বাংলাদেশে অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদনের ফর্ম পূরণের সম্পূর্ণ ধাপ

পাসপোর্ট ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ কল্পনাও করা যায় না। আগে পাসপোর্ট অফিসে লম্বা লাইন ধরে ফর্ম নেওয়া হতো। এমনও সময় ছিল মানুষ অনেক রাত্রে গিয়ে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকতো। একটু ভুল হলে কাটাকাটি, আর দালালের কথা আর কি বলবো দালাল ছাড়া তো কোন কাজই হতো না।


তবে এখন বর্তমান ডিজিটাল যুগে এইসব কাজগুলো অনেক সহজ হয়ে গেছে। সবকিছুই প্রায় অনলাইনেই করা যায় এতে মানুষের সময় বাঁচে আবার কষ্টেও কম হয়। এখন ঘরে বসে "ই পাসপোর্ট"এর আবেদন করা যায়। 

সূচিপত্র: অনলাইনে বাংলাদেশের পাসপোর্ট আবেদনের ফরম পূরণ স্টেপ বাই স্টেপ

অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদনের জন্য আগে থেকে যা লাগবে

আগে পাসপোর্ট করার জন্য অনেক ঝামেলায় পোহাতে হত। এখন অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে। কারণ এখন অনলাইনেই অনেক ধরনের কাজ করা যায়।অনলাইনে পাসপোর্ট করার জন্য যেসব কাগজপত্র দরকার সেগুলো হাতের কাছে রাখা ভালো। তাহলে খুব সহজেই ঝামেলা ছাড়াই পাসপোর্ট এর আবেদন করা যাবে ।সেজন্য কি কি কাগজপত্র হাতের কাছে রাখতে হবে চলুন জেনে নেই -

  • প্রথমেই লাগবে NID Card এর অরজিনাল নাম্বার।
  • এনআইডি না থাকলে জন্ম নিবন্ধন বা নাগরিক সনদ লাগবে।
  • তারপর লাগবে সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড এর পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
  • তারপরে লাগবে বাবা মায়ের এন আই ডি নাম্বার, বাবা-মায়ের নাম লাগবেএন আইডিতে যেভাবে আছে বানান ঠিক সেভাবে থাকবে
  • বর্তমান ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে বিদ্যুৎ বিল বা ট্যাক্স এর কপি লাগবে।
  • আগের পাসপোর্ট থাকলে তার স্ক্যান কপি।
  • একটা অ্যাক্টিভ মোবাইল নাম্বার আর ইমেইল এই নাম্বারে ওটিপি যাবে
  • অনলাইনে পেমেন্টের জন্য নগদ বিকাশ অথবা ব্যাংকার থাকতে হবে তাহলে খুব তাড়াতাড়ি পাসপোর্ট আবেদনের কাজ শেষ হবে।

নিজের যাবতীয় তথ্য ঘরে বসে লেখার নিয়ম

নিজের তথ্যটাই হল, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আবেদন করার সময় নিজের সম্পর্কে যতগুলো তথ্য আছে সবকিছু নির্ভুলভাবে দিতে হবে। এমনকি একটা অক্ষরও ভুল হওয়া যাবে না। যদি একটা অক্ষর ভুল আসে তাহলে পাসপোর্ট ভুল চলে আসবে। এনআইডি কার্ডে ইংরেজিতে যেভাবে লেখা আছে হুবহু সেভাবে লিখতে হবে। জন্ম তারিখ অনুযায়ী দিতে হবে। এনআইডি কার্ডে যেভাবে লেখা আছে ঘরে বসে হুবহু সেভাবে তথ্যগুলো পূরণ করতে হবে।

