ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ডলার রিসিভ করার একাউন্ট খোলার পদ্ধতি
বর্তমানে অনেক মানুষই ফ্রিল্যান্সিং শিখে অনেকটা কাজ করছে। কিন্তু ডলার দেশে আনতে
অনেক ঝামেলার মধ্যে পড়তে হয়। অনেক টেনশন পোহাতে হয়। PayPal নাই ব্যাংকও
বোঝেনা।
ক্লায়েন্ট পেমেন্ট পাঠাতেও ভয় পায়। এই সমস্যা অনেকেরই বিশেষ করে, নতুন
ফ্রিল্যান্সার দের মধ্যে সমস্যাটা বেশি দেখা দেয় । অথচ সঠিক একটা ডলার রিসিভিং
অ্যাকাউন্ট খুলতে পারলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
সূচিপত্র: ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ডলার একাউন্ট যেভাবে খুলতে হয় প্রত্যেকটা ধাপ নিম্নরূপ
- ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ডলার একাউন্ট করা কেন দরকার
- ডলার একাউন্ট খুলতে যেসব কাগজপত্র লাগে
- যে ব্যাংকে ডলার একাউন্ট খোলা সবচেয়ে ভালো
- নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ডলার একাউন্ট খোলার পদ্ধতি
- নতুন ফ্রিল্যান্সাররা যেভাবে কাজ করলে বেশি ভালো
- ফ্রিল্যান্সারদের ট্যাক্সের ঝামেলা যেভাবে আড়ানো যায় না
- SWIFT কোড কি আর এটা কেন লাগে
- একাউন্টে মিনিমাম কত ব্যালেন্স থাকতে হবে
- ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে গেলে নমিনি করা কেন জরুরী
- ১একাউন্টে ডলার আসলে কিভাবে উঠানো যায়
- একাউন্টে নিরাপত্তা কিভাবে রাখতে হবে
- শেষ কথা
ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ডলার একাউন্ট করা কেন দরকার
ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ডলার একাউন্ট করা অবশ্যই দরকার, কারণ বিদেশি ক্লায়েন্টরা
বিদেশ থেকে ডলারে টাকা দেয়। সেই ডলার রাখার জন্য আলাদা একাউন্ট লাগে। সাধারণ
সেভিংস একাউন্টে ডলার রাখা যায় না। তাই ব্যাংকে গিয়ে ডুয়েল কারেন্সি একাউন্ট
খুলতে হয় । এই একাউন্টের ডলার এবং টাকা দুইটাই রাখা যায়। এন আই ডি আর দুই কপি
ছবি নিলেই কাজ হয়ে যায়। একবার খুললে সারা জীবন কাজে লাগবে ডলার
এই অ্যাকাউন্ট না থাকলে অনেক ঝামেলা হয়। মাঝে মধ্যে ক্লায়েন্ট যে টাকা পাঠায়
ওই টাকাও আটকে যায়। ব্যাংক আবার টাকা পাঠিয়ে দেয় বিদেশে। ক্লাইন্টকে আবার সরি
বলতে হয়। যদি ডলার একাউন্ট খোলা থাকত তাহলে টাকাটা সরাসরি একাউন্টে জমা হয়ে
যেত। পরে ইচ্ছা মতো টাকা তুলে খরচ করা যায়। তাই যারা ফ্রিল্যান্সিং করেন তাদের
অবশ্যই ডলার একাউন্ট খোলা অত্যন্ত জরুরী।
ডলার একাউন্ট খুলতে যেসব কাগজপত্র লাগে
- ডলার একাউন্ট খুলতে বেশি কিছু কাগজপত্র লাগে না। যেসব কাগজপত্র লাগে সেইগুলো হলোজাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি নিয়ে যেতে হবে
- সাথে অরজিনাল এনআইডি কার্ড রাখতে হবে, ভেরিফাই করার জন্য।
- তারপরে দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি লাগবে।
