নতুনদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার সম্পূর্ণ গাইডলাইন

নতুনদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার সম্পূর্ণ গাইডলাইন দিয়ে ঘরে বসেই নিজের ক্যারিয়ার গড়ুন। কোন ভুলগুলো করলে একাউন্ট ব্যান্ড হয়ে যায়,আর কিভাবে প্রথম অর্ডার ৭ দিনের মধ্যে হয়ে যাবে সেই সম্পর্কে জেনে নিন। 

নতুনদের-জন্য-ফ্রিল্যান্সিং-শুরু-করার-সম্পূর্ণ-গাইডলাইন

প্রথমে মোবাইল দিয়েই শুরু করুন। নতুনটা কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং কোর্সটা শুরু করবে, কোথায় শুরু করবে। আবার কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং কোর্স কাজে লাগিয়ে টাকা ইনকাম করবে কোন প্রসেস দেয়া হলো। ়

সূচিপত্র:নতুনদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার সম্পূর্ণ গাইডলাইন সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো

নতুনদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার সম্পূর্ণ গাইডলাইন এর বেসিক ধারণা

নতুনদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার সম্পূর্ণ গাইডলাইনের প্রথম কথা হল, ফ্রিল্যান্সিং শেখা কোন যাদুবিদ্যা নয়। আপনার আমার মত মানুষই কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং শিখে। তাই এইটাকে কঠিনভাবে না নিয়ে সহজ ভাবে নিতে হবে। ফ্রিল্যান্সিং মানে হল আপনি কোন কোম্পানির ফুল টাইম চাকরি না করে অনলাইনে ক্লায়েন্টের প্রজেক্ট ভিত্তিক কাজ করে দিবেন।যেমন লোগো বানানো আর্টিকেল লেখা ভিডিও এডিট করা ডাটা এন্ট্রি করা এইসব কাজ। কাজ শেষে ডলারে পেমেন্ট করবে। 

তাই ঘরে বসে যদি ইনকাম করতে চান তাহলে মোবাইল পিসি অথবা  ল্যাপটপ দিয়ে কাজ করাজন্য এটা সহজ রাস্তা। এখানে সফল হতে হলে লাগেনা। বিএ এমএ পাস করা লাগে না। আবার ইংরেজিতে অত অভিজ্ঞ লাগে না।শুধু কি লাগে জানেন? শুধু লাগে ইচ্ছা ধৈর্য আর একটা ভালো স্কিল।  আর একটা কথা আপনি যে কাজটা করতে ভালো পারেন বা যে কাজ করতে বেশি ভালোবাসেন সেই কাজটাকে আপনি  সার্ভিস হিসেবে নিয়ে নেবেন। কারণ কোন কিছু করতে গেলে আগে পরিকল্পনা দরকার হয়। পরিকল্পনা ছাড়া কোন কাজ করলে সবকিছুই এলোমেলো হয়ে যায় সফলতা আসে না। 

তাই আপনি যেটাকে পছন্দ করেন সেটাকে ফিভার, আপ ওয়ার্ক এর মত মার্কেটপ্লেসে বিক্রি করবেন। নতুন অবস্থায় অর্ডার পেতে সময় লাগবে। তবে এটাতে তাহলে চলবে না। ধৈর্য ধরে লেগে থাকতে হবে। ধৈর্য ধরেলে দেখবেন ২-৩ টা ভালো রিভিউ আসলে ক্লায়েন্ট নিজেই আপনাকে নক দেবে। তাই শুরুতেই আপনার টার্গেট থাকবে শেখা আর ছোট ছোট কাজ ধরা। প্রথম দিকে কখনো বেশি টাকা ইনকাম করার ইচ্ছা করা যাবে না। সব সময় ভালো ব্যবহার করতে হবে। 