 ঠিকানা লেখার সময় বিদ্যুৎ বিল অথবা খতিয়ান দেখে লিখ। যেটা আছে সেটাই দিতে হবে কম বা বেশি করা যাবে না। পোস্ট অফিস ড্রপডাউন থেকে সিলেট করতে হবে। মোবাইল নাম্বারটা দিতে হবে যে নাম্বারটা সব সময় খোলা থাকে। একবার লিখলে বারবার পড়ে দেখতে হবে সব তথ্য দেওয়া ঠিক আছে কিনা। একবার লিখে তিনবার পড়তে হবে। যদি ভুল হয়ে থাকে তাহলে সাথে সাথে ঔ ঠিক করে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে পাসপোর্টে যদি একবার নাম উঠে যায়,আরপাসপোর্টে একবার নাম তারিখ ভুল প্রিন্ট হলে, পরে সংশোধন করতে ৩৪৫ এ বা ৩৫০ টাকা আর২১দিন সময় লাগবে।

আরো পড়ুন: পাসপোর্ট রিনিউ করার সম্পন্ন পদ্ধতি দেখুন

পাসপোর্ট আবেদনের পরে আমাদের করণীয়

পাসপোর্ট আবেদন করার পরে বসে থাকলে হবে না। পাসপোর্ট আবেদন করার পরে আমাদের কিছু কাজ আছে। এই কাজগুলো হচ্ছে যারা অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদন করবেন তাদের জন্য। প্রথম কাজ হচ্ছে, ৩ টা PDF ডাউনলোড করে প্রিন্ট করা।

  1. এপ্লিকেশন ফর্ম। 
  2. পেমেন্ট স্লিপ।
  3. অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লিপ। এই তিনটা ছাড়া অফিসে ঢুকতে দিবে না।আর ফর্মের শেষ পাতায় অবশ্যই সিগনেচার করতে হবে।

দ্বিতীয় কাজ হচ্ছে প্রয়োজনীয় কাগজ গোছানো, অরজিনাল আইডি কার্ড ,দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, নাগরিক সনদ বিদ্যুৎ বিলের কপি আর যদি আগেকার পোড়ানো পাসপোর্ট থাকে তাহলে ওটাও সংঘ নিতে হবে। এইসব কাগজ পাতাগুলো একটা ফাইলের মধ্যে গুছিয়ে রাখতে হবে। তাহলে যেদিন অফিসে যাওয়ার ডেট করবে সেই দিন এত ঝামেলা হবে না। তৃতীয় কাজ হচ্ছে, অ্যাপয়েন্টমেন্ট ডেটটা মনে রাখা। মনের রিমাইন্ডার দিয়ে রাখলে ভালো হয়। ৩০ মিনিট আগে অফিসে পৌঁছাতে হবে। লেট করলে সিরিয়াল ক্যানসেল হয়ে যাবে। 

অফিসে যাওয়ার পরে ১০১ নাম্বার রুমে কাগজ জমা দিতে হবে। ওইখানে অফিসার সব কাগজ পাতি চেক করে দেখবে ।যদি সবকিছু ঠিক থাকে তাহলে পাশের রুমে ছবি তুলবে ,আর দশ আঙ্গুলের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিবে। এ পদ্ধতিকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি বলে। শেষে উনারা একটি ডেলিভারি স্লিপ দিবে। এই স্লিপটা অনেক যত্ন সহকারে রাখতে হবে কারণ এটা দিয়েই পাসপোর্ট তুলতে হবে। এরপরে ৫-৭ দিনের মধ্যে পুলিশ ভেরিফিকেশন এর জন্য কল দেবে। পুলিশ কল দিলে অবশ্যই ধরতে হবে এবং পুলিশ যা যা দেখতে চাই দেখাতে হবে। ভেরিফিকেশন যদি পজিটিভ হয় তাহলে স্লিপটা নিয়ে গিয়ে পাসপোর্টটা উঠিয়ে নিতে হবে।