- নমিনির এক কপি ছবি, ছবির পেছনে নিজের সাক্ষ্য দিতে হবে।
- আর একটি এনআইডির ফটোকপি
- ব্যাংক যদি চায় তাহলে, বিদ্যুৎ বিলের কাগজে লাগতে পারে,
- অনেক সময় ঠিকানাটাও চাই প্রমাণের জন্য
ফ্রিল্যান্সার হলে ইনকামের প্রমাণ চাইবে ব্যাংক। প্রয়োজন বোধে ক্লায়েন্টের
ইনভয়েস কন্টাক্ট লেটার নিয়ে রাখতে হবে।
যে ব্যাংকে ডলার একাউন্ট খোলা সবচেয়ে ভালো
বাংলাদেশে অনেকগুলো ব্যাংক আছে কিন্তু সব ব্যাংকের ডলার রিসিভ করায় না, আর ফ্রি
আনসারদের জন্য বাংলাদেশের অবশ্যই একটা ব্যাংক একাউন্ট খোলার প্রয়োজন। তাই
বর্তমানে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সিটি ব্যাংকে একাউন্ট খোলার জন্য অনেক ভালো।
ব্রাক ব্যাংক ও খুব তাড়াতাড়ি অ্যাকাউন্ট খুলে দেয়। আবার ইসলামী ব্যাংকে সুদ
নাই এজন্য অনেকেই পছন্দ করে। ব্যাংক বাছাই করার সময় অবশ্যই এটার চার্জ দেখে নিতে
হবে।
কোন ব্যাংকের চার্জ কেমন কয়েকটা ব্যাংক ঘুরে ঘুরে দেখে নিলে ভালো হয়। কিছু
ব্যাংকে ক্লায়েন্টের টাকা ২ দিনের মধ্যে চলে চলে আসে। আবার কিছু কিছু ব্যাংক আছে
যাদের টাকা আনতে ৭দিনেরও বেশি সময় লেগে যায়। অনেক সময় ব্যাংক শাখার ম্যানেজার
যদি ফ্রিল্যান্সারদের কে চিনে থাকে তাহলে কাজ অনেক তাড়াতাড়ি হয়। ফাইল ও আটকে
থাকে না। আবার একাউন্ট খোলার সময় আর একটা জিনিস লক্ষ্য রাখতে হবে এটিএম বুথ কাছে
আছে কিনা, তাহলে ডলার তোলার সময় সুবিধা হয়।
নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ডলার একাউন্ট খোলার পদ্ধতি
নতুন ফ্রিল্যান্সাররা যদি চায় তাহলেUCB Swadhin এ একাউন্ট দিয়ে শুরু করতে
পারেন। এই অ্যাকাউন্টগুলো জিরো ব্যালেন্সেও শুরু করা যায়। তারমানে এখন খুলতে এক
টাকাও জমা দেওয়া লাগে না। সবার আগে লাগে freelancers.gov.bd থেকে লাগে ফ্রি
freelancer ID সার্টিফিকেট। আর এটা নেওয়ার জন্য এনআইডি আর মোবাইল নাম্বার দিয়ে
রেজিস্টার করতে পারবে। তারপর এনআইডি, দুই কপি ছবি, বিলের কাগজ, এগুলো ব্যাংকে
নিয়ে গিয়ে বলতে হবে আমি নতুন ফ্রিল্যান্সার অ্যাকাউন্ট খুলতে চাই।
অফিসাররা নতুনদের জন্য আলাদাভাবে সাহায্য করে। নতুন অবস্থায় পাসপোর্ট না থাকলে
এনআইডি দিয়ে একাউন্ট খোলা যায়। তবে ডুয়েল কারেন্সি কার্ড পেতে পরবর্তীতে
পাসপোর্ট অ্যান্ড্রোস করা লাগে। নতুনদের জন্যUCB Swadhin অ্যাকাউন্ট সব থেকে
ভালো। এখানে ৩৫ পার্সেন্ট ডলার রিটেইন করা যায়। অ্যাকাউন্ট একটিভ হতে দুই থেকে
তিন দিন সময় লাগে। তারপরে ক্লাইন্টকে ব্যাংকের ডিটেইলস দিতে পারবেন। এভাবে নতুন
ফ্রিল্যান্সাররা ডলার রিসিভ করার জন্য ব্যাংক একাউন্ট খুলতে পারে।
নতুন ফ্রিল্যান্সাররা যেভাবে কাজ করলে বেশি ভালো
নতুন অবস্থায় প্রথমে বড় কাজ ধরা যাবে না, প্রথমে ছোট কাজ দিয়ে শুরু করতে হবে।
১০ ডলার অথবা ২০ ডলার দিয়ে কাজ শুরু করতে হবে। কারণ ক্লায়েন্টের বিশ্বাস অর্জন
