বাংলাদেশে কম বাজেটের মধ্যে সেরা গেমিং স্মার্টফোন রিভিউ
বাংলাদেশে কম বাজেটের মধ্যে সেরা গেমিং স্মার্টফোন রিভিউ শুনলে একদম চমকে
যাবেন!২০ হাজারের নিচে কোন ফোন গুলো গরম হয় না আর গেম আটকায় না? সম্পূর্ণ লিস্ট
দেখুন।
ভূমিকাঃআপনি কি ২০ হাজার টাকার মধ্যে গেম খেলার জন্য এমন ফোন খুঁজছেন,
যাতে গেম খেলার সময় মোবাইল ল্যাগ না করে? তাহলে আপনি একদম সঠিক জায়গায়
এসেছেন। আজকে বাংলাদেশে কম বাজেটের মধ্যে সেরা গেমিং স্মার্টফোন রিভিউ
সম্পর্কে বেশ কয়েকটি ফোনের বর্ণনা দিয়েছি।
সূচিপত্রঃবাংলাদেশে কম বাজেটের মধ্যে সেরা গেমিং স্মার্টফোন রিভিউ সম্পর্কে বিস্তারিত গাইড লাইন
- বাংলাদেশে কম বাজেটের মধ্যে সেরা গেমিং স্মার্টফোন রিভিউ এর সেরা চমক
- গেম খেললে ও ফোন গরম হয় না এমন ফোন
- ফোন কেনার আগে যে ভুল গুলোর কারণে হাজার টাকা নষ্ট হয়
- ১৫ থেকে ২০ হাজারের মধ্যে ভালো ফোন
- ফ্রি ফায়ার খেলার জন্য ভালো মোবাইল
- গেমিং মোবাইলের বর্তমান দাম
- বাংলাদেশে কম বাজেটের মধ্যে সেরা গেমিং স্মার্টফোন রিভিউ এর দারুন চমক
- মোবাইল কেনার আগে সতর্কতা
- হাতের ফোন দিয়েই প্রো গেমারের ফিল
- অফিসিয়াল vs আনঅফিসিয়াল গেমিং ফোনের পার্থক্য
- কম দামে বেশি FPS পাওয়ার গোপন টিপস
- শেষ কথাঃবাংলাদেশে কম বাজেটের মধ্যে সেরা গেমিং স্মার্টফোন রিভিউ সম্পর্কে ইতিকথা
বাংলাদেশে কম বাজেটের মধ্যে সেরা গেমিং স্মার্টফোন রিভিউ এর সেরা চমক
বাংলাদেশে কম বাজেটের মধ্যে সেরা গেমিং স্মার্টফোন রিভিউ এর
সেরা চমক হলো-এখন বেশি টাকা ছাড়াই প্রো গেমারের মতো গেম খেলা যায়।আগে ৪০-৫০
হাজার টাকা দিয়ে মোবাইল কিনে যে ৯০FPS আর ল্যাগ ফ্রী পারফরম্যান্স পাওয়া
যেত, এখন সেই একই জিনিস ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা দামের মোবাইলে পাওয়া যায়।
ইনফিনিক্স, পোকো এর মত ব্যান্ডগুলো helio G99 আর snapdragon এর মত শক্তিশালী
প্রসেসরও দিচ্ছে।
আর আগে কম দামের ফোন মানেই গেম খেলতে গিয়ে, হাওয়া হ্যাং হওয়া,ফোন গরম
হাওয়া এসব ছিল কমন ব্যাপার। কি আর বলব আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে কিছু
শেয়ার করি। আমার বোনের ছেলে গেম খেলতে গিয়ে যখন মোবাইল হ্যাং করে, তখন
মোবাইল কতবার যে ছেলে দিয়ে স্কিন নষ্ট করেছে তার ঠিক নেই। আর যখন মোবাইলের
গরম হয়ে যায় তখন কি করত জানেন? মোবাইলটা ফ্রিজের মধ্যে ঢুকায় রাখতো কি আর
বলবো। এভাবে কয়েকটা মোবাইল নষ্ট করেছে।
কিন্তু এখনকার বাজেটে মোবাইল ফোন কিনে গেম খেললেও সমস্যা হয় না। এখনকার
বাজেটের মোবাইল ফোন গুলোর বড় ব্যাটারি, ৮ জিবি ram থাকায়, ঘন্টার পর ঘন্টা
পাবজি, ফ্রী ফায়ার খেলেও মোবাইল আয়না আবার হ্যাংও হয় না। ফোন একদম ঠান্ডা