১৮ বছরের নিচে যাদের বয়স তাদের পাসপোর্ট আবেদনের নিয়ম

সব বয়সের মানুষ এই পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে পারবে তবে যাদের বয়স ১৮ তাদের জন্য একটু ভিন্ন। যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে তাদের পাসপোর্ট করতে তাদের বাবা-মায়ের দুজনের এন আই ডি আইডি কার্ড লাগবে। বাচ্চার যে জন্ম নিবন্ধন কার্ড আছে সেটা ডিজিটাল হতে হবে। ১৭ ডিজিটাল নাম্বার থাকতে হবে। হাতে লেখা থাকলে চলবে না। বাবা অথবা মা দুজনের মধ্যে একজন সাথে গেলেই হবে। পাসপোর্ট সাইজের দুই কপি ছবি লাগবে। ব্যাকগ্রাউন্ড অবশ্যই সাদা হতে হবে। 

তবে বাচ্চা যদি ছোট হয় তাহলে তাদের ছবি তোলার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে বাচ্চা যেন না কান্না করে। ফর্মে গার্ডিয়ান হিসেবে বাবা অথবা মা সাইন দেবেন। বাচ্চার সাইন লাগবে না মেয়াদ হবে পাঁচ বছর ১৮ বছর হলে অটো বাতিল হয়ে যাবে। তখন নতুন করে আবার 10 বছরের মেয়াদ করে নিতে হবে। বাচ্চার পাসপোর্টে বাবা মায়ের নাম অবশ্যই থাকতে হবে। বাচ্চার বয়স যদি ১০ বছরের উপরে হয় তাহলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিবে । দশ বছরের কম হলে শুধু ছবি দিলেই হবে। যেদিন পাসপোর্ট ডেলিভারি দিবে সেদিন বাবা অথবা মা যে কোন একজন গেলেই হবে।

আরো পড়ুন: অনলাইনে মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় 

পাসপোর্ট আবেদনের পরে পুলিশ যে কারণে বাসায় আসে

পাসপোর্ট এর জন্য আবেদনের পরে পুলিশ ভেরিফিকেশন এর জন্য বাসায় আসে। কারণ যে নাম ঠিকানা দিয়ে পাসপোর্ট এর আবেদন করা হয়েছে সেগুলো ঠিক আছে কিনা তা দেখার জন্য। সরকার চায় না কেউ ভুয়া পাসপোর্ট বানাক। তাই ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়ার ৫ অথবা ৭ দিনে পরে, পুলিশ কল দিবে। কল দিয়ে হয়তো থানায় ডাকবে আর না হয়তো উনি নিজেই বাসায় আসবে। যদি বাসায় আসে তাহলে সব ইনফরমেশন গুলো চেক করে দেখবে ।বাসার আশেপাশের লোকজনদেরকে জিজ্ঞাসা করবে যে আপনি এখানকার স্থানেও কিনা। 

পুলিশ ভেরিফিকেশনে আসার পরে যে জিনিসগুলো চেক করে সেটা হল-যে পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করেছে সে আসলেই ওখানকার স্থানীয় কিনা। বা ওই জায়গাতে থাকে কিনা। তাই বিদ্যুৎ বিল ,যদি গ্যাস সাপ্লাই থাকে তাহলে গ্যাসের বিল, বাড়িওয়ালার নাম্বার।, এন আই ডি তে দেখে, নাম, বাবার নাম, জন্ম তারিখ এগুলো ঠিক আছে কিনা। চেয়ারম্যানের সার্টিফিকেট বা নাগরিক সনদপত্র আছে কিনা। আর যদি ভাড়াটিয়া হয় তাহলে বাড়িওয়ালা কে ফোন দেয় সবকিছু যাচাই করার জন্য। পুলিশ ভেরিফিকেশন আসার জন্য কোন টাকা পয়সা লাগে না। ভেরিফিকেশন যদি পজিটিভ হয় তাহলেই পাসপোর্ট প্রিন্টে চলে যাবে।

