ওয়াইফাই রাউটারের স্পিড বাড়ানোর কার্যকরী ১০ টি উপায়

ওয়াইফাই রাউটারের স্পিড বাড়ানোর কার্যকরী ১০ টি উপায় ফাঁস! টেকনিশিয়ানরা ৫০০ টাকা নিয়ে যে কাজ করে,সেটা আপনি ২ মিনিটে ফ্রিতে করুন আর পুরনো রাউটারেই পান   নতুনের মতো স্পিড। 

ওয়াইফাই-রাউটারের-স্পিড-বাড়ানোর-কার্যকরী-১০-টি-উপায়

সূচিপত্রঃওয়াইফাই রাউটারের স্পিড বাড়ানোর কার্যকরী ১০ টি উপায় আজ  আমি ফাঁস করে দিলাম। 

ওয়াইফাই রাউটারের স্পিড বাড়ানোর কার্যকরী ১০ টি উপায় এক নজরে

ওয়াইফাই রাউটারের স্পিড বাড়ানোর কার্যকরী ১০ টি উপায় এক নজরে জানতে চান? তাহলে চলুন জেনে নেই। কোন কাজ করতে বসলে যদি ওয়াইফাই লাইন ডিস্টার্ব করে তাহলে কাজ করার মেজাজটাই নষ্ট হয়ে যায়। এটা কি ঠিক বললাম আমি বলেন। আমার জানামতে অবশ্যই ঠিক বললাম কারণ আমার মেজাজটা অনেক খারাপ হয়ে যায়। শুধু কি তাই, ইউটিউব বাফার করে, গেম ল্যেগ করে, ভিডিও কলে কথা বলার সময় আটকায়। 

কিন্তু আপনি কি জানেন? নতুন রাউটার না  কিনে ও পুরাতন রাউটার দিয়ে নতুনের মত ফুল স্পিড বাড়ানো যায় । আজকে আমি এই পোষ্টের মাধ্যেই আজ দশটি উপায় বলে দেব। আপনি যদি সেটা ফলো করেন তাহলে আপনার বাড়ির প্রতিটি কোনায় অনেক ভালো স্পিড পাবেন। 

ওয়াইফাই রাউটার স্পিড বাড়ানোর কার্যকরী ১০ টি উপায় -

  1. রাউটার রিস্টার দেওয়া। 
  2. রাউটারের সঠিক পজিশন ঠিক করা।  
  3. 2.4GHz আর 5GHz আলাদা করে ব্যবহার করা। 
  4. চ্যানেল চেঞ্জ করা। 
  5. রাউটারের ফার্মওয়্যার আপডেট করা । 
  6. অচেনা ডিভাইস গুলো ব্লক করা। 
  7. QuSQuS সেটিং অন করা। 
  8. পুরাতন ডিভাইস ডিসকানেক্ট করা। 
  9. রাউটারের এন্টেনা ঠিক করা। 
  10. DNS সার্ভার চেঞ্জ করা। 

যে ১০ টি উপায় গুলো আপনাদের মাঝে তুলে ধরলাম। আপনারা অবশ্যই ট্রাই করে দেখবেন। অনলাইনে কোন কাজের জন্য ওয়াইফাই রাউটার ফাস্ট হ অনেক জরুরী। কারণ, কাজের মাঝে যদি ডিস্টার্ব হয় তাহলে এর থেকে বিরক্তের আর কিছু নেই। তাই উপায় গুলো ট্রাই করে রাউটারের স্পিড বাড়িয়ে নিন। 

রাউটারের জন্য সঠিক জায়গা নির্বাচন করা,রাউটারের জন্য সঠিক জায়গা নির্বাচন করা

রাউটারের স্পিড বাড়ানোর সবচেয়ে সহজ আর কার্যকরী উপায়। রাউটারের জন্য সঠিক জায়গা নির্বাচন করতে গিয়ে প্রায় ৯০% মানুষই ভুল করে। তারা সঠিক জায়গাতে রাউটার বসাতে পারে না। তারা মনে করে যেখানে সেখানে বসালেই হবে। কিন্তু সব কিছুরই তো একটা নিয়ম আছে। অনেকেই রাউটার এমন জায়গায় লুকিয়ে  রাখে যাতে কেউ দেখতে না পায়। এতে করে বিভিন্ন আসবাবপত্রের বাঁধাতে রাউটারের রেসিপি কমে যায়। 

