একটানা কম্পিউটারে কাজ করলে চোখের যত্ন নেওয়ার নিয়ম

একটানা কম্পিউটারে কাজ করলে চোখের যত্ন নেওয়ার নিয়ম না জেনে এই ৫ টিনভুল করছেন না তো?প্রায় ৯০% মানুষ এই ভুলেই চোখের ক্ষতি করছে। আজি জেনে নিন চোখ বাঁচানোর গোপন কিছু টিপস 

একটানা-কম্পিউটারে-কাজ-করলে-চোখের-যত্ন-নেওয়ার-নিয়ম

ভূমিকাঃবর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং বা কম্পিউটারে কাজ করতে হলে, কমপক্ষে দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতে হয়। আর একটানা কাজ করতে গেলে চোখের কিছু সমস্যা দেখা দেয়।তাই একটানা কম্পিউটারে কাজ করলে চোখের যত্ন নেওয়া সম্পর্কে অবশ্যই জানতে হবে। একটানা স্কিনে তাকিয়ে থাকলে জ্বালাপোড়া, ঝাপসা দেখা, মাথাব্যথা এসব সমস্যা হয়। 

সূচিপত্রঃএকটানা কম্পিউটারে কাজ করলে চোখের যত্ন নেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে এখানে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো 

একটানা কম্পিউটারে কাজ করলে চোখের যত্ন নেওয়ার নিয়ম ৭ টি জেনে নেই

একটানা কম্পিউটারে কাজ করলে চোখের যত্ন নেওয়ার নিয়ম মেনে চললে চোখের  সমস্যা অনেক কমে যায়। নিয়মগুলো হল -

  1. ২০-২০-২০নিয়ম মানাঃএকটা না কম্পিউটারে কাজ করার সময় প্রতি ২০ মিনিট পরপর ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোন জিনিসের দিকে তাকিয়ে থাকবেন।এতে চোখের পেশির অনেকটা আরাম হয়। 
  2. চোখের পলক ফেলাঃসাধারণত আমরা যখন কোন কাজ করি বিশেষ করে মোবাইলে বা কম্পিউটারে কাজ করতে থাকি তখন একটানা তাকিয়ে থাকি। এভাবে তাকিয়ে না থেকে ১০ সেকেন্ড পর পর ইচ্ছাকৃতভাবে পলক ফেলবেন। তাহলে চোখ শুকিয়ে যাবে না। 
  3. স্কিনের ব্রাইটনেস ঠিক রাখাঃস্কিন যেন রুমের আলোর থেকে আরো বেশি আলো না হয়। রাত্রে বেলা নাইট মোড অথবা ব্লু লাইট ফিল্টার অন করে নিবেন। 
  4. মনিটর থেকে দূরত্ব বজায় রাখাঃকম্পিউটারে যখন কাজ করতে বসবেন তখন একটা জিনিস মাথায় রাখবেন,আপনার চোখ যাতে স্কিন থেকে কমপক্ষে এক হাত দূরে থাকে। 
  5. পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাঃঘর অন্ধকার রেখে কম্পিউটার কখনোই চালাবেন না। পেছন থেকে আলো আসলে কম্পিউটারের স্কিনে গ্লেয়ার লাগে।তাই সাইট থেকে যাতে আলো আসে সেই রকম জায়গায় রাখবেন। 
  6. চোখে পানি দেওয়াঃকম্পিউটারে কাজ করতে করতে যখন ২-৩ ঘণ্টা হয়ে যাবে তখন নরমাল পানি চোখটা ধুয়ে নেবেন। এভাবে ২-৩ ঘন্টা পর পর চোখ ধুলে অনেকটাই ভালো থাকে। 
  7. রেগুলার ব্রেক নিবেনঃযখন কম্পিউটারে কাজ করতে বইবেন তখন একঘন্টা পরপর ৫ থেকে ১০ মিনিট উঠে অন্য জায়গায় দাঁড়াবেন, একটু রেস্ট নিবেন।একটু বাইরে হাঁটাহাঁটি করবেন। একটা ৮ ঘণ্টার বেশি কখনোই কম্পিউটারে বসবেন না।  

