স্টুডেন্টদের জন্য কম দামে সেরা ব্লুটুথ হেডফোন
স্টুডেন্টদের জন্য কম দামের সেরা ব্লুটুথ হেডফোন এখন হাতের নাগালেই। এখন কম দামে পাওয়া যাচ্ছে, ডিপ বেজ,ক্রিস্টাল ক্লিয়ার মাইক আর দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি।
যারা কম বাজেটে ভালো খুঁজছেন তাদের জন্য এটাই সব থেকে বেস্ট চয়েজ। কম দামে এত ফিটার আর কোথাও পাবেন না। তাই দেরি না করে আজি দেখে কিনে নিন আপনার পছন্দের সেরা ব্লুটুথ হেডফোনটি।
সুচিপত্রঃস্টুডেন্টদের জন্য কম দামের সেরা ব্লুটুথ হেডফোন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
- স্টুডেন্টদের জন্য কম দামে সেরা ব্লুটুথ হেডফোন বাছাই করার সহজ উপায়
- ১০০০ বা ১৫০০ টাকার মধ্যে ৫টি সেরা ব্লুটুথ হেডফোন
- অনলাইনে ক্লাসের জন্য কোন হেডফোন সবথেকে বেশি ভালো হবে
- সেরা নেট ব্যান্ড হেডফোন রিভিউ
- ব্যাটারি ব্যাকআপ ভালো এমন হেডফোন
- ওয়্যারলেস ইয়ারবাড রিভিউ বাংলাদেশ
- গেমিং হেডফোন কম দামের মধ্যে
- স্টুডেন্টদের জন্য কম দামে সেরা ব্লুটুথ হেডফোন এর যত্ন নেওয়ার সহজ নিয়ম
- মাইক্রোফোন ভালো এরকম হেডফোন চেনার উপায়
- স্টুডেন্টদের জন্য ওভার-ইয়ার নাকি অন-ইয়ার কোনটা ভালো
- আসল হেডফোন চেনার উপায়
- শেষ কথাঃস্টুডেন্টদের জন্য কম দামে সেরা ব্লুটুথ হেডফোন নিয়ে আমার শেষ পরামর্শ
স্টুডেন্টদের জন্য কম দামে সেরা ব্লুটুথ হেডফোন বাছাই করার সহজ উপায়
স্টুডেন্টদের জন্য কম দামে সেরা ব্লুটুথ হেডফোন বাছাই করার সহজ উপায় হল, আগে নিজের প্রয়োজনটা ঠিক করে নিতে হবে তারপরে কত বাজেটের মধ্যে আপনি এটা কিনতে পারবেন সেটা ঠিক করবেন। ১৫০০ থেকে ২৫০০টাকার মধ্যেই এখন ক্লাসের জন্য যে হেডফোন গুলো দরকার সেগুলো পাওয়া যায়। তাই বলি ব্র্যান্ডের পেছনে না ছুটে ব্যাকআপ সাউন্ড, কোয়ালিটি কেমন,মাইক ক্লিয়ার আছে কিনা এটা দেখবেন।অনেক সময় ব্র্যান্ডের মারলো ভালো থাকে না শুধু দাম বেশি নাই কিন্তু কাজের তেমন প্রমাণ দেয় না।
অনলাইনে ক্লাসের জন্য যেটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেটা হল বাইরের নয়েজ যেন শোনা যায়। আর মুভি দেখার জন্য এইটার বেসটা যেন একটু ভালো হয় এরকম দেখলে যদি বাজেটের মধ্যে হয়ে যায় তাহলে নিয়ে নেবেন। আর একটা কথা যখন হেডফোন কিনতে যাবেন তখন তিনটা জিনিস অবশ্যই দেখে নিবেন তাহলে ঠকার চান্স কম আছে।
- প্রথমেই দেখতে হবে ব্লুটুথ টা পরে আপনি আরাম পাচ্ছেন কিনা। মাথায় আর কানে যেন চাপ না দেয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে অনেকক্ষণ পরে থাকলেও যেন কোন সমস্যা না হয়।
- দুই নাম্বারে হচ্ছে চার্জিং, type C পোর্ট আর ২০-৩০ঘন্টা ব্যাকআপ যদি থাকে তাহলে সপ্তাহে একবার চার্জ দিলেই চলবে।এই বিষয়টা খেয়াল অবশ্যই রাখবেন।