কোন স্কিল দিয়ে শুরু করলে দ্রুত কাজ পাওয়া যাবে

নতুন অবস্থায় এমন স্কিল বেছে নিতে হবে যেটার চাহিদা আছে, কিন্তু শিখতে সময় লাগে না।২-৩ মাসের মধ্যেই শেখা হয়ে যায় এরকম একটা টপিক বেছে নিতে হবে। যেমন কেনভা দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ডিজাইন ছোট ইউটিউব থাম্বেইন বানানো। ফেসবুক পেজের কভার বানানো।এই কাজগুলো করানোর জন্য ক্লাইন্ট প্রতিদিন লোক খোঁজে। আবার প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন লেখা, আর্টিকেল রিরাইটিং করা  ।  ডাটা এন্ট্রি করা।এগুলো এই কাজগুলো করতে ইংরেজিতে খুব পারদর্শী হতে হয় না। 

ইংরেজিতে এক্সপার্ট না হলেও করা যায়। তারপরে ভিডিও এডিটিং আর ডিজিটাল মার্কেটিং এর ছোট ছোট কাজ আছে যেগুলো ১৫ সেকেন্ডের রিলস, সাবটাইটেল দেওয়া। আবার ফেসবুক বুস্টের জন্য কপি লেখা। কোম্পানি এগুলো এখন এই কাজগুলো আউট  সোর্স করে।কারণ তাদের নিজস্ব কোন টিম নাই। তাই যদি দুই সপ্তাহ বা এক থেকে দেড় মাস প্র্যাকটিস করেন আর ৩-৪ টা ডেমো কাজ রেডি রাখেন , তাহলে মার্কেটপ্লেসে অফার আসা শুরু হয়ে যাবে।তাই আর দেরি না করে আজকেই শুরু করেন। 

প্রথম এক মাসেই অর্ডার পাওয়ার প্র্যাকটিকালি প্ল্যান

প্রথম সপ্তাহের কাজ হচ্ছে শুধু শেখা, আর নিজেকে তৈরি করা।আপনি যে কাজটা বেছে নিয়েছেন সেটা নিয়ে ইউটিউব দেখে দুই তিনটা ডেমো পোস্ট  বানান । যেমন ডিজাইন হলে পাঁচটা পোস্ট রাইটিং হলে দুইটা স্যাম্পল। এরপর ফিবার আর আপ ওয়ার্ক সুন্দর প্রোফাইল খুলবেন। ছবি বায়ো গিগ সব নিজের মতো করে সাজান প্রোফাইল তাই আপনার দোকান।।

দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হবে আসল খেলা।  প্রতিদিন ১০ টা করে প্রোপোজাল পাঠাবেন। কপি পেস্ট কখনোই করবেন না কারণ এটা গুগল একদম পছন্দ করে না। ক্লায়েন্টের জব পড়ে তার সমস্যার সমাধান দুই লাইনেই লিখে বুঝিয়ে দেবেন। একই সাথে ফেসবুক গ্রুপ আর লিংক ডইনে নিজের কাজ শেয়ার করেন। বলবেন যে আমি প্রথম তিনজনের জন্য ফ্রি ডেমো দেব। তার পরেরসপ্তাতে থাকবে ফোকাস আর রিভিউ এর উপরে। যদি একটা অর্ডার  পান তাহলেকষ্ট হলেও কাজটা করে দেবেন। 

আগে যদি ডেলিভারি টা দেন তাহলে ক্লায়েন্ট অনেক খুশি হয়ে যাবে। রিভিউ কেমন হলো সেটা জানাতে বলবেন। একটা যদি ৫ স্টার রিভিউ পেয়ে গেলেই অর্ডার নিজে নিজেই আসা শুরু করবে। মোটকথা হল প্রথম মাসের টাকার চিন্তা বাদ দিতে হবে কাজের চিন্তায় মগ্ন থাকতে হবে। যে আমি কিভাবে কাজ করে ক্লায়েন্ট নিয়ে আসবো।    

নিজেই সঠিক কাজের ক্যাটাগরি কিভাবে বাছাই করবেন

ফ্রিল্যান্সিং জগতে অনেক ধরনের কাজ আছে। অনেক ধরনের স্কিল আছে।সব স্কিল একসাথে শেখা সম্ভব না। আবার সব স্কিল দিয়ে ইনকাম করাও সম্ভব নয়। তাই আগে নিজে নিজেকেই প্রশ্ন করবেন, আমি কোন কাজ করতে বোরিং ফিল করিনা? এটা হচ্ছে আপনার নিজেকে এক নাম্বার প্রশ্ন করা।আবার প্রশ্ন করবেন, প্রতিদিন আমার হাতে কত সময় আছে?লাস্ট প্রশ্ন আমি কি দিয়ে শুরু করতে মোবাইল নাকি ল্যাপটপ দিয়ে? 