করাটাই সব থেকে বড় কথা। ক্লায়েন্টের সাথে কখনো দুই নাম্বারি করা যাবে না। আস্তে
আস্তে যখন কাজের অভিজ্ঞতা বাড়বে, তখন কাজটাও ভালো হবে আর তখন ডলারের পরিমাণ
বাড়ানো যাবে। যখন আসবে ব্যাংকে জমা দিয়ে রশিদ টা কাছে রাখতে হবে।
একাউন্টে লেনদেন নিয়মিত রাখতে হবে। ক্লায়েন্টের সাথে যে চুক্তি হবে সে যুক্তিটা
লিখে রাখাই ভালো। মুখের কথায় কাজ করা উচিত হবে না। আর সব সময় বৈধভাবে কাজ করার
চেষ্টা করতে হবে। মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে। একটা ভালো রিভিউ দশটা কাজ
এনে দিতে পারে। তাই ধৈর্য ধরে মনোযোগ সহকারে কাজ করতে হবে। তাহলে নতুন অবস্থায়
সফল হওয়া সম্ভব ইনশাল্লাহ।
ফ্রিল্যান্সারদের ট্যাক্সের ঝামেলা যেভাবে আড়ানো যায় না
ফ্রিল্যান্সিং ইনকামের ওপর সরকার ট্যাক্স নেয়। তিন লাখ টাকার বেশি আই হলে
সরকারকে ট্যাক্স দিতে হয়। তাই আগে থেকেই টিন সার্টিফিকেট বানিয়ে নিতে হবে।NID
দিয়ে ঘরে বসে টিন সার্টিফিকেট খোলা যায়। বছর শেষে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হয়।
তারপরে ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দিলে হিসাব হয়ে যায়। তারপর আয়কর অফিসে গিয়ে
ফাইল টা খুলে নিতে হবে।
ট্যাক্স দিলেই টাকা বৈধ হয়ে যাবে। ট্যাক্স দিলে অনেক সুবিধা ও পাওয়া যায়। যদি
কখনো বিদেশে পড়তে বা বিদেশে ঘুরতে যাওয়া হয় তাহলে সুবিধা পাওয়া যায়। ট্যাক্স
ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করা যাবে না। ট্যাক্স ফাঁকি দিলে জরিমানা হতে পারে। তাই
ট্যাক্স ফাঁকি না দিয়ে সময় টেক্স পরিশোধ করার ব্যবস্থা করতে হবে। আয়কর
আইনজীবী দিয়ে রিটার্ন জমা দিলে উনি সব কাজ করে দেবেন। তাহলে ঝামেলা মুক্ত থাকা
যাবে।
আরো পড়ুন: নতুন freelancer দের জন্য গোপনীয় টিপস
SWIFT কোড কি আর এটা কেন লাগে
SWIFT কোড হলো ব্যাংকের আন্তর্জাতিক পরিচয় কোড। বিদেশ থেকে টাকা আসতে এই কোড
লাগবেই। এই কোড ছাড়া বিদেশ থেকে টাকা আসবে না। প্রতিটা ব্যাংকের আলাদা
আলাদাSWIFT কোড আছে। ব্যাংকে একাউন্ট খোলার পরপর এই কোডটা নিয়ে নিতে হবে। আর
অনেক যত্ন সহকারে খাতায় বা অন্য কোথাও লিখে রাখতে হবে। ক্লায়েন্ট যখন টাকা
পাঠাবে, তখন এই কোডটা দিতে হবে। এই কোড ছাড়া বিদেশি ব্যাংক টাকা পাঠাতে পারবে
না।
তাই এই কোড অনেক মূল্যবান। এই কোডের সাথেIBAN এর নাম্বারটা ও ক্লায়েন্টকে দিতে
হবে।IBAN হচ্ছে আপনার একাউন্টের আন্তর্জাতিক নাম্বার। সব তথ্য ইংরেজিতে লিখে দিতে
হবে। তা না হলে টাকা আবার ফেরত যাবে। তথ্য যদি ঠিক থাকে তাহলে কোথাও টাকা আটকাবে
না। আর ক্লাইন্ট কে দেওয়ার সময় কয়েকবার চেক দিয়ে নিতে হবে। যেহেতু তথ্য ভুল
হলে টাকা আবার ফেরত যাবে তাই নিখুঁতভাবে দেখতে হবে। টাকা আসছে ২-৩ দিন সময় লাগে।
