ইসলামী ব্যাংকে অনলাইনে একাউন্ট খোলার সহজ উপায়

 ইসলামী ব্যাংকের অনলাইনে অ্যাকাউন্ট খোলার যে সহজ উপায় সেটা অনেক সহজ।ইসলামী ব্যাংকের নামটা শুনলেই মনের মধ্যে একটা শান্তি আসে ।কারণ প্রথমেই ইসলাম শব্দটি আছে। এখনো অনেক মানুষ আছে যারা গ্রামেবাস করে
ইসলামী-ব্যাংকে-অনলাইনে-একাউন্ট-খোলার-সহজ-উপায়

তারা ইসলামী ব্যাংক সম্বন্ধে অনেক কিছুই জানেনা। আজকে ইসলামী ব্যাংকে কিভাবে একাউন্ট খুলতে হয় সেই সম্বন্ধে কিছু বলবো। অনেকেই ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে চান ,কিন্তু ব্যাংক এ এগিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে অনেক ঝামেলা মনে হয়। যারা ঝামেলা মনে করেন তারা ঘরে বসেই ইসলামী ব্যাংকের অ্যাকউন্ট খুলতে পারেন।

সূচিপত্র:  ইসলামী ব্যাংকঅনলাইনে একাউন্ট খোলার সহজ উপায়

ইসলামী ব্যাংক অনলাইনে একাউন্ট সম্পর্কে কথা

ইসলামী ব্যাংক এমন একটা ব্যাংক, যা শরীয়ত মোতাবেক আইন কানুন মেনে চলার চেষ্টা করে। তবে সম্পূর্ণ ইসলাম মেনে কাজ করতে পারে না। তারপরেও তারা অনেক দিকগুলোতেই যেমন,ধর্মীয় আইন অর্থনীতি এবং বিভিন্ন দিকগুলো নিয়ে পরিচালনা করে। এতে করে সেই মানুষ গুলো অনেকটাই ইসলামী ব্যাংকের উপরে আস্থা রাখতে শুরু করে।  

ইসলামী ব্যাংক হল বাংলাদেশের সর্বপ্রথম শরিয়া ভিত্তিক ব্যাংক। এই ইসলামী ব্যাংক ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ব্যাংক মানুষের মনে অনেক বিশ্বাস এনে দিয়েছে। যারা ইসলাম শরীয়া মোতাবেক থাকতে চাই তারা ইসলামী ব্যাংকটকে পছন্দ করে। তারা ভাবেন এই ব্যাংকে সুদ লেনাদেনা হয় না। এ ব্যাংকে সুদের বদলে লাভ-লোকসানের ভিত্তিতে ব্যবসা করে। 

এই ইসলামী ব্যাংকে গ্রাহকের জমানো টাকা হালাল ব্যবসায়ী খাটানো হয় তারপরে যে লাভ  হয় সেটা  গ্রাহকদের মাঝে ভাগ করে দেওয়া হয়। আর যারা শুধু মুক্ত ব্যাংকিং করতে চান তাদের জন্য ইসলামী ব্যাংকটাই সবথেকে বেটার হবে। আর এই পোস্টে আমি অনলাইনে ইসলামিক ব্যাংক একাউন্ট খোলার সম্পূর্ণ ধাপ টা দিয়ে দেব ।

ইসলামী ব্যাংক অনলাইন একাউন্ট কি

ইসলামী ব্যাংক অনলাইন একাউন্ট এমন একটা একাউন্ট , যাদের ব্যাংকে গিয়ে একাউন্ট খোলার সময় নেই বা সুযোগ হয় না, বা অনেকেই ঝামেলা মনে করেন তারা অনলাইনে খুব সহজেই এই অ্যাকাউন্টটি খুলে নিতে পারেন কিছু সময়ের মধ্যেই ।তবে চলুন দেখি কিভাবে অনলাইনে একাউন্ট টা খোলা যায়।
এখন ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট খুব সহজেই খুলে নিতে পারেন অনলাইনের মাধ্যমে "সেলফিন অ্যাপসটি" ডাউনলোড করে। 

