পরামর্শ নেন। কোন কোন এসি কিনলে বিদ্যুৎ বিল কম হবে এগুলো জেনেশুনে তারপরে কিনবেন।
কম বিদ্যুৎ খরচের এসি ব্যবহারের সব থেকে বড় সুবিধা কি
কম বিদ্যুৎ খরচের এসি ব্যবহারে সব থেকে বড় সুবিধা হল প্রতিমাসে বিদ্যুৎ বিল অনেক কম আসা। কারণ দিন দিন যে হারে তারেন বিল বাড়ছে এতে মধ্যবিত্ত ফ্যামিলির লোকেরা এসি ব্যবহার করতে ভয় পায়। তাই যদি কম বিদ্যুৎ খরচের মধ্যে এসি পাওয়া যায়, সাধারণত তাহলে অনেকেই ব্যবহার করতে আগ্রহী হবে। Non Inverter AC একটানা চললে মাসে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বিল আসতে পারে। কিন্তু 5 star inverter AC ব্যবহার করলে ঠিক একই সময় চালিয়েও বিল আসে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে।
কারণ এসিগুলো রুম ঠান্ডা হওয়ার পর কম্প্রেসারের গতি কমিয়ে দেয়। ফলে বিদ্যুৎ টানে অনেক কম। যারা সারাদিন ac চালান তাদের জন্য এটা সবচেয়ে বড় শান্তি। এর পাশাপাশি আরেকটা বড় সুবিধা হল লং টার্ম সেভিং। প্রথমের দাম একটু বেশি হলেও এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই বিল সেভ করে সেই টাকা উঠানো যায়। তারপর থেকে যতদিন চালাবেন সবই লাভ। সাথে Eco modeআর sleep mode থাকার কারণে রাতে ও আরামে ঘুমানো যায়। বিল কম আসে তাই তেমন টেনশনও থাকে না। তাই একবার কম বিদ্যুৎ খরচের এসি কিনলে টাকা ও বাঁচে মনের শান্তি ও থাকে।
ইনভার্টার এসি কেন ঘরের জন্য এত ভালো
ইনভার্টার এসি ঘরের জন্য এত ভালো কারণ, এই এসিতে বিল অনেক কম আসে। আর আমরা চাই বিল কম আসা ডিভাইস গুলোই ব্যবহার করি। তাই এটা আমাদের জন্য অনেক ভালো। নরমাল এসিগুলো বারবার অন অফ হয় তাই বিদ্যুৎ টানে বেশি। কিন্তু ইনভার্টার এসি একবারে পুরো ঘর ঠান্ডা করার পরে আস্তে আস্তে চলতে থাকে। কম্প্রেসার বন্ধ হয় না শুধু এসির গতিটা কমে যায়। তাই বিদ্যুৎ খরচও ৪০% থেকে ৫০% কম আসে। যাদের বাসায় অসুস্থ মানুষ বা ছোট বাচ্চা থাকে তাদের জন্য বিলের কোন টেনশন হয় না।
ইনভার্টার এসি ভাল হওয়ার আর একটা কারণ হলো এটা অনেক আরামদায়ক এবং টেকসই। ইনভার্টার এসি খুব তাড়াতাড়ি ঘরকে ঠান্ডা করে ।আর তাপমাত্রাটা একদম ঠিকঠাক রাখে। তাপমাত্রা উঠানামা করে না তাই রাত্রে ঘুমটা অনেক ভালো হয়। শব্দ ও অনেক কম হয়। নরমাল এসির মত ঘড় ঘড় শব্দ হয় না। যেহেতু কম্প্রেসার এর ওপর চাপ কম পড়ে তাই এসি অনেকদিন টেকসই হয়। আসল কথা হল, বিল কম আসে, অনেকদিন টেকশন হয়, রাত্রে ঘুম ভালো হয়, ঘর ঘর শব্দ করে না। এইসব কারণেই ইনভার্টার এসি ঘরের জন্য সবথেকে বেশি ভালো।
এসি এর ইকো মোড এবং স্লিপ মোড কিভাবে বিল কমায়
এসি এর ইক মোড এবং স্লিপ মোড যেভাবে বিল কমায় তার প্রথমটা হল ইকো মোড। এই মুড অন করলে এসি রুমকে খুব দ্রুত একদম ঠান্ডা করে না। বরং ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি তে তাপমাত্রা সেট করে কম্প্রেসারের গতি কমিয়ে দেয়। গতি কমার ফলে এসি কম বিদ্যুৎ টানে। দিনের বেলায় যদি বাইরে প্রচন্ড গরম না থাকে, তাপমাত্রা যদি স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে আর দিনের বেলায় যদি এসি ব্যবহার না করা হয়। তাহলে বিদ্যুৎ বিল ২০ পার্সেন্ট থেকে ৩০% পর্যন্ত কমে যায়।