থাকে। তাই বলি যাদের গেম খেলার শখ বেশি, কিন্তু বাজেট কম তারা এই ফোনটা কিনে
খেলতে পারেন।
২,গেম খেললে ও ফোন গরম হয় না এমন ফোন
গেম খেললেও ফোন গরম হয় না এমন ফোন খুঁজছেন? তাহলে ফোন কেনার আগে প্রসেসর আর
কুলিং সিস্টেম অবশ্যই দেখে নিবেন। Snapdragon 7 সিরিজ Dimenisty 7050 এর
ওপরের প্রসেসর থাকলে ফোন হিট কম হয়। vc liquid cooling বা chamber থাকলে
টানা দুই তিন ঘণ্টা পাবজি বা ফ্রী ফায়ার খেললেও হাত গরম হবে না। কারণ ফোনে
যদি ভালো কুলিং সিস্টেম থাকে তাহলে ওই কুলিং সিস্টেমটা গরম টা বের করে
দেয়।
আর একটা কথা শুধু কুলিং সিস্টেম দেখলেই হবে না। ব্যাটারি ও ভালোভাবে দেখে
নিতে হবে। ব্যাটারি ৫০০০mah এর ওপরে হতে হবে। ব্যাটারি যদি ছোট হয় তাহলে,
অনেক ছেলেরা আছে যারা চার্জে দিয়ে গেম খেলে। চার্জে দিয়ে গেম খেললে তখন
অনেক গরম হয়ে যাবে যদি ব্যাটারি বড় না হয়। আর ফোনের পেছনে যে ডিজাইন থাকে
সেটা প্লাস্টিকের না হয়ে যদি ক্লাস অথবা ম্যাট ফিনিশিং হয় তাহলে গরম কম
হয়। তাই বলি আপনার বাজেট যদি ২০ থেকে ৩০ হাজারের মতো হয় তাহলে, এই ফিচারের
মোবাইল গুলো দেখে কিনলে গেম খেলার সময় আর গরম হওয়ার কোন টেনশন থাকবে না।
তাই যারা গেম পাগল তারা এই ফিচারগুলো দেখে কিনতে পারেন।
ফোন কেনার আগে যে ভুল গুলোর কারণে হাজার টাকা নষ্ট হয়
শুধু ক্যামেরা আর লুক দেখে কিনাঃআমরা অনেকেই আছি যারা গেলে আগে ক্যামেরা
দেখি। ছবি ভালো আসছে কিনা ক্লিয়ার আসছে কিনা এইটা দেখে অনেক সময় ফোন কিনে
ফেলি। কিন্তু প্রসেসর দেখি না প্রসেসর না দেখে কিনে ফেলি। অনেক সময় প্রসেসর
দুর্বল থাকে, এরকম দেখে কিনলে ছয় মাস পরেই অনেক স্লো হয়ে যায়। তখন আবার
নতুন ফোন কিনতে হয়। তাই কেনার আগে অবশ্যই প্রসেসর দেখে নিতে হবে।
RAM আর storage কম দেখাঃএখনকার সময়ে 4GB RAM আর 64 GB এখনকার সময়ে
এই ফোন গুলো একদম নিবেন না। আপডেট আর অ্যাপস এর কারণে এক বছরের মধ্যে স্টোরিজ
ফুল হয়ে যায়। তখন ফোন অনেক স্লো হয়ে চলতে থাকে।
অফিসিয়াল না দেখে আন অফিসিয়াল কিনাঃঅনেক সময় অনেকেই দেখা
যায় চার-পাঁচ হাজার টাকার কারণে অফিসিয়ালি ফোন না কিনে আন অফিসিয়াল
ভাবে কিনে।পরে নেটওয়ার্ক, চার্জিং আর ওয়ারেন্টির ঝামেলায় পড়ে আরো বেশি
টাকা খরচ হয়ে যায়।
প্রসেসর চেক না করাঃআপনিগেম খেলার জন্য অথবা ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য
ফোন কিনলেন। অথচ প্রফেসর দেখলেন না।দুর্বল প্রসেসরের ফোন কিনলেন, ফোন তো গরম
হবেই আর এক বছরের মধ্যে ফোন পুরাতনের মত দেখা যাবে।
বিভিন্ন ধরনের গিফট আর অফারের লোভে পড়াঃঅফারের জিনিস সবসময় ভালো হয়
না। অফারের দেখিয়ে, দোকানদারেরা হেডফোন বা কভার ফ্রি দেয় ওই সব ফোনের
