বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স একাউন্ট খোলার সম্পূর্ণ নিয়ম

ড্রাইভিং লাইসেন্স কথাটা শুনলেই মানুষের মনে একটা বিরক্তিকর ভাব চলে আসতো। কারণ এই ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে হলে, মানুষকে আগে অনেক ঝামেলার সম্মুখীন হতে হতো। কিন্তু এখন ২০২৬ সাল ডিজিটাল যুগ এখন আগেকার মত আর লাইন ধরে ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে হয় না। 


আগে মানুষ সকাল থেকে লাইন ধরে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে যেত। শুধু কি লাইন তারপরে আছে দালালের অত্যাচার, দালালকে ঘোষ দেওয়া ছাড়া এসব লাইসেন্স হতো না। তবে এখনকার সরকার এই বিআরটি ড্রাইভিং লাইসেন্স একাউন্ট খোলার নিয়ম অনলাইনে নিয়ে এসেছে।

সূচিপত্র: এই পোস্টে ড্রাইভিং লাইসেন্স একাউন্ট খোলার সম্পূর্ণ পদ্ধতি দেওয়া আছে 

সর্ব প্রথমে আসে ড্রাইভিং লাইসেন্স আসলে কি চলেন একটু জানি

ড্রাইভিং লাইসেন্স হলো সরকারের দেওয়া একটা অনুমতি পত্র। যা বাংলাদেশ মোটরসাইকেল, কার, বাস ট্রাকসহ আরো যে কোন মোটর জানগুলো আছে তাদের লাইসেন্স করা বাধ্যতামূল। এটা বাধ্যতামূলক করার কারণ, হচ্ছে মানুষ যাতে নিরাপদ ও সচেতনভবে রাস্তায় গাড়ি চালাতে পারে। আর এই লাইসেন্স প্রমাণ করে যে ,আপনি গাড়ি চালানো সম্পূর্ণ নিয়ম জানেন এবং নিরাপদে গাড়ি চালাতে পারেন।

আপনি যদি লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালান, এটা হচ্ছে বেআইনি। তাই লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে অনেক সময় পুলিশ মামলা দেবে, জরিমানা করবে, এমনকি গাড়িও আটকে রাখে। এই কার্ডটিতে থাকে গাড়ির মালিকের ছবি, নাম ঠিকানা রক্তের গ্রুপ আপনি যে ধরনের গাড়ি চালাতে পারবেন সবকিছু । এখানে বিভিন্ন গাড়ির জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরির নিয়ম লেখা থাকে। আবার লাইসেন্সের মেয়াদও বিভিন্ন ধরনের থাকে 5 বছর 10 বছর। মেয়াদ শেষ হলে আবার রিনিউ করতে হয়।

আপনাকে কেন অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স খুলতে হবে

গাড়ি চালাতে হলে আপনাকে অবশ্যই লাইসেন্স করতে হবে। কারণ এটা আইনের বাধ্যবাধকতা বৈধ লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে জরিমানা ও শাস্তি হতে পারে। আর আগে তো লাইসেন্স করার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকা লাগতো ‌কিন্তু এখন আর দাঁড়িয়ে থাকার প্রয়োজন নেই ,এখন ঘরে বসেই অনলাইনে মোবাইলের মাধ্যমে লাইসেন্স করা যায়।BRTAএ অ্যাকাউন্ট না করলে আপনি আবেদনই করতে পারবেন না।

সব থেকে বড় কথা হচ্ছে, অ্যাকাউন্ট না খুললে লার্নার লাইসেন্স, লিখিত পরীক্ষার ডেট, ফি জমা, স্মার্ট কার্ড কিছুই করতে পারবেন না। এই অ্যাকাউন্ট যদি একবার খোলেন, তাহলে এর লাইসেন্স রিনিউ ,ঠিকানা বদল, হারানো লাইসেন্স তোলা সবকিছুই এখান থেকে করতে পারবেন। তাই ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে হলে সর্ব প্রথমে আপনাকে আগে একাউন্ট খুলতে হবে। এটা খোলা একদম ফ্রি, কোন টাকা লাগেনা। শুধু মোবাইল নাম্বার আর এর আইডি কার্ড। অ্যাকাউন্ট খোলা মানেই বিআরটি এর সাথে ডিজিটালভাব যুক্ত হওয়া। এখন আর অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য দালালের প্রয়োজন হয় না। ঘরে বসেই নিজে নিজে খোলা যায় কোন ঝামেলা ছাড়া আর বেশি সময়ও লাগে না।