- এবার আসি তিন নাম্বারে, ওয়ারেন্টি কমপক্ষে ছয় মাস বা এক বছরের থাকতে হবে। ওয়ারেন্টি অবশ্যই ভালোভাবে দেখে নেবেন। এই তিনটা জিনিস যদি ঠিক থাকে তাহলে অনেক বছর আরামে চালাতে পারবেন। তাই হেডফোন কেনার আগে এই তিনটা বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন।
১০০০ বা ১৫০০ টাকার মধ্যে ৫টি সেরা ব্লুটুথ হেডফোন
এক হাজার বা ১৫০০ টাকার মধ্যে এখন অনলাইনে খুব সহজেই ব্লুটুথ হেডফোন গুলো পাওয়া যায়। তবে অনলাইনে জিনিস কেনার আগে অবশ্যই ভালোভাবে খেয়াল রাখবেন কোন পেজ থেকে নিচ্ছেন। তাদের রিভিউ কেমন তা না হলে কিন্তু আবার ঠকতে হবে কারণ অনলাইনের জিনিস সব সময় ভাএই এ হয় না।এই বাজেটের মধ্যে -
- Boat
- Noise
- Fire-Boltt
- Realme
- Ptron
এই হেডফোনগুলো স্টুডেন্টদের জন্য একদম পারফেক্ট। এইগুলার সাউন্ড একদম ক্লিয়ার, ব্যাটারি ৩০-৪০ঘন্টা পর্যন্ত চলে আর চার্জ তাড়াতাড়ি হয়ে যায়। অনলাইন ক্লাস মুভি দেখা সবকিছুই মধ্যেই সবকিছুই একটার মধ্যে করতে পারবেন। তাই আমার পরামর্শ হচ্ছে দামি হেডফোন না কিনেও এই টাকার মধ্যে এইসব অপশনগুলো বেছে নিলে জিনিসও ভালো পাবেন আর টাকা ও কম লাগলো।
শুধু এসব গুলো দেখে নিলেই হবে না আরো কিছু জিনিস খেয়াল রেখে তারপরে হেডফোন কিনবেন। কারণ মধ্যবিত্তরা শখের বসে ও অনেক সময় অনেক কষ্ট করে এগুলো কিনে। তাই ইনার সময় একটু দেখেশুনে বুঝে কিনতে হবে। ওয়ারেন্টি বা গ্যারান্টি আছে কিনা আর কত দিনের আছে সেটা ভালোভাবে দেখে নিবেন। কমপক্ষে এক বছরের গ্যারান্টি দেখে কিনবেন। তাড়াহুড়ো করে কেনার দরকার নেই।
অনলাইনে ক্লাসের জন্য কোন হেডফোন সবথেকে বেশি ভালো হবে
অনলাইনে ক্লাসের জন্য সবথেকে যে হেডফোন ভালো হবে, যে হেডফোনের মাইক একদম ক্লিয়ার ক্লাসে স্যারেরা যে কথা বলবে তা যেন একদম ক্লিয়ার ভাবে শোনা যায়। এই হেডফোন ভালো হবে। শুধু স্যারের কথা শুনলেই হবে না আপনি যে কথাটা বলবেন সেটাও যেন স্যার ভালোভাবে শুনতে পায় সে দিকটাও খেয়াল রাখতে হবে। এইজন্য noise cancellation বা যে মাইকগুলো আছে এই হেডফোন গুলো সব থেকে সেরা। আর এই হেডফোনগুলো ১০০০থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যায়।
হেডফোন শুধু কিনলে হবেনা, কানে দিয়ে যাতে আরাম লাগে সে দিকটা অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। কারণ ক্লাস করলে তা না তিন ঘন্টা ক্লাস করাই লাগে সেজন্য হেডফোন কিনতে হবে। তাই যেগুলোর প্যাড নরম আর মাথার ব্যান্ড হালকা এইগুলো দেখে কিনবেন। যদি ভারি হেডফোন তাহলে ৩০ চল্লিশ মিনিট পরে কান ব্যথা করবে। অস্বস্তি লাগবে তখন আর কোন কিছুই ভালো লাগবে না। আরজে হেডফোনগুলোতে তার নাই সেই হেডফোনগুলো নিলে খাতা কলম ব্যবহার করতে সুবিধা হয়। তাই আবারও বলছি ব্লুটুথ হেডফোন কেনার আগে সব দিকে খেয়াল রেখে ভালো দেখে বাছাই করে কিনবেন। যাতে পরবর্তীতে আফসোস করতে না হয়।
