প্রোডাক্ট রিসেলিং করে অনলাইন বিজনেস শুরু করার নিয়ম
প্রোডাক্ট রিসেলিং করে অনলাইন বিজনেস শুরু করার নিয়ম শিখে এখন ঘরে বসেই ইনকাম শুরু করুন। মাত্র ১০০০ টাকায় শুরু, লাভজনক প্রোডাক্ট বাছাই আর বিশ্বস্ত সাপ্লায়ার খোঁজার ফর্মুলা জানলে আর চাকরির প্রয়োজন হবে না।
সূচিপত্রঃপ্রোডাক্ট রিসেলিং করে অনলাইন বিজনেস শুরু করার সম্পন্ন নিয়ম জেনে নিন
- প্রোডাক্ট রিসেলিং করে অনলাইন বিজনেস শুরু করার নিয়ম কি
- প্রোডাক্ট রিসেলিং করে অনলাইন বিজনেস শুরু করার ৫ টি নিয়ম
- রেসলিং বিজনেস এর জন্য যে প্রোডাক্ট গুলো ভালো
- রিসলিং বিজনেস করতে কত টাকা পুজি লাগে
- রিসলিং বিজনেস করে কেমন লাভ হয়
- ঘরে বসেই মোবাইল দিয়ে অর্ডার নেওয়ার সহজ উপায়
- বিনা পুঁজিতে অনলাইন ব্যবসা
- বাংলাদেশের সেরা রিসেলিং অ্যাপ
- প্রোডাক্ট রিসেলিং করে অনলাইন বিজনেস শুরু করার নিয়ম গৃহিণীদের জন্য
- গ্রাম থেকে কিভাবে এই ব্যবসাটা করা যায়
- যেসব প্রোডাক্ট রিসলিং না করাই ভালো
- শেষ কথাঃপ্রোডাক্ট রিসেলিং করে অনলাইন বিজনেস শুরু করার নিয়ম নিয়ে শেষ কথা
প্রোডাক্ট রিসেলিং করে অনলাইন বিজনেস শুরু করার নিয়ম কি
প্রোডাক্ট রিসেলিং করে অনলাইন বিজনেস শুরু করার নিয়ম জানা খুব জরুরী।এই বিজনেস শুরু করার জন্য প্রথমে কোন টাকা পয়সা লাগে না। শুধু একটু সময় আর দরকার সাহস। প্রোডাক্ট রিসেলিং হল আপনি অন্যের প্রোডাক্ট এর ছবি আর দাম নিয়ে নিজের ফেসবুক বা হোয়াটসআপে বিক্রি করবেন। কেউ যদি অর্ডার করে তাহলে আপনি সাপ্লাইয়ার কে জানিয়ে দেবেন। আর সাপ্লায়ার আপনার পণ্যটি তোমার কাছে পৌঁছে দেবে।
মাঝখান থেকে যে লাভটা হবে সেটা আপনার থাকবে। এভাবে ঘরে বসে মোবাইল দিয়ে আপনি আপনার ব্যবসাটাকে দাঁড় করাতে পারেন। এখন একটু শাপলার সম্পর্কে বলি। সাপ্লায়ার হচ্ছে আপনার প্রোডাক্টটা যে কাস্টমারের কাছে পৌঁছে দেয় তাকে সাপ্লায়ার বলা হয়। তবে ভালো সাপ্লায়ার খুঁজে পাওয়া অনেক মুশকিল। ব্যবসার জন্য একটা ভালো সাপ্লায়ার অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই একটু কষ্ট হলেও ভালো ভাবে দেখেশুনে বিশ্বস্ত সাপ্লায়ার নিবেন।
আস্তে আস্তে দেখবেন যখন প্রোডাক্টগুলো বেশি বিক্রি হচ্ছে, তখন ওই ব্যবসাটার ওপর একটু গুরুত্ব দিবেন বেশি। একটা ব্যবসাকে দাঁড় করাতে সর্বপ্রথম প্রয়োজন হয় বিশ্বাস অর্জন করা। একটা ব্যবসার জন্য বিশ্বাস অর্জন করা খুবই দরকার। মানুষ আগে বিশ্বাস করে তারপরে প্রোডাক্ট নেয়। তাই প্রথমে পরিচিতদেরকে দিয়ে শুরু করলে ভাল হয়। আর একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সেটা হল যেই দিন প্রোডাক্ট ডেলিভারি দিতে চাইবেন সেইদিন দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
