মোবাইল দিয়ে থ্রিডি কার্টুন এনিমেশন ভিডিও তৈরি
মোবাইল দিয়ে থ্রিডি কার্টুন এনিমেশন ভিডিও তৈরি করতে পারেন খুব সহজে এখন ঘরে বসে। এখন ঘরে বসেই প্রফেশনাল থ্রিডি কার্টুন বানিয়ে টাকা ইনকাম করা যায়। এর জন্য ল্যাপটপ বা কম্পিউটার এর প্রয়োজন হবে না।
এমন কি কোনো অভিজ্ঞতা দরকার নেই। শুধু প্রয়োজন আপনার হাতের একটা স্মার্ট ফোন। স্মার্ট ফোন হাতে থাকলে আপনি শুধু কার্টুন ভিডিও বানিয়ে মাসে ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবেন।
সূচিপত্রঃমোবাইল দিয়ে থ্রিডি কার্টুন এনিমেশন ভিডিও তৈরি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।
- মোবাইল দিয়ে থ্রিডি কার্টুন এনিমেশন ভিডিও তৈরি করার বিভিন্ন ফ্রি টুলস
- মোবাইল দিয়ে ২ডি কার্টুন ভিডিও তৈরি করার উপায়
- ঘরে বসে কার্টুন চ্যানেল খুলে ইনকাম করার উপায়
- বাচ্চাদের জন্য গল্পের কার্টুন বানানোর তিনটি সহজ উপায়
- মোবাইল দিয়ে থ্রিডি কার্টুন বানানোর সহজ উপায়
- কার্টুন ভিডিও তৈরি করে ইউটিউব থেকে আয়
- ইসলামিক এবং শিক্ষামূলক কাটুন বানানোর সহজ পদ্ধতি
- ফেসলেস কার্টুন চ্যানেলের আইডিয়া
- শর্ট ভিডিও দিয়ে কিভাবে সাবস্ক্রাইবার বানানো যায়
- মোবাইল দিয়ে থ্রিডি কার্টুন এনিমেশন ভিডিও তৈরি করার সিন সেটাপ
- সেরা এনিমেশন মেকার অ্যাপ
- এক মিনিটে কিভাবে এ আই দিয়ে গল্প বানানো যায়
- শেষ কথাঃমোবাইল দিয়ে থ্রিডি কার্টুন এনিমেশন ভিডিও তৈরি করার শেষ পদ্ধতি
মোবাইল দিয়ে থ্রিডি কার্টুন এনিমেশন ভিডিও তৈরি করার বিভিন্ন ফ্রি টুলস,
মোবাইল দিয়ে থ্রিডি কার্টুন এনিমেশন ভিডিও তৈরি করার জন্য যেসব জনপ্রিয় ফ্রী টুলস আছে সেগুলো হল :
- piotagon story
- chroma Toons
- Tween cragt
- Arinm 8
- Rough animator
- piotagon story,এটা এমন একটা অ্যাপ যেখানে শুধু গল্প লিখে দিবেন।গল্প লিখে দিলে সে নিজেই কাটুন ক্যারেক্টার দিয়ে কথা বলিয়ে ভিডিও বানিয়ে দেবে।এটা নতুনদের জন্য একদম বেস্ট অপশন কোন টাকা লাগবে না।
- chroma Toons,এই অ্যাপস এর মাধ্যমে নিজের ছবি তুলে কার্টুন বানাতে পারবেন । এই অ্যাপসটা নিজেই ব্যাকগ্রাউন্ড চেঞ্জ করে মজার মজার থ্রিডি দৃশ্য বানিয়ে দেবে। এটা কাটুন বানানোর জন্য অনেক ভালো একটা অ্যাপস।
- Toon Cragter, এই অ্যাপসটা দুইটা ছবির মাঝখান দিয়ে নিজে থেকেই অ্যানিমেশন তৈরি করে দেয়। এর মানে হলো একটা ছবি থেকে আর একটা ছবিতের ক্যারেক্টার নড়াচড়া করবে। এটা কমের মধ্যে সুন্দর অ্যানিমেশন পাবেন।
- Anim্এই অ্যাপে রেডি থ্রিডি ক্যারেক্টার আছে। আপনি শুধু এদের হাত-পা নাড়িয়ে ভিডিও বানাবেন। গেমের মতো করে কার্টুন বানানো যায়।
- Rougg Animator,এই অ্যাপসটা দিয়ে হাতে আঁকা কাটুন কে থ্রিডির কার্টুনের মত নড়ানো যায়। এটা ফ্রেম বাই ফ্রেম আঁকতে হয় তাই একটু সময় লাগে।প্রফেশনাল কার্টুন বানানোর জন্য এটা অনেক ভালো একটা অ্যাপস ।