এখন ঘরে বসেই একাউন্টটি খোলা যায়।যদি অনলাইনে  একাউন্ট খোলা যায় তাহলে ব্যাংকে যাওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। এই ভাবে একাউন্টটি শুরু করতে প্রথমে বেশি টাকাও লাগে না। অল্প কিছু টাকা জমা দিলেই অ্যাকাউন্ট এক্টিভ হয়ে যায়। তাই যারা গৃহিনী ছাত্র বা ছোট ব্যবসায়ী যাদের বেশি ব্যালেন্স রাখার সামর্থ্য নাই তাদের জন্য অনলাইনেএকাউন্ট খোলা অনেক সুবিধা জনক। তাই আপনি যদি অনলাইনে ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট খুলতে চান তাহলে এই পদ্ধতিটা বেছে নিতে পারেন। 

ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট অনলাইনে খোলার সুবিধা

অনলাইনে ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট খোলার সবথেকে বড় সুবিধা হচ্ছে ,ব্যাংকে যাওয়া লাগে না এই ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকা যায়। সময় বাঁচে, অনেকেরই ইসলামী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টের প্রয়োজন কিন্তু ব্যাংকে আসার সময়ের অভাবে একাউন্ট খুলতে পারেন না। তাদের জন্য অনলাইনে একাউন্ট খোলা অনেক জরুরী। আর এখন অনেক সহজেই অনলাইনে একাউন্ট খলা যাই।

আগে সরাসরি ব্যাংকে যেতে হতো ব্যাংকে যাওয়ার পরে, বিভিন্ন ধরনের কাগজ পাতি লাগতো আবার ফর্ম পূরণ করতে হতো এখন আর সে ঝামেলাটা নেই। আবার অনেক জায়গাতেই স্বাক্ষর দিতে হতো, আর যদি ব্যাংকে লোকজন একটু বেশি থাকতো তাহলে তো কোন কথাই নেই দুই তিন ঘণ্টা সময় লাগবে। তাই যাদের সময়ের অভাব তারা ঘরে বসেই কিছু সময়ের মধ্যেই ইসলামী ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট অনলাইনে খুলে  নিতে পারেন।

কিছু অ্যাপের মাধ্যমে একাউন্ট যেকোনো সময় খুলতে পারেন ।ছুটির দিনেও খুলতে পারেন কোন সমস্যা নেই।আরেকটা বড় সুবিধা হচ্ছে অনলাইনে একাউন্ট খুলতে বেশি কাগজপত্র লাগে না, ফটোকপি করে সত্যায়িত করার ঝামেলা নেই। শুধু মোবাইলে ছবি তুলে আপলোড দিলেই হয়ে যাবে। তাই যারা অনলাইনে একাউন্ট খুলতে চান তাদের জন্য এটা নিরাপদ উপায়।

ইসলামী ব্যাংক একাউন্টে যারা আবেদন করতে পারবেন

ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট খোলারও কিছু নিয়মকানুন আছে। সব বয়সের ছেলে মেয়েরা একাউন্ট খুলতে পারবে না। কমপক্ষে ১৮ বছর বয়স হতে হবে তাহলে একাউন্ট খোলার আবেদন করতে পারবে। যাদের বয়স ১৮ বছরের কম, তারা অ্যাকাউন্ট খোলার আবেদন করতে পারবে না। আর অ্যাকাউন্ট খুলতে গেলে ,নিজের নামে রেজিস্টার করা ফোন নাম্বার অবশ্যই থাকতে হবে। যদি নিজের নামে রেজিস্টার করা ফোন নাম্বার না থাকে তাহলে করে নিতে হবে। 