একটানা কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থাকলে কি কি ক্ষতি হয়

এক টানা কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থাকলে যে ক্ষতিগুলো হয় সেগুলো হল -

  • চোখ শুকিয়ে যায়ঃকম্পিউটার চালানোর সময় কম্পিউটারের দিকে এক ধ্যানে তাকানো হয় তেমন তেমন পলক ফেলা হয় না। ফলে জ্বালাপোড়া করে, চোখ দিয়ে পানি আসে আবার অনেক সময় চোখ চুলকায়। 
  • মাথা ব্যথাঃস্কিনের দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে ১-২ ঘন্টা পরে মাথা ধরে যায়। মাথা ব্যথা করে চোখ ব্যথা করে তখন আর কাজ করে ভালো লাগে না। কাজে মন বসে না। 
  • চোখে ঝাপসা দেখাঃঅনেক সময় তাকিয়ে থাকার কারণে চোখ ঝাপসা লাগে। ফোকাস করতে সমস্যা হয়। যাদের চোখে একটু সমস্যা আছে তাদের চোখ দিয়ে আঠালো পানীয় বের হয়। তখন ভীষণ অস্বস্তি লাগে। 
  • ঘাড় আবার কাঁধ ব্যথাঃকম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে অনেক সময় ঘাড় এবং কাঁধ এমনকি পিঠহ ব্যথা করে। 
  • কোমর ব্যথাঃএকইভাবে বসে থাকতে থাকতে কোমর ব্যথা করে। মানুষের কথার কি বলবো মশাগুলো আমার নিজেরই হয়। বসে থাকতে থাকতে কোমর এত পরিমানে ব্যথা হয়, তখন মনে হয় না এক সেকেন্ড বসে থেকে কাজ করি। 
  • ঘুমের সমস্যাঃএভাবে কম্পিউটার চালাতে থাকলে ঘুম হয় না। ঘুম না হওয়ার কারণে শরীরের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। এমনকি ঘুম না হওয়ার কারণে মুখের স্ক্রিনে অনেক কিছু বের হয়। 
  • চোখে পানি আসাঃকম্পিউটার যদি টানা দুই তিন ঘণ্টা কাজ করলে চোখ দিয়ে পানি আসে। আবার চোখ জ্বালাপোড়াও করে। 

চোখ ভালো রাখার জন্য কোন খাবারগুলো খাবেন

চোখ হচ্ছে মানুষের অমূল্য সম্পদ। আল্লাহর এক বিশেষ নেয়ামত। তাই চোখের যত্ন নেওয়া অনেক বেশি জরুরী। সেজন্য কিছু কিছু খাবার আছে যেগুলো খেলে ভালো থাকে। তোর জন্য ভিটামিন এ অনেক জরুরী কারণ ভিটামিন এ রাতকানা রোগ থেকে রক্ষা করে আবার চোখের আলো সহ্য করার ক্ষমতা বাড়ায়। 

  1.  গাজর ও মিষ্টি কুমড়াঃগাজর আর মিষ্টি কুমড়াতে ভিটামিন এ ভরপুর। যা চোখের জন্য অনেক উপকার। 
  2. পালং শাক ও পুঁইশাকঃপালং শাক ও পুঁইশাকের লুটেইন থাকে। যা চোখকে স্কিনের ক্ষতি থেকে বাঁচায়। 
  3. ডিমের কুসুমঃডিমের কুসুম খেলে চোখের মনি ভালো থাকে।তাই ডিমের কুসুম খাওয়ার চেষ্টা করবেন। 

একটা না কম্পিউটার চালাতে চালাতে চোখের পানি শুকিয়ে যায়। এমন কিছু খাবার আছে যেগুলো খেলে পানি শুকানো থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। চোখকে ভেজা রাতে সাহায্য করে। 