শুক্রবার ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকে এটা মনে রাখতে হবে।
একাউন্টে মিনিমাম কত ব্যালেন্স থাকতে হবে
ডলার একাউন্টে মিনিমাম ব্যালেন্স অবশ্যই রাখতে হয়। সাধারণত ৫০ ডলার বা এর সমান
টাকা রাখতে হয়। ব্যালেন্স কমে গেলে ব্যাংক চার্জ কাটা শুরু করে। তাই মাসে একবার
হলেও অ্যাকাউন্ট চেক করতে হয়। টাকা না থাকলে অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।
এখন চালু করতে তখন আবার দৌড়াদৌড়ি করতে হয়, তাই সব সময় মিনিমাম ব্যালেন্সটা
রাখলে ভালো হয়।
ক্লায়েন্ট যখন টাকা পাঠায় তখন সব টাকা না তুলে অ্যাকাউন্টে কিছু টাকা রাখা
ভালো। কমপক্ষে ১০ ডলার রেখে দিলে ভালো হয়। বাকি টাকা তুলে টাকায় কনভার্ট করে
নিবেন। তাহলে মিনিমাম ব্যালেন্সটাও থাকলো আবার ব্যাংক আপনাকে ভালো গ্রাহক হিসেবেও
মনে রাখল। ভবিষ্যতে কোন সমস্যা হলে বা কোন সাহায্য চাইলে ব্যাংক ভালো ব্যবহার
করবে। তাই ব্যাংকের সাথে ও লেনদেনটা ভালো রাখতে হবে।
আরো পড়ুন: অনলাইনে ১০ টি জনপ্রিয় ব্যবসার গোপন টিপস
ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে গেলে নমিনি করা কেন জরুরী
ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে গেলে নমিনি নামটা চলে আসে। আর ব্যাংকে একাউন্ট খোলার
ক্ষেত্রে নমিনির নাম অবশ্যই দিতে হয়। নমিনি হলো অবর্তমানের মালিক। আপনি না থাকলে
ও নমিনি টাকা তুলতে পারবে। তাই অ্যাকাউন্ট করার সময় নমিনির নাম যেমন -বাবা-মা,
ভাই বোন, অথবা স্বামী স্ত্রী যে কাউকে নমিনি করতে পারেন। যাকে নমিনি বানাতে চান
তার কিছু কাগজ পত্র জমা দিতে হবে
- নমিনির এনআইডি কার্ড
- এক কপি ছবি,
- আর ব্যাংক ফর্মে নমিনির স্বাক্ষর, নমিনিকে একাউন্টের সব কথা বলে রাখা ভালো।
নমুমিনের নাম না দিলে টাকা আটকে যাবে। যার নামে একাউন্ট আছে তার যদি কিছু হয়ে
যায়, তাহলে ওয়ারিশ সার্টিফিকেট লাগবে। কোর্টে গিয়ে কাগজ আনতে হবে এসব করতে
করতে মাস চলে যাবে। পরিবারের মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়বে, তাই অ্যাকাউন্ট খোলার
সময় যাকে বিশ্বাস হয় তার নামে নমিনি করে রাখাটাই ভালো। পরে ইচ্ছা করলে আবার
নমিনি বদলানো যায়। নমিনি করলে কাজ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।
একাউন্টে ডলার আসলে কিভাবে উঠানো যায়
ডলার তুলতে গেলে কিছু কিছু কাজ করতে হয়, ডলার তুলতে গেলে পাসপোর্ট অবশ্যই সাথে
করে নিয়ে যেতে হবে। পাসপোর্ট ছাড়া ব্যাংক ডলার কখনোই দিবে না। ব্যাংকে গিয়ে
উইথড্রয়াল ফর্মটা পূরণ করতে হবে। আপনি কত ডলার তুলতে চাচ্ছেন সেটা লিখতে হবে। ৫০
ডলারের বেশি দেয় না যদি বেশি প্রয়োজন হয় তাহলে ২-৩ দিনে ভাগ করে নিতে হবে। আর
টাকা তোলার সময় রসিদটা অবশ্যই বুঝে নেবেন।
দেশের বাইরে গেলে ডলার খরচ করতে পারবে। ভ্রমনে গেলেও এই ডলার ব্যবহার করতে পারেন।