যদি ব্যাংকে গিয়ে একাউন্ট খুলতে চান ,তাহলে ওইখানে যারা কর্মরত আছেন , তারা আপনাকে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য সাহায্য করবেন। ভোটের আইডি কার্ডের ফটোকপি লাগবে, পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে আরো অনেক তথ্য লাগে আর যদি ঘরে বসেই একাউন্ট খুলতে চান তাহলে ,অনলাইনে সেলফিন নামে একটা অ্যাপস আছে ওইটা ডাউনলোড করে নিজে নিজেই ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই একাউন্টি খুলে নিতে পারেন যদি সব কাগজপত্র রেডি থাকে।

যদি ব্যাংকে গিয়ে একাউন্ট খুলতে চান তাহলে অনেক সময় অনেক দেরি হয়ে যায়।তাই ১৮ বছরের ওপরে , যেমন 
গৃহিণী 
স্টুডেন্ট 
চাকরিজীবী 
ব্যবসায়ী, 
সবাই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। প্রবাসীদের জন্য আলাদাভাবে একাউন্ট খোলার ব্যবস্থা আছে। অনেক সময় 18 বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই অর্থাৎ নাবালক থাকা অবস্থায় অনেকের অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন হয় ।সে ক্ষেত্রে , নাবালকদের গার্ডিয়ানের মাধ্যমে একাউন্ট খুলতে পারে। তবে সেটা অনলাইনে খোলা যাবে না, অবশ্যই ইসলামী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় গিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে



একাউন্ট খুলতে যেসব প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র লাগে

ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে গেলে অবশ্যই কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগে। সেটা শাখায় গিয়ে খুলেও লাগে, আবার কেউ যদি অনলাইনে খুলতে চাই সেখানেও লাগে। অনলাইনে অ্যাকাউন্ট খুলতে গেলে তিনটা জিনিস অবশ্যই লাগবে। 
  1.  নিজের জাতীয় পরিচয় পত্র অথবা স্মার্ট এনআইডি কার্ড 
  2. একটা সচল নিজের নামে রেজিস্টার করা মোবাইল নাম্বার। যেখানে ওটিপি আসবে।
  3. আর এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, যেটা অ্যাপসের মাধ্যমেই তুলে নেওয়া যাবে। 
ইসলামী-ব্যাংকে-অনলাইনে-একাউন্ট-খোলার-সহজ-উপায়

এছাড়া নমিনি এনআইডি নাম্বার ,মোবাইল নাম্বার এইসব দিতে হবে। নমিনি বাবা-মা, ভাই বোন স্বামী বা স্ত্রী যে কেউ হতে পারে। সব সব ডকুমেন্ট এর ছবি মোবাইলের মাধ্যমে আপলোড করলেই হয়। তাই যে বাসায় বসে অনলাইনে একাউন্ট খুলতে চান তারা এভাবে একাউন্টে খুলতে পারেন। বাসায় বসেই সম্পূর্ণ কাজ কমপ্লিট করা যায়। তবে মনে রাখতে হবে, এনআইডির মাধ্যমে ভেরিফিকেশন হয় ,তাই অ্যাকাউন্ট খোলার আগে দেখে নিতে হবে এনআইডির মেয়াদ আছে কিনা ,যদি না থাকে তাহলে আপডেট করে নিতে হবে।

আপনি কি ধরনের অ্যাকাউন্ট করতে চান সেটা বাছাই করা

 যদি অনলাইনে অ্যাকাউন্ট খুলতে চান তাহলে, সেলফিন নামে যে অ্যাপসটি আছে, সে অ্যাপটির মাধ্যমে অনেক অপশন থাকে। ব্যবহারের জন্য অ্যাকাউন্ট খুলতে চাইলে 'মিজান একাউন্ট' খোলা সব থেকে ভালো। কারণ এতে কোন সার্ভিস চার্জ লাগে না। এটা ছাড়া ছাত্রের একাউন্ট, আবার সেভিং অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। আপনি যে উদ্দেশ্য করে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করবেন ,সেটা বাছাই করে একাউন্ট খুলতে হবে। 