আর কাস্টমারের সাথে ভালো ব্যবহার এ দুইটা ঠিক রাখলে, ব্যবসাটা খুব তাড়াতাড়ি গ্রো করতে পারবেন। এভাবে কয়েক মাস কষ্ট করলে, দেখবেন ১০-১৫ জন কাস্টমার আপনার নিয়মিত কাস্টমার হয়ে গেছে।আর এক সময় ব্যবসা বড় করার পেছনে মেন ভূমিকা পালন করবে। তাই যদি একটু কষ্ট করে কাজটা চালিয়ে যেতে পারেন তাহলে ভবিষ্যতে অবশ্যই ভালো হবে।
প্রোডাক্ট রিসেলিং করে অনলাইন বিজনেস শুরু করার ৫ টি নিয়ম
প্রোডাক্ট রেসলিং করে অনলাইন বিজনেস শুরু করার গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি নিয়ম -
- নিশ সিলেক্ট করা
- বিশ্বস্ত সাপ্লায়ার
- সুন্দর পেজে বানানো
- প্রতিদিন পোস্ট আর ভিডিও ছাড়া
- রিপ্লাই আর বিশ্বাস অর্জন করা
নিশ সিলেক্ট করাঃরেসলিং বিজনেসটা করার জন্য সর্বপ্রথম যে নিয়মটা জানতে হবে সেটা হল নিশসিলেক্ট করা। তার মানে হচ্ছে আপনি যে প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করবেন,সর্বপ্রথমে সে প্রোডাক্টটা আপনাকে সিলেক্ট করতে হবে। একসাথে যদি জামা কাপড়, কসমেটিক্স বা অন্য কোন প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করেন তাহলে মানুষ বুঝতে পারবে না আপনি কোন বিষয়টা বিজনেসটা করছেন। তাই আপনাকে প্রথমে সিলেক্ট করতে হবে কোন প্রোডাক্ট নিয়ে ব্যবসা শুরু করবেন।
বিশ্বস্ত সাপ্লায়ারঃরেসলিং বিজনেসটা করার জন্য আর একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আপনাকে মাথায় রাখতে হবে সেটা হচ্ছে বিশ্বস্ত সাপ্লাইয়ার খুঁজে বের করা। একটা বিশ্বস্ত সাপ্লায়ার যদি আপনি না পান তাহলে ব্যবসা একদম লাটে উঠে যাবে। তাই হোলসেল গ্রুপ বা ফেসবুক মার্কেটিং গ্রুপ থেকে কয়েকটা ভালো সাপ্লায়ার খুঁজে বের করবেন।
সুন্দর পেজ বানানোঃপ্রত্যেকটা কাজ কষ্ট ছাড়া সফল হয় না । আর মানুষ সবসময় সাজানো গোছানো পছন্দ করে। যখন আপনি ব্যবসাটা দাঁড় করানোর কথা চিন্তা করবেন তখন অবশ্যই আপনাকে পেজটা খুব সুন্দর ভাবে সাজাতে হবে। পেজের নাম, লোগো,প্রোডাক্টের দাম, ডেলিভারি চার্জ সবকিছু দিয়ে অনেক সুন্দর ভাবে সাজিয়ে রাখবেন। যাতে মানুষ দেখলেই নজর কাড়ে।