মোবাইল দিয়ে ২ডি কার্টুন ভিডিও তৈরি করার উপায়
বর্তমান ডিজিটাল যুগে কার্টুন ভিডিও বানানোর জন্য বেশি কিছু লাগে না । আগে কার্টুন ভিডিও বানানোর জন্য পিসি ছাড়া হতো না। আবার অনেক কঠিন সফটওয়্যার লাগতো। আবার কার্টুনগুলো বানানোর জন্য মেধা খাটাতে হতো তারপরে একটা কার্টুন ভিডিও বানানো যেত। কিন্তু এখন কার্টুন ভিডিও বানানোর জন্য এত পরিশ্রম করা লাগে না।শুধু আপনার হাতের একটা স্মার্টফোন আর নেট সংযোগ থাকলেই সুন্দর সুন্দর ভিডিও বানাতে পারবেন।
তবে এর জন্য আপনার ধৈর্য প্রয়োজন। একটা কথা কি ধৈর্য ছাড়া কোন কাজেই সফল হওয়া যায় না। তাই ধৈর্য ধরে কাজ করতে হবে। তবে আইডিয়াগুলো নিজে বুদ্ধি খাটিয়ে বের করতে হবে। তাহলে মোবাইল দিয়ে ফ্রি অ্যাপগুলোতে একদম রেডি ক্যারেক্টার ব্যাকগ্রাউন্ড ভয়েস সব কিছুই পেয়ে যাবেন। আমার মতে নতুন অবস্থায় টাকা দিয়ে ভিডিও বানানোর দরকার নেই। এসব ফ্রি টুলস গুলো আছে সেগুলো দিয়ে ভালো করে ভিডিও বানানো শেখা যাবে।
মোবাইল দিয়ে কার্টুন ভিডিও বানানোর তিনটা সহজ উপায় :
- Flipaclip আর Toontastic এই অ্যাপগুলো দিয়ে আপনি নিজের ছবি একে ফ্রেম কার্টুন বানাতে পারবেন। এটা নতুনদের জন্য একদম পারফেক্ট।
- AIবা ক্যানভা তে গিয়ে শুধু গল্প লিখে দিবেন। তাহলে এ আই নিজেই ক্যারেক্টার দিয়ে ভিডিও বানিয়ে দেবে। যে কাজ আগে ঘন্টার পর ঘন্টা লাগতো সেই কাজ এখন ১০ মিনিটেই শেষ যাবে।
- আর একটা হচ্ছে টেমপ্লেট দিয়ে ভিডিও বানানো, ক্যাট কাট আর alight motion এখানে রেডি তুরি টেমপ্লেট আছে। শুধু লেখা আর ছবি চেঞ্জ করে দিলেই ভিডিও রেডি হয়ে যাবে।
ঘরে বসে কার্টুন চ্যানেল খুলে ইনকাম করার উপায়
আপনি কি কার্টুন দেখতে পছন্দ করেন? তাহলে আর দেরি করবেন না আজকে একটা youtube চ্যানেল খুলে ফেলেন শুধু কার্টুন ভিডিও বানিয়ে আপলোড করার জন্য। আল এই ভিডিও বানানোর জন্য কোন অফিসে যাওয়া লাগবেনা। আবার পিসি বা ল্যাপটা পড়ে দরকার নেই। আপনি ইচ্ছা করলে ঘরে বসে মোবাইল দিয়ে কার্টুন ভিডিও বানিয়ে ওই ভিডিও কাটুন চ্যানেলে পোস্ট করতে পারবেন। বর্তমানে কার্টুন ভিডিও অনেকেই পছন্দ করে শুধু বাচ্চারা না বড়রাও পছন্দ করে।
কি আর বলবো কার্টুন দেখে আমার নিজেরও ভিষন ভালো লাগে। তাই আমিও একটাই ইউটিউবে কাটুন চ্যানেল খুলেছি। ওইখানে অন্য ধরনের কার্টুন ভিডিও বানিয়ে পোস্ট করব।কাটুন চ্যানেল বানিয়ে ফ্রি ফ্রি এপ্স গুলো দিয়ে কার্টুন ভিডিও তৈরি করে ইনকাম করতে পারেন। মানুষ যখন আপনার ভিডিওগুলো দেখবে আর তাদের ভালো লাগবে তখন আস্তে আস্তে করে আপনার ভিউ এবং সাবস্ক্রাইব বাড়বে। এরকম করতে করতে একসময় আপনার এই ইউটিউব প্লাটফর্ম টা অনেক বড় হয়ে যাবে।