তাই আমাদের সবার উচিত রাউটার ঘরের বা বাড়ির মিডিল পয়েন্টে রাখলে ভালো হয়। উঁচু জায়গা আর থাকা জায়গা দেখে, মাঝখানে রাখলে পুরো বাড়িতে সমান ভাবে ওয়াইফাই থেকে নেট পাবে। কারণ, ওয়াইফাই রাউটার থেকে গোল করে চারিদিকে সিগনাল ছাড়াই। তাই যদি ভালো সিগনাল আরনেট পেতে চান তাহলে খোলা জায়গাতে রাউটারটার বসাবেন। যেখানে রাউটার কোন বাধা প্রাপ্ত হবে না সিগন্যাল ছড়াতে সেখানেই বসাবেন। 

আবার কিছু কিছু জায়গা আছে যেখানে রাউটার বসালে রাউটারের সিগনাল একদম নষ্ট করে দেয়। মাইক্রোওভেন, ফ্রিজ, আয়না, মোটা দেয়াল, আলমারি এমনকি ওয়াশরুমের আশেপাশে ও রাখা যাবে না। কমপক্ষে এই জিনিসগুলো থেকে রাউটার ২ থেকে ৩ মিটার দূরে বসাতে হবে। রান্নাঘরের আশেপাশেও রাউটার বসানো ঠিক নয় কারণ পানি রাউটারের সিগনাল শোষণ করে। তাই রাউটার একটা থাকা জায়গা আর উঁচু জায়গা দেখে বসাতে হবে। এভাবে শুধু জায়গা বদল করলে আপনি ২০-৩০% স্পিড বাড়াতে পারেন। 

রাউটারের এন্টিনা কিভাবে সেট করলে ডাবল সিগনাল পাওয়া যায়

রাউটারের এন্টিনা হল ওয়াইফাই এর হাত। এই হাত দিয়েই আপনার ফোনে ল্যাপটপ বা পিসিতে নেট পাঠাই। তাই আপনি যদি রাউটারের দুইটা হাত একই দিকে রাখেন তাহলে নেট একদিকে যাবে। আর আপনি যদি ডাবল সিগনাল পেতে চান তাহলে দুইটা এন্টেনা দুই দিকে রাখবেন। একটা এন্টেনা একদম উপরের দিকে খাড়া করে রাখবেন। আর দুই নাম্বার এন্টেনা  পাশের দিকে আড়াআড়ি করে শুয়ে রাখবেন। এভাবে যদি এন্টেনা ব্যবহার করেন তাহলে আশা করা যায় পুরো বাড়ি সমানভাবে নেট পাবে। 

আবার অনেকে ভাবে এন্টেনা বাঁকা করে রাখলে স্পিড বেশি পাই। এটা কিন্তু সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। মনে রাখবেন এন্টেনা সব সময় Lআকারে রাখতে হবে। তার মানে হচ্ছে |আর-এরকম রাখলে সিগনাল ধাক্কা খাবে, একটার সাথে আর একটা। আর একটা কথা এন্টেনার মাথায় কখনোই হাত দেবেন না। যদি ময়লা জমে তাহলে টিস্যু দিয়ে পরিষ্কার করে ফেলবেন। এই ছোট নিয়মটা মেনে চলুন দেখবেন আগের থেকে এক দুই দাগ স্পিড বেড়ে গেছে। এটা করতে কোন টাকা-পয়সা প্রয়োজন পড়ে নি কিন্তু। দুইটা এন্টেনা দুইদিকে ঘুরিয়ে দিলে কাজ শেষ।