কারন আপনার যদি লিখতে ভালো লাগে তাহলে কনটেন্ট রাইটিং। যদি ছবির ডিজাইন করতে ভালো লাগে ক্যানভা ডিজাইন। আর যদি কথা বলতে ভালো লাগে তাহলে ভয়েস over বা ভিডিও এডিটিং ট্রাই করবেন। এরপরে মার্কেটপ্লেসে গিয়ে দেখেন কোন কাজের চাহিদা আছে। এইটা অবশ্যই দেখতে হবে কোন কাজ করার আগেই।কারণ আপনি যে কাজ মার্কেট যদি ভালো না থাকে তাহলে আপনার ব্যবসা ভালো হবে না।তাই অবশ্যই মার্কেটপ্লেসে বা বাজারে গিয়ে দেখবেন কোন বেশি আছে। 

শূন্য টাকায় কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শেখা যায়

ফ্রিল্যান্সিং শিখবেন কিন্তু পকেটে টাকা নাই? পকেটে টাকা নাই তাই কি হয়েছে শেখার রাস্তা কিন্তু ঠিকই আছে। এর জন্য দরকার আপনার ইচ্ছা আর ধৈর্য। এখন প্রায় সবার হাতেই স্মার্ট ফোন থাকে সেই স্মার্টফোনকে খারাপ কাজে ব্যবহার না করে, আপনি যদি ইউটিউবে ভিডিও দেখে কোন কাজ শিখতে পারেন তাহলে কিন্তু লাভ আপনারই। এখন সবচেয়ে বড় ফ্রী স্কুল হল  youtube। ক্যানভা পোস্টার ডিজাইন টিউটোরিয়াল বাংলা। ফেসবুক পেজ এটা বাংলা, লিখে সার্চ দেন দেখেন পুর প্লেলিস্ট ধরে ধরে দেওয়া আছে, ভালোভাবে দেখে দেখে মোবাইল বা পিসিতে প্র্যাকটিস শুরু করে দেন। 

আরো পড়ুন :আর্টিকেল লিখে প্রতি মাসে টাকা আয় করার উপায় 

সাথে google আর চ্যাট জিপিটি তো আছেই। কোন কিছু বুঝতে সমস্যা হলে বা বুঝতে না পারলে সে জায়গার স্কিন সট দিয়ে চ্যাট জিপিটিকে দিয়ে দিন তাহলেই সে বলে দেবে কি করা লাগবে। টাকা খরচ না করেও পোর্টফোলিও বানানো যায়। ফেসবুকে ছোট দোকান বার কোচিং সেন্টার আছে না? তাদের বলেন ভাই আপনার জন্য আমি ফ্রিতে বানিয়ে দেই। এভাবে চার থেকে পাঁচটা ডেমো কাজ নিজের কাছে নিয়ে নেন।ফ্রি কোর্সের জন্য Coursera, skill share, ডিজিটাল Garage ব্যবহার করেন। দিনে যদি ২ থেকে তিন ঘণ্টা সময় দেন তাহলে এক মাসে আপনি অনেক ভালো স্কিল শিখে যাবেন। যা আপনার অনেক কাজে দেবে । 