যদি সেলফিন অ্যাপ দিয়ে "মিজান একাউন্ট" খোলেন তাহলে ১০ টাকা দিলেই একাউন্ট একটিভ হয়ে যায়। এই দশ টাকা নগদ বা বিকাশ থেকেও দেওয়া যায়। অনলাইনে একাউন্ট খুললে ১০ টাকা দিলেই হয়। অ্যাকাউন্ট চালু রাখতে মিনিমাম কোন ব্যালেন্স দেওয়া লাগেনা। তবে ডেবিট কার্ড নিতে চাইলে, কার্ডের কি বাবদ কিছু টাকা একাউন্টে অবশ্যই রাখতে হবে। তাহলে এসএমএস চার্জ বা অন্যান্য ফ্রি কাটলেও অ্যাকাউন্টের কোন সমস্যা হবে না।

ফরম পূরণের সময় সঠিক তথ্য দেওয়ার টিপস

ব্যাংকে একাউন্ট খোলা বললে এতটাই সহজ নয়। একাউন্ট খুলতে গেলে সম্পূর্ণ সঠিক তথ্য দিতে হবে। ফরম পূরণ করার সময়ই যেসব তথ্য লাগে সম্পূর্ণ তথ্যই এনআইডির সাথে হুবহু মিল রেখে দিতে হবে। নিজের নামের বানান, জন্ম তারিখ,বাবা মায়ের নাম এইসব তথ্য গুলো যদি একটুও এদিক সেদিক হয় তাহলে ভেরিফাই হবেনা। তাই ফরম পূরণ করার সময় খুব সাবধানতার সাথে ফরম পূরণ করতে হবে। 

আবার ঠিকানা লেখার সময় স্থায়ী ঠিকানা আর বর্তমান ঠিকানা লিখতে হয়। বর্তমান ঠিকানা আর স্থায়ী ঠিকানা যদি একই হয় ,তাহলে আলাদা আলাদা ভাবে লিখলে ভাল হয়। গ্রাম, পোস্ট ,থানা জেলা ,এগুলো ভালোভাবে সঠিক ভাবে দিতে হবে। ঠিকানা ভুল দিলে অ্যাকাউন্ট বা কার্ড পেতে সমস্যা হয়। তাই সঠিক তথ্য দিয়ে ফর্মটি পূরণ করতে হবে। ফর্মটি পূরণ করার সময় যেখানে পেশা ও মাসিক আয়ের অপশন আছে সেখানেও সঠিক তথ্য দেওয়াটাই ভালো। মিথ্যা তথ্য দিলে ভেরিফিকেশনের সময় ধরা পড়লে একাউন্ট ব্লক হতে পারে।

অনলাইনে একাউন্ট খোলার পরে ভিডিও ভেরিফিকেশন আসলে যা করতে হবে

যখন অনলাইনে ইসলামী ব্যাংক এ একাউন্ট খোলা হয়ে যাবে, তারপরে কিছু কাজ আছে। সরাসরি শাখায় গিয়ে খুললে সবকিছু ওখান থেকেই করা হয়। আর অনলাইনে ফর্মটি জমা দেওয়ার পরে, ভিডিও কলের জন্য কল দিতে পারে। যদি কল দেয় তাহলে ক্যামেরার সামনে আসতে হবে। এনআইডি হাতে নিয়ে মুখের পাশে ধরতে বলবে, এটা দেখার জন্য যে, এনআইডির সাথে ছবির মিল আছে কিনা। আবার অনেক সময় ভিডিও কল লাগেনা।
ইসলামী-ব্যাংকে-অনলাইনে-একাউন্ট-খোলার-সহজ-উপায়