ফরম পূরণের সময় যে ভুলগুলো করলে পাসপোর্ট আটকে যায়

ফরম পূরণের সময় খুব সতর্কতার সাথে কমিটি পূরণ করতে হয়। একটু ভুল হলে আর পাসপোর্ট হাতে পাওয়া যাবেনা। সেজন্য যখন আমরা ফরম পূরণ করব তখন, এনআইডি কার্ডে যেভাবে নাম ঠিকানা আছে হুবহু সেইভাবেই সম্পূর্ণ পূরণ করতে হবে। এমন কি একটা ডট ও ভুল করা যাবে না। পাসপোর্টে একবার নাম উঠে গেলে আর পাল্টানো যায় না। কোট কোট এফিডেভিট করতে বেশ কিছু টাকা লাগে পাল্টানোর জন্য। তাই এনআইডি কার্ড সামনে রেখে বারবার দেখে দেখে একটা একটা করে অক্ষর লিখতে হবে। 

জন্ম তারিখের ক্ষেত্রেও একই। জন্ম তারিখে একটা অক্ষর যদি উল্টাপাল্টা হয় তাহলেও ফাইল রিজেক্ট হয়ে যাবে। তাই সম্পূর্ণ কাজটি এনআইডি কার্ড দেখে আস্তে আস্তে করতে হবে। ফরম পূরণ হওয়ার পরে ৩ থেকে ৪ বার দেখে নিতে হবে। আবার অনেকেই আছে গ্রামের নাম দেয় কিন্তু থানা বা জেলা বাদ দিয়ে দেয়। আবার অনেক সময় পোস্ট কোড ভুল করে দেয়। যখনপুলিশ খুঁজে পাবেনা, তখন আবার ফাইলটা বেশ কিছুদিনের জন্য আটকে যাবে। অনেকেই বিকাশে টাকা দেওয়ার পরে মনে করে কাজ শেষ। টাকা পে করার এক ঘন্টার মধ্যে অবশ্যই ডেট বুক করে নিতে হবে। তিন দিন পার হয়ে গেলে ৫৭৫০ টাকা আবার নতুন করে দিতে হবে। 

আরো পড়ুন: মোবাইলে চার্জ দ্বিগুন বেশি থাকার গোপন তিনটি অপশন 

পাসপোর্ট ডেলিভারি নিতে গেলে যা অবশ্যই করতে হবে

পাসপোর্ট তৈরি হয়ে গেলে মোবাইলে এসএমএস আসবে। এসএমএস দেখে যখন পাসপোর্ট ওঠাতে যাবেন সেই দিন অবশ্যই বায়োমেট্রিক যে স্লিপ টা দিয়েছিল ওইটা সঙ্গে নিতে হবে। তার সাথে নিজের এনআইডি কার্ডও নিতে হবে অরজিনালটা ফটোকপি নিলে হবে না। অফিসে গিয়ে ডেলিভারির কাউন্টে গিয়ে লাইনে গিয়ে দাঁড়াতে হবে। স্লিপ আর আইডি কার্ড দিলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট চেক করেবে। যদি ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিলে যায় তাহলে, তাহলে বুঝবে আসল মালিক আপনি। আর বাচ্চার পাসপোর্ট নিতে গেলে বাবা অথবা মা সাথে যেতে হবে। 

সবকিছু চেক করার পরে যখন অফিসার পাসপোর্ট বইটা আপনার হাতে দিবেন তখন, দেরি না করে সাথে সাথে সবকিছু মিলিয়ে নেবেন। নিজের নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম, এন আইডি কার্ডের নাম্বার, ছবি, কোন বানান বা সংখ্যা এগুলো সব ঠিক আছে কিনা চেক করে নেবেন। যদি ভুল থাকে তাহলে সাথে সাথে অফিসার কে জানান, তাহলে ওইখানেই অফিসার ভুলগুলো ঠিক করে দেবে। আর তা না হলে অফিস থেকে বের হয়ে আসার পরে যদি জানান, তাহলে ৩৪৫০ টাকা তার সাথে ২১ দিন সময় লাগবে। আর সব ঠিক থাকলে বাসা নিয়ে চলে আসবেন।