অভিজ্ঞতা ছাড়ায় পোর্টফলিও লেখার নিয়ম

পোর্টফোলিও মানে কি জানেন? পোর্টফোলিও মানে কি যারা  নতুন তারা অনেকে জানেনা। যেমন আমিও জানতাম না আগে পোর্টফোলিও আসলে কি। পোর্টফোলিও হচ্ছে আপনার কাজের খাতা। ক্লাইন্টকে দেখাবেন যে আপনি কোন কোন কাজগুলো করতে পারেন, যেখানে এ কাজগুলো লিখা থাকে সেটাই হচ্ছে পোর্টফলিও। কিন্তু আপনি তো এখন নতুন আপনার কোন ক্লায়েন্ট নাই। আচ্ছা সমস্যা নাই,আপনি নিজেই এখন নিজের ক্লায়েন্ট হয়ে যান। ধরেন আপনি ডিজাইন শিখছেন তাহলে আপনার পছন্দের একটা চায়ের দোকানের জন্য সুন্দর একটা পোস্ট বানান। আবার একটা ইউটিউব চ্যানেলের জন্য থাম্বেল বানান।

 এইগুলোকে বলে ডেমোকাজ এইগুলো জমিয়ে একটা ফোল্ডারে রাখলেই সেটা আপনার পোর্টফোলিও। আর একটা সহজ উপায় হল ফ্রি কাজ করে দেওয়া। আপনি যখন নতুন অবস্থায় তখন তো কোন কাজ পাবেন না, তাই নিজে থেকেই ক্লায়েন্টদেরকে বলবেন আমি ফ্রি কাজ করে দিচ্ছি। আবার যদি কোন বন্ধুর বাবার থাকে তাহলে বলবেন যে চাচা আমি আপনার দোকানের জন্য ফেসবুকে ফ্রিতে কভার পেজ বানিয়ে দেই। যখন কাজ সম্পন্ন শেষ হয়ে যাবে তখন কাজটা আর একটা স্ক্রিনশট নিয়ে গুগল ড্রাইভে আপলোড করে লিংক বানিয়ে রেখে দেবেন। এটাই হচ্ছে আপনার পোর্টফলিও। ক্লায়েন্ট যখন দেখবে আপনার হাতে কয়েকটা সুন্দর  কাজ আছে, তখন আর  জিজ্ঞেস করবে না আপনার অভিজ্ঞতা কত বছরের। 

প্রথম এক মাসে অর্ডার পাওয়ার প্র্যাকটিক্যালি উপায়

প্রথম মাসে বড় বড় স্বপ্ন না দেখে, ছোট কাজ ধরতে হবে। তাই মার্কেটপ্লেসে গিয়ে ডাটা এন্ট্রি প্রোডাক্ট লিস্ট, লোগো, রিমুভ ব্যাকগ্রাউন্ড, এই টাইপের সহজ জব গুলো খুঁজবেন। এগুলোতে কম্পিটিশন অনেক কম থাকে। ক্লাইন্ট কি চাইছে সেটা দুই লাইনে বুঝিয়ে বলবেন। যেমন আপনার ৫০ টা ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড আমি ২৪ ঘন্টায় ক্লিন করে দিতে পারব। যখন মানুষ দেখবে যে আপনি কাজটা ভালোভাবে বুঝেন। তখন আপনার কাজটা তখন মানুষ রিপ্লাই দেওয়ার আগ্রহ করবে। 

মার্কেটপ্লেস এর বাইরে ও অনেক সুযোগ আছে। যেমন ফেসবুকে উদ্যোক্তা গ্রুপ, বিজনেস গ্রুপ, এই গ্রুপগুলোতে জয়েন হবেন। ওইখানে অনেকেই পোস্ট দেয়,বলে কেউ  পেজের পোস্ট বানিয়ে দিতে পারবেন?তখন সাথে সাথেই কমেন্টের একটা ফ্রি স্যাম্পল দিয়ে দেবেন। আর পরিচিত মানুষদের বলেন আপনি এখন অনলাইনে কাজ করেন। আপনার কাজের কয়েকটা ছবি হোয়াটসঅ্যাপে স্ট্যাটাসে দিয়ে দিবেন। বিশ্বাস করেন প্রথম অর্ডার টা বেশিরভাগ আত্মীয় বা গ্রুপ থেকেই আসে। তাই কাজগুলো একটু ভালোভাবে দেওয়ার চেষ্টা করবেন। যাতে দ্বিতীয়বার কোন কাজ করার জন্য আপনাকে খুজে। 