  1. ছোট মাছ আর সামুদ্রিক মাছঃছোট মাছ আর সামুদ্রিক মাছের মধ্যে ওমেগা -৩ আছে। যা চোখের পানিকে শুকাতে দেয় না। 
  2. কমলা, আমলকি, লেবুঃএই ফলগুলোতে ভিটামিন সি থাকে। রক্ত চলাচল ভালো করে। 
  3. বাদাম ও কাঠবাদামঃচোখ ভালো রাখার জন্য বাদাম আর কার বাদাম বিশেষ উপকারী। এইগুলোতে ভিটামিন ই আছে যা চোখের বয়েসকে ধরে রাখে। 

প্রতিদিন এই খাবারগুলো অল্প করে খেলে চোখ অনেক ভালো ও অসুস্থ থাকবে। তাই আমার পরামর্শ হলো যারা কম্পিউটার চালান তারা নিয়ম করে খাবারগুলো খাবেন। তাহলে শরীর ভালো থাকবে আবার চোখও ভালো থাকবে। 

 কম্পিউটারে কাজ করার সঠিক দূরত্ব ও বসার নিয়ম

কম্পিউটারে কাজ করার সময় সঠিক দূরত্ব ও বসার নিয়ম যদি জানা যায় তাহলে ঘাড় ব্যথা ও চোখ জ্বালাপোড়া থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া যাবে। কম্পিউটারের স্কিন যেন একদম চোখের সামনে না থাকে।। মনে রাখবেন হাত সোজা করলে আঙ্গুলের  মাথাটা যেখানে থাকবে ওইখানে মনিটর রাখবেন। 

এর বাইরে হচ্ছে ২০ থেকে ২৬ মিটার দূরে মনিটর টা রাখবেন আপনার চোখ থেকে। আরে স্কিনের ওপরের দিকটা থাকবে, আপনার চোখ বরাবর আর না হলে একটু নিচে। তাহলে চোখ কম শুখাবে। আর একটা কথা মাথায় রাখবেন স্কিনের আলো যেন চোখে কম লাগে। তা না হলে চোখের আবার সমস্যা হয়ে যাবে। 

তারপরে আসি বসার বিষয় নিয়ে, পিঠ সোজা করে রিলাক্সে বসবেন। চেয়ারের সাথে পিক লাগিয়ে বসবেন সামনের দিকে ঝুকে নয়। পা দুটো মাটিতে রাখবেন। অন্য কোন কিছুর উপর ঝুলিয়ে রাখবেন না। কিবোর্ড আর মাউস এমন জায়গায় রাখবেন যাতে হাত টানটান না হয়। ৪০ বা ৪৫ মিনিট পরপর উঠে হাঁটবেন আর ঘাড় মাথা ঘুরিয়ে নেবেন তাহলে একটু হলেও ভালো লাগবে এবং যদি কাজ করেন তাহলে সারাদিন কাজ করলেও কোন ক্লান্তি আসবে না। 

চোখের ক্লান্তি দূর করার ৫ টি সহজ ব্যায়ম

কম্পিউটারে কাজ করতে করতে চোখের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয়ে যায়। আর কিছু ব্যায়াম আছে যেগুলো করলে চোখের অনেকটাই ক্লান্তি দূর হয়। ব্যায়াম গুলো নিচে দেওয়া হল -

  1. চোখের পলক ফেলার ব্যায়ামঃচোখ জোরে বন্ধ করে দুই সেকেন্ড রাখবেন আবার খুলবেন এভাবে ১০ বার করলে চোখ আর শুকাবে না। 
  2. চোখ গোল করে ঘুরানোঃচোখ দিয়ে বড় করে গোল আঁকবেন, তারপরে বামদিকে ৫ বার আর ডান দিকে ৫ বার। এরকম ব্যায়াম করলে চোখের পেশি অনেক আরাম পায়। 
  3. দূরে আর কাছে ফোকাসঃএকটা কলম নাকের কাছে ধরবেন ধরে ৫ বার তাকাবেন।আবার জানালা দিয়ে বাইরে দূরে ৫ বার তাকাবেন । 
  4. হাতের তালুর শেকঃদুই হাত ঘোষে গরম করে যখন তালুটা গরম হবে তখন, তালু দুইটা দুই চোখে রাখবেন ১০ সেকেন্ড । চোখ অনেকটাই আরাম পাবে। 
  5. চোখ বন্ধ করে ব্রেকঃএক মিনিট চোখ বন্ধ করে শ্বাস নিবেন আবার ছাড়বেন। এটা করলে স্ক্রিন থেকে অনেকটাই বিশ্রাম পাবেন। 