এরকম করতে করতে যখন আপনার চ্যানেলে ১০০০ সাবস্ক্রাইবার আর ৪০০০ ঘন্টা ভিউ হয়ে যাবে তখন youtube আপনাকে টাকা দেওয়া শুরু করবে। তার মানে youtube এ আপনি মনিটাইজেশন পেয়ে যাবেন তারমানে আপনি ইউটিউবে মনিটাইজেশন পেয়ে যাবে।আপনি কার্টুনের চ্যানেল বাদে অন্য কোন চ্যানেল খুলে ও টাকা ইনকাম করতে পারেন। বিভিন্ন খেলনা কোম্পানি বা বইয়ের বিজ্ঞাপন দিয়েও টাকা ইনকাম করা সম্ভব। তাই আর দেরি নয়, যদি চ্যানেল দিয়ে টাকা ইনকাম ৫, করতে চান তাহলে আজকেই একটা কার্টুন চ্যানেল খুলে ফেলেন।
বাচ্চাদের জন্য গল্পের কার্টুন বানানোর তিনটি সহজ উপায়
- এ আই দিয়ে গল্প লিখে কার্টুন বানানো :আপনি যদি চান তাহলে চ্যাট জিপিটি অথবা জেমিনি এ আই দিয়ে গল্পের স্ক্রিপ্ট বানিয়ে নিতে পারেন। বানিয়ে নিতে পারেন মানে বানিয়ে নিতে হবে। আপনি যে ধরনের ভিডিও বানাতে চান সেটা চ্যাট জিপিটি অথবা জেমিনিকে বললে সে আপনার কথা অনুযায়ী একটা স্ক্রিপ্ট লিখে দিবে বা গল্প লিখে দিবে। সেটা কপি করে যেখানে ভিডিও বানাবেন সেখানে টেস্ট করলেই অনেক সুন্দর কার্টুন ভিডিও বানিয়ে দেবে। তবে একটা কথা মনে রাখবেন। আপনি যে ধরনের ভিডিও বানাতে চান ঠিক সেই রকম ভাবেই চ্যাট জিপিটি কে বলতে হবে তা না হলে অন্যরকম হয়ে যাবে।
- রেডি ক্যারেক্টার দিয়ে গল্প সাজানো :patagon story অথবা Toontasticএই অ্যাপ গুলো ডাউনলোড করে এখান থেকে অনেক কার্টুন ক্যারেক্টার আছে সেগুলো থেকে বেছে নিবেন। আপনি শুধু ওরা কি কথা বলবে সেটা বলে দেবেন কোথায় দাঁড়াবে সেটা ঠিক করে দেবেন। তাহলে গল্প রেডি হয়ে যাবে।
- নিজে নিজে ছবি এঁকে কাটুন বানানো, অনেক আশ্চর্য লাগছে তাই না? যে নিজে কার্টুন বানাবো সেই কাটুন আবার কথা বলবে হাঁটবে কত সুন্দর একটা ব্যাপার স্যাপার তাই না। flipa clip এই অ্যাপসটা তে নিজের মতো করে ছবি আঁকবেন। তারপর আরেকটা ছবি আঁকলে google নড়াচড়া করাবে এভাবে আপনি নিজের বানানো গল্পের কার্টুন বানাতে পারবেন। এইসব গল্পগুলো বানানোর সময় একটু সমস্যা হলেও করতে কিন্তু অনেক মজা লাগে।
মোবাইল দিয়ে থ্রিডি কার্টুন বানানোর সহজ উপায়
মোবাইল দিয়ে থ্রিডি কার্টুন বানানো এখন একদম পানির মত সোজা। কেউ যদি কোনদিনও এসব ভিডিও না বানায়। তাকে যদি বলা হয় তুমি এভাবে এভাবে ভিডিও বানাও সেও পারবে। থ্রিডি কার্টুন ভিডিও বানানোর জন্য একটা স্মার্টফোন অবশ্যই থাকতে হবে। স্মার্টফোনে যেসব ফ্রি অ্যাপ গুলো আছে কাটুন বানানোর সেগুলো ডাউনলোড করে নিতে হবে। যেসব অ্যাপগুলোর মধ্যে শুধু ক্যারেক্টার দিয়ে বললেই ভিডিও বানিয়ে দিবে সেই অ্যাপ ডাউনলোড করবেন।
এখন থ্রিডি কাটুন বানানোর জন্য ভালো ক্যামেরা বা পিসির প্রয়োজন হয় না । তবে মনোযোগ আর ধৈর্য অবশ্যই দরকার তাছাড়া প্রফেশনাল ভিডিও বানানো সম্ভব হবে না। এ আই নিজেই ক্যারেক্টার কে কথা বলে ভিডিও বানিয়ে দেবে। আর ভয়েস এর জন্য আলাদা অ্যাপ লাগবে না। তবে যেসব ফ্রি অ্যাপস আছে সেগুলোর ক্রেডিট থাকে। প্রতিদিন দুইটা অথবা তিনটা ভিডিও বানানো যায়।