রেগুলার পোস্ট আর ভিডিও ছাড়াঃপ্রতিদিন আপনাকে প্রোডাক্টের পোস্ট আরে প্রোডাক্টের ভিডিও ছাড়তে হবে। এতে করে মানুষ আপনার প্রতি আশ্বস্ত হবে। আজকে পোস্ট করলেন কালকে করলেন না এভাবে অনিয়ম করলে হবে না।
রিপ্লাই আর বিশ্বাসঃএকটা ব্যবসা দাঁড় করাতে গেলে অনেক কষ্ট করতে হয়। হাওয়ার উপর দিয়ে কখনো ব্যবসা বা কোন কিছু করা যায় না। তাই সব সময়ই একটিভ থাকতে হবে আপনার পেইজে। যখন কোন কাস্টমার আপনাকে ইনবক্স করবে তখন সাথে সাথে রিপ্লাই দেওয়ার চেষ্টা করবেন। তা না হলে কিন্তু কাস্টমার হারিয়ে যায়। আর কাস্টমার যাতে আপনার উপর আস্থা পাই সেজন্য সব সময় কথা দিয়ে কথা রাখার চেষ্টা করবেন। আর প্রোডাক্ট ভালো দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
রেসলিং বিজনেস এর জন্য যে প্রোডাক্ট গুলো ভালো
রেসলিং বিজনেস এর জন্য সব প্রোডাক্ট কিন্তু ভালো হয় না। তাই দেখে শুনে বুঝে প্রোডাক্ট কিনবেন। ব্যবসা করা মুখের কথা নয়। ব্যবসা করতে হলে সবদিক ভেবেচিন্তা করতে হবে তা না হলে লস খেতে হবে। তাই ছোট ছোট প্রোডাক্ট আর যেগুলো ভাঙবে না সেইগুলো প্রোডাক্ট গুলো নিয়ে শুরু করতে হবে। আর একটা কথা যে প্রোডাক্ট গুলো মানুষ বারবার কিনে গুলো নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে হবে। যেমন, মেয়েদের জুয়েলারি, কসমেটিক্স, হেয়ার ক্লিপ ঘড়ি মোবাইলের কভার ইত্যাদি প্রোডাক্ট।
এই প্রোডাক্ট গুলো ছোট, দেখতেও সুন্দর, ডেলিভারি করতে সুবিধা। একবার যদি ছবি তুলে পোস্ট করেন তাহলে অনেকেরই নজর কাড়ে। আর দামটাও হাতের নাগালের ভিতরেই থাকে। আরেকটা প্রোডাক্ট হলো সিজিনাল প্রোডাক্ট। গরমের দিনে ছোট ফ্যান, শীতের দিনে হুডি, ঈদে থ্রি পিস, শাড়ি, বাচ্চাদের খেলনা বিভিন্ন প্রোডাক্ট। এই প্রোডাক্ট গুলো নির্দিষ্ট সময়ে অনেক বেশি চলে। তবে একটা দিক খেয়াল রাখবেন প্রোডাক্ট গুলো কেনার আগে দেখতে যাওয়াতে ইউনিক লাগে গত বছরের তুলনায় যেন আরো ভালো হয় দেখতে এরকম প্রোডাক্ট কিনবেন।
রেসলিং বিজনেস করার জন্য তিনটার টপ প্রোডাক্ট এর নাম হলো -
- ফ্যাশন এক্সসেসরিজঃকানের দুল, আংটি, চুড়ি গলার মালা ইত্যাদি
- হোম কিচেন গ্যাজেটঃপেঁয়াজ কাটার, সবজি কাটার, মিনি ব্লেন্ডার , শীতের পিঠা বানানোর মেশিন। এসব গুলো ঘরের মেয়েরা অনেক বেশি পছন্দ করে।
- স্কিন কেয়ার আর কসমেটিকঃএগুলো তো মেয়েদের সব থেকে পছন্দের প্রোডাক্ট। লিপিস্টিক, ফেসওয়াশ, নেলপালিশ, বর্তমানে সিরাম এগুলো অনেক ডিমান্ডটেবল প্রোডাক্ট।
রিসলিং বিজনেস করতে কত টাকা পুজি লাগে