আরো পড়ুন: উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করার সহজ উপায় জানুন

বি আর টি এর অ্যাকাউন্ট খুলতে যা লাগে

যে একাউন্ট খুলবে সর্ব প্রথমে তার এনআইডি কার্ড। এনআইডি না থাকলে জন্ম নিবন্ধন বা পাসপোর্ট লাগবে। তবে ১৮ বছরের বেশি হলে এনআইডি হলে ভালো হয়। তারপরে লাগবে একটি সচল মোবাইল নাম্বার, যে মোবাইলে কাজ করা যাবে। ওটিপি যাবে এই নাম্বারে। আর নগদ অথবা বিকাশে টাকা দেওয়ার জন্য এই নাম্বারে লাগবে। তাই মোবাইল নাম্বার দেওয়ার সময় ভেবেচিন্তে দিতে হব। যে নাম্বারে বিকাশ অথবা নগদ একাউন্ট খোলা আছে। তা না হলে পরে একটু ঝামেলা হতে পারে।

তারপরে লাগবে একটা ইমেইল আইডি। ইমেইল আইডি যদি না থাকে তাহলে খুলে নিতে হবে। জিমেইলে গিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই আইডিটা খুলে নিতে হবে।আর তারপর লাগবে পাসপোর্ট সাইজের ছবি। তারপরে লাগবে নিজের শিখতে চাই সাদা কাগজে কালো কালি দিয়ে সিগনেচার দিতে হবে। তারপরে স্থায়ী ঠিকানাও বর্তমান ঠিকানা দিতে হবে। ভোটের আইডি কার্ডে যে ঠিকানা আছে ওইটা দিলেই হবে। সব ডকুমেন্টগুলো মোবাইলে বা কম্পিউটারে রেডি করে রাখতে হবে। তাহলে একবারে ফরম ফিলাপ শেষ হয়ে যাবে। অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে সার্ভার সাবমিট নিবে না তাই সবকিছু রেডি করে একাউন্ট খুলতে বাসায় ভালো হবে। 

ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্য ফ্রি পরিশোধের সহজ মাধ্যম

বিআরটি তে আবেদন করার পরে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল সেই পরিশোধ করা। যদি ফ্রি পরিশোধ না করা হয় তাহলে আবেদন ঝুলে থাকবে, আবার পরীক্ষার ডেট ও পাওয়া যাবে না। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফ্রি পরিশোধ করার ব্যবস্থা করতে হবে। কি পরিশোধ করার কয়েকটি উপায় নিচে দেওয়া হল।

  1. বিকাশ
  2. নগদ
  3. ব্যাংক কার্ড 

ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ফিপরিশোধ করার একটা সহজ মাধ্যম হচ্ছে, বিকাশ একাউন্ট। আবেদন সাবমিট করার পরে মোবাইলে, পেয়ে উইথ বিকাশ এই অপশনটি আসবে ওইখানে নিজের বিকাশ নাম্বারটা দিতে হবে। সাথে সাথেই আপনার মোবাইল বিকাশে একটা নোটিফিকেশন আসবে। অ্যাপটি ওপেন করে পিন নাম্বার দিলে টাকা কেটে নেবে। পেমেন্ট করাটা যদি সাকসেস হয় তাহলে সাকসেস পেমেন্ট নামে একটা মেসেজ আসবে। ওইটা শীত করে রাখা ভালো। পরে কাজে আসবে। আর আর একটা কথা যদি বিকাশে টাকা না থাকে তাহলে, আগে ক্যাশ ইন করে বিকাশ একাউন্টে টাকা নিতে হবে। যদি বিকাশ বা নগদ একাউন্ট না থাকে তাহলে, ব্যাংক একাউন্টে ব্যবহার করেও টাকা পরিশোধ করা যায়।