স্লিপ বা পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে যা করতে হবে

অনেক সময় স্লিপ বা পাসপোর্ট হারিয়ে যায়। তখন অনেক টেনশনের মধ্যে পড়ে , কিভাবে পাসপোর্ট পাওয়া যাবে। তবে সুইফ হারালে তেমন কোন টেনশন নেই পাসপোর্ট বাতিল হবে না। প্রথমে থানায় গিয়ে জিডি করতে হবে। বলতে হবে আমার ডেলিভারি স্লিপ হারিয়ে গেছে।ডিজির কপি, এন আই ডি কার্ডের অরজিনাল সাথে একটা ফটোকপি নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে। ডেলিভারি কাউন্টারে যে অফিসার থাকে সেই অফিসারকে ডিজের কপি দেখালে উনি আপনার নাম জন্ম তারিখ এগুলো দিয়ে ফাইল খুঁজতে থাকবে। যদি ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিলে যায় তাহলে বই দিয়ে দেবে।

আরো পড়ুন: ফেসবুক প্রোফাইল হ্যাক হলে একটা বাটন অন করলে যথেষ্ট। 

পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ

পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পরে কি করতে হবে অনেকেই জানে না। পাসপোর্ট যখন হাতে পাবেন তখন প্রথম পেজের ছবি, বায়োডাটা পেজের ছবি তুলে গুগল ড্রাইভে সেভ করে রাখলে ভালো হয়। কারণ হারিয়ে গেলে এই ছবি আপনার প্রমাণ। পাসপোর্ট ভাঁজ করা যাবে না, পানিতে ভেজানো যাবে না। শক্ত কভার বা পলিথিনে রাখলে ভালো হয়। মেয়াদ দেখে নিতে হবে৫ বছরের নাকি ১০ বছরের। সে অনুযায়ী রিনিউ করতে হবে। যদি বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হয় ছয় মাসের কম থাকতেই রিনিউ করে নিতে হবে। 

পাসপোর্ট বই হাতে পাওয়ার পরে আর একটা কাজ করতে হবে সেটা হচ্ছে"MRP থেকে e-Pasport"এ কনভার্ট করা আছে কিনা সেটা দেখতে হবে।MRP হলে পেছনের দিকে MRP লেখা থাকবে। আরe-Pasport হলে সামনের দিকে গোল্ডেন চিপ এর লোগো দেখাবে। e-Pasport হলে খুব দ্রুত অনলাইনে" পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন" করে নিতে হবে। তাহলে আপনার ডাটা সরকারি সার্ভারে আপডেট থাকবে। এরপরে যাদের ব্যাংক একাউন্ট, বিকাশ, পাসপোর্ট দিয়ে খোলা তাদের কাছে নতুন বইয়ের ইন আপডেট দিতে হবে। পুরাতন বই জমা না দিয়ে নিজের কাছেও রাখা যাবে। 

পাসপোর্ট যেভাবে রিনিউ করতে হয় সেই নিয়ম

সব কিছুরই একটা নিয়ম আছে। পাসপোর্ট রিনিউ করার ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম আছে। পাসপোর্ট এর মেয়াদ শেষ হওয়ার ছয় মাসের আগেই পাসপোর্ট রিনিউ করা যায়। অনলাইনে পাসপোর্ট রিনিউ করতে চাইলে e-Pasport.gov.bd সাইডে গিয়ে "রিনিউ"আসবে ওখানে ক্লিক করতে হবে। ফর্মে নাম, বাসার ঠিকানা, বাবা মায়ের নাম সবকিছুই আগের বইয়ের মত করে হুবহু লিখতে হবে। নতুন কিছু যোগ করলে ভেরিফিকেশন আটকে যাবে। তাই দেখে দেখে ভালো করে সবকিছু লিখতে হবে। 

সবকিছু ঠিকঠাক লেখার পরে এখন আসলো পেমেন্ট করার পালা। বিকাশ বা নগদে গিয়ে মেয়াদ অনুযায়ী টাকা পে করতে হবে। টাকা পে করার সময় ডেট বুক দিতে হবে। ডেট এর দিনে পুরাতন পাসপোর্ট, অরজিনাল এনআইডি কার্ড, এক কপি ফটোকপি নিয়ে অফিসে যেতে হবে। ওইখানে নতুন ছবি আর ফিংগারপিন দেবে, তথ্য যদি সঠিক হয় কোন ভুল না থাকে তাহলে পুলিশ ভেরিফিকেশন এর দরকার নেই। কিছুদিন পর এসএমএস আসলে পুরাতন বই জমা দিয়ে নতুন বই নিয়ে আসতে হবে।