শুধু রাতে চালালে বিল তো আরো অনেক কম আসে। এতে করে রুম ঠান্ডা হয়, আবার বিলটাও বাঁচে। মোট রাতের জন্য খুব ভালো। মানুষ ঘুমানোর পরে তার শরীরের তাপমাত্রা আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে। তাই সারা রাত ১৮ডিগ্রিতে রাখার দরকার হয় না। প্লিপ মোড অন করলে প্রতি ঘন্টা পর পর এসি নিজেথেকে এক ডিগ্রি করে তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। দুই থেকে তিন ঘন্টার মধ্যে ২৬ থেকে ২৭ ডিগ্রিতে চলে যায়। এই এই কারণে কম্প্রেসার অনেক কম চলে,আর বিদ্যুৎ খরচ অনেক কম হয়। যাদের গলার সমস্যা আছে তাদেরও তেমন কোন সমস্যা হয় না। এতে করে বিদ্যুৎ বিল কম আসে আবার শান্তির মতন ঘুম হয়।
বাংলাদেশ ওয়ালটন এসির রিভিউ কেমন
বাংলাদেশ ওয়ালটন এসির রিভিউ বেশ ভালো। বিশেষ করে যারা বাজেটের মধ্যে কম বিদ্যুৎ খরচের এসি করছেন তাদের জন্য এটা আরো বেশি ভালো। ইনভার্টার, এনার্জি সেভার এবং ফাইভ স্টার রেটিং এর অনেক মডেল বাজারে এখন ছেড়েছে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এগুলোর দাম কম। বিদেশি ব্র্যান্ডের তুলনায় ওয়ালটন এসি এর দাম ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কম পাওয়া যায়। সাথে এক বছরের ফ্রি সার্ভিসিং আবার কম্প্রেসার এর ১০ বছরের ওয়ারেন্টি দেয়। তাই অনেকটাই টেনশন মুক্ত থাকা যায়। সার্ভিস নিয়ে তেমন কোন টেনশন থাকে না।
ঠান্ডা হওয়ার স্পিড আর বিদ্যুৎ কম আসা এর দিক থেকে ওয়ালটন ইনভার্টার এসিগুলো অনেক ভালো ফলাফল দেয়। ইকো মোড, স্লিপ মোড, এর মত ফিচার সব মডেলই আছে। তাই ইউজাররা বলে এক টন এসি দৈনিক ৮ ঘন্টা চালালে ও মাসে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে বিল থাকে। তবে কিছু কিছু ব্যবহারকারীদের অভিযোগ থাকে এসির গায়ে যে প্লাস্টিক এটার কোয়ালিটি নিয়ে। তবে দাম আর সুবিধা চিন্তা করলে walton বাংলাদেশে কম দামের মধ্যে এই এসিটাই সবথেকে ভালো।
এসি চালিয়ে বিদ্যুৎ বিল কমানোর উপায় কি
এসি চালানোর পরেও বিদ্যুৎ বিল কমানোর প্রথম উপায় হল তাপমাত্রা আর রুম সিল করা। এসি ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রিতে চালালে, প্রতি এক ডিগ্রি কমালে বিল প্রায় ৬% থেকে ৮ পার্সেন্ট বেড়ে যায়। রুমের দরজা জানালা যদি ভাল করে বন্ধ রাখা হয় থাকা না থাকে ঘর থেকে ঠান্ডা বাতাস না বের হয় তাহলে, এসি তেমন চাপ নেয় না। আর যদি ঘর থেকে বাতাস বের হয়ে যায় তাহলে এসি অনেক চাপ নেয়। কিছুক্ষণ চালানোর পরে রুম যখন ঠান্ডা হয়ে যাবে তখন এসি বন্ধ করে হালকা করে ফ্যান দিয়ে রাখলেও রুম ঠান্ডা হয়ে থাকে । দিনের বেলায় ঘরে মোটা পর্দা দিয়ে রাখলে ভালো হয়।