কম্পিউটারে অনেকক্ষণ কাজ করলে চোখের  সমস্যা লক্ষণ কি

কম্পিউটারে অনেকক্ষণ কাজ করলে চোখের যে সমস্যার লক্ষণ গুলো পাওয়া যায় সেগুলো আমরা প্রথমে ধরতে পারি না। পরে যখন বেশি সমস্যা হয় তখন বোঝা যায়। প্রথমে চোখের সমস্যা দেখা দেয় চোখ জ্বালাপোড়া দিয়ে। চোখের পানি পড়া দিয়ে। প্রথমে মনে হবে চোখে মনে হয় কোন কিছু ঢুকেছে। তা না হলে বালি পড়েছে এভাবে চোখ লাল হয়ে আস্তে আস্তে পানি ঝরতে থাকে। স্কিনের দিকে তাকালে চোখ ঝাপসা ঝাপসা লাগে অনেক সময় একটা লেখা দুইটার মত লাগে এই সব সমস্যাগুলো হয়। 

একটানা-কম্পিউটারে-কাজ-করলে-চোখের-যত্ন-নেওয়ার-নিয়ম

তারপর শুরু হয় মাথা আর ঘাড় ব্যথা। মাথার দুই পাশ দিয়ে এত পরিমাণে ব্যথা করে যা বলে বোঝানো যাবে না। কি বলবো এরকম হয় মাথার যন্ত্রণায় ভালো লাগেনা। ঘাড় শক্ত হয়ে যায়। আর কাঁধে ব্যাথা করে, রাত্রে ঘুমানো যায় না। সারাদিন চোখ ক্লান্ত লাগে অস্বস্তি লাগে। এই লক্ষণগুলো যখন দেখবেন তখনই বুঝে নিবেন আপনার চোখ একটু বিশ্রাম চাই। তখন চোখকে বিশ্রাম দিবেন। তা না হলে ভবিষ্যতে চোখ নিয়ে অনেক সমস্যায় পড়তে পারেন। 

রাতে কম্পিউটারে কাজ করলে চোখের বাড়তি যত্ন  নেওয়ার নিয়ম

রাতে কম্পিউটারে কাজ করলে দিনের তুলনায় দ্বিগুন চাপ পড়ে চোখে। অন্ধকার ঘরে কখনোই কম্পিউটার চালাবেন না। তাহলে চোখের অনেক সমস্যা হবে। পেছনে বা পাশে হালকা একটা জিরো বাল্ব জ্বালিয়ে রাখবেন। স্কিনের ৪০ এর  নিচে নামিয়ে রাখবেন। নাইট লাইট বা ব্লু লাইট ফিল্টার অন করে রাখবেন। এই কাজটা করলে নীল আলো কমে যাবে এর ফলে চোখ জ্বলবে না। স্কিনের আলো সরাসরি যাতে মুখে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখবেন। 

আরো পড়ুনঃঘরে বসে টাইপিং স্পিড বাড়ানোর সেরা ফ্রি ওয়েবসাইট 

রাত্রে যখন কম্পিউটারে কাজ করবেন তখন রাত ১০ টার পরে প্রতি ২০ মিনিট পর পর এক মিনিট চোখ বন্ধ করে রাখবেন। কাজের ফাঁকে ফাঁকে যদি গরম পানির ভাব দেন আর পানির ঝাপটা দেন তাহলে তাহলে চোখে অনেক আরাম লাগবে। রাত্রে কাজ করার সময় আর চা আর কফি খাবেন না। বেশি বেশি পানি খাবেন। ঘুমানোর প্রায় এক ঘণ্টা আগে স্কিন বন্ধ করে দেবেন তাহলে চোখটাও ফেস থাকবে আর ঘুমটাও ভালো হবে। 