সেরা নেট ব্যান্ড হেডফোন রিভিউ
সেরা নেট ব্যান্ড হেডফোন রিভিউ দেখলেই আপনি বুঝতে পারবেন ১২০০ থেকে ১৮০০ টাকার মধ্যেই প্রিমিয়াম হেডফোনের যেমন ক্ষীর পাওয়া যায় এটাতেই তেমন ফিল পাবেন। ১, rockerz 255 pro
Noise Tune Active,
OnePlus Bullets Z2-
এই তিনটা এখন মানুষ সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে। কারণ এইগুলোর সাউন্ড বেশ ভালো কল করার সময় কথা কাটেনা। আর ম্যাগনেট থাকার কারণে গলায় ঝুলিয়ে রাখা যায়। আর চার্জার কথা চার্জ নিয়ে কোন টেনশন নাই। আপনি জিম বা রাস্তায় হাঁটার সময়ও তারের কোন ঝামেলা নেই কারণ এটাতে তার নেই। নেট ব্যান্ড এখন স্টুডেন্টদের জন্য প্রথম পছন্দ। তাই আপনিও কিনতে পারেন।
ইয়ারবাড হেডফোন থেকে নেক বান্দ হেডফোন একদমই আলাদা একটা জিনিস। এই হেডফোনের একটা এটা হারিয়ে যায় না। এটা কানে দিয়ে থাকেন তাহলে এটা গলায় ঝুলে থাকে। বৃষ্টিতে ভিজলে বা ঘেমে গেলেও এটা নষ্ট হওয়ার কোন ভয় নেই কারণ বেশিরভাগ মডেলই IPX4 ওয়াটার রেসিস্তেন্ট আছে। আর low Latency মুড যদি থাকে তাহলে গেম বা youtube দেখার সময় সাউন্ড আর ভিডিও একসাথেই চালাতে পারবেন। তাই যদি সারাদিন বাইরে থাকেন বা একটানা ব্যবহার করেন তাহলে, নেট ব্যান্ড ইয়ারফোন এটাই বেস্ট হবে।
ব্যাটারি ব্যাকআপ ভালো এমন হেডফোন
ব্যাটারি ব্যাকআপ হেডফোন বলতে আমরা যেটা বুঝি সেটা হচ্ছে, এমন ব্যাটারি হতে হবে যাতে একবার চার্জ দিলে ৩থেকে ৪ দিন আর চার্জ দেওয়া না লাগে। নিশ্চিন্তে যেন অথবা চার দিন চালানো যায়। বর্তমানে ১৫০০ টাকার মধ্যে ৫০-৬০ঘন্টার ব্যাটারির হেডফোন পাওয়া যায়। boat আর noiseএর কিছু মডেলে fast charge আছে।এটার সুবিধা হচ্ছে ১০ মিনিট চার্জ দিলে এটা প্রায় ১০ ঘন্টা চলে যায়। এখন বলেন ১০ ঘন্টা চালানো যায় তাহলে কি আর কোন সমস্যা হবে। এই দশ ঘন্টা দিয়ে আপনি গান শুনতে পারবেন ক্লাশ করতে পারবেন আর অন্যান্য কাজ করতে পারবেন। চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ার কোন ভয় নেই।
আরো পড়ুনঃস্টুডেন্টদের জন্য মোবাইল দিয়ে অনলাইন ইনকাম করার উপায়
হেডফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ নেওয়া ভালো কেন অবশ্যই বুঝতে পেরেছেন। আমি আবারো বলি, ধরেন ক্লাস করতে করতে হেডফোনের যদি চার্জ শেষ হয়ে যায় তাহলে কেমন লাগবে? নিশ্চয়ই অনেক বিরক্ত লাগবে! আবার অনেক সময় গান শুনতে ভালো লাগে, সেই সময় যদি চার্জটা ফুরিয়ে যায় তাহলে নিশ্চয়ই তখন বিরক্ত লাগবে? আবার কখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকে সেই সময় যদি কাজ ফুরিয়ে যায় তাহলে মেজাজটাই গরম হয়ে যায়। তাই আমার পরামর্শ হলো এটা কেনার আগে অবশ্যই বাক্সের উপরে play timetime লেখা আছে কিনা সেটা অবশ্যই দেখে নেবেন।