নতুন অবস্থায় কোন ক্রেডিট না কিনে ফ্রি ফ্রি ভিডিও বানানো শেখাটাই ভালো। যেসব ফ্রি টোলস গুলো ফ্রি ফ্রি ভিডিও বানাতে দেয়, থেকে প্রতিদিন কয়েকটা করে ভিডিও বানিয়ে রাখলে সপ্তাহে বেশ কয়েকটা থ্রিডি কার্টুন বানানো সম্ভব। তবে যদি বাংলা ভয়েস দিতে চান সেটা তাকে উল্লেখ করে দিতে হবে এক কথায় যেরকম চান ঠিক সেরকমটাই বললেই সে ঐরকম ভাবেই ভিডিও দেবে। আর জদি ভুল বলেন তাহলে সে ভুল গল্পই লিখে দিবে ভুল ভিডিও হবে।
কার্টুন ভিডিও তৈরি করে ইউটিউব থেকে আয়
বর্তমানে কার্টুন ভিডিও দেখতে অনেকেই পছন্দ করে। শুধু ছোট বাচ্চারাই পছন্দ করে না, অনেক বড় মানুষও পছন্দ করে যেমন আমি কার্টুন ভিডিও দেখতে হবে ভীষণ পছন্দ করি। আর আপনারাও যদি আমার মত কার্টুন ভিডিও দেখতে পছন্দ করেন তাহলে এটাকে আপনারা একটা ইনকামের পথ হিসেবে নিতে পারেন। একটা ইউটিউবে কার্টুনের চ্যানেল খুলে ওইখানে সুন্দর সুন্দর কার্টুন ভিডিও আপলোড করে আয় করতে পারেন। একটা মজার বিষয় কি জানেন এই কাটুন ভিডিও বানানোর জন্য বড় কোন ক্যামেরা বা পিসির প্রয়োজন হয় না।
আরো পড়ুনঃনতুনদের জন্য ফ্রিতে এ আই টুলস ব্যবহার করার নিয়ম
প্রয়োজন হয় শুধু হাতে থাকা একটা স্মার্ট ফোন আর সাথে নেট লাগবে। আর সব থেকে যেটা বেশি প্রয়োজন সেটা হচ্ছে আপনার ইচ্ছা এবং ধৈর্য। ধৈর্য ধরে যদি প্রতিদিন একটা করে কাটুন ভিডিও পোস্ট করেনতাহলে কয়েক মাসের মধ্যে একটা ভালো রেজাল্ট পাবেন। এটা করার জন্য বাইরে যেতে হবে না। আবার মা বোনের আছেন যারা ঘরে বসে কিছু করতে চান, কিন্তু মুখ দেখাতে চান না, তারা কার্টুন ভিডিও বানিয়ে ঘরে বসে ইনকাম করতে পারেন। তাই বলে কি আর দেরি নয়, আজকে আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করুন।
ইউটিউবে মোবাইল দিয়ে কার্টুন ভিডিও বানিয়ে ইনকাম করা যায়। আপনি মজার মজার কার্টুন ভিডিও, শিক্ষামূলক ভিডিও, তারপরে ভূতের ভিডিও এইসব চ্যানেল খুলে ভিডিও বানিয়ে যদি ইউটিউবে একটা চ্যানেল খুলে ভিডিওগুলো ছাড়েন, তাহলে আস্তে আস্তে মানুষ ভিডিও দেখবে যখন ভালো লাগবে তখন সাবস্ক্রাইব করবে। এভাবে করতে করতে যখন আপনার ১০০০ সাবস্ক্রাইবার ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচ টাইম হবে তখন আপনি youtube থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।
যখন ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচ টাইম পূরণ হয়ে যাবে তখন ইউটিউব থেকে আপনার ভিডিওতে বিজ্ঞাপন দেখাবে। যত মানুষ এই বিজ্ঞাপন দেখবে, ওইখান থেকে আপনি টাকা পাবেন। এভাবে যখন আস্তে আস্তে আপনার ভিডিওতে অনেক ভিউ হবে, তখন বিভিন্ন প্রোডাক্ট কোম্পানি আপনাকে টাকা দিবে। কেন দিবে জানেন, তারা চাইবে আপনি যেন তাদের প্রোডাক্ট নিয়ে বাচ্চাদের কার্টুন বানান। এভাবে আস্তে আস্তে এক সময় মাসে ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবেন।