রাউটারের আশেপাশের কোন জিনিসগুলো ইন্টারনেটের শত্রু

রাউটারের আশেপাশে এমন কিছু জিনিস আছে যেগুলো ইন্টারনেটের সবথেকে বড় শত্রু। আর সে বিষয়ে আমাদের অবশ্যই জানা প্রয়োজন। কারণ, বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট ছাড়া এমন কেউ নেই যে চলতে পারে। ইন্টারনেট ছাড়া মনে হয় আমাদের জীবন অন্ধকার। তাই শত্রু সম্পর্কে আমাদেরকে অবশ্যই জানতে হবে। কিছু কিছু জিনিস আছে যারা রাউটারের সিগনাল একদম কমিয়ে দেয়। তখন নেট স্পিড কম হয়। রাউটারের সব থেকে বড় এবং এক নাম্বার শত্রু হলো -

  1. মাইক্রোওভেন :মাইক্রো ওভেনে  রান্না করার সময় এইটা এত সিগনাল ছাড়া যে ওয়াইফাই বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। 
  2. ফ্রিজ আর মেটালের আলমারি :এটাতে লোহা মিক্সড আছে তাই সিগন্যালকে আটকে দেয়। 
  3. আয়না আর কাচ:এই দুইটা সিগন্যাল কে উল্টোদিকে নিয়ে যায়। তাই রাউটার রাখার সময় এই জিনিসগুলো খেয়াল করে রাখবেন তাহলে ওয়াইফাই স্পিড অনেকটাই ভালো পাবেন। 

এসব শত্রু ছাড়া আরো অনেক ছোটখাটো শত্রু আছে। সেগুলো রাউটারের সিগনাল কে বাঁধা দেয়। যেমন - কর্ডলেস ফোন, ব্লুটুথ স্পিকার, মোটা দেয়াল, ইটের দেয়াল, আবার পানি। ইটের দেয়াল আর পানি সিগন্যালকে চুষে নেয়।তাই একটা কথা সবসময় মনে রাখবেন রাউটারের আশেপাশে কমপক্ষে ২ মিটারের মধ্যে কোন কিছু রাখবেন না। রাউটার সব সময় উঁচু আর ফাঁকা জায়গায় রাখলে নেট স্পিডে ভালো থাকবে আর কোন শত্রু তাকে ছুঁতে পারবে না। 

একসাথে কতগুলো ডিভাইস কানেক্ট করলে স্পিড কমে

রাউটারের নির্দিষ্ট ব্যান্ডউইথ থাকে। আর এই ব্যান্ডউইথ বাসায় যতগুলো ডিভাইস থাকবে সব ডিভাইসের মধ্যে ভাগ হয়ে যাবে। একটি রাউটারে যদি 100 mbps এর লাইন থাকে, আর বাসায় যদি পাঁচটা ডিভাইস থাকে তাহলে, প্রত্যেকটা ডিভাইসে ১০ এমবিপিএস করে হয়ে যাবে। এভাবে ডিভাইস যত বাড়বে রাউটারের ব্যান্ড উইথ এভাবে কমতে থাকবে। ফলে আপনি যদি অনলাইনে কাজ করেন কাজ করার সময় বারবার বাধা আসবে।নেট স্লো হয়ে শুধু ঘুরতেই থাকবে। 

ভিডিও দেখাতে সমস্যা হবে, ভিডিও কলে কথা বললে সমস্যা হবে,গেম খেলতে গেলেও সমস্যা হবে। সাধারণত বাড়ির রাউটারগুলোতে ৮ থেকে ১০ টা ডিভাইস চালানো যায়। এর বেশি যখন আপনি চালাতে যাবেন তখন রাউটারের স্পিড কমে যাবে।আর যে কাজ করবেন সে কাজেই নেট স্লো থাকার কারণে সহজে কাজটা কমপ্লিট করতে পারবেন না। বিশেষ করে ভিডিওটাইপের জিনিসগুলোতে বেশি সমস্যা দেখায়।ভিডিও কল আবার বড় বড় ফাইল ডাউনলোড করার সময় ডাউনলোড হতে চায় না। তাই আমার পরামর্শ হলো অযথা আজেবাজে ডিভাইসে কানেক্ট না করাই ভালো। 