আরো পড়ুন: বিভিন্ন ধরনের পাসওয়ার্ড মনে রাখার সহজ কৌশল 

আবেদনের ফি পরিশোধ করার পরে যা করণীয়

ফি জমা দেওয়ার সাথে সাথে স্ক্রিনে "পেমেন্ট সাকসেসফুল"লেখা আসবে এটা সাথে সাথেই সেভ করে রাখতে হবে, অথবা স্ক্রিনশট নিলেও হবে। কারণ এই ঋষিটে পরীক্ষার তারিখ, সময় আর বিআরটিএ এর অফিসের নাম লিখা থাকবে। সেই তারিখে অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে। অবশ্যই ৩০-৪০ মিনিট আগে যেতে হবে। আর সাথে করে নিতে হবে। 

  1. এনআইডি কার্ড 
  2. পাসপোর্ট সাইজের দুই কপি ছবি 
  3. আর রিসেটের প্রিন্ট কপি। অফিসে গিয়ে "লার্নার সেকশন" এ লাইনে দাঁড়াতে হবে। যখন সিরিয়ালে নাম আসবে তখন কাউন্টারে রিসিভ জমা দিতে হবে। রিসিভ জমা দিলে তারা আপনার ছবি ছবি তুলবে আর ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিবে। 

ছবি আর ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া শেষ হলে আপনাকে হাতে হাতেই লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স কার্ড দিয়ে দেবে। কাদের মেয়াদ হচ্ছে ছয় মাস এই ছয় মাসের মধ্যে, আপনাকে লিখিত ভাইভা এবং প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা দিতে হবে। লার্নার কার্ড পাওয়ার পরে বাসায় প্র্যাকটিস করতে হবে। আর বি আর টি এর ট্রাফিক রুলস গুলো ফলো করতে হবে। লার্নার ছাড়া গাড়ি চালালে পুলিশ যদি ধরতে পারে তাহলে মামলা দিয়ে দেবে তাই আগে প্র্যাকটিস করতে হবে। একটা ডেটেই তিনটা পরীক্ষা হয়। ডেট কনফার্ম করার পরে মোবাইলে আবার এসএমএস আসবে। এসএমএসে যে তারিখ দিবে সেই তারিখে এনআইডি আর লার্নার এই দুইটা সাথে করে নিয়ে যেতে হবে।

বিআরটিএ যেভাবে পরীক্ষা ও তার ফলাফল দেওয়া হয়

পরীক্ষার যেদিন ডেট থাকবে সেদিন একটু আগে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। দেরি করে গেলে সিরিয়াল পাবে না। সাথে করে নিয়ে যেতে হবে অরজিনাল এনআইডি কার্ড ,লার্নার কার্ড, আর একটা কলম। প্রথমেই হয় লিখিত পরীক্ষা ।লিখিত পরীক্ষায় পাস করলে, স্ক্রিনে 'পাস' লেখা দেখাবে। তারপরে সাথে সাথেই ভাইভা রুমে ডাকবে। সেখানে ইন্সপেক্টর ৫ থেকে ৭টা ভাইভা প্রশ্ন করবে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন সম্পর্কে। তারপরে ভাইভা পরীক্ষা শেষ হলে আসবে মাঠের প্রাকটিক্যাল পরীক্ষা। বসে বসে আপনাদের প্রাকটিক্যাল পরীক্ষা দেখবে তারপরে মার্ক দেবে। তিনটা পরীক্ষাতেই পাশ করতে হবে একটাতে ফেল করলে আবার এক মাস পরে ডাকবে।

পরীক্ষা শেষ হলে এবার আসে ফলাফলের পালা। পরীক্ষার সাথে সাথেই স্ক্রিনে রেজাল্ট দেখাবে। যদি বারোটা কারেক্ট হয় তাহলে পাস দেখাবে। আর ১২ তার কম তাহলে ফেল দেখাবে। ভাইবা আর প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা হওয়ার পরে লার্নার খাটের পেছনে সিল মেরে দেয়া হবে। তিনটা পরীক্ষাতে যদি পাস করা যায় তাহলে 'অল টেস্ট পাশসড' লেখা দেখাবে। আর যদি কেউ ফেল করে তাহলে কোনটাতে ফেল করেছে সেইটা লিখে দেবে। ফেল করলে টেনশনের কিছু নেই একমাস পরে ২৩০ টাকা জমা দিয়ে আবার ওই বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়া যাবে।