ব্যাটারি আর চার্জার ভালো হয় না । তাই অফারের জিনিস বিরত থাকবেন। আর যদি
নিয়েও থাকেন তাহলে সবকিছু দেখে শুনে ভালোভাবে নিবেন।
১৫ থেকে ২০ হাজারের মধ্যে ভালো ফোন
বর্তমানে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা দিয়ে ফোন কিনলে অনেক ভালো ফোনে কেনা যায়।
তবে ফোন কেনার আগে বুঝেশুনে ফোন কিনতে হবে। এই দামের মধ্যে আপনি ৬ জিবি ram
আর ১২৮ জিবি স্টোরেজের ফোন পাবেন। এ ধরনের ফোন কিনলে আপনি কি কি করতে পারবেন
একটু জেনে নিন। এ ধরনের ফোন কিনলে আপনি অনেক অ্যাপ আর ছবি রাখতে
পারবেন।
ফোন হ্যাং করবে না, ব্যাটারি অনেক বড় তাই চার্জ নিয়ে কোন টেনশন থাকবে না।
ক্যামেরাও আগের তুলনায় অনেক ভালো পাবেন। রাতে অথবা দিনে যখন ছবি তুলবেন তখনই
একদম ক্লিয়ার আসবে। poco রিয়েলমি ইনফিনিক্স, এর এই দামের ফোনগুলো নরমাল কাজ
আর হালকা গেমের জন্য একদম পারফেক্ট। তাই আপনি যদি চান ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার
মধ্যে ফোন কিনবেন তাহলে এই ফোনগুলো কিনতে পারেন।
আর একটা কথা ফোন কিনার আগে দুইটা জিনিস মাথায় রাখবেন
- ফোন অফিশিয়াল কিনাঃফোন অফিশিয়াল হলে ফোনে যদি কোন সমস্যা হয় তাহলে, অফিসে নিয়ে গিয়ে সার্ভিস নিতে পারবেন। তা না হলে কিন্তু নষ্ট বা কোন সমস্যা হলে সার্ভিস নিতে পারবেন না।
- ডিসপ্লে যেন সুন্দর হয়ঃএখন এই দামের মধ্যে অনেক কোম্পানির ফোন ডিসপ্লে একদম ক্লিয়ার দেয়। তাই কেনার আগে যদি এই বিষয়গুলো দেখে শুনে নেন তাহলে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে ফোন কিনে আরামে ৩-৪ বছর চালাতে পারবেন।
ফ্রি ফায়ার খেলার জন্য ভালো মোবাইল
কেউ যদি ফ্রী ফায়ার খেলার জন্য মোবাইল কিনেন তাহলে, মোবাইল কেনার আগে অবশ্যই
প্রসেসর আর Ram দেখে কিনবেন। 6gb Ram আর snap Dragon 680 এর উপরে থাকলে
মোবাইল একদম অনেক সুন্দর ভাবে চলবে। মোবাইল হ্যাং করবে না খেলার সময় হেড শট
মিস করবে না। আর ডিসপ্লে যদি 90Hz বা 120Hz হলে মুভমেন্ট আরো দ্রুত
লাগবে। আর ব্যাটারি যদি 5000mAh এর উপরে হলে ৩-৪ ঘন্টা গেম খেলতে
পারবেন চার্জ নিয়ে কোন টেনশন নাই।
ফোন যাতে গরম না হয় সেটা দেখে নেওয়া অবশ্যই জরুরি। অনেক ফোন আছে যেটা এক
ঘন্টা খেলে হাত একদম আগুনের মত পড়ে যায়। Poco, infinix, realme এর গেমিং
ফোনগুলোতে এখন liquid cooling দেয়। এই ফিচারের ফোনগুলো যদি নেন তাহলে সবসময়
ঠান্ডা থাকে। ক্যামেরা ৬৪এমপি এর দরকার নেই। গেমিং এর জন্য প্রসেসর আর
চার্জিং স্পিড 3w হলেই চলবে। ফ্রী ফায়ার এর জন্য ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার
মধ্যেই ভালো ফোন পেয়ে যাবেন। তবে একটাই কথা ফোন কিনার আগে অবশ্যই দেখে শুনে