ইসলামিক এবং শিক্ষামূলক কাটুন বানানোর সহজ পদ্ধতি
বর্তমানে ইসলামিক এবং শিক্ষামূলক কার্টুন বানিয়ে অনেকেই টাকা ইনকাম করছে। আর এই কাটুন ভিডিও গুলো শুধু ছোটরা না বড়রাও দেখতে ভীষণ পছন্দ করে। ইসলামিক এবং শিক্ষামূলক কাটুন বানানো এখন অনেক সহজ। এর জন্য প্রয়োজন একটা স্মার্ট ফোন আর দুইটা ফ্রি অ্যাপ তাহলেই হবে।প্রথমে গল্পটা লিখে নেওয়ার জন্য জেমিনি এ আইতে গিয়ে গল্পটা সুন্দর করে লিখে নিবেন সহজ ভাষায়। জেমিনিকে যেভাবে বলবেন ঠিক সেই ভাবেই সে একটা গল্প লিখে দিবে।
তারপরে সেই গল্পটা cap cut বা plotagon অ্যাপ এ নিয়ে গিয়ে এখানে হুজুর বা ছোট বাচ্চা, বা মসজিদের মতো রেডি থ্রিডি ক্যারেক্টার রেডি করাই থাকে। যেটা ভালো লাগে সেইটা পছন্দ করে নিয়ে সেখানে ভয়েস দিয়ে দিলেই রেডি হয়ে যাবে থ্রিডি ইসলামিক কার্টুন ভিডিও। এখানে সুন্দর সুন্দর নীতিবাক্য, সত্য কথা বলা, আমাদের নবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরণ কিভাবে করব এইসব বিষয়ে,লিখে দিলেই ভিডিওগুলো বেশি সুন্দর হবে।
তবে মনে রাখতে হবে গল্পের কথাগুলো যেন কঠিন না হয় একদম জেন সহজ হয়। তারপরে মসজিদের ব্যাকগ্রাউন্ড মাদ্রাসার সবুজ প্রকৃতি দিলে বেশি সুন্দর লাগবে দেখতে। এরপরে কপিরাইট ফ্রি ইসলামিক গজল এর সাথে হালকা মিউজিক ব্যবহার করবেন। তাহলে দেখতে যেমন ভাল লাগবে শুনতে অনেকটাই ভালো লাগবে। এভাবে যদি কয়েক মাস কন্টিনিউ আপনি ভিডিও আপলোড করতে থাকেন তাহলে কয়েক মাসের মধ্যে একটা ভালো ফলাফল পাবেন ইনশাআল্লাহ।
ফেসলেস কার্টুন চ্যানেলের আইডিয়া
আমাদের দেশে অনেক মেয়েরাই অনলাইনে ঘরে বসে ইনকাম করতে চাই। কিন্তু নিজের ফেস দেখাতে চায় না। আবার কিভাবে ইনকাম করবে সেটা বুঝতে পারে না। তাদের জন্য ইউটিউবে দারুন ইনকামের সুযোগ রয়েছে। সেটা হচ্ছে ফেসলেস কার্টুন চ্যানেল। নিজের চেহারা না দেখিয়ে ইনকাম করার সেরা পথ হচ্ছে এটা। এখানে আপনার মুখ লাগবেনা। শুধু মোবাইল দিয়ে থ্রিডি কার্টুন ক্যারেক্টার বানিয়ে গল্প বলতে হবে। বিভিন্ন ধরনের মজার মজার গল্প যেমনঃভূতের গল্প, মজার মজার হাসির গল্প, বিভিন্ন ধরনের ইসলামিক কার্টুন।
এগুলো সব এআই দিয়ে ভয়েস দিয়ে বানিয়ে নিতে পারবেন। এতে করে মানুষ কার্টুন দেখবে কিন্তু আপনাকে দেখতে পারবে না। আর যদি আপনার কার্টুন ভিডিও গুলো ভালো লাগে তাহলে তো অনেক তাড়াতাড়ি আপনি ভালো ফলাফল পাবেন। কোন বিষয় নিয়ে গল্প লিখলে ভালো হয় সে বিষয়গুলো আমি আপনাদেরকে বলে দিচ্ছি যদি ভালো লাগে তাহলে এই বিষয়গুলো নিয়ে গল্পের ভিডিও বানাবেন।
- শিক্ষামূলক গল্পের চ্যানেলঃপ্রতিদিন একটা করে সত্য কথা বলা।আবার সাহায্য করা নিয়ে নিয়ে কার্টুন ভিডিও বানাবেন।
- ঘুমের আগের গল্পঃ রাতে শোয়ার পরে সাথে সাথে কিন্তু ঘুম আসে না সেই সময়ে সোনার মতো শান্ত সুন্দর ইসলামিক বা রাজার গল্পের সুন্দর ইসলামিক কার্টুন বানিয়ে ও টাকা ইনকাম করা যায়।