আরো পড়ুনঃঅল্প টাকায় ভিডিও রেকর্ডিং এর সেরা মাইক্রোফোন রিভিউ
দ্বিতীয় উপায় হল এসি এর যত্ন নেওয়া। শুধু মানুষের যত্ন নিলে হবে না, প্রত্যেকটা জিনিস যদি যত্ন করে রাখা হয় তাহলে অনেক দিন ভালো রাখা যায়। প্রতি এক থেকে দুই মাস পর পর এসি এর এয়ার ফিল্টার নিজেই ধুয়ে পরিষ্কার করুন। ময়লা ফিল্টার থাকলে এসি ১৫% বেশি বিদ্যুৎ খায়। আউটডোর ইউনিট যেন রোদে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ছায়ার মধ্যে থাকলে কম্প্রেসার ও ঠান্ডা থাকে বিদ্যুৎ কম পুড়ে। আর রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই স্লিপ মোড বা টাইমার ব্যবহার করবেন। তাহলে ৬-৭ ঘন্টা পর এসি নিজেই বন্ধ হয়ে যাবে। এই ছোট ছোট কাজগুলো করে আপনি বিদ্যুৎ বিল কমাতে পারেন।
প্রতিদিন আট ঘন্টা AC চালালে মাসে কত টাকা বিল আসবে
প্রতিদিন এসির চালালে মাসে কেমন বিল আসবে সেটা নির্ভর করবে এসি কত টনের আর কত স্টার এর উপরে। AC যদি এক টন inverter 5 star AC।এই এসিগুলো ঘন্টায় ঘরে ০.৯ থেকে ১.১ ইউনিট বিদ্যুৎ খায়। তাহলে ৮ ঘন্টায় খাবে ৮ থেকে ৯ ইউনিট। তার মানে মাসে বা ৩০ দিন হিসাব করলে ২৪০ থেকে ২৭০ ইউনিট হবে। আর প্রতি ইউনিট যদি থাকাবা ৮ টাকা হয় তাহলে মাসে আসবে ১৭০ থেকে ২০০ টাকার মতো। ১৭০ টাকা বা ২০০ টাকা এই বিল কিন্তু খুব বেশি নয়। এসে চালিয়ে এত কম টাকা বিল এটা আসলে অনেক কম।
কিন্তু এটা যদি নন ইনভার্টার বা থ্রি স্টার এসি হতো তাহলে, এটার হিসাব আলাদা হতো। একটা নরমাল এসি ঘন্টায় ১.৫ থেকে ১.৮ পর্যন্ত ইউনিট উঠে। আট ঘন্টায় ১২ থেকে ১৪ ইউনিট তারমানে মাসে ৩৬০ থেকে ৪২০ ইউনিট পুড়ে যায়। এবার যদি মাসিক বিল হিসাব করা হয় তাহলে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তাই কেউ যদি ইকো মুড ব্যবহার করে তাহলে রুম ভালো করে সিল করতে হবে । সিল করলে এই বিল আরো 20% পর্যন্ত কমে যাবে। এসি চালানোর আগে ভালোভাবে দেখে নিতে হবে ঘরের কোন জায়গা দিয়ে যেন বাতাস বের না হয়।
ঘরের জন্য কম বিদ্যুৎ খরচের সেরা এয়ার কন্ডিশনার এর বর্তমান দাম কেমন
কম বিদ্যুৎ খরচের সেরা এয়ারকন্ডিশনের বর্তমান দাম ব্রান্ড টন এবং ফিউচার এর উপর নির্ভর করে। বাংলাদেশে এখন এক টন। ইনভার্টার ফাইভ স্টার এসি এর দাম শুরু হয় ৫০ থেকে ৬৫ হাজার টাকার মধ্যেই। walton ,green, singer, এর এনার্জি সেভার মডেল গুলো এই দামে পাওয়া যায়। এগুলোতো ইকো মোড, স্লিপ মোড, ফাস্ট কুলিং এর মত ফিচার থাকে। আর আপনার বাজেট যদি একটু বেশি হয় তাহলে ডাইকিং জেনারেল এর এক টন এসি ৭৫ থেকে ৯৫ হাজার টাকা পর্যন্ত এর মূল্য।