ব্লু লাইট প্রটেক্ট গ্লাস ব্যবহারের সুবিধা

সত্যি কথা বলতে কি যারা সারাদিন কম্পিউটার আর ফোন নিয়ে থাকে তাদের ব্লু লাইট প্রটেক্ট গ্লাস পরা জরুরী দরকার। তা না হলে চোখের অল্পদিনের বারোটা বেজে যাবে। ব্লু লাইট প্রটেক্ট গ্লাস ব্যবহার করার সুবিধাগুলো হল -

  1. চোখ জ্বালা কমায়ঃএটা পরলে ৪০ থেকে ৫০% ক্ষতিকর নীল আলো আটকে দেয়। ফলে চোখ জলে না।
  2. চোখ শুকানো রোধ করেঃব্লু লাইট প্রটেক্ট গ্লাস পরলে পলক ফেললেও চোখ ভেজা থাকে। চোখ শুকায় না। 
  3. মাথা ব্যথা কমেঃকম্পিউটারে কাজ করলে সাধারণত স্কিনের দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকতে হয়। এই গ্লাসটার চোখে দিয়ে কাজ করলে মাথা ব্যথা করেনা। 
  4. রাত্রে ঘুম ভালো হয়ঃরাতের বেলায় নীল আলোর  জন্য ঘুম হয় না, সেটা অনেকটাই কমে যায়। 
  5. দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ঠেকায়ঃব্লু লাইট প্রটেক্ট গ্লাস পরলে, রেটিনার ক্ষতি আরদ্রুত পাওয়ার বাড়ার ঝুঁকি কমায়। 
  6. ঝাপসা দেখা কমায়ঃস্কিনে যে লেখাগুলো থাকে ওগুলো ঝাপসা দেখা কমায়। আর ফোকাসটা বাড়িয়ে দেয়। 
  7. কম বাজেটঃএই গ্লাসটা ৩০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে ভালো মানের পাওয়া যায়। 
  8. সবার জন্যঃযাদের কোন পাওয়ারের প্রয়োজন নেই তারাও জিরো পাওয়ার থাকতে পারবে। 

চোখের শুষ্কতা দূর করার রিফ্রেশিং ড্রপ

কম্পিউটারে কাজ করতে করতে চোখ শুকিয়ে যায়। চোখের ভিতরে খচখচ করে তখন এই ড্রপটা অনেক কাজে দেয়। এখন চলুন জেনে আসি এই ড্রপ কিভাবে শুষ্কতা দূর করে -

আমরা যারা কম্পিউটারে কাজ করি কম্পিউটারের স্কিনের দিকে তাকিয়ে থাকি ওই সময় চোখের পলক খুব কম খেলা হয়, তাই অনেক সময় চোখের পানি শুকিয়ে যায়। আর ওই সময় যদি এই রিফ্রেশিং চোখে এক ফোটা দেওয়া যায় তখন চোখটা আবার ভিজা ভিজা হয়। চোখ জ্বালাপোড়া কমায়, খচখচে কমায় অনেক আরাম লাগে। সত্যি কথা বলতে গেলে এই রিফ্রেসিং ড্রপ টা হল কৃত্রিম চোখের পানি। তাই যখন চোখটা শুকিয়ে যায় এক ফোটা দিলে চোখের অনেক ভালো উপকার হয়। এই ড্রপের মধ্যে পাওয়ার ফুল কোন মেডিসিন থাকে না। তাই দিনে ৩-৪ বার দিলেও কোন সমস্যা হয় না। 