আরো পড়ুন: বিভিন্ন ধরনের গাড়ির অনলাইনে লাইসেন্সের নিয়ম 

লার্নার কার্ড পাওয়ার পর যা করণীয়

অনেক কষ্ট ও সাধনার পরে যখন লার্নার কাটতে হাতে পাওয়া যায়, তখন মনে একটা স্বস্তি আসে। লার্নার কার্ড হাতে পাওয়া মানেই, এই নয় যে আপনি এখনই গাড়ি চালাতে পারবেন। এই কার্ড পাওয়া মানে গাড়ি চালানো শেখার অনুমতি পাওয়া। তবে একা একা গাড়ি চালাতে পারবেনা সাথে একজন বৈধ লাইসেন্সধারী মানুষ থাকতে হবে। যে গাড়ি চালানো শেখাবে। গাড়ি চালানো অবস্থায় যদি পুলিশ ধরে তাহলে কার্ড আর লাইসেন্স দেখাতে হবে। তাই গাড়ি চালানোর সময় এই কাগজপত্র গুলো অবশ্যই কাছে রাখতে হবে। 

কারণ পুলিশ ধরলে এগুলো দেখালে পুলিশ আর কিছুই বলবে না। লার্নার কার্ডের মেয়াদ থাকে ছয় মাস। আরে ছয় মাসের মধ্যেই ভালোভাবে প্র্যাকটিস করে প্রফেশনাল আর নন প্রফেশনাল লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে। যদি সময় শেষ হয়ে যায় তাহলে ৩৪৫ টাকা দিয়ে আবার লার্নার কার্ড করতে হবে। তাই কার্ড পাওয়ার পরে অলসতা না করে প্রতিদিন 30 মিনিট করে, ফাঁকা মাঠে বা ফাকা রাস্তায় গাড়ি চালানোর প্র্যাকটিস করতে হবে। গিয়ার, ব্রেক সিগন্যাল সবকিছু আয়ত্ত করতে হবে। 

প্রফেশনাল আর নন প্রফেশনাল কি সেটা জেনে নেই

আমাদের বাংলাদেশে দুই ধরনের গাড়িচালক আছে। একজন নিজের গাড়ি নিজেই চালায় আর আর একটা হচ্ছে অন্য মানুষকে দিয়ে চালানো হয়। নন-প্রফেশনাল লাইসেন্স হচ্ছে যারা নিজের গাড়ি নিজে চালাবে। যেমন প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল এগুলো পার্সোনাল ব্যবহার করার জন্য। এই লাইসেন্স দিয়ে ভাড়ায় গাড়ি চালাতে পারবেনা। এইটার কি হচ্ছে ২৫৪২টাকা, মেয়াদ হচ্ছে ১০ বছর। 

আর প্রফেশনাল লাইসেন্স হল যারা গাড়ি চালিয়ে টাকা ইনকাম করে। অনেক ড্রাইভার ট্যাক্সি, বাস, ট্রাক, সিএনজি এগুলো ভাড়ায় চালায়। যেকোনো বয়সের লোক আবার এগুলো চালাতে পারবেনা। গাড়ি চালানোর একটা বয়স আছে। বয়স কমপক্ষে ২১ হতে হবে।আর লার্নারের কার্ডের বয়স ৩মাস পার হতে হবে। এইটার ফ্রি হচ্ছে ১৬৭৪ টাকা আর মেয়াদ হচ্ছে ৫বছর। গাড়ি চালানো অবস্থায় যদি পুলিশ আটকায় তাহলে প্রফেশনাল লাইসেন্স দেখাতে হবে। ভুল করে যদি নন প্রফেশনাল লাইসেন্স দেখানো হয় তাহলে মামলা খেয়ে যাবেন। 