১.৫ টন এর জন্য দাম একটু বেশি হবে। কম বিদ্যুৎ খরচ জন্য ১.৫ টন ইনভার্টার এসি ৬৫ থেকে ৮৫ হাজার টাকার মধ্যে ভাল মডেলটাই পেয়ে যাবেন। আর ২ টন হলে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মত লাগবে। দাম বেশি তবে সুবিধা ও আছে ।দামের সাথে কোম্পানি এক বছরের ফ্রি সার্ভিসিং আর কম্প্রেসারের ১০ বছরের ওয়ারেন্টি দিয়ে থাকে । বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দিন উপলক্ষে অফার দেয় এইসব কোম্পানিগুলো। অফার এর সময় পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়। প্রথমে দাম বেশি হলেও কম বিলের কারণে এক থেকে দুই বছরের মধ্যে টাকাটা উঠে যায়।
এসি কেনার আগে যে ভুলগুলো একদম করা যাবে না
এসি কেনার আনন্দে অনেক মানুষ আছে যারা কিছু কিছু ভুল করে ফেলে। যে ভুলগুলো করা একদম ঠিক নয়। তার প্রথম ভুল হল যে রুমের এসি নিবে সেই রুমের মাপ না নিয়ে এসে কেন। অনেকেই কম দামে এক টন এসি কিনে ফেলে পরে দেখা যায় রুম বড় হওয়ায় এসি ঘরকে ঠান্ডা করতে পারছে না। এর ফলে সারাদিন কম্প্রেসার চলতেই থাকে আর বিলা হয় অনেক বেশি। তাই ১০০ থেকে ১২০ স্কয়ার ফিটের জন্য এক টন, ১৫০ থেকে ১৮০ স্কয়ার ফিটের জন্য ১.৫ টন। আর তার বেশি যদি হয় তাহলে দুই টন নিতে হবে।
আর যদি টপ ফ্লোর বা রোদ লাগে তাহলে আরো আধা টন বেশি নিতে হবে। তা না হলে ঘর ঠান্ডা হবে না। আরেকটা ভুল হল শুধুমাত্র দাম দেখে non-inverter বা কম ইফতারের এসি কিনা। প্রথমে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বাঁচলেও প্রতি মাসে বিল কিন্তু অনেক আসবে। তিনস্টার এর বদলে যদি ৫ স্টার ইনভার্টার এসি নেন ,তাহলে এর সাথে energy rating, ISEER ভ্যালু, ওয়ারেন্টি আর সেল সার্ভিস চেক না করে কিনবেন না। অনেক সময় সবকিছু দেখে না নিলে তারা পাইপ ছোট দেয় , ভ্যাকুয়াম করে না এতেও এশিয়ার লাইফ কিন্তু কমে যায়। তাই দুই থেকে তিনটা বিষয় মাথায় রেখে যদি এসি কিনেন তাহলে ঠকার ভয়টা অনেক কম থাকে।
নিয়মিত সার্ভিসিং করে কিভাবে বিদ্যুৎ বিল কমানো যায়
নিয়মিত সার্ভিসিং করেও বিদ্যুৎ বিল কমানো যায়, তার প্রথম কারণ হলো এসির যে ফিল্টার আছে ওই ফিল্টার আর কয়েন সবসময় পরিষ্কার রাখা। কমপক্ষে দুই থেকে তিন মাস পর প্রিন্টারে ধুলা জমে যায়। আর যখন ধুলা জমে যায় তখন এসি বাতাস টানতে পারে না। তখন ঠান্ডা করতে অনেক বেশি সময় লাগে আর কম্প্রেসারের ওপরেও চাপ পড়ে যায়। আর তখন কম্প্রেসার জোরে চলে। বিদ্যুৎ খরচের পরিমাণটাও 15 থেকে ২২% পর্যন্ত বেড়ে যায়। তাই আগে থেকে এগুলো চেক করে নিজেরাই যদি পারেন তাহলে পরিষ্কার করে রাখবেন।
আর তা না হলে টেকনিশিয়ানকে ডেকে ফিল্টার, ইনডোর, আউটডোর কয়েল ধুয়ে পরিষ্কার করে টাকা নিয়ে চলে যাবে। এখানেও একটা খরচের ব্যাপার আছে। টেকনিশিয়ান যখন এগুলো করে যাবে তখন আবার এসি সুন্দরভাবে কাজ করবে। তারপরে সার্ভিসিং এর সময় গ্যাস লিক, ফ্যান মটর আর পিসিবি চেক করে নিতে ভুলবেন না কিন্তু। গ্যাস কমে গেলে এসি ঠান্ডা কম করে বিদ্যুৎ খরচ আগের মতই আবার বেশি হয়। আবার ইন্দুর আউটডোরে ময়লা জমে জ্যাম হয়ে কম্প্রেসারে আবার অনেক চাপ পড়ে যায়। তারপরে আবার ছয় মাস পরে সার্ভিসিং করলে সমস্যাগুলো আগেই ধরা পড়ে, তারপরে যখন ঠিক হয়ে যায় আবার কম বিদ্যুৎ খরচ হয়।