রেসলিং বিজনেস করতে টাকা পয়সা লাগে তেমন না। আপনি ইচ্ছা করলে কোন টাকা পয়সা না দিয়েও এই বিজনেসটা শুরু করতে পারেন। কারণ প্রথমেই তো আপনাকে কোন প্রোডাক্ট কিনতে হচ্ছে না। আপনি অন্যজনের প্রোডাক্ট এর ছবি সুন্দরভাবে তুলে দাম সহ ফেসবুক পেজ বা অন্য কোথাও পোস্ট করতে পারেন। কেউ যদি পছন্দ করে অর্ডার করে তাহলে আপনি সাপ্লায়ার কে বলে প্রোডাক্টটা কাস্টমারের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
এজন্য প্রথমে আপনার কোন টাকা লাগবে না শুধু মোবাইল খরচ লাগবে। আর আপনি যদি প্রোডাক্ট এর ভিডিও বা বুষ্ট করতে চান তাহলে মাসে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা লাগতে পারে। আপনি ফ্রি ভাবে বিভিন্ন গ্রুপে ও পোস্ট করে ব্যবসাটা শুরু করতে পারেন। তবে আপনার হাতে যদি ২০ বা ৫ হাজার টাকা থাকে তাহলে ভালো। ওই টাকা দিয়ে নিজস্ব প্রোডাক্ট কিনে নিজের ছবি দিয়ে পোস্ট করতে পারেন। এতে ব্যবসাটা তাড়াতাড়ি গ্রো করবে। আবার অনেক সময় দেখা যায় অর্ডার করে কিন্তু নেয় না।
ওই সময়টা এ টাকা গুলো আপনার কাজে লাগতে পারে। আপনারটাকা না খরচ করলেও চলবে। যদি কিছু টাকা হাতে থাকে তাহলে ভালো। যদি অল্প কিছু টাকা দিয়ে আপনার প্রোডাক্ট এর ভিডিও বা পোস্ট বুস্ট করতে পারেন তাহলে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আপনার কাছে অর্ডার আসা শুরু হয়ে যাবে। সেখানে অল্প কিছু টাকা খরচ হতে পারে। তবে সেটা আপনার ইচ্ছা না করলেও চলবে।
রিসলিং বিজনেস করে কেমন লাভ হয়
রেসলিং বিজনেস করে আপনি কত টাকা লাভ করবেন সেটা নির্ভর করবে, প্রোডাক্ট আপনি কত টাকা দিয়ে কিনেছেন আর কত টাকা দিয়ে বিক্রি করছেন সেটার ওপরে। সাধারণত এক একটা প্রোডাক্ট এর ওপরে ১৫০-৩০০ টাকা লাভ করা যায়। ধরুন একটা কানের দুল যদি আপনি ২৫০ টাকা দিয়ে কিনেন, সেটা আপনি কমপক্ষে ৩০০ টাকা দিয়ে বিক্রি করতে পারবেন। আবার বিভিন্ন কিচেন গেজেট আছে যেগুলো ৪০০ টাকা দিয়ে কিনে ৬০০ টাকা বা ৬৫০ টাকা দিয়েও বিক্রি করতে পারেন।
এভাবে প্রতিদিন যদি আপনি তিন-চারটা অর্ডার কমপ্লিট করতে পারেন। তাহলে মাসে ১৫-২০ হাজার টাকা ঘরে বসে ইনকাম করতে পারবেন । তবে একটা সত্য কথা কি জানেন? বিজনেস শুরু করার কয়েক মাস আপনি তেমন কোন টাকা লাভ করতে পারবেন না। কারণ এই সময় আপনি আপনার কাস্টমার বাড়ানোর চেষ্টা করছেন,