আরো পড়ুন: মাত্র ৫১৮ টাকায় লার্নার লাইসেন্স করুন দালাল ছাড়াই 

স্মার্ট কার্ড হাতে পাওয়ার পরে যে ভুলগুলো কখনোই করা যাবে না

স্মার্ট কার্ড হাতে পাওয়ার খুশিতে অনেকেই যে ভুলগুলো করে, প্রথম ভুল হচ্ছে কার হাতে পাওয়ার পরে কোন কিছু চেক না করে রেখে দেওয়া। এই ভুল কখনোই করা যাবে না। তাই কার হাতে পাওয়ার সাথে সাথেই নাম,জন্ম তারিখ, রক্তের গ্রুপ, মেয়াদ এবং ছবি মিলিয়ে নিতে হবে। সব যদি মিলে যায় তাহলে ভালো আর যদি না মিলে তাহলে ৭ দিনের মধ্যে বি আর টি অফিসে জানাতে হবে। আর তা না হলে পরে সংশোধন করতে ২০০০ টাকা তার সাথে মাসের পর মাস ঘুরতে হবে।

দ্বিতীয় ভুল হচ্ছে কার্ড পকেটে বা মানিব্যাগে ভাজ করে রাখা। কারণ স্মার্ট কার্ডে একটা চিপ আছে মানিব্যাগ বা পকেটে ভাস করে রাখলে ওই চিপ টা নষ্ট হয়ে যায়। তখন ওইটার কাজ করবে না। তৃতীয় ভুল হচ্ছে, মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও গাড়ি চালানো। স্মার্ট কার্ডের মেয়াদ ১০ বছর তার দুই তিন মাস আগেই রিনিউ করতে হয়। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও যদি গাড়ি চালানো যায়, যদি ধরা পড়েন তাহলে পাঁচ হাজার টাকার মামলা খেয়ে যাবেন। তাই সাবধান থাকতে হবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রিনিউ করে নিতে হবে। 

লাইসেন্স পাওয়ার পরে রাস্তায় গাড়ি চালানোর নিয়ম

লাইসেন্স হাতে পাওয়া মানেই গাড়ি চালানোর স্বাধীনতা এটা ঠিক আছে। তবে রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় কিছু নিয়মকানুনও আছে যেগুলো মেনে চলতে হবে। কারণ রাস্তা সবার, তাই নিয়ম মেনে গাড়ি চালালে নিজেও নিরাপদ থাকবে অন্যরা নিরাপদ থাকবে। আর সেজন্য কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। গাড়ি স্টার্ট দেওয়ার সময় তিনটা জিনিস চেক করে নিতে হবে। 

  1. ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্মার্ট কার্ড সঙ্গে আছে কিনা 
  2. গাড়ির রেজিস্ট্রেশন পেপার বা ডিজিটাল কার্ড আছে কিনা 
  3. আর ইন্সুরেন্স কপি আছে কিনা। ট্রাফিক পুলিশ দেখতে চাইলে সাথে সাথে বের করে দেখাতে হবে। তার সাথে মোটরসাইকেলের জন্য হেলমেট আর কার বা গাড়ির জন্য সিটবেল্ট বাধা বাধ্যতামূলক। দুইটার মধ্যে একটাও মিস দিলে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

রাস্তার মৌলিক নিয়ম মেনে গাড়ি চালাতে হবে। বাম পাশ দিয়ে গাড়ি চালাতে হবে। আর অভারটেক করার সময় ডান পাশ দিয়ে যেতে হবে। জেব্রাক ক্রসিং এর পথচারীকে আগে যেতে দিতে হবে। লাল বাতি যখন জ্বলবে তখন থেমে যেতে হবে ,আর হলুদ বাতি জ্বললে গাড়ি সামনের দিকে এগোনোর প্রস্তুতি নিতে হবে, সবুজ বাতি যখন জ্বলবে তখন চলে যেতে হবে। ট্রাফিক সার্জেন্টের হাতে ইশারা লাইট এর থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মদ বা নেশা করে কখনোই গাড়ি চালানো যাবে না। এতে লাইসেন্স বাতিল আবার জেলে হতে পারে। এমনকি ফোনে কথা বলা বা মেসেজ দেওয়া এটাও নিষেধ। 