আর একটা কাজ করলে বিদ্যুৎ খরচ কম হয় সেটা হলো ট্রেন পাইপ আর গ্যাস প্রেসার ঠিক করে রাখা। নিয়মিত সার্ভিসিং না করলেও ট্রেন লাইনে ময়লা জমে পানি জমে আছে কিনা সেটা খেয়াল রাখতে হবে। যদি ময়লা পানি জমে থাকে তখন এসি এর কুলিং কয়েল বড় হয়ে যায় ফলে এসি বারবার ট্রিট করে আর বেশি বিদ্যুৎ খায়। সময় টেকনিশিয়ান গ্যাসের প্রেসারও মেপে দেখে। প্রেসার ঠিক থাকলে কম্প্রেসার হালকা লটে চলে বেশি চাপ নেয় না। এইসব ছোট ছোট যে কাপগুলোর মাধ্যমে প্রতিমাসে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিল কমে যেতে পারে। তাই উচিত হবে নিয়মিত মনে রেখে সার্ভিসিং করা।
ছোট বেডরুম আর বড় বিল্ডিং রুমের জন্য কোন এসি ভালো
ছোট বেডরুম মানে আমরা বুঝি ১০০ থেকে ১২০ স্কয়ার ফিট রুমকে । আর এই সাইজের রুমের জন্য ১ টন ইনভার্টার ৫ স্টার এসি সবথেকে বেশি ভালো। এখানে বেশি টনের এসি নিলে রুম খুব দ্রুত ঠান্ডা হয়ে বারবার বন্ধ হয় আবার চালু হবে। তখন কম্প্রেসার বারবার বন্ধ হবে চালু হবে তখন অনেক বেশি বিদ্যুৎ বিল আসবে। এটা কম্প্রেসারও নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এক টন এসিতে ইকো মোড আর স্লিপ মোড থাকে, তাই রাতে কম কম শব্দ হয় তাই রাতে আরামে ঘুমানো যায়। ওয়ালটন আর সিংগার এর এক টন ইনভার্টার গুলো র দাম এবং সার্ভিসের দিক দিয়ে অনেক ভালো।
আরো পড়ুনঃউইন্ডোজ ১১ ইন্সটল করার সহজ পদ্ধতি
বড় বিল্ডিং বা হলরুম বলতে আমরা বুঝি ২০০ স্কয়ার ফিটের বেশি । তারপরে অফিস ড্রয়িং এবং ডাইনিং একসাথে থাকে এটাকে বুঝি। এখানে এক টন দিয়ে ঠান্ডা করা সম্ভব নয়। এর জন্য দরকার ১.৫ অথবা ২ টন ইনভার্টার এসি। বড় স্পেসে স্লিপ এসি এর বদলে যদি রুম আরো বড় হয় তাহলে দুই টন cassette AC বা floor standing ভালো। কারণ এগুলোর বাতাস ছড়ানোর ক্ষমতা অনেক বেশি থাকে। বড় রুমে অবশ্যই বাসস্টার রেটিং আর টার্বোকুল ফিউচার দেখে কিনতে হবে। তা না হলে ঘর ঠান্ডা হতে অনেক বেশি সময় লাগবে আর বিদ্যুৎ বিল অনেক বেশি আসবে।
অনলাইন নাকি শোরুম থেকে এসে কিনলে লাভ বেশি
সাধারণত অনলাইনে এসি কিনলে শোরুমের চেয়ে তিন থেকে আট হাজার টাকা কম পাওয়া যেতে পারে। অনলাইনে মাঝে মাঝেই বিশেষ বিশেষ অফার দেয় এই অফারে কিনলে দাম অনেকটাই কম পাওয়া যায়। ই-কমার্সে ঈদ ১১.১১ বা বছরের শেষে অনেক বড় ডিসকাউন্ট থাকে। আবার ক্যাশব্যাক আর EMI অফারও পাওয়া যায়। আবার ঘরে বসে মডেল দেখে রিভিউ দেখে এনার্জি রেটিং সবকিছু মিলিয়ে নেওয়া যায়। তবে অনলাইনে কিছু কিনলে সবকিছু ভালোভাবে দেখে নিতে হবে।
কারণ অনেক সাইট আছে যেগুলোর পণ্য একদমই ভালো না। তাই কেনার আগে কাস্টমার রিভিউ কতদিনের পেজ এগুলো সব দেখে নিবেন। অনলাইনে জিনিস কেনার সব থেকে একটা বড় সমস্যা হল ডেলিভারি আর ইনস্টলেশন। অনেক সময় ডেলিভারি দিতে দেরি করে। আর ফ্রি ইন্সটলেসন ঠিকমত না হলে পরে টাকা দিয়ে টেকনিশিয়ান ডেকে ঠিক করতে হয়। তাই কেনার আগে সবকিছু দেখে শুনে বুঝে কিনবেন।