সে ক্ষেত্রে যে ছবিটা আপলোড করা হয়েছে , সেটা দেখে অটো ভেরিফাই হয়ে যায়। আর এটা নির্ভর করবে আপনার দেয়া তথ্য ও ছবির উপরে। তাদের সন্দেহ থাকে ছবি দেখে যদি কোন সন্দেহ লাগে তখন ভিডিও কল আসতে পারে। তাই যখন ফর্মটি পূরণ করাবেন তখন ছবিটা যাতে ক্লিয়ার হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ভেরিফাই যদি সফল হয় তাহলে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফোনে এসএমএস এর মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট নাম্বার দিয়ে দেবে। অনেক সময় রিজেক্ট দেখায় কি জন্য রিজেক্ট হয়েছে সেটার কারণে দিয়ে দেয়। 


যে কারণে ব্যাংক একাউন্টের আবেদন বাতিল হয়ে যায়

কিছু কিছু ভুল আছে যে ভুলগুলো করলে ব্যাংকে একাউন্ট খোলার জন্য যে আবেদনটা করা হয় সেটা বাতিল হয়ে যায়। তবে চলুন দেখি কি কি কারণে আবেদন বাতিল হয়ে যায়-
  • ছবি ঝাপসা হলে অর্থাৎ ছবিতে আলো কম থাকলে 
  •  ভোটের আইডি কার্ডের তথ্য যদি পড়া না যায় তাহলে অটো রিজেক্ট হয়ে যায়। 
  •  একই নাম্বার দিয়ে বার বার আবেদন করা।
  •  অন্য কারো নামে রেজিস্টার করা সিন ব্যবহার করা 

তাই আমাদের উচিত হবে দিনের আলোতে ভালো ব্যাকগ্রাউন্ডে ছবি তুলা, আর ছবি উঠানোর সময় ক্যামেরা আগে পরিষ্কার করে নিতে হবে। যে নাম্বার দিয়ে একবার আবেদন করবেন, আবেদন করার পর ৭দিন অপেক্ষা করতে হবে। যদি কোন রেসপন্স না পাওয়া যায় তাহলে ,যে হেল্পলাইন আছে সেই হেল্পলাইনে কল দিতে হবে।
 বারবার নতুন আবেদন করলে স্প্যাম ভেবে ব্লক করে দেয়। প্রায় সবগুলো নিয়ম মেনে অ্যাকাউন্ট খোলা উচিত। এমনকি অন্য কারো রেজিস্টার করা সিম ব্যবহার করলেও ভিডিও কলে ধরা পড়ে যায়। তাই সব সময় নিজের নাম দিয়ে রেজিস্টার করা সিম ব্যবহার করতে হবে। যদি নিজের নামে সিম না থাকে তাহলে আগে নিজের নামে সিম  রেজিষ্টরের ব্যবস্থা করতে হবে।

একাউন্ট নাম্বার ও কার্ড পাওয়ার পরে যা করণীয়

একাউন্ট খোলার শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ১৭ ডিজিটের একটা নাম্বার পাওয়া যাবে। এটাই হচ্ছে অ্যাকাউন্ট নাম্বার। এই নাম্বারটি অনেক দরকারী নাম্বার। কেউ যদি টাকা পাঠাতে চায় তাহলে এই নাম্বারটি দিতে হবে। আবার আপনি যদি অন্য ব্যাংকে টাকা পাঠাতে চান তাহলে ওই নাম্বারটি দিতে হবে। যেহেতু একাউন্ট নাম্বারটি অনেক জরুরী তাই, নাম্বারটি মোবাইলে অথবা খাতায় লিখে রাখলে ভালো হয়। যাতে করে পরবর্তীতে নাম্বারটি খুঁজতে না হয়।