- কমেডি কার্টুনঃকমেডি কার্টুন গুলো মানুষ অনেক বেশি দেখে। কি আর বলব কমেডি কার্টুন দেখতে আমার ও ভীষণ ভালো লাগে।যেমন ধরেন একটা বিড়াল আর একটা কুকুরের মত মজার ক্যারেক্টার দিয়ে এক মিনিটের শর্ট ভিডিও দাও। এই কথা যদি চ্যাট জিপিটি কে বলা হয় তাহলে চ্যাট ডিপিতে সুন্দর একটা স্ক্রিপ লিখে দিবে লেখার পরে তার কাছ থেকে একটা প্রমোট নিয়ে সেটা কপি করে যে কোন একটা ফ্রি টুলস এ গিয়ে পেস্ট করলে ভিডিও তৈরি করে দেবে।
শর্ট ভিডিও দিয়ে কিভাবে সাবস্ক্রাইবার বানানো যায়
মানে হল এক মিনিটের মধ্যে ছোট ছোট কার্টুন ভিডিও বা তার থেকে এক্তু ছোট হলেও চলবে। এই ছোট ছোট ভিডিও গুলো দিয়ে খুব তাড়াতাড়ি ভাইরাল হওায়া যাই। তাই আপনি যদি প্রতিদিন একটা করে শর্ট কার্টুন ভিডিও ইউটিউবে ছাড়েন তাহলে আস্তে আস্তে ভালো ফল পাবেন। তবে মনে রাখবেন ভিডিওর শুরুটা যেন অনেক আকর্ষণীয় হয়। প্রথম কয়েক সেকেন্ডেই যেন মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারে এরকম ভিডিও বানাতে হবে।আর মানুষ যদি মজার কথা পায় তাহলে সে অবশ্যই সাবস্ক্রাইব করে দেবে।
সাবস্ক্রাইব বাড়ানোর দুইটা গোপন বিষয় হলঃ
- প্রতিদিন নিয়ম করে ভিডিও দিতে হবে :এই নিয়মটা আপনাকে করতে হবে, প্রতিদিন নিয়ম করে ভিডিও আপলোড করতে হবে ইউটিউবে। যারা প্রতিদিন ভিডিও দেয় youtube তাদের ভিডিও বেশি মানুষকে দেখায়।
- মানুষের উপকারী ভিডিও বানাতে হবে :মানুষের উপকারে ভিডিও বলতে যে ভিডিও দেখলে মানুষের একটু হলেও উপকার হয় সেরকম ভিডিও বানালে খুব তাড়াতাড়ি youtube থেকে টাকা ইনকাম করা যাবে।
মোবাইল দিয়ে থ্রিডি কার্টুন এনিমেশন ভিডিও তৈরি করার সিন সেটাপ
মোবাইল দিয়ে থ্রিডি কার্টুন এনিমেশন ভিডিও তৈরি করলেই হবে না, কথার সাথে বিভিন্ন ধরনের সিন বা দৃশ্য দিতে হবে। আর এই কাজটা মোবাইল দিয়ে করাও অনেক সহজ। প্রথমে plotagon, ToonCrafter বাani maker একটা ওপেন করে, new sceneএখানে ক্লিক করে আপনি যে গল্পটা দিবেন সেই গল্প অনুযায়ী জায়গা সিলেক্ট করে নিবেন। যদি ইসলামিক গল্প হয় তাহলে মসজিদে, যদি স্কুলের গল্প হয় তাহলে ক্লাস রুম, আর যদি ভূতের গল্প হয় তাহলে রাতের জঙ্গল এইসব সিন গুলো দিতে হবে।
তারপরে প্রাকৃতিক পরিবেশ টা ফুটিয়ে তুলতে হবে চারিদিকে গাছপালা সবুজ ঘাস, পাখি,ফুল আকাশ পাখি এইসব সুন্দর সুন্দর সিনারি দিতে হবে। মনে রাখবেন ব্যাকগ্রাউন্ড যত বেশি সুন্দর হবে মানুষ তত বেশি দেখবে। নিজেকে দিয়েও সেটা পরীক্ষা করে নিতে পারেন। আমিও যদি কাটুন ভিডিও দেখি তাহলে ওইগুলোর সিন দেখলে অনেক মুগ্ধ হয়ে যায়। আর এসব সুন্দর সুন্দর তৈরি করার জন্য কয়েকটা ছোট ছোট টিপস আছে -
লাইটিং ঠিক রাখাঃযদি দিনের দিন হয় তাহলে অনেক উজ্জ্বল আলো রাখতে হবে সিন হলে অন্ধকার রাখতে হবে আর যদি সন্ধ্যার সিন হয় তাহলে হালকা অন্ধকার দিতে হবে।