শো রুমে গিয়ে এসি কিনলে চোখে দেখে, হাত দিয়ে নেড়েচেড়ে আপনি সবকিছু লাইভে দেখে নিতে পারবেন। ফ্যানের শব্দ কেমন সেটা শুনে এক কথায় নিজ হাতে সবকিছু যাচাই বাছাই করে নিতে পারবেন। সেলসম্যানকে যদি বলা হয় আমার রুমের জন্য কত টনে এসি লাগবে তারা এসে রুম মেপে বলে দেবে কত টন এসি লাগবে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হল ইন্সটলেশন। ব্র্যান্ডের নিজস্ব টেকনিশিয়ান আছে এরা এসে ভ্যাকুয়াম করে পাইপ ফিটিং করে একদম চালু করে দিয়ে যায়। তাদের নিজস্ব টেকনিশিয়ান এসে সমস্ত কাজ করে চেক করে দেয়।
সার্ভিসিং বা ওয়ারেন্টির কাজও শোরুম থেকে সরাসরি হেল্প নেওয়া যায়। দাম একটু বেশি হলেও ভেজাল কম আর কোন টেনশন থাকে না। আবার ওয়ারেন্টি গ্যারান্টিও দিয়ে থাকে কোন সমস্যা হলে ফোন করে তাদেরকে বলা যায় অথবা পণ্যটি তাদের দোকানে নিয়ে গেলে যদি মেয়াদ থাকে তাহলে তারা সবকিছু ঠিক করে দেবে একটা টাকাও নেবে না। অনলাইন থেকে কিনলে দাম একটু কম কিন্তু পেরেশান বেশি। আর শোরুম থেকে কিনলে দাম একটু বেশি হয় কিন্তু পেরেশানি কম থাকে। তাই কেনার সময় আবারও বলছি দেখে শুনে বুঝে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করে কিনবেন।
শেষ কথাঃঘরের জন্য কম বিদ্যুৎ খরচের সেরা এয়ার কন্ডিশনার বাছাইয়ের শেষ পরামর্শ,
ISEER ভ্যালু ৪.৫ এর উপরে হলে সেটা সবচেয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ই হয়। ইক মোড ,স্লিপ মোড ,কপার কনডেন্সার, আছে কিনা এগুলো সব চেক করে নেবেন। এগুলো যদি না থাকে তাহলে কিন্তু বিল কম আসবে না। তাই কেনার সময় ভালোভাবে দেখে নিবেন। walton, gree, Daikin যে ব্র্যান্ডেরই নেন না কেন কম্প্রেসার কমপক্ষে ১০ বছর আর পুরা এসিতে এক বছরের ওয়ারেন্টি আছে কিনা দেখে নিবেন। আফটার সিল সার্ভিস আপনার এলাকায় আছে কিনা জেনে নিবেন। তা না হলে পরে কিন্তু সমস্যায় পড়ে যাবেন।
আর ইন্সটলেশনের সময় ভ্যাকম আর সঠিক পাইপ লেনথ অবশ্যই লাগাতে হবে। আর এটা যদি না লাগান তাহলে এসি অনেক বেশি বিল আসবে। প্রথমে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেশি লাগলেও ৫ স্টার ইনভার্টার নিলে প্রতিমাসে বিল অনেকটাই সেভ করতে পারবেন। ঘরের জন্য কম বিদ্যুৎ খরচ করে সব থেকে ভালো এসি কিভাবে কিনবেন, কোনটা কিনলে সুবিধা বেশি কোনটা কিনলে অসুবিধা ,এই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এরই মাঝে যদি কোন ভুল হয়ে থাকে বা কোন কিছু বাদ পড়ে থাকে তাহলে আমাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।


আপনি যদি ইচ্ছা পুরন এর কোন পোস্টে কমেন্ট করতে চান, তাহলে এর নীতি মেনে কমেন্ট করুন। কারন প্রত্যেকটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url