আপনার বিজনেসটা পরিচিত করার জন্য। তাই এ সময় আপনার প্রোডাক্ট সেল কেমন হবে না আর লাভ হবে না। এ সময় একটু ধৈর্য ধরে লেগে থাকতে হবে। যখন আপনার কয়েকটা রিপিট কাস্টমার হয়ে যাবে। তখন আর আপনাকে কাস্টমারের পেছনে দৌড়াতে হবে না। কাস্টমার নিজে থেকেই আপনার প্রোডাক্ট নেওয়ার জন্য নক দিবে। তাই আমার পরামর্শ হলো, প্রথম অবস্থায় একটু ধৈর্য ধরে লেগে থাকবেন এর ফল আপনি পাবেন ইনশাআল্লাহ।
আরো পড়ুনঃস্টুডেন্টদের জন্য কম দামে সেরা ব্লুটুথ হেডফোন
ঘরে বসেই মোবাইল দিয়ে অর্ডার নেওয়ার সহজ উপায়
ঘরে বসে মোবাইল দিয়ে অনলাইনে অর্ডার দেওয়ার সব থেকে সহজ উপায় হল, ফেসবুক বা whatsapp বা টিক টক এই সবে গিয়ে প্রোডাক্টের পোস্ট করা। সে জন্য প্রথমে প্রোডাক্টের একটা সুন্দর ক্লিয়ার ছবি নিতে হবে।তারপরে প্রোডাক্টের দাম কোয়ালিটি সবকিছু লিখে পোস্ট করতে হবে। কোন কাস্টমারের যদি পছন্দ হয় তাহলে আপনাকে মেসেঞ্জারে নক দিবে। তখন আপনি whatsapp নাম্বার নাম ঠিকানা সবকিছু লিখে নিয়ে নিজেই অর্ডারটা কনফার্ম করতে পারবেন।
আর একটা সহজ উপায় হল বিভিন্ন স্ট্যাটাস বা প্রোডাক্টের ছবি পোস্ট করা। অনেক প্রোডাক্ট বেচাকেনার গ্রুপ আছে সেই গ্রুপগুলোতে পার সেকেন্ডের ভিডিও আর প্রোডাক্ট এর ছবির পোস্ট করলেও অনেক সময় ওইখান থেকেও কাস্টমার পাওয়া যায়। পোষ্টের নিচে লিখে দিবেন যদি পছন্দ হয় তাহলে ইনবক্স করুন। কাস্টমার যদি ইনবক্স করে তাহলে খুব দ্রুত রিপ্লাই দেওয়ার চেষ্টা করবেন। তা না হলে কাস্টমার বিরক্ত হয়ে যায়।
বিনা পুঁজিতে অনলাইন ব্যবসা
বিনা পুঁজিতে অনলাইন ব্যবসা তার মানে হচ্ছে আপনি কোন টাকা না দিয়েও ব্যবসা করতে পারবেন। এর জন্য আপনাকে প্রোডাক্ট কিনতে হবে না। অন্যজনার প্রোডাক্ট এর ছবি দিয়ে আপনি এই ব্যবসাটা করতে পারেন। আপনাকে শুধু মিডিয়ার কাজটা করতে হবে। তারমানে সাপ্লায়ার আর কাস্টমারের মাঝখানে একটা কমিউনিকেশন হিসেবে কাজ করবেন। প্লায়ারের কাছ থেকে সুন্দর ছবি আর ভিডিও নিয়ে ভালোভাবে সাজিয়ে ফেসবুকে বা অন্য কোথাও পোস্ট করবেন।
যদি কারো পছন্দ হয় তাহলে আপনার কাছে নক দিয়ে কথাবার্তার মাধ্যমে অর্ডার কনফার্ম করবে। আপনি তখন কাস্টমারের ডিটেলস সাপ্লায়ার কে দিয়ে দিবেন বাকি সব ঝামেলা সাপ্লায়ার সামলিয়ে নেবে । এর লাভের অংশটা শুধু আপনার একাউন্টে যোগ হবে। এই বিজনেসের আসল মজাটাই হচ্ছে কোন রিস্ক নেই টাকা পয়সা লস খাওয়ার।তাই ঘরে বসে মোবাইল দেখে বাজে সময় নষ্ট না করে, এই ব্যবসাটা করতে পারেন। প্রথমে কয়েক মাস কষ্ট হবে।