আমাদের বাংলাদেশের ডলার দিয়ে কেনাকাটা করা যায় না, কোন দোকানদারকে ডলার দিলেও
নিবে না। তাই বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় ডলার কে টাকাতে কনভার্ট করে খরচ করতে হবে।
আমরা এবার অবশ্যই বুঝতে পারলাম কিভাবে ডলার তুলতে হয়। আপনারা যদি কেউ ডলার তুলতে
চান তাহলে সঙ্গে করে অবশ্যই যেগুলো দরকার ওগুলো নিয়ে যাবেন।
আরো পড়ুন: ডলারকে ৩ গুণ করার গোপন টিপস
একাউন্টে নিরাপত্তা কিভাবে রাখতে হবে
একাউন্টে নিরাপত্তা রাখার বিষয়টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। একাউন্টের চেক বই অনেক যত্ন
করে গোপন জায়গায় রাখা ভালো। চেক বই একদম কাছের মানুষ ছাড়া কাউকে ধরতে দেবেন
না। এটিএম কার্ডের পিন কাউকে বলা যাবে না। এমনকি ব্যাংক থেকে ফোন আসলেও পিন
নাম্বার দেওয়া যাবে না। যারা প্রতারক পার্টি তারা অনেক সময় ব্যাংকের কর্মকর্তা
সেজেও ফোন দিতে পারে ।তাদের কথা কখনোই বিশ্বাস করা যাবে না। সব সময় নিজের সতর্ক
থাকতে হবে।
পাস বই সব সময় নিজের কাছে রাখতে হবে। মাসে অন্তত একবার হলেও ব্যাংকে গিয়ে
একাউন্ট চেক করতে হবে। মোবাইলে এসএমএস এলার্ট চালু রাখতে হবে। যাতে করে টাকা
ঢুকলে বা টাকা বের হলে মেসেজ পাওয়া যায়। পাসওয়ার্ড আর পিন সব সময় মনে রাখার
চেষ্টা করতে হবে আর অন্য কোথাও লিখে রাখতে হবে ভুলে গেলে যাতে ওখান থেকে দেখে
নেওয়া যায়। আর যদি সন্দেহজনক লেনদেন মনে হয় তাহলে সাথে সাথে ব্যাংকে যোগাযোগ
করতে হবে। সব সময় নিজের সেট থাকাই ভালো।
শেষ কথা
এই কনটেন্ট লিখতে গিয়ে আমার যদি কোন ভুল দেখতে পান তাহলে অবশ্যই ক্ষমা করে
দেবেন। বা আপনাদের বুঝতে যদি কোথাও অসুবিধা হয়ে থাকে তাহলে কমেন্টে জানাবেন ।আমি
পরবর্তীতে আপনাদেরকে আরো ভালোভাবে বোঝানোর চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। আমি অনেক সহজ
ভাবে কন্টেন্টটা লিখে প্রতিটা ধাপ বোঝানোর চেষ্টা করেছি। তারপরেও যদি কোন কিছু
বুঝতে বা জানতে চান তাহলে আমাকে জানাবেন আমি আপনাদেরকে সাহায্য করার চেষ্টা
করব।
ডলার একাউন্ট ফ্রিল্যান্সারদের একটা বড় শক্তি। এটা থাকলে বিদেশি টাকা ঘরে আসে।
দালাল ধরার দরকার নাই, নিজের কাজ নিজে ব্যাংকে গিয়ে করে আসলে ভালো হয়। অবৈধ
হুন্ডির পথে পা কখনোই বাড়ানো যাবে না। হিন্দিতে টাকা আসলে যদি ধরা পড়ে যায়
তাহলে জেল অথবা জরিমানা হতে পারে। আর একটা কথা মনে রাখতে হবে সততাই হচ্ছে মূলধন।
ক্লায়েন্টকে কখনো ঠকানো যাবে না, সরকারকেও ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া যাবে না। তাহলে
মানুষ এবং আল্লাহ সবাই ভালবাসবেন। পরিশ্রম করলে আল্লাহ রিজিক বাড়িয়ে দেন, তবে
সেটা হালাল হতে হবে।
আপনি যদি ইচ্ছা পুরন এর কোন পোস্টে কমেন্ট করতে চান, তাহলে এর নীতি মেনে কমেন্ট করুন। কারন প্রত্যেকটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url