বাসায় ব্যবহারের জন্য রাউটারের mbps  কত নিলে ভালো হয়

বাসায় ব্যবহারের জন্য রাউটারের এমবিপিএস কত নিলে ভালো হয় সেটা নির্ভর করে, বাসায় কয়টা ডিভাইস চলবে সেটার ওপরে। বাসায় যদি ২ টা বা ৪ টা ডিভাইস থাকে, আর তারা যদি শুধু ইউটিউব, ফেসবু,  তারপরে অনলাইন ক্লাস, ব্রাউজিং এসবের জন্য ব্যবহার করে তাহলে ১০০ mbps / ২০০     mbps এর প্যাকেজ নিলেই যথেষ্ট। 

এই স্পিডে ২-৩ টা ফোন আর একটা ল্যাপটপ সুন্দরভাবে চলবে। এ কয়েকটা জিনিস চালালে নেটের কোন প্রবলেম হবে না। টাকার যদি প্রবলেম থাকে আর নেটের ও যদি খুব প্রয়োজন হয় তাহলে অল্প দামে এই প্যাকেজ টা নেওয়াই ভালো হবে। কারণ ওয়াইফাই এর থেকে মোবাইলে এমবি ভরলে খরচ অনেক বেশি।   

আবার বাসায় যদি ৫-৭ ডিভাইস চলে সাথে কম্পিউটার, টিভি ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ তাহলে কিন্তু এই প্যাকেজ নিলে হবে না। এইসব চালানোর জন্য ৫০০-১০০০ mbps  প্যাকেজটি দরকার। আপনি যদি এই প্যাকেজটি নেন তাহলে ১০ থেকে ১৫ টা ডিভাইস একসাথে চালালেও স্পিড কম হবে না। ভিডিও কলে কথা, গেম খেলা, বড় ফাইল ডাউনলোড করা সবকিছু সুন্দরভাবে চলবে। নেটের কোন সমস্যাই হবে না।

আরো পড়ুনঃইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রতি মাসে আয়ের সহজ পদ্ধতি 

 আর আর একটা কথা বাসায় যদি সিসি ক্যামেরা থাকে তাহলে ১০ MBPS  এর উপরে নিতে হবে।  মনে রাখবেন রাউটার ভালো হলেও প্যাকেজ যদি কম হয় তাহলে আইপিএস অনেক স্লো কাজ করে। তাই ওয়াইফাই লাইন নেওয়ার আগে দেখে শুনে বুঝে নিবেন যে আপনারা কয়টা ডিভাইস চালাবেন আর কি কি চালাবেন সেই অনুযায়ী এমবিপিএস কানেক্ট করে নিবেন।

ওয়াইফাই স্পিড চেক করার নিয়ম

ওয়াইফাই স্পিড চেক করতে হলে সর্ব প্রথমেই সব ডাউনলোড ফাইলগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। তারপর  Google গিয়ে Speed Search এইটা লিখে সার্চ দিবেন। সার্চ দেওয়ার পরে ওপরে Run speed test এই নামে একটা বাটন পাবেন ওইখানে ক্লিক করবেন। ওইখানে ক্লিক করার পরে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ডাউনলোড এস্পিড আর আপলোড স্পিড দেখাবে। ডাউনলোড স্পিড যদি বেশি দেখায় তাহলে, ভিডিও, মুভি এগুলো ভালো দেখাবে। 