তারপর যখন আপনার রিভিউ জমে যাবে তখন নতুনরাও আপনাকে ভরসা করা শুরু করবে। এভাবে এক সময় ব্যবসাটা দাঁড়িয়ে যাবে। এই ব্যবসাটা শুরু করার ভিন্ন রকম কয়েকটা আইডি -
- whatsapp ক্যাটালগ
- লাইভ সেল
- রিসেলিং
- ফ্রি মার্কেটিং
বাংলাদেশের সেরা রিসেলিং অ্যাপ
বাংলাদেশে কয়েকটা রিসেলিং অ্যাপ অনেক জনপ্রিয়, তার মধ্যে ShopUpআর chaldal রিসেলিং অ্যাপ এই দুইটা অনেক সহজ এবং জনপ্রিয়। এখানে অনেক প্রোডাক্টের দাম ডেসক্রিপশন সব রেডি করাই থাকে। পছন্দের জিনিসটা শেয়ার করে ফেসবুক অথবা হোয়াটসঅ্যাপে নিবেন। কাস্টমার অর্ডার করলে কোম্পানি থেকেই সবকিছু করে প্যাকেটিং করে সারা বাংলাদেশের কাস্টমারের কাছে পাঠিয়ে দিবে। আপনি লাভের অংশটা বিকাশ অথবা নগদের মাধ্যমে পেয়ে যাবেন।
আবার ফেসবুক মার্কেটপ্লেস আর bikroy.com এখান থেকে সাপ্লায়ার খুঁজে ব্যবসাটা করলে লাভ একটু বেশি হয়। দুইটা জনপ্রিয় রেসলিং অ্যাপ হল -
- চাল ডাল রিসেলার :বিভিন্ন ধরনের খাবার আর মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস। এগুলোতে মানুষ বিশ্বাস করে বেশি।
- shopmo by shopup :বিভিন্ন ধরনের কসমেটিক্স, ঘরের নিত্য প্রয়োজনীয় ছোট ছোট জিনিস। কাস্টোমারেরা এগুলো খুব দ্রুত নেয়।
প্রোডাক্ট রিসেলিং করে অনলাইন বিজনেস শুরু করার নিয়ম গৃহিণীদের জন্য
প্রোডাক্ট রিসেলিং করে অনলাইন বিজনেস শুরু করার নিয়ম গৃহিনীদের জন্য এটা একদম পারফেক্ট। কারণ অনেক গৃহিনী আছে যারা সংসারের কাজকর্ম করার পরেও হাতে কয়েক ঘন্টা সময় থাকে। সেই সময় গুলো মোবাইল হাতে থাকে ঠিকই তবে অন্যজনের ভিডিও দেখে। ওই সময়টা বাজে কাজে নষ্ট না করে রিসলিং ব্যবসাটা করে মাসে মোট আমাকে টাকা ইনকাম করতে পারেন। আমি আগেও বলেছি এ ব্যবসাটা করার জন্য টাকার প্রয়োজন হয় না শুধু একটু ধৈর্য আর বিশ্বাস এই দুইটা থাকলেই চলবে।
প্রথম অবস্থায় সুন্দর সুন্দর প্রোডাক্ট এর ছবি তুলে একটা বিশ্বস্ত সাপ্লায়ার খোঁজে তার মাধ্যমে ব্যবসাটা শুরু করা যায়। সাপ্লায়ারের কাছ থেকে সুন্দর ছবি আর দামটা নিয়ে অনলাইনে ফেসবুকের মাধ্যমে পোস্ট করে দিবেন। কেউ যদি অর্ডার করার জন্য নৌকায় আপনি সাথে সাথে রিপ্লাই দেওয়ার চেষ্টা করবেন। আপনি কাজের মধ্যে থাকলেও রিপ্লাই দিতে পারবেন এতে কোন সমস্যা হবে না। এইজন্য গৃহিনীদের জন্য এটা সবথেকে বেস্ট।
এভাবে একটু কষ্ট করে কাজ করলে সংসারের পাশাপাশি হাতে বেশ কিছু টাকা আসবে। যা আপনি নিজের ইচ্ছামত খরচ করতে পারবেন। এই বিজনেসটা করার জন্য গৃহিণীদের কয়েকটা সহজ নিয়ম।