তবে আর একটা কথা বলি, মনে রাখবেন চোখে সমস্যা হলো আর সাথে সাথে ড্রপ দিয়ে দিলেন এটা করবেন না। ড্রপ দেওয়ার আগে হাতটা পরিষ্কার করে ধুয়ে নেবেন। তারপরে মাথা পেছনের দিকে হেলিয়ে কোণে এক ফোটা ড্রপ দিবেন। তারপর ১০ সেকেন্ড চোখ বন্ধ করে রাখবেন। মনে রাখবেন ড্রপের মুখ যেন স্পর্শ না করে। বাইরে থেকে এসে বা কম্পিউটারে অনেকক্ষণ কাজ করার পরে অনেক ভালো লাগে। আর একটা কথা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন পাওয়ারফুল ড্র নিজে নিজে ব্যবহার করবেন না। শুধু রিফ্রেসিং ড্রপ টা ব্যবহার করতে পারেন। 

ডার্ক মোড করলে চোখের কি উপকারিতা হয়

ডার্ক মোট ব্যবহার করলে চোখের প্রথম উপকারিতা হল -স্কিনে যে আলোটা থাকে সেই আলোর ধাক্কাটা চোখে অনেক কম লাগে। যখন স্কিনটা লাইট মোডে থাকে, তখন স্কিনের আলোটা অনেক হয়। আর সেই আলোটা চোখে এসে পড়লে চোখ জলে আর মাথা ব্যথা করে। আর ডার্ক মোডে যখন কম্পিউটার থাকে তখন স্কিনটা কালো হয় আর লিখা গুলো সাদা থাকে। এ সময় যে আলোটা বের হয় অনেক কম। তাই চোখে তেমন ক্ষতি হয় না। 

চোখে চাপ কম লাগে আর বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকলেও সমস্যা হয় না। তারপরে মানুষের জন্য যেটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রাতের ঘুম। ডার্ক মোডে থাকলে আলো কম আসে তাই রাত্রে ঘুমটা ভালো হয়। আর লাইট মোডে অনেক নীল থাকে যা রাতের ঘুমকে কেড়ে নেয়। সে ক্ষেত্রে যদি ডার্ক মোডে কম্পিউটার থাকে তাহলে সব দিক দিয়েই ভালো হয়। রাত্রে তাড়াতাড়ি ঘুম আসে, চোখ শুকায় না মাথা ব্যথা করে না। তাই আমার মতে রাত ৭ টার পরে সব অ্যাপগুলোতেই ডার্ক মোড অন করে রাখা ভালো। 

স্কিন টাইম কমানোর প্র্যাকটিক্যাল উপায়

স্কিন টাইম কমানোর ৫ টি উপায় দেওয়া হল -

ঘুম থেকে উঠে ফোন না ধরাঃসকালবেলা মুখ হাত ধুয়ে উঁচু করে নামাজ পড়ে নিবে। তারপর সকালের নাস্তা খেয়ে এক ঘন্টা পর ফোন হাতে নিবেন। দেখবেন আপনার দিনটা ইনশাআল্লাহ অনেক ভালো যাবে। 

অ্যাপ টাইমার লাগানোঃyoutube, facebook টিক টক ৩০ মিনিট করে টাইমার লাগিয়ে দিবেন।সময় শেষ হলে ফোন নিজে নিজে বন্ধ হয়ে যাবে।

ফোন লুকিয়ে রাখাঃপড়ার সময়, কাজের সময়, বিশেষ করে ঘুমানোর সময় ফোন কখনোই বালিশের নিচে রাখবেন না। ঘরের ভিতরে যে কোন একটা সেভ জায়গায় রেখে দেবেন চোখের আড়ালে। কারণ চোখে দেখলে হাতে নিতে মন চাইবে। 

রাতে ব্ল্যাক -হোয়াইট মোডঃরাতের বেলায় এই মোড গুলো অফ করে দিন। ফোনের কালার যদি রঙিন না থাকে তাহলে টিপতেও ভালো লাগবে না। ঘুমটা ও ভালো হবে। 

বিকল্প পথঃকম্পিউটারে কাজ করতে করতে যখন খুব বোরিং লাগবে তখন, হাটাহাটি করুন, বই পড়ুন তাহলে সময় কেটে যাবে। 