আর type- c চার্জিং যেগুলোতে আছে সেগুলো নিলে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। কারণ এইগুলো নিলে ফোনের চার্জার দিয়েও চার্জে দেওয়া যায়। তাই আমি বলি হেডফোন কেনার সময় অবশ্যই যাচাই-বাছাই করে দেখে শুনে একটা ভালো হেডফোন নিবেন। যাতে করে ২-৩ বছর আর কোন টেনশন না থাকলে। এটা দিয়ে চালাতে পারেন সেজন্য ব্যাটারি ব্যাকআপ গুলো দেখে শুনে কিনতে হবে।
ওয়্যারলেস ইয়ারবাড রিভিউ বাংলাদেশ
airless Buds এখন একদম হাতের মুঠোয় বলতে গেলে প্রায় মানুষেরই পকেটে। তবে এর কাজ কিন্তু অনেক বড়। শুধু গানের মধ্যে যদি একটু খুঁজে দেওয়া যায় তাহলে এই ঝামেলা শেষ। তারের কোন ঝামেলা থাকেনা কিভাবে কানে দিয়ে কাজ করা যায়। এগুলোর দাম যে অনেক বেশি আসলেও তা না। ১২০০ থেকে ১৮০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া সম্ভব। এইগুলো বাইরের নয়েজ টা কম ধরে, এর জন্য কথা ক্লিয়ার শোনা যায় বাইরের আওয়াজটা কেমন আসে না। boat এর buds এগুলো এখন অনেক বেশি চলে। এগুলো সাউন্ড একদম ক্লিয়ার আর বেজও অনেক ভালো থাকে।
ব্যাটারি চার্জিং ভালো বলে যারা রান্না বারা করে, জিম করে, চাকরি করে, পড়াশোনা করে, চাকরি করে তাদের জন্য এটা এটা সবথেকে বেটার। এখন বেশিরভাগ স্টুডেন্ট আর চাকরিজীবীরা buds বেশি কিনছে। আপনার যদি ভালো লাগে আপনিও কিনতে পারেন। আবার কেনার সময় অত তাড়াহুড়া করবেন না। ধীর স্থির ভাবে দেখে শুনে কিনবেন। কিনতে গিয়ে শুধু দামের দিকে দেখলেই হবে না। আপনি যে জিনিসটা কিনবেন সেটার দিকে দেখতে হবে।
ব্যবহার করতে কেমন লাগছে কানে দিয়ে দেখবেন যে আপনি কেমন ফিল করছেন। ঠিকমত আপনার কানের সাথে লাগছে কিনা সেটা অবশ্যই খেয়াল করবেন পড়ে যেতে পারে। কথা বলার সময় আওয়াজটা ঠিকঠাক আসছে কিনা। ভয়েস ক্লিয়ার হচ্ছে কিনা এগুলো তো অবশ্যই দেখে নিতে হবে। যা দেখার যা বাছাই করার সব দোকানে গিয়েই করে নেবেন। যাতে আপনি একটা ভালো জিনিস বাছাই করে নিতে পারেন।
গেমিং হেডফোন কম দামের মধ্যে
কম দামের মধ্যে যদি গেমিং হেডফোন কিনতে চান তাহলে খরচ পড়বে ১০০০ থেকে ১৫০০টাকার মধ্যে। এই টাকার মধ্যে এখন RGB লাইট আর 7.1 সাউন্ড ওয়ালা গেমিং হেডফোন পাওয়া যায়। cosmic Byte, zenbronics আর redgear এই হেডফোনগুলো এই বাজেটের মধ্যে সবথেকে সেরা। এগুলো সব থেকে বড় সুবিধা হল পায়ের আওয়াজ গুলির সাউন সবকিছু একদম ক্লিয়ার শোনা যায়।আবার pubg, free fire খেলার সময় এনিমি কোন দিক থেকে আসছে সেটা একদম সুন্দর ভাবে বোঝা যায়।
কমদামের মধ্যে গেমিং হেডফোন যদি নিতে চান তাহলে দুইটা বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন।