- নির্দিষ্ট ও ছোট নিস ধরা
- প্রতিদিন কমপক্ষে একটা করে পোস্ট করা।
- কাস্টমারের সাথে ভদ্র ব্যবহার করা।
গ্রাম থেকে কিভাবে এই ব্যবসাটা করা যায়
এখন গ্রাম থেকেও রিসলিং ব্যবসাটা করা অনেক সহজ হয়ে গেছে। কারণ সব থেকে যে ঝামেলাটা বেশি হয় সেটা হচ্ছে পেমেন্ট আর ডেলিভারির ঝামেলা। এই দুইটাই এখন কোম্পানি বহন করে তাই কোন ঝামেলা নেই। হাতে শুধু একটা স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট লাগবে তাহলে আপনি এ ব্যবসাটা শুরু করতে পারবেন। প্রথমে একটা বিশ্বস্ত সাপ্লায়ার খুঁজে তার কাছ থেকে প্রোডাক্ট এর ছবি দাম সহ নিয়ে ফেসবুক অথবা হোয়াটসঅ্যাপে পোস্ট করবেন।
গ্রামে যারা বাস করে তাদের সাথে এলাকার অনেকের সাথেই মিল থাকে। আপনি ইচ্ছা করলে তাদের কাছে আপনার প্রোডাক্টের বিষয়ে বলতে পারেন। আশেপাশের দোকান আছে পাশের বাড়ির ভাবি, খালা,চাচি তাদের কাছে আপনার প্রোডাক্ট এর বিষয় তুলে ধরুন। তাদের যদি পছন্দ হয় তাহলে সাপ্লায়ার কে তাদের নাম ঠিকানা বলে দিন। সাপ্লায়ার এসে মাল ডেলিভারি করে দিয়ে যাবে। এভাবে গ্রাম থেকে ঘরে বসেই সংসারের পাশাপাশি মাসে বেশ কিছু টাকা ইনকাম করা যায়।
এখন গ্রামের মানুষেরা অনেক এডভান্স। তাদেরকে ছোট করে দেখার কোন অপশন নেই। যারা গ্রাম থেকে শুরু করবেন তাদের জন্য দুইটা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট -
- লোকাল মার্কেটিং :বলে দিবেন মসজিদের সামনে বা এই বাজারের কাছে এরকম লোকেশন দিয়ে দিবেন এতে মানুষ বিশ্বাস তো হয়।
- কোড সুবিধা :কাস্টমারকে বলে দেবেন প্রডাক্ট হাতে পাওয়ার পরে টাকা দিবেন। এতে কাস্টমার অনেক বিশ্বাস পাই ।
যেসব প্রোডাক্ট রিসলিং না করাই ভালো
যদি মনে মনে ভাবেন যে আমি রেসলিং ব্যবসাটা করব তাহলে নতুন অবস্থায় কয়েকটা ভুল আপনি কখনোই করবেন না। যেসব প্রোডাক্টে রিস্ক বেশি সেই প্রোডাক্টগুলো দিয়ে ব্যবসা করা থেকে বিরত থাকবেন। যেমন-ফ্রিজ, এলইডি, মোবাইল ফোন, দামি কোন ইলেকট্রনিক্স প্রডাক্ট। এইগুলো অনেক রিস্ক কারণ, দাম অনেক বেশি। এই প্রোডাক্ট গুলো সেল করার পরে যদি নষ্ট হয়ে যায়।