আরো পড়ুন: মাত্র ৭ দিনেই হারানো বা নষ্ট হয়ে যাওয়া লাইসেন্সের ডুপ্লিকেট কার্ড তুলুন ঘরে বসেই 

নতুন ড্রাইভারদের জন্য গাড়ি চালানোর কিছু জরুরী কথা

নতুন ড্রাইভার মানে সবার চোখে আপনি "লার্নার"তাই লজ্জা না পেয়ে গাড়ির পেছনে"L"ইস্টিকার লাগালে ভালো হয়। এইটা দেখলে অন্য ড্রাইভারেরা নতুন ড্রাইভারকে স্পেস দেবে, হর্ন কম বাজাবে। প্রথম অবস্থায় থাকা রাস্তায় অর্থাৎ সকাল সাতটার আগে আর রাত দশটার পরে গাড়ি চালানো প্র্যাকটিস করলে ভালো। আর একটা কথা নতুন অবস্থায় জ্যামের মধ্যে কখনোই ঢোকা যাবে না।আর পার্কিং শিখতে হবে, ঘাবরানো যাবে না। স্টিয়ারিং শক্ত করে ধরে ব্রেক চাপতে হবে,সাইড করতে হবে। 

মনে রাখতে হবে আজকের এক্সপার্ট ড্রাইভার গুলো একদিন নতুন ছিল। তাই আস্তে আস্তে নিজের কনফিডেন্স বাড়াতে হবে সে ক্ষেত্রে কিছু করণীয়

  • প্রথমে গাড়ি ফাস্ট চালানো যাবে না, অন্যরা অনেক জোরে চালায় এটা দেখে জোরে চালানো উচিত হবে না। 
  • পেছনের গাড়ির জন্য রিয়ারভিউ মিররের দিকে প্রতি ৮ থেকে ১০ সেকেন্ড পর পর তাকাতে হবে। 
  • বৃষ্টি বা কুয়াশায় হেডলাইট জ্বালাতে হবে, দূরত্ব বেশি রাখতে হবে আর ব্রেকটাও আগে চাপতে হবে। লাইসেন্স মানে হলোই গাড়ি চালানোর রুলস জানা। তাই সবার উচিত নিয়ম মেনে গাড়ি চালানো নিজে সেভ থাকা অপরকেও সেভ রাখা।। 

শেষ কথা

লেখার মধ্যে যদি কোন ভুল হয়ে থাকে বা কোন ধাপ বুঝতে অসুবিধা হয় তাহলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। বি আর টি এর নিয়ম মাঝে মাঝে আপডেট হয়, তাই ফি বা কাগজ পত্র একটু এদিক সেদিক হতে পারে। আমি চেষ্টা করেছি একদম সহজ ভাষায় দালাল ছাড়া কিভাবে কম খরচে ঘরে বসে নিজে নিজেই অ্যাকাউন্ট খোলা যায় সে সম্পর্কে বলার। তারপরেও ধনেআপনাদের যদি কোন জায়গায় বুঝতে অসুবিধা হয় তাহলে কমেন্টে জানাবেন। আমি যতটুকু পারি আপনাকে হেল্প করার চেষ্টা করব। 

এই পোস্ট থেকে আমরা বুঝতে পারলাম এখন বি আর টি এর লাইসেন্সের কাজ এতটা কঠিন নয়। ঝামেলা ছাড়াই দালালকে টাকা দেওয়া ছাড়াই ঘরে বসে এখন লাইসেন্সের কাজ করা যায়। লাইসেন্স মানে শুধু কাগজ নয়, লাইসেন্স মনে হচ্ছে আপনার আমার দায়িত্ব। রাস্তায় বের হলে নিজের জীবনের সাথেও অন্যদের জীবন জড়িয়ে আছে। তাই গাড়ি চালানোর সময় যে নিয়ম কানুন গুলো আছে সব মেনে গাড়ি চালানো উচিত।

আরো পড়ুন: এনআইডি কার্ড হারিয়ে গেলে অনলাইনে ডাউনলোড করার উপায়






এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপনি যদি ইচ্ছা পুরন এর কোন পোস্টে কমেন্ট করতে চান, তাহলে এর নীতি মেনে কমেন্ট করুন। কারন প্রত্যেকটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url