ওয়াইফাই-রাউটারের-স্পিড-বাড়ানোর-কার্যকরী-১০-টি-উপায়

আরো ভালো ফলাফল পেতে রাউটারের কাছে বসেই আপনি এই স্পীড টা চেক করবেন। আর মনে রাখবেন আপনি যখন স্পীড টা চেক করবেন তখন যাতে কেউ নেট না চালায়। ডাউনলোড যদি কম দেখায় তাহলে অন অফ করে টেস্ট করুন। এটা ছাড়াও আর একটা উপায় আছে সেটা হলো প্লে স্টোর থেকে speed test এই একটা ডাউনলোড করেও চেক করে নিতে পারেন। মাসে যদি এরকম ভাবে একবার চেক করেন,তাহলেই বুঝবেন যে আইপিএস ঠিকমতো স্পিড দিচ্ছে কিনা। 

ওয়াইফাই রাউটারের স্পিড বাড়ানোর কার্যকরী ১০ টি উপায় এ যে ভুলগুলো করা যাবে না

ওয়াইফাই রাউটারের স্পিড বাড়ানোর কার্যকরী ১০ টি উপায় এ যে ভুলগুলো করা যাবে না। আমরা অনেকেই রাউটারের স্পিড বাড়ানোর জন্য অনেক সময় আমরা এই ভুলগুলো করে ফেলি। 

  • রাউটার মেঝেতে বা আলমারিতে রাখা যাবে না ’এইসব জায়গায় রাখলে সিগনাল ব্লক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। তাই রাউটার সবসময় উঁচুও ফাঁকা জায়গা রাখবেন। 
  • ডিফল্ট পাসওয়ার্ড চেঞ্জ না করা :ডিফল্ট পাসওয়ার্ডটি অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে।তা না হলে অনেক মানুষ আছে আশেপাশে নেট চুরি করে চালায় অনার্সে আপনার নেট চুরি করে চালাতে পারবে। আর আপনার নেট তখন অনেক স্লো হবে। 
  • রাউটারের আশেপাশে ফ্রিজ, ওভেন,তা চার আয়না এগুলো নেটের জন্য শত্রু। 
  • আর এন্টেনা সবগুলো একদিকে না রাখা :এন্টিনা যদি L এল আকারে রাখলে নেট স্পিড বেশি পাবেন। 

আরো কয়েকটা ভুল আছে যে ভুলগুলো একদম করা উচিত হবে না। 

  1. রাউটার বছরে একবারও রিস্টার না দেওয়া।  
  2. অপ্রয়োজনীয় ডিভাইসগুলো ওয়াইফাই কানেক্ট থেকে বের না করা। 
  3. ফার্মওয়্যার আপডেট না করা , 
  4. WPS অপশনটা অন রাখা এটা করলে হ্যাকারদের জন্য হ্যাক করতে অনেক সহজ হয়। 
  5. একদম সস্তা এক্সটেন্ডার ব্যবহার করা। তাই বলি এই পরামর্শ গুলো মেনে চললে আপনার ওয়াইফাই স্পিড বাড়বে। 

মোবাইল দিয়ে কিভাবে ওয়াইফাই কন্ট্রোল করা যায়

বর্তমান সময়ে মোবাইল দিয়ে ওয়াইফাই কন্ট্রোল করা একদম সহজ। এখন সব রাউটারের জন্য সবার নিজস্ব অ্যাপ আছে। প্রথমে প্লে স্টোর থেকে রাউটারের একটা ডাউনলোড করে নিতে হবে। অ্যাপ যখন ইন্সটল করা হয়ে যাবে তখন অ্যাপ টা হলো লগইন করে নিন। এভাবে লগইন করার পরে আপনি ঘরে বসেই দেখতে পারবেন যে ওয়াইফাই লাইন কে কে চালাচ্ছে। এইটা দেখে আপনার যদি মনে হয় কয়েকটা বাইরের লাইন আছে তাহলে সেইগুলো বাতিল করে দেবেন। এটা করলে ও নেটের স্পিড বাড়ে। 