আর যদি ফেরত দেয় তাহলে আপনার লাভের টাকা তো সব যাবেই, তার সাথে আপনাকে আরো নিজের থেকে টাকা দিতে হবে। আবার সার্ভিসিং এগুলোর ঝামেলা আছে তাই আমার পরামর্শ হবে এইসব দামি প্রোডাক্ট নিয়ে ব্যবসা না করাই ভালো হবে। আরেক ধরনের প্রোডাক্ট আছে যেগুলো নিয়েও ব্যবসা করা উচিত নয়।কারণ এই প্রোডাক্ট গুলো খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। সেগুলো হলো -কাঁচা তরকারি, দুধ, কেক, আবার শাড়ি এগুলোর আবার সাইজ ও থাকতে হয় কয়েকটা এটা একটা ঝামেলার বিষয়।
অনেক সময় ডেলিভারি দিতে দিতে দেরি হয়ে গেলে প্রোডাক্ট নষ্ট হয়ে যায়। আবার সাইজে যদি না মিলে তাহলে ফেরত আসে বিভিন্ন সমস্যা। এইসব প্রোডাক্ট নিয়ে রিসলিং করে খুব বেশি উপকৃত হওয়া যাবে না। তাই আমার পরামর্শ হচ্ছে ছোট প্রোডাক্ট, কিন্তু মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় আবার দেখতে সুন্দর, ভাঙবে না এইরকম প্রোডাক্ট গুলো নিয়ে ব্যবসা শুরু করাই ভালো।
শেষ কথাঃপ্রোডাক্ট রিসেলিং করে অনলাইন বিজনেস শুরু করার নিয়ম নিয়ে শেষ কথা
প্রোডাক্ট রিসেলিং করে অনলাইন বিজনেস শুরু করার নিয়ম নিয়ে আমার শেষ কথা হলো - আমি এই আর্টিকেল লেখার মাঝে অনেকবার বলেছি আবারো বলছি। আপনারা যদি প্রোডাক্ট রিসলিং বিজনেসটা অনলাইনে করতে চান!তাহলে আপনাকে অবশ্যই একটা নিস ঠিক করে ব্যবসাটা করতে হবে । এলোমেলো চিন্তা ভাবনা তে কখনোই সঠিক ব্যবসাটা করা যায় না। তাই ব্যবসা করার আগে কিভাবে চিন্তা ভাবনা করে শুরু করবেন।
আর একটা কথা, শুধু ব্যবসা করলেই হবে না যেসব প্রোডাক্টগুলো ঝুঁকিপূর্ণ আপনার লাভের থেকে ক্ষতি বেশি সেই প্রোডাক্টগুলো কেনা থেকে বিরত থাকবেন। আপনি যদি নতুন ব্যবসা করতে চান তাহলে প্রথমে ছোট আকর্ষণীয় নিত্য প্রয়োজনীয় এসব জিনিসগুলো আছে, সেগুলো নিয়ে শুরু করবেন। এতে আপনার কোন টাকা পয়সা খরচ হবে না। বরং মাসে ১০-১৫ হাজার টাকা ঘরে অস ইনকাম করতে পারবেন।
প্রোডাক্ট রিসেলিং করে অনলাইন বিজনেস শুরু করার নিয়ম সম্পর্কে আমি সবকিছু বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করেছি। এর মাঝেও যদি কোন কিছু বাদ পড়ে যায় বা আমার লেখার মাঝে যদি কোন কিছু ভুল থাকে তাহলে আপনারা আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। কারণ মানুষ মাত্রই ভুল। আর কোন বিষয় যদি বুঝতে সমস্যা হয় তাহলে আমাকে আমি বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।
আরো পড়ুনঃঅনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সকল নিয়ম


আপনি যদি ইচ্ছা পুরন এর কোন পোস্টে কমেন্ট করতে চান, তাহলে এর নীতি মেনে কমেন্ট করুন। কারন প্রত্যেকটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url