আরামঃপ্রথমে হচ্ছে মাথায় দিয়ে যাতে আরাম লাগে সেই বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। যাতে ২-৩ ঘন্টা মাথায় লাগানোর পরেও মাথা যাতে ব্যাথা না করে। নরম কুশন যেন থাকে ভেতরে সেটা অবশ্যই দেখে নিতে হবে।কারণ যদি কুশন থাকে তাহলে অনেক আরামদায়ক লাগে।
দ্বিতীয়ত মাইকঃDetachable মাইক হলে ভালো হয়। আর USB কানেকশন যদি হয় তাহলে এটা পিসিতে বেজ বেশি পাই। ১২০০ টাকায় যদি এরকম একটা আকর্ষণীয় হেডফোন পাওয়া যায়। তাহলে যারা গেম খেলে তাদের গেম খেলার মজাটাই অন্যরকম হয়ে যাবে। বেশি দাম দিয়ে না কিনে ও প্রো লেভেলের ফিল পাওয়া যাই। তাই বলি আর দেরি নয় কম টাকার মধ্যে এই গেমিং হেডফোনটা কিনে নিতে পারেন।
স্টুডেন্টদের জন্য কম দামে সেরা ব্লুটুথ হেডফোন এর যত্ন নেওয়ার সহজ নিয়ম
স্টুডেন্টদের জন্য কম দামে সেরা ব্লুটুথ হেডফোন এর যত্ন নেওয়া খুবই দরকার। কারন, স্টুডেন্টরা সাধারণত একটু হলেও কষ্ট করে তার শখের জিনিসটা কিনে। কিন্তু অনেক স্টুডেন্ট এর যত্ন নিতে জানেনা তাই খুব বেশিদিন টিকে না। তাই আমার পরামর্শ হচ্ছে একটা জিনিস যেহেতু একটু হলেও কষ্ট করে কেনা হয় তাই এর যত্ন টা নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। তাহলে নিশ্চিন্তে এক দুই বছর ব্যবহার করতে পারবেন। এর প্রথম যত্নই হচ্ছে পানি আর ঘাম থেকে দূরে রাখা। খেয়াল রাখবেন যাতে বৃষ্টির পানিতে হেডফোন না ভিজে।
আর অনেক স্টুডেন্ট জিম করে এ সময় শরীরটা ঘেমে থাকে শরীরের ঘাম যাতে হেডফোনে না লাগে সেদিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে। কখনো কোন কারণবশত যদি হেডফোন বৃষ্টির পানিতে বা ঘামে ভিজে যায় তাহলে সরাসরি ব্যাগের ভিতর ঢুকিয়ে রাখবেন না। হেডফোনটা নরম কাপড় দিয়ে মুছে ভালোভাবে শুকিয়ে রাখতে হবে। আর একটা কথা হেডফোন ব্যবহার করে যেখানে সেখানে ফেলে রাখবেন না। যেখানে সেখানে ফেলে রাখলে যদি পড়ে যায় তাহলে স্পিকার আর ব্যাটারি দুটাই নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই যদি একটু খেয়াল করে অনেকদিন ব্যবহার করতে পারবেন।
আর একটা গুরুত্বপূর্ণ যত্নের কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করি, যদি ব্যাটারি বেশিদিন ভালো রাখতে চান তাহলে কখনোই ১০০% ফুল চার্জ করে চার্জারের সাথে লাগিয়ে রাখবেন না। যখন হেডফোনের চার্জ ২০% এ চলে আসবে, তখন চার্জে দিবেন আর ৯০% হলে চার্জ থেকে খুলে নেবেন। আর মাসে একবার হলেও ইয়ার বাডের জালিতে যে ময়লা জমে থাকে সেগুলো ব্রাশ বা বার দিয়ে হালকা ভাবে মুছে পরিষ্কার করে নেবেন। তাহলে কথা আবার অনেক ক্লিয়ার শোনা যাবে। একটু কষ্ট করে যদি নিয়মগুলো মেনে হেডফোনের যত্ন নেন, তাহলে ১৫০০ টাকার হেডফোন কিনে ৪০০০ টাকার হেডফোনের মত সার্ভিস পাবেন।
মাইক্রোফোন ভালো এরকম হেডফোন চেনার উপায়