নিবেন।
গেমিং মোবাইলের বর্তমান দাম
গেমিং মোবাইলের বর্তমান দাম এখন হাতের নাগালে আছে। আপনি যদি গেম খেলার জন্য
মোবাইল কিনতে চান তাহলে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে ভালো গেমিং ফোন পাবেন।
এই দামের মোবাইলে ফ্রী ফায়ার একদম হ্যাং ছাড়া খেলতে পারবেন। ব্যাটারি বড়
থাকে তাই চার্জ শেষ হওয়া নিয়ে কোন টেনশন নাই। ৩-৪ঘন্টা অনায়াসে খেলতে
পারবেন। গেম খেলার জন্য Poco, realme, infinix এগুলো একদম বেস্ট।
আর আপনি যদি আরও ভালো মানের ফোন নিতে চান তাহলে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে
অনেক ভালো ফোন পেয়ে যাবেন গেম খেলার জন্য। এই টাকা দিয়ে ফোন কিনলে গরম কম
হবে। গ্রাফিক্স হাই করে খেলতে পারবেন। প্রসেসর পাওয়ারফুল থাকে তাই দুই তিন
বছর ফোন চালালেও স্লো হয় না। তাই যাদের গেম খেলার অনেক বেশি শখ, কিন্তু তেমন
হাতে টাকা পয়সা নেই ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে ফোন কিনে গেম খেলতে
পারবেন। এতে কোন সমস্যা হবে না। তবে ফোন কেনার আগে ব্যাটারি প্রসেসর এগুলো
অবশ্যই দেখে নিবেন।
বাংলাদেশে কম বাজেটের মধ্যে সেরা গেমিং স্মার্টফোন রিভিউ এর দারুন চমক
বাংলাদেশে কম বাজেটের মধ্যে সেরা গেমি স্মার্টফোন রিভিউ এর দারুন চমক হল যদি
দেখি তাহলে samsung galaxy আর ভিভো এগুলো কিন্তু পিছিয়ে নেই। ১৬ থেকে ১৯
হাজার টাকার মধ্যেই samsung galaxy M14 5G আর Vivo T2 light অনেক ভালো
রিভিউ দিচ্ছে। এই
ফোনগুলোর প্রসেসর Exynos 1330 আর Dimensity6020। এই ফোন দিয়ে ফ্রী
ফায়ার খুব সুন্দর ভাবে খেলা যাবে।
আর Samsung আর onr UI এর কারণে গেম বুস্টার আছে। তাই গেম খেলার সময়
নোটিফিকেশন এসে গেমের ডিস্টার্ব করে না। এর ব্যাটারি 6000 mAh চার্জ অনেকক্ষণ
থাকে তাই চার্জ নিয়ে কোন টেনশন নেই।আর একটা চমক হল Motorola G34 5G
প্রায় ১৭ হাজার টাকার মধ্যে এই ফোন পেয়ে যাবেন।এক্সটা কোন অ্যাপ নাই তাই এই
ফোনটা খুব ফাস্ট চলে। সাথে ৮ জিবি রেমও আছে। গেম ডাউনলোড করতে দিলে খুব
তাড়াতাড়ি ডাউনলোড হয়ে যায় এর লোডিং টাইম অনেক কম।
মোবাইল কেনার আগে সতর্কতা
গেমিং মোবাইল কেনার আগে কিছু সতর্কতা আছে সেগুলো অবশ্যই অবলম্বন করবেন।
প্রথমে ভালো করেই স্কিনের টাচ করে দেখে নিবেন স্কিন ভালো মতো কাজ করছে কিনা।
চার আঙ্গুল দিয়ে গেম খেললে অনেক সময় টাচ মিস হয়ে যায়। তাই কেনার সময়
দোকানে বসেই ফ্রী ফায়ার ট্রেনিং গ্রাউন্ডে গিয়ে কয়েক মিনিট খেলে দেখবেন যে
গেম খেলার জন্য সব বাটনগুলো ঠিক আছে কিনা। আর স্ক্রিনে দেখবেন যে স্ক্রিন ঠিক
আছে কিনা। কারণ স্কিন যদি ঠিক না থাকে তাহলে গেম খেলার সময় অনেক সমস্যা
হবে।