ফ্রিল্যান্সারদের চোখের ব্যায়াম ও ২০-২০-২০ রুল

ফ্রিল্যান্সাররা সাধারণত অনেক সময় ধরে ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের স্ক্রিনে কাজ করে। তাই ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এই রুলসটা মানা আবশ্যক। ২০ মানে হচ্ছে প্রতি ২০ মিনিট পর পর চোখ স্কিন থেকে সরানো। পরের ২০ মানে হচ্ছে ২০ সেকেন্ডের জন্য দূরে কোথাও তাকানো। আবারও ২০ মানে হচ্ছে ২০ ফুট দূরে জানালার বাইরে সবুজ গাছপালা দিকে তাকাবেন। তাহলে চোখের মাংস পেশি রিলাক্স হয়ে যায়। এতে চোখ শুকায় না বরং চোখের পানি আবার ফিরে আসে। 

এখানে তো বিষ মানে সুন্দর ভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হল কিন্তু ২০ মিনিট পর আসলে কিভাবে বুঝতে পারবো যে ২০মিনিট হল। তাই ২০ মিনিট পরপর এলার্ম দিয়ে রাখবেন। এটা যদি না পারেন তাহলে আই কেয়ার ২০-২০-২০ এই অ্যাপসটা নামিয়ে নেবেন। যখনই এলাম বাজবে তখন স্টেপ বাই স্টেপ আপনার কাজগুলো করে ফেলবেন। এই কাজগুলো যদি নিয়মিত করতে পারেন তাহলে চোখের অনেক উপকার হবে চোখ জ্বালাপোড়া করবে না আবার কাজেও মন বসবে। 

কোন পর্যায়ে চক্ষু  ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত

যখন দেখবেন নিম্নোক্ত সমস্যা গুলো খুব বেশি হয়ে যাচ্ছে তখন আর দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। 

  • যদি ২-৩ দিনের বেশি চোখ লাল থাকে।চোখ জ্বালা পোড়া করে, চোখ দিয়ে পানি পড়ে এগুলো যদি কোন কিছুই না কমে সাথে সাথে ডাক্তারের কাছে যাবেন। 
  • যদি লেখা ঝাপসা দেখেন, চোখ ব্যথা করে, আবার আলোতে তাকাতে কষ্ট হয় তখন যাবেন। 
  • প্রতিদিন ড্রপ দেওয়ার পরেও যদি মাথা ব্যথা বাড়তেই থাকে। 
  • যদি চোখ ফুলে যায়। আর মনে হয় চোখের মধ্যে মনে হয় কোন কিছু ঢুকেছে এরকম সময়ে। 
  • যদি মনে হয় এক চোখের চেয়ে অন্য চোখে কম দেখা। 
  • যদি বংশগতভাবে পরিবারের চোখের পাওয়ার  গ্লুকোমার এর ইতিহাস থাকে তাহলে বছরে কমপক্ষে একবার চেকআপ করাবেন। 

ঘরোয়া ভাবে চোখের যত্ন নেওয়া যা ডাক্তারেরাও বলে

ঘরোয়াভাবে ও চোখের যত্ন নিয়ে চোখকে অনেকটা ভালো রাখতে পারেন। সারাদিন কাজ করে আসার পরে পরিষ্কার পানি দিয়ে চোখে ঝাপটা দিলে অনেকটাই আম পাওয়া যায়। আবার রাতে শোয়ার সময় গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে চোখের উপর রাখবেন এই যত্ন তাকে ডাক্তারের ভাষায় হট কম্প্রেসার বলে। আর দিনে দুইবার ঠান্ডা শসা আর ব্যবহৃত টি ব্যাগ দশ মিনিট চোখে রাখলে চোখের ফোলা ও কালো দাগ কমে যায়। 

খাওয়া আর ঘুম এ দুটা ও চোখের যত্নের মধ্যে পড়ে। ডাক্তারেরা বলে ছোট মাছ, গাজর, পালং শাক, ডিম এইগুলো বেশি বেশি খেতে কারণ এগুলোতে ভিটামিন এ আছে যা চোখের জন্য অনেক উপকার। দিনরাত মিলে ৭ থেকে ৮ ঘন্টা তা না হলে চোখ শুকিয়ে যায়। আর বাইরে গেলে চশমা ব্যবহার করলে ভালো হয়। তাহলে ধুলাবালি থেকে চোখ বেঁচে থাকে। 