ভালো হেডফোন চেনার প্রথম উপায় হল মাইকের পজিশন দেখা। মাইকটা যদি মুখের কাছে তার মানে হচ্ছে, বুম আকারের সামনে আসে তাহলে এই হেডফোনে কথা ক্লিয়ার আসে। আর যেগুলোর মাইক তারের সাথে ঝুলানো থাকে, ওইগুলো অনলাইন ক্লাস আর কলিং এর জন্য সবথেকে বেটার। কেনার সময় বক্সে HD Voice বা noise cancelling micলেখা আছে কিনা সেটা অবশ্যই দেখে নিবেন। এই দুইটা লিখা যদি থাকে তাহলে বুঝবেন এটা ভালো। আবার নয়েজও কম ধরে কথা ক্লিয়ার হয়।
হেডফোন কেনার আগে রিভিউ দেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ। অনলাইন বা দোকানে রিভিউ দেখে নিলে অর্ধেক কাজ শেষ হয়ে যায়। রিভিউতে যদি সবাই লেখে যে কথা ক্লিয়ার শোনা যায় তাহলে আপনি ওটা নিতে পারেন। আর আরেকটা কাজ করলে সব থেকে বেশি ভালো হয় সেটা হলো -কেনার পরে যখন হাতে পাবেন তখন অন্ততপক্ষে এক মিনিট রেকর্ড করে দেখবেন যে আসলে কথা কেমন শোনা যায়। আর রেকর্ড করার
সময় অবশ্যই ফ্যানটা চালিয়ে রেখে রেকর্ড করবেন। তাহলে বুঝতে পারবেন বাইরের নয়েজ টা কেমন বোঝা যাচ্ছে। আপনার কন্ঠের সাথে সাথে ফ্যানের আওয়াজটা বেশি শোনা যায় তাহলে এই হেডফোনটা খুব ভালো না।অনেক হেডফোন আছে যেগুলো ১ হাজার টাকা দিয়ে কিনেও জুম করলে প্রো লেভেলের মতো লাগে।তাই বলি হেডফোন কেনার সময় অবশ্যই দেখে শুনে বুঝে বাছাই করে নেবেন। এভাবে নিলে দুই এক বছর নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারবেন।
স্টুডেন্টদের জন্য ওভার-ইয়ার নাকি অন-ইয়ার কোনটা ভালো
অভার ইয়ার হেডফোন মানে যেটা পুরো কান ঢেকে থাকে। এই হেডফোনটা লাইব্রেরি, বাসা বা হোস্টেলে পড়াশোনার জন্য বিশেষ করে অনলাইন ক্লাসের জন্য অনেক বেটার। এই হেডফোন পুরা কান ঢাকা থাকে বলে বাইরের ৭০% শব্দ কমে যায় । বাইরের শব্দ কম শোনা যায় বলে টিচারের কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনা যায়। এর ব্যাটারির কোয়ালিটি অনেক ভালো হয়। তিন-চার ঘন্টা কানে দিয়ে ক্লাস করলেও অস্বস্তি বোধ হয় না। তবে একটু বড় ও ভারী হওয়ায় রাস্তা বা কলেজে নিয়ে বেড়ানো একটু ঝামেলা মনে হয়।
অন ইয়ার হেডফোন মানে হল এটা কানের ওপরে বসে থাকে। এটা ছোট বলে খুব সহজেই ব্যাগের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখা যায়। আর নিয়ে বেড়ানো অনেক সহজ হয়। অনেকেই গান শুনতে পছন্দ করে তাই রাস্তায় হাঁটার সময় এই হেডফোনগুলো দিয়ে গান শোনার জন্য একদম বেটার।এইটার দাম ওভার ইয়ার এর থেকে পক্ষে ৩০০০ থেকে ৪০০ টাকা কম পাওয়া যাবে। তবে একটু সমস্যা হল এইটা যদি এক ঘণ্টার বেশি পরে থাকা যায় তাহলে কানে চাপ লাগে আর বাইরের নয় যে বেশি শোনা যায়।
আসল হেডফোন চেনার উপায়