আর একটা জিনিস দেখে নিবেন সফটওয়্যার আর নেটওয়ার্ক এই দুইটা ঠিক আছে কিনা।
অনেক ফোনে অনেক সময় গেম যখন খেলা হয় তখন পপ আপ মেসেজ এসে গেম থেকে একদম বের
করে দেয়। তাই গেম মন স্পোর্টস মোড আছে কিনা অবশ্যই দেখে নিবেন। ওইটা
যদি অন করেন তাহলে নোটিফিকেশন ব্লক হয়ে যায়। আর একটা ফোরজি আর ওয়াইফাই
নেটওয়ার্ক কেমন ধরে সেটা অবশ্যই দেখে নিবেন। দুর্বল নেটওয়ার্কের ফোনে 999
ping আসবে তখন ভালো ফোন দিয়েও কাজ হবে না।
হাতের ফোন দিয়েই প্রো গেমারের ফিল
এখন হাতের ফোন দিয়ে প্রো গেমারের অসম্ভব ব্যাপার না। আপনার হাতের ফোন দিয়ে
ও আপনি সুন্দর ভাবে গেম খেলতে পারবেন। pro গেমার জন্য ৪০ বা ৫০ হাজার টাকা
দামের ফোনের প্রয়োজন নেই। শুধু আপনার হাতে থাকা ফোনের DPI বাড়িয়ে নিন। আর
সেনসিটিভিটি নিজের মত বাড়িয়ে নিন। তারপর চারটা আঙ্গুল দিয়ে ক্ল ক্লে
প্র্যাকটিস করুন।
এভাবে যদি প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে প্র্যাকটিস করেন তাহলে এক মাসের
মধ্যে, দেখবেন আপনার হেড শট রেট বেড়ে গেছে। আর একটা কথা গেম খেলার সময়
ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ সবগুলো বন্ধ করে দিবেন। যদি সম্ভব হয় তাহলে ওয়াইফাই
ব্যবহার করবেন। এভাবে যদি খেলেন তাহলে আপনি হাতের ফোন দিয়েই প্রো গেমারের
ফিল অনুভব করবেন।
আর একটা কথা প্রো গেমার মানে স্কিল বেশি করা তা নয়। আপনার মন মানসিকতা ও ঠিক
করতে হবে। গেম খেলার সময় মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। গেমে ঠান্ডা মাথায়
সিদ্ধান্ত নিতে হবে রেগে গেলে হবে না। আর আপনি যদি হেরেও যান তাহলেও রেগে
যাওয়া যাবে না। আর হেডফোন দিয়ে পুরো ভলিউম দিয়ে ভালোভাবে পায়ের আওয়াজ
শুনে ধরতে হবে। যদি সম্ভব হয় স্ক্রিন রেকর্ড করে পরবর্তীতে নিজের ভুলগুলো
শুধরে নেবেন।
অফিসিয়াল vs আনঅফিসিয়াল গেমিং ফোনের পার্থক্য
অফিসিয়াল ফোন এটা সবথেকে বড় সুবিধা হচ্ছে দোকান থেকে গিয়ে দেখে শুনে নিয়ে
আসা হয়। গ্যারান্টি ওয়ারেন্টি সব কিছু দেখে নিয়ে আসা যায়। এই ফোনগুলো
কোম্পানির নিজেই বাংলাদেশে নিয়ে এসে বিক্রি করে। তাই এগুলোর এক বছর বা বছরের
ওয়ারেন্টি থাকে। এই সময়ের মধ্যে যদি গেম খেলতে খেলতে মোবাইল গরম হয়ে যায়
হ্যাং হয় অথবা দেখা দেয় তাহলে কোম্পানি থেকে ফোন ঠিক করে দেয় কোন টাকা
পয়সা লাগে না। নেটওয়ার্কের ও সমস্যা তেমন থাকে না। আপডেট ও সময়মতো চলে
আসে। দাম একটু বেশি হলেও ঝামেলা কম।
এবার আসি আনঅফিসিয়াল ফোনে,এই ফোনগুলো বিদেশ থেকে হাত বদল হতে হতে আসে। এই
ফোন কিনলে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা কম পাবেন কিন্তু গ্যারান্টি পাবেন না।
যদি ভাগ্য ভালো হয় তাহলে অনেকদিন ব্যবহার করতে পারবেন। আর যদি ভাগ্য খারাপ