এটিএম থেকে টাকা তুলতে অথবা দোকানে গিয়ে কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করতে চাইলে ডেবিট কার্ড লাগবে। যেহেতু আমাদের একাউন্টটা অনলাইনে খোলা তাই সেলফিন অ্যাপসটি খুলে card অপশনে যেতে হবে। সেখানে নতুন কার্ডের জন্য আবেদন লেখা আছে ঐখানে ক্লিক করতে হবে। ওইখানে ক্লিক করার পরে নাম ঠিকানা এগুলো চাইবে, ঠিকঠাক মতো সব দিতে হবে। তাহলে কাজ শেষ হবে। এইটার জন্য অল্প কিছু টাকা কাটতে পারে 60 থেকে 70 টাকা। তারপরে সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে কুরিয়ারের লোক বাসায় এসে কার্ডটা দিয়ে যাবে। কার্ড আসার আগেই অ্যাপেই একটা ডিজিটাল কার্ড পাবেন। সেটা দিয়ে অনলাইনে শপিং করা যাবে। 

একাউন্টে সমস্যা হলে কাস্টমারেরা যেভাবে সাপোর্ট পাবে

ব্যাংক একাউন্ট খোলার পরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে।সমস্যা হলে যেটা করতে হবে-
  1. হেল্পলাইন নাম্বারে কল দেওয়া 
  2.  সেলফিন অ্যাপের লাইভ চ্যাট ব্যবহার করা 
  3. সরাসরি ব্রাঞ্চে গিয়ে দেখা করা। এই কয়েকটা উপায়ে সাপোর্ট নেওয়া যাবে। এগুলো ডিটেলস নিচে দেওয়া হল 
হেল্প নাম্বারে কল দেওয়া'ইসলামী ব্যাংকের সব থেকে সহজ সাপোর্ট হলো ১৬২৫৯ এই নাম্বারে কল দেওয়া। এই নাম্বারটি ২৪ ঘন্টায় খোলা থাকে ।দিন হোক অথবা রাত হোক যখন সমস্যা হবে তখনই কল দিলে সমস্যা সমাধান করে দেবে। কল দিয়ে যে সমস্যা সে সমস্যার কথা বলতে হবে। তাহলে তারা বলে দেবে কি করতে হবে।যদি বড় কোন সমস্যা হয় তাহলে তারা কমপ্লেন রেকর্ড করে রাখে, দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই তা সমাধান করে দেয়। আর হেল্পলাইনে কল দেওয়ার জন্য মোবাইলে রেটে টাকা কাটবে।

আর যদি অনলাইনে সমাধান না হয় তাহলে আশেপাশের ইসলামী ব্যাংকের ব্রাঞ্চ এ গিয়েও সমাধান করা যায়। সেজন্য সাথে করে এনআইডি কার্ড আর মোবাইলটা নিয়ে যেতে হবে। কাস্টমার সার্ভিস কাউন্টারে গিয়ে সমস্যার কথা বলতে হবে। তখন তারা আপনার একাউন্টে চেক করে দেখবে কি সমস্যা হয়েছে। বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে যেমন, একাউন্ট ব্লক হতে পারে, নাম ভুল আসতে পারে, কার্ড তুলতে হবে এ ধরনের সমস্যাগুলো দেখা যেতে পারে। সমস্যা হলে ওইখানকার অফিসাররাই সমস্যার সমাধান করে দেন। সকাল ১০ থেকে ০৪ মধ্যে গেলে সার্ভিস ভালো পাওয়া যায়।

নিজের একাউন্ট নিরাপদ রাখার কয়েকটি উপায়

পিন ,পাসওয়ার্ড আর ওটিপি কাউকে বলা যাবে না। নিজের সেলফিন অ্যাপ এর চার ডিজিটের পিন, লগ ইন পাসওয়ার্ড, আর মোবাইলে আসা ওটিপি এই তিনটে জিনিস কাউকেই দেওয়া যাবে না। সে যত কাছের মানুষই হোক না কেন এমনকি ব্যাংকের নাম করেও যদি কেউ এগুলো চায় তারপরেও দেওয়া যাবে না। মনে রাখবেন ,ইসলামী ব্যাংক কখনো কোন কাজের জন্য পিন, পাসওয়ার্ড বা ওটিপি কোন কিছুই চায় না। যদি কেউ আপনাকে ফোন করে বলে যে স্যার, আপনার ওটিপি নাম্বারটা দেন একাউন্টে সমস্যা হয়েছে ,তা না হলে আপনার একাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে। তখন নিশ্চয়ই বুঝবেন এটা প্রতারক।