আরো পড়ুন:৭দিনের মধ্যেই প্রাকৃতিকভাবে ফর্সা হওয়ার গোপন টিপস 

e-Pasport আর MRP পাসপোর্ট এর মধ্যে পার্থক্য

ই-পাসপোর্ট হল চিপওয়ালা পাসপোর্ট। সামনের কভারের নিচে সোনালী চিপের লোগো থাকে। চিপের ভিতরে ছবি আঙ্গুলের ফিঙ্গারপ্রিন্ট আর চোখের আইরিশ স্ক্যানে সেভ করা থাকে। এইটা নকল করা প্রায় অসম্ভব। এটা যদি হারিয়ে যায় তাহলে অনলাইনে দ্রুত ব্লক করা যায়। বাংলাদেশে এখন নতুন সবাইকে এই পাসপোর্টটাই দেয়। ভিসা পেতে ই পাসপোর্ট টাই সবথেকে বেশি সুবিধা। কারণ বিদেশী দেশগুলো চিপ রেড করে বেশি বিশ্বাস করে।

এবার আসি"MRP"পাসপোর্ট এর ক্ষেত্রে, এটা হচ্ছে আগের পাসপোর্ট। নিচে দুই লাইনের কোড লেখা থাকতো যেটা মেশিন দিয়ে স্ক্যান করা যেত, তাই এর নাম এমআরপি। কিন্তু এটার কোন চিপ নেই, বায়োমেট্রিক নেই। সব ইনফরমেশন কাগজের পাতায় প্রিন্ট করা থাকতো , এতে নকল করাবো অনেকটাই সহজ ছিল। এয়ারপোর্টে অটো গেট ছিল না, অফিসারের কাছে লাইনে দাঁড়িয়ে সিল মারতে হতো। আগের তুলনায় এখনকার পদ্ধতিটাই অনেক ভালো। 

শেষ কথা

মানুষ মাত্রই ভুল তাই আমার ভুল হওয়াটাও স্বাভাবিক। এই কনটেন্ট টা লিখতে বা আপনাদের বুঝতে যদি অসুবিধা হয়ে থাকে তাহলে আমাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। আমি অনলাইনে কিভাবে পাসপোর্টের আবেদন করা যায় সম্পূর্ণ ভাবে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করেছি। এরপরেও সরকারি আইন-কানুন মাঝে মাঝে পরিবর্তন হতে পারে। তাই কোন সমস্যা হলে আমাকে জানাতে পারেন । যতটা সম্ভব আমি আপনাদের সাহায্য করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। 

দেখলেন তো এখন অনলাইনে পাসপোর্ট করা কতটা সহজ। অনলাইনে ঘরে বসেই নিজে নিজেই পাসপোর্ট আবেদন করা যায়, কোন দালাল ধরতে হয় না। শুধু নিয়ম মেনে একটু ধৈর্য ধরে সব তথ্যগুলো সঠিকভাবে দিতে হবে। দালালকে ৫-৭ হাজার টাকা না দিয়ে নিজেই একটু ধৈর্য সহকারে বুঝে বুঝে ফরমটি পূরণ করার চেষ্টা করতে হবে। তাহলে টাকাও সেভ হবে আবার নিজের অভিজ্ঞতাটাও বাড়বে।

আরও পড়ুনঃ অনলাইনে নতুন নতুন ইনকামের বিভিন্ন আইডিয়া



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপনি যদি ইচ্ছা পুরন এর কোন পোস্টে কমেন্ট করতে চান, তাহলে এর নীতি মেনে কমেন্ট করুন। কারন প্রত্যেকটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url