মোবাইলের ব্রাউজার খুলে ও কয়েকটা উপায়ে ওয়াইফাই কন্ট্রোল করা যায়। চেক করার সময় যদি দেখেন আপনার ডিভাইস গুলো বাদে ও আরো কয়েকটা ডিভাইসে ওয়াইফাই লাইন কানেক্ট করা আছে। তাহলে খুব দ্রুত ডিভাইস গুলোকে ব্লক করে পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করে দেবেন। তাহলে আর তারা ব্যবহার করতে পারবে না। অনেক সময় বাসায় মেহমান আসে তখন তাদেরকে ইন্টারনেটের পাসওয়ার্ড দিতে হয়। তাই Gust ওয়াইফাই অপশনটা অন করে রাখলে, আলাদা পাসওয়ার্ড দিতে পারবেন। এতে আপনার লাভ হবে আপনার ওয়াইফাই এর স্পিড একটুও কমবে না। 

রাউটারের কুলিং সিস্টেম গরম হলে কি স্পিড কমে

রাউটারের কুলিং সিস্টেম গরম হলে স্পিড অবশ্যই কমে যায়। কারণ রাউটারের ভিতরে একটা ছোট্ট প্রসেসর আর একটা চিপ থাকে এটা সারাদিন ডাটা পাঠানোর কাজ করে থাকে। একসময় গরম হয়ে যায় তখন সে নিজেকে বাঁচানোর জন্য নেট স্পিড স্লো করে দেয়। এটাকে বলে thermal throttin। তখন আপনার) ১০০০ এমবিবিএস থাকলেও ২০০/৩০০এমবিপিএস এর বেশি পাবেন না। আর যদি খুব বেশি গরম হয়ে যায় তখন রাউটার নিজে থেকেই ডিসকানেক্ট করে দেয়। 

গরমের দিনে টানা ২৪ ঘন্টা চালালে এরকম সমস্যা দেখা দেয়। তাই এটা থেকে বাঁচার জন্য কয়েকটা জিনিস অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। রাউটার সব সময় ফাঁকা আর উঁচু জায়গায় রাখবেন। বন্ধ বা বড় বড় ইটের দেয়ালের পাশে, লোহার আলমারি, ফ্রিজ এগুলোর পাশে কখনোই রাখবেন না। কারণ এগুলো চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে আশানুরূপ নেট স্পিড পাওয়া যায় না। আর রাউটার যদি খুব বেশি গরম হয়ে যায় তাহলে USB   ফ্যান দিয়ে বাতাস করতে পারেন। রাউটার ঠান্ডা থাকলে নেট স্পিড অনেক ভালো পাওয়া যায় কোন হ্যাং করে না। 

রাউটার কতদিন পরপর চেঞ্জ করা উচিত

একটা ভালো মানের রাউটার কমপক্ষে ৩ থেকে ৫ বছর খুব ভালোভাবে চালানো যায়। রাউটারের মধ্যে হার্ডওয়ার আর সফটওয়্যার এই দুইটা জিনিস আপডেট থাকে। এই সময়ের মধ্যে আপনি ওয়াইফাই এর স্পিড অনেক ভালো পাবেন। এরপর যখন রাউটারের বয়স ৩ বছরের বেশি হতে থাকবে, তখন আস্তে আস্তে রাউটারের স্পিড কমতে থাকবে। তখন নতুন ফোন ল্যাপটপ এর সাথে স্পিড টা ম্যাচ খাবে না। এজন্য মাঝে মাঝে ডিভাইস গুলো থেকে নেট স্পিড ডিসকানেক্ট হয়ে যায়। রেঞ্জও কমে যায়। 

তাই আমার পরামর্শ হলো -এমনও কিছু লক্ষণ আছে যেগুলো দেখলে আপনি বুঝতে পারবেন যে রাউটার বেশিদিন টিকবে না। তিন বছর হওয়ার আগেই আপনি আপনার রাউটার টা চেঞ্জ করে নিতে পারেন। লক্ষণগুলো হল -

  1. রাউটার প্রচুর গরম হয় আর রিস্টার নেই। 
  2. 5GHzসাপোর্ট করে না। 
  3. নতুন ফার্মওয়্যার আপডেট আসা বন্ধ হয়ে গেলে। যখনই আপনি এই লক্ষণ গুলো দেখবেন সাথে সাথে আপনি আপনার রাউটার টা চেঞ্জ করে নিয়ে আসবেন। 