অ্যাপ আর ফোন নিরাপদে রাখা,ওটিপি একবার ব্যবহার করলে আর ব্যবহার করা যায় না। তাই এসএমএস আসা মাত্রই এসএমএসটি ডিলিট করে দিতে হবে। আর সেট করার সময় সহজ ওটিপি না দেওয়াই ভালো। সেলফিন অ্যাপ সব সময় আপডেট করে রাখতে হবে। কারণ পুরনো অ্যাপে খুব সহজেই চোরেরা ঢুকতে পারে। আর ফোন সব সময় ব্লক সিস্টেম করে রাখতে হবে। যাতে করে ফোন হারিয়ে গেলেও সহজে যেন কেউ না ব্যবহার করতে পারে। পাবলিক ওয়াইফাই বা ফ্রি ওয়াইফাই দিয়ে ব্যাংকিং করা যাবে না। কারণ হ্যাকারেরাএই নেটওয়ার্ক দিয়ে তথ্য চুরি করে। আবার টাকা পাঠানোর সময় দুই তিনবার নাম্বারটি মিলিয়ে নিতে হবে। কারণ নাম্বার ভুল হলেও অন্যের কাছে টাকা চলে যাবে ফেরত না পাওয়ারই সম্ভাবনা বেশি। 

 এসএমএস ও লেনদেনের হিসাব চেক করা, একাউন্ট থেকে টাকা গেলে বা টাকা আসলে সাথে সাথেই এসএমএস আসে। এসএমএস গুলো সব সময় মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে। আপনি যদি টাকা না পাঠান তারপরেও যদি মেসেজ আসে যে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কাটা গেছে, তাহলে বুঝতে হবে নিশ্চয় কেউ আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে। যদি এরকম হয় তাহলে সাথে সাথেই আপনি পিন চেঞ্জ করে ফেলবেন। আর খুব দ্রুত১৬২৫৯ এই নাম্বারে কল দিয়ে আপনার সমস্যার কথা বলবেন।


শেষ কথাঃ

ইস্ল্খলামী ব্যাংক অনলাইনে একাউন্ট খোলার সহজ উপাই সম্পর্কে বলার মাঝে যদি কোন ভুল হয়ে থাকে বা কোন কিছু তথ্য দিতে বাদ পড়ে যায়, অথবা আপনার বুঝতে যদি কোন সমস্যা হয় তাহলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। ব্যাংকের নিয়ম নীতি মাঝে মাঝে বদলায়, তাই কোন তথ্য যদি পুরানো হয়ে যায় সে দায়টা আমার। তাই অ্যাকাউন্ট খোলার আগে ১৬২৫৯ এই নাম্বারে ফোন দিয়ে দয়া করে জেনে নেবেন। 

ইসলামী ব্যাংকে অনলাইনে একাউন্ট খোলা, এখন অনেক সহজ। এই পোস্টে আমি কিভাবে অনলাইনে একাউন্ট খুলতে হয় এর ডিটেলস দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এটা যদি মনোযোগ সহকারে পড়েন তাহলে একাউন্ট খোলা সহ আরো অনেক বিষয় সুন্দর ভাবে জানতে পারবেন ।আমার এই কন্টেন্ট পড়ে যদি একটুও উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে আমার লিখা সার্থক ধন্যবাদ সবাইকে।




এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপনি যদি ইচ্ছা পুরন এর কোন পোস্টে কমেন্ট করতে চান, তাহলে এর নীতি মেনে কমেন্ট করুন। কারন প্রত্যেকটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url