হয় তাহলে মাছ ব্যবহার করার পরেও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তখন কোথাও নিয়ে যেতে
পারবেন না ফ্রি সার্ভিসও করাতে পারবেন না। ডিসপ্লে বা চার্জিং নষ্ট
হয়ে গেলে বা অন্য কিছু নষ্ট যদি হয় তাহলে নিজের পকেটের টাকা খরচ করে ঠিক
করতে হবে। এটার দাম একটু কম হলেও ঝামেলা অনেক বেশি।
কম দামে বেশি FPS পাওয়ার গোপন টিপস
কম কম দামে বেশি এফপিএস পাওয়ার প্রথম টিপস হল, গেম খেলার আগে ব্যাকগ্রাউন্ডে
যা কিছু আছে সবকিছু বন্ধ করে দিন। ফোনের গেম স্পেস বা গেম মোড অন করুন। ওইটা
যদি অন করেন তাহলে ফোনের যত শক্তি আছে সবগুলো গেমের ভিতরে লেগে যায়। আর
গ্রাফিক্স সেটিং স্মুথ আর হাইএফপিএস সিলেক্ট করুন। শ্যাডো আর গ্রাফিক্স যত কম
রাখবেন ফোনের উপর প্রেসার তত কম পড়বে। এর ফলে এফপিএস বেড়ে যাবে।
দ্বিতীয় টিপস হল ফোন ঠান্ডা রাখা, গেম খেলতে খেলতে ফোন যখন গরম হয়ে যায়
তখন নিজে থেকেই এফপিএস কমে যায়। তাই যখন গেম খেলবেন তখন ফোনের কাভার খুলে
ফেলুন। সম্ভব হলে টেবিল ফ্যানের সামনে বসে থেকে গেম খেলুন। আর একটা কথা মনে
রাখবেন প্রতি সপ্তাহতে একবার ফোন রিস্টার্ট দিবেন। ফোনে যেসব অপ্রয়োজন ও
ফাইলা আছে সব কিছু ডিলিট করে দিবেন। তা না হলে এ স্টোরেজ ফুল হলে গেম খেলার
সময় অনেক স্লো হয়। এই ছোট ছোট কাজগুলো করলে দেখবেন কম দামে ফোন কিনেও অনেক
সুন্দর ভাবে গেম খেলতে পারা যায়।
শেষ কথাঃবাংলাদেশে কম বাজেটের মধ্যে সেরা গেমিং স্মার্টফোন রিভিউ সম্পর্কে ইতিকথা
বাংলাদেশে কম বাজেটের মধ্যে সেরা গেমিং স্মার্টফোন রিভিউ সম্পর্কে
ইতিকথা এটা যে, ফোন শুধু হচ্ছে একটা টুলস আর আসল খেলা হয় আপনার স্কিন আর
অভ্যাসে। তাই আমার পরামর্শ হলো কম বাজেটের মধ্যে দেখে শুনে একটা ভালো ফোন
বেছে নিয়ে, ছোট ছোট টুলস গুলো ঠিক করে অনেক সুন্দর ভাবে খেলতে পারবেন। আর কম
দামের মধ্যে ফোন কিনে ছোট ছোট টুলস গুলো আপনি প্রো লেভেলের গেমারের মত মজা
পাবেন। তাই দেরি না করে আপনি যদি গেম খেলতে চান তাহলে আপনার বাজেটের মধ্যে
আজি আপনার সেরা ফোনটা কিনে নেন।
বাংলাদেশে কম বাজেটের মধ্যে সেরা গেমিং স্মার্টফোন রিভিউ সম্পর্কে আমি
বিস্তারিত বলার চেষ্টা করেছি। এখানে আমি অনেক বিষয় তুলে ধরেছি,, তারপরেও যদি
কোন বিষয়ে বাদ পড়ে যায় বা কোন জায়গায় ভুল হয়, তাহলে আমাকে ক্ষমার
দৃষ্টিতে দেখবেন। আর যদি কোথাও বুঝতে অসুবিধা হয় তাহলে আমাকে জানাবেন আমি
বলে দেওয়ার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ।


আপনি যদি ইচ্ছা পুরন এর কোন পোস্টে কমেন্ট করতে চান, তাহলে এর নীতি মেনে কমেন্ট করুন। কারন প্রত্যেকটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url