আসেন হেডফোন চেনার উপায় হল-হেডফোনের বক্স, স্টিকার আর লেখা সবকিছু একদম ক্লিয়ার থাকবে। কোন ধরনের বানান ভুলবা ঘোলা লেখা থাকবে না। আসল হেডফোনের লক খুললেই দেখতে পাবেন চার্জার ওয়ারেন্টি গ্যারান্টি কার্ড খুব সুন্দর ভাবে বোঝানো থাকে।যে হেডফোনটা আসল সেটার প্লাস্টিক আর বাটনের কোয়ালিটি অনেক ভালো।হাতে নিলেই বুঝতে পারবেন ভারী এবং শক্ত এসব দেখে চিনতে পারবেন এগুলো আসল। আর যেগুলো নকল হেডফোন সেগুলোর প্লাস্টিক ভালো না একদম হালকা আর প্লাস্টিকের একটা গন্ধ আছে। আর নকল হলে ব্র্যান্ডের লোগোটা ও এলোমেলো বা ছোট বড় লেখারা হয়ে থাকবে।
আসল হট ফোন করলেই বুঝতে পারবেন কেমন শান্তি অনুভব করবেন। আসলে হেডফোন যখন মাথায় বসাবেন তখন ১০ সেকেন্ডের মধ্যেই বুঝতে পারবেন।আসল হেডফোনের বেজঅনেক ভালো থাকবে। গান যদি ফুল ভলিউমে শোনেন তাহলেও কোন সমস্যা হবে না। আর ব্লুটুথ যখন কানেক্ট করবেন তখন ব্র্যান্ডের নাম উঠবে। একটা কথা মনে রাখবেন, যে হেডফোনটা ভালো সেইটার সিরিয়াল নাম্বার থাকে।ওইটা যদি আপনি ওয়েবসাইটের গিয়ে ভালোভাবে চেক করে তাহলে বুঝতে পারবেন কোনটা আসন। অফিসিয়াল দোকান বা ব্র্যান্ডের ওয়েবসাইট ছাড়া যদি হেডফোন কিনেন তাহলে ৯০% ঠকার চান্স আছে।
শেষ কথাঃস্টুডেন্টদের জন্য কম দামে সেরা ব্লুটুথ হেডফোন নিয়ে আমার শেষ পরামর্শ,
এখন অল্প দামে এত লো কোয়ালিটির হেডফোন পাওয়া যায় ৩-৪ টাকার হেডফোনের মত কাজ দেয়। সর্বশেষ আমার আর একটা পরামর্শ হলো -আপনি যখন একটা হেডফোন কিনবেন তখন ১০/১৫ দিন প্রত্যেকদিন ব্যবহার করবেন। তাহলে বুঝতে পারবেন জিনিসটা ভালো নাকি খারাপ। যদি ভালো না হয় তাহলে এই কয়দিনের মধ্যেই সাউন্ডের সমস্যা হবে। ব্যাটারি বেজের সমস্যা হবে। যদি এরকম কোন সমস্যা হয় তাহলে সাথে সাথে দোকানে গিয়ে আপনার হেডফোনটা পাল্টিয়ে নিবেন।
স্টুডেন্টদের জন্য এটাই হচ্ছে কম দামের মধ্যে সব থেকে ভালো হেডফোন। যা ঝামেলা ছাড়াই অনেকদিন সার্ভিস দেয়। স্টুডেন্টদের জন্য কম দামে সেরা ব্লুটুথ হেডফোন এই সম্পর্কে আমি বিস্তারিত বলার চেষ্টা করেছি। হেডফোন টা কোথায় থেকে কিনবেন, হেডফোনটা ভালো দিক, খারাপ দিক, কিভাবে যত্ন নেবেন, আরো অনেক কিছু। এইসব কিছু বলতে গিয়ে বা লিখতে গিয়ে যদি কোন কিছু ছাড়া পড়ে যায় বা কোন কিছু ভুল হয়ে থাকে তাহলে আমাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
আরো পড়ুনঃনতুনদের জন্য ফ্রিতে এ আই টুলস ব্যবহার করার নিয়ম
ও হ্যাঁ আরেকটা কথা মাঝে মাঝে সব কিছুরই একটা আপডেট আসে।তাই যদি আপডেট আসে তাহলে সেই অনুযায়ী দেখে নিবেন। আর কোন কিছু যদি বুঝতে সমস্যা হয় বা জানতে ইচ্ছা করে তাহলে আমাকে অবশ্যই জানাবেন আমি আপনাদের কে সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।


আপনি যদি ইচ্ছা পুরন এর কোন পোস্টে কমেন্ট করতে চান, তাহলে এর নীতি মেনে কমেন্ট করুন। কারন প্রত্যেকটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url