ক্যামেরার অ্যাঙ্গেলঃক্যামেরার অ্যাঙ্গেল কখনো কখনো সামনে থেকে দিতে হবে। আবার সাইড থেকে দিতে হবে পেছন থেকে দিতে হবে এভাবে দিলে ভিডিও অনেক প্রফেশনাল লাগে।
চীনের মধ্যে বেশি জিনিস দেওয়া যাবে নাঃকোন একটা ভিডিও তৈরী করার সময় যদি তার ভিতরে অনেক বেশি আজে বাজে জিনিস থাকে তাহলে দেখতে একটুও ভালো লাগবে না জংলি জংলি লাগবে। তাইসিন গুলো যত ফাঁকা রাখা যায় ততই ভালো লাগবে।
সেরা এনিমেশন মেকার অ্যাপ
থ্রিডি কার্টুন বানানোর জন্য সেরা অ্যানিমেশন অ্যাপ গুলো এর মধ্যে যেগুলো সব থেকে ভালো সেগুলো নিচে দেওয়া হল
Alight Motion 3d:এই অ্যাপটা দিয়ে মোবাইলে দিয়ে থ্রিডি কাটুন বানানো যায়। দেখতে একদম সিনেমার মত লাগে। এর ভিতর এ আই ক্যারেক্টার জেনারেটর আছে। শুধু মুখ দিয়ে বলতে হবে ছেলে নাকি মেয়ে এগুলো লিখে দিলেই অটোমেটিক ভাবে, ক্যারেক্টার বানিয়ে দেবে। তারপরে এর সাথে যদি ভয়েস দেন তাহলে ঠটো নাড়াবে।এইগুলো একদম ফ্রি ভার্সন।
kaiberbAi animation :এই অ্যাপটার সব থেকে বড় ম্যাজিক কি জানেন? এখানে ছবি থেকে ভিডিও বানানো যায়.।প্রথমে এই আইডি একটা ছবি বানিয়ে নিতে হবে তারপর বলতে হবে এটাকে নড়াচড়া করাও তাহলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই থ্রিডি এনিমেশন রেডি করে দেবে। এই একটা ইসলামিক গল্প নৈতিক গল্পের জন্য অনেক ভালো কারণ এটার ব্যাকগ্রাউন্ড অরজিনাল এর মতোই হয়।
Vidu Aiআরcapcut এই দুইটা অ্যাপ একসাথে করে অনেক সুন্দর ভিডিও বানানো যায়। প্রথমে ভিডু এআই দিয়ে কয়েক সেকেন্ড এর থ্রি দি ক্লিপ বানিয়ে নিবেন। তারপরে ক্যাটকাটে নিয়ে গিয়ে সাবটাইটেল এড করবেন আর ভয়েস দিবেন। এভাবে কয়েক মিনিটের মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই বানানো যায়। ইউটিউব শটের জন্য এটা সবথেকে ভালো একটা অ্যাপ।
এক মিনিটে কিভাবে এ আই দিয়ে গল্প বানানো যায়
অল্প সময়ের মধ্যে গল্প বানানোর জন্য প্রথমেই মোবাইল বা ল্যাপটপ অথবা কম্পিউটার দিয়ে চ্যাট জিপিটি বা মেটা অল অ্যাপ ওপেন করে নিতে হবে । তারপরে শুধু ওদেরকে যে টপিক নিয়ে গল্প বানাতে চাচ্ছেন সেটা বলে দিতে হবে। আর কত সময়ের মধ্যে গল্প নিবেন সেটা উল্লেখ করে দিলে, তারা এত সুন্দর আর এত সহজ ভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে গল্প বানিয়ে দিবে যা কল্পনার বাইরে। আপনি ভাবতেও পারবেন না যে এত সুন্দর করে এরা গল্প বানিয়ে দিতে পারে।
যে ধরনের গল্প নিতে চান শুধু তাকে টপিকটা বলে দিলে সুন্দর ভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে গল্প লিখে দিবে। আবার যদি গল্পটা আপনার পছন্দ না হয় তাহলে বলবেন এই গল্পটা ভালো লাগলো না, আরও সহজ করে দাও যাতে বাচ্চারাও বুঝতে পারে। তাহলে সে আবার সুন্দর করে আর একটা গল্প লিখে দিবে। লেখাটাকে কপি করে আপনি যে অ্যাপ এ গিয়ে ভিডিওটা বানাতে চাচ্ছেন সেখানে গিয়ে পেস্ট করলে সুন্দর একটা গল্প বানিয়ে দেবে। তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে এ আই দিয়ে ভিডিও বানালে ৮ অথবা ১০ সেকেন্ডের ভিডিও দেয় তার বেশি দিবে না।