যে ভুলগুলো চোখের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে

রাতের বেলা অন্ধকারে শুয়ে শুয়ে ফোন চালানো, আর চোখ কচলানো এতে চোখের প্রচুর ক্ষতি হয়। বর্তমানে বেশিরভাগ মানুষই রাত্রেবেলা লাইট অফ করে ফোন টিপতে থাকে। এতে চোখের পাওয়ার খুব তাড়াতাড়ি বেড়ে যায়। আর চোখ কচলানোর কারণে চোখের ভিতরে যে একটা পাতলা পর্দা আছে সেটাতে দাগ পড়ে যায়। ময়লা হাত দিয়ে চোখ খেয়ে স্পর্শ করলে ইনফেকশনে হতে পারে। 

আরেকটা বড় ভুল হচ্ছে নিজে নিজে দাদাগিরি করে দোকান থেকে আজগুবি একটা ড্রপ আর চশমা কিনে এনে ব্যবহার করা। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ড্রপ দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে অনেক সময় চোখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আবার অনেক সময় কম্পিউটার চালানোর সময় ব্লু কাট চশমা পড়ে না চোখের পাওয়ার থাকা সত্ত্বেও পরেনা। দিনের পর দিন চলে যায় তারপরও ডাক্তারও দেখায় না এই ভুলগুলোর কারণে এক সময় চোখে মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যায়। 

একটানা কম্পিউটারে কাজ করলে চোখের যত্ন নেওয়ার নিয়ম এর শেষ পরামর্শ

একটানা কম্পিউটারে কাজ করলে চোখের যত্ন নেওয়ার নিয়ম এর শেষ পরামর্শ হিসেবে আমি বলব, যেহেতু চোখ হচ্ছে আল্লাহর দেওয়া একটা বিশেষ নিয়ামত। আর অনেক দামী মূল্যবান একটা জিনিস। তাই এর যত্ন নেওয়াটা অনেক জরুরী। ২০ মিনিট পর পর ২০ সেকেন্ডের জন্য দূরে তাকিয়ে থাকবেন। স্কিনের আলো রাখতে হবে। আর ঘুমানোর আগে ফোন দেখা বন্ধ করবেন। 

আর একটা সবথেকে বড় কথা হল, চোখ ঝাপসা বা ব্যথা হলে নিজে নিজে দোকান থেকে ড্রপ কিনে  চোখে দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন । বরং এরকম সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।আর ডাক্তার যেভাবে বলে সেভাবে চলুন। আর ডাক্তার যে খাবারগুলো খেতে বলে সেই খাবার গুলো নিয়মিত খাবেন। প্রতিদিন ৭-৮ঘন্টা আর ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলেন তাহলে সারাদিন কম্পিউটারে  কাজ করলেও চোখের কোন সমস্যা হবে না ইনআশাল্লাহ। 

আরো পড়ুনঃফ্রিল্যান্সিং কাজের জন্য কম দামে সেরা ল্যাপটপ রিভিউ 

একটানা কম্পিউটারে কাজ করলে চোখের যত্ন নেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে আমি একদম বিস্তারিত বলার চেষ্টা করেছি। এর মাঝেও যদি আমি কোন কিছু বলতে বা লিখতে ভুলে যায় তাহলে আপনারা আমাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।আর এর মাঝে যদি কোন কিছু বুঝতে আপনাদের সমস্যা হয় তাহলে আমাকে অবশ্যই জানাবেন আমি বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করব ইনআশাল্লাহ। 





এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপনি যদি ইচ্ছা পুরন এর কোন পোস্টে কমেন্ট করতে চান, তাহলে এর নীতি মেনে কমেন্ট করুন। কারন প্রত্যেকটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url