ভোল্টেজ আপডাউন এর কারনে কি রাউটারের স্পিড কমে যায়

ভোল্টেজ আপডাউনের কারণে  ওয়াইফাই এর স্পিড অবশ্যই কমে যায়। বর্তমানে আমাদের দেশের কারেন্টের এতই ভোল্টেজের সমস্যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। কিছুদিন আগে ভোল্টেজের আপডাউনের কারনে আমার রাউটার তো নষ্ট হয়েছে হয়েছে নষ্ট হয়ে গেছে। ভোল্টেজ একবারে লো হয়ে যায় আবার মাঝে মাঝে এত পরিমাণে হাই হয় ফ্যান চালালে মনে হয় যে ঝড় বইছে।এসব কারণে রাউটার একদম বাদও হয়ে যায়। 

আগেই বলেছি রাউটারের ভিতরে একটা ছোট প্রসেসর থাকে।সেটার ভোল্ট ১২v বা ৯v পাওয়ার চাই। আর কারেন্ট ২২০ ভোল্টেজ এর জায়গাতে যখন ১৭০ ভোল্ট বা ১৮০ ভোল্টে নেমে আসে তখন এডাপ্টার কাজ করতে পারে না। আর এ সময় রাউটারও ফুল স্পিডে কাজ করতে পারেনা। এই সময় ওয়াইফাই সিগনাল খুব দুর্বল হয়ে পড়ে। আবার ভোল্টেজ যখন ২৪০ ভোল্টেজের ওপরে চলে যায় তখন রাউটার নিজে নিজেই সেভ মোডে চলে যায়। অনেক সময় নিজেকে সেভ করতে পারে। আর যখন অতিরিক্ত ভোল্টেজ আপডাউন করে, তখন অনেক সময় রাউটার নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। 

ওয়াইফাই রাউটারের স্পিড বাড়ানোর কার্যকরী ১০ টি উপায় এই সম্পর্কে আমার শেষ পরামর্শ

ওয়াইফাই রাউটারের স্পিড বাড়ানোর কার্যকরী ১০ টি উপায় সম্পর্কে আমি শেষে কিছু কথা বলবো যা আগেই বলে ফেলেছি। সেটা হচ্ছে একটা রাউটার যাতে ভালই স্পিড দেয়, সেই জন্য আমাদেরকে রাউটার উঁচুতে খোলা জায়গায় রাখতে হবে। বিশেষ করে ওভেন, ফ্রিজ, মোটা দেয়াল, লোহারা আলমারি, রান্নাঘর ও ওয়াশরুমের আশেপাশে কখনই রাউটার রাখবেন না। এটা করলে নষ্ট হয়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা আছে আর স্পিডও অনেক কম পাওয়া যায়। 

আরো পড়ুনঃল্যাপটপ বা কম্পিউটার ছাড়া অনলাইন আয়ের সহজ উপায় 

ওয়াইফাই রাউটারের স্পিড বাড়ানোর কার্যকর ১০ টি উপায়, এ সম্পর্কে আমি আপনাদেরকে একদম বিস্তারিত বলার চেষ্টা করেছি। এর মাঝে যদি কোন কিছু লিখতে বা বলতে ভুলে যায় লেখার মাঝে যদি কোন কিছু ভুল হয়ে থাকে তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। কারণ মানুষ ভুলের উর্ধ্বে নয়। ক্ষমা করা হচ্ছে মহৎ গুণ। আর যদি কোন জায়গায় বুঝতে সমস্যা হয় তাহলে আমাকে অবশ্যই জানাবেন আমি আপনাদেরকে বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ। 





এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপনি যদি ইচ্ছা পুরন এর কোন পোস্টে কমেন্ট করতে চান, তাহলে এর নীতি মেনে কমেন্ট করুন। কারন প্রত্যেকটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url