যদি আপনার বড় ভিডিও প্রয়োজন হয় তাহলে কয়েকটা পার্টে স্ক্রিপ্ট চাইবেন। স্ক্রিপ্ট কি? এটা অনেকেই জানেনা যেমন আমি নিজেও জানতাম না। স্ক্রিপ্ট হলো যে গল্পটা আপনাকে সুন্দর করে বানিয়ে দেবে সেইটা। যেহেতু এআই দিয়ে ভিডিও বানালে 8 অথবা 10 সেকেন্ডের বড় ভিডিও বানিয়ে দেয় না। সেহেতু চ্যাট জিপি থেকে বলতে হবে আমাকে এই গল্পটা কয়েকটা পাটে ভাগ করে দাও। যেটা আমি আলাদা আলাদা কপি করে ফ্লোতে অথবা জেমিনিতে গিয়ে পেস্ট করে ভিডিও বানাতে পারি। ভিডিও বানানো হয়ে গেলে, সেটা ক্যাপকাটে গিয়ে জোড়া দিয়ে বড় করবেন।
শেষ কথাঃমোবাইল দিয়ে থ্রিডি কার্টুন এনিমেশন ভিডিও তৈরি করার শেষ পদ্ধতি
মোবাইল দিয়ে থ্রিডি কার্টুন এনিমেশন ভিডিও তৈরি করার পরেসব থেকে জরুরী কাজ হল-যে কাজগুলো এতক্ষন করা হলো সেই কাজগুলো সব ঠিকঠাক আছে কিনা সেটা আবার ভালো করে দেখে নিতে হবে। যদি কোন ভুল ত্রুটি থাকে তাহলে সেটা ঠিক করে নিতে হবে। ছোট ছোট ভিডিও গুলো একসাথে জোড়া দেওয়ার জন্য কেপকাট অনেক ভালো ফলাফল দেয়। অনেক মানুষ মিউজিক ছাড়া ভিডিও দেখতে পছন্দ করে। তাই এক্সপোর্ট করার সময় ১০৮০পি ৩০ এফ পি এস সিলেক্ট করবেন।
আরো পড়ুনঃফ্রিল্যান্সারদের জন্য ডলার রিসিভ করার একাউন্ট খোলার পদ্ধতি
আর একটা কথা ভিডিওর একদম শেষে ২ সেকেন্ডের মধ্যে সাবস্ক্রাইব অ্যানিমেশন রাখতে ভুলবেন না। যারা ভিডিও দেখে তারা চ্যানেলটা সাবস্ক্রাইব করবে। আবার কেউ করবে না।লাস্ট স্টেপ হলো ভিডিও আপলোড আর থাম্বেনেল।ক্যানভা দিয়ে সুন্দর একটা থাম্বেল বানিয়ে নিবেন। থাম্বেল এর উপরে বড় বড় শব্দ দিয়ে লিখবেন। আর youtube ভিডিও আপলোড করার সময় টাইটেলের শুরুতে আপনার কীওয়ার্ড টা রাখবেন।
ডেস্ক্রিপশনে যে গল্পটা লিখেছেন তার দুই লাইন দিবেন আর হ্যাশ ট্যাগ দিবেন। যে বিষয়ে গল্প লিখেছেন সেই বিষয়ে হাস্যাগ দিলে খুব তাড়াতাড়ি ভিডিও রেঙ্কে যাবে ইনশাআল্লাহ। মোবাইল দিয়ে থ্রিডি কার্টুন অ্যানিমেশন ভিডিও তৈরি এ সম্পর্কে বলতে গিয়ে যদি কোন ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকে তাহলে আমাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। আমি এখানে সবকিছুই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি । তারপরেও যদি কোন কিছু বাদ পড়ে যায় তাহলে আমাকে জানাবেন আমি আপনাদেরকে সবকিছু ভালোভাবে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।


আপনি যদি ইচ্ছা পুরন এর কোন পোস্টে কমেন্ট করতে চান, তাহলে এর নীতি মেনে কমেন্ট করুন। কারন প্রত্যেকটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url