নতুন অবস্থায় কাজের রেট কিভাবে ঠিক করবেন

নতুন অবস্থাতে অনেকেই ভাবে যে, আমি তো নতুন কম দিয়ে কমরেড ধরে কাজটা করে দেই। এটা কিন্তু একটা ভুল কারণ কি জানেন? শুরুতেই একদম কমরেড ধরলে পরে দাম বাড়ানো কিন্তু কঠিন হয়ে যায়।আবার বেশি চাইলে ক্লাইন্ট ভয় পেয়ে যায়। তাই রেট এমন ভাবে চাইতে হবে যাতে মাঝামাঝি  পজিশনে থাকে রেটটা। কমও না বেশিও না মার্কেটপ্লেস দিয়ে দেখেন আপনার মত নতুনরা একই কাজেরজন্য কত করে নিচ্ছে। দাম দেখে আসার পরে আগের থেকে ধরবেন। কারণ কি আপনি হচ্ছেন নতুন আপনার এখন সব থেকে বড় প্রয়োজন ক্লাইন্ট টাকা না। 

যেমন সবাই যদি ১০ ডলার চায় আপনি চাইবেন ৭ ডলার। আর সাথে বলবেন এইটা আমার ইন্টো অফার, ফ্রি রিভিশন  থাকবে, ক্লাইন্ট অনেক খুশি হয়ে যাবে আর আপনাকে ভালো মনে করবে। রেট ঠিক করার সময় একটা  বিষয় মাথায় রাখবেন ঘন্টা হিসাব না করে কাজ হিসাব করবেন। যেমন একটা লোগো পাঁচ ডলার। দশটা পোস্ট ২০ ডলার এইভাবে প্যাকেজ বানিয়ে নিবেন। ক্লায়েন্টেরও বুঝতে সুবিধা হয়। আর মনে রাখবেন ফ্রিতে কাজ করাবেন না। তাহলে অভ্যাস খারাপ হয়ে যাবে আপনাকে দাম দেবে না। প্রথমে কয়েকটা কাজ একটু কম নিবেন শুধু রিভিউ এর জন্য। যখন একটু বেশি হবে তখন আস্তে আস্তে আপনি রেট বাড়িয়ে দেবেন। এর সাথে সাথে আপনার স্কিলটাও বাড়বে। 

ক্লায়েন্টের সাথে প্রফেশনাল যোগাযোগ কেমন হওয়া উচিত

নতুনদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার সম্পূর্ণ গাইডলাইন থেকে বুঝতে পারলাম যে ক্লায়েন্টের সাথে কথা বলার সময় ভদ্র আর পরিষ্কার কথা বলতে হবে। কারণ ক্লায়েন্ট সবসময় একুরেট কথা পছন্দ করে। আবার যদি কাজ না বুঝতে পারেন তাহলে, লজ্জা না পেয়ে সরাসরি জিজ্ঞেস করবেন ভাই লোগর কালার কি ব্লু হবে নাকি গ্রিন হবে?তাহলে ক্লায়েন্ট বুঝবে যে আপনি আসলেই সিরিয়াস কাজ করতে। আবার যদি আপনার রিপ্লাই দিতে দেরি হয় তাহলে আপনি আগে থেকে বলে দেবেন আমি ৩-৪ ঘন্টা পর অনলাইনে আসব। এসব কথা বললে আপনার প্রতি ক্লায়েন্টের বিশ্বাস বাড়বে। 

ডেলিভারির সময় কাজের সাথে ছোট একটা নোট দিয়ে দেবেন। বলবেন আপনার ফাইল রেডি, যদি কোন চেঞ্জ করতে হয় তাহলে আমাকে জানাবেন। আমি সেটা ঠিক করে দেব। এখানে ক্লায়েন্টের সাথে ঝগড়া বা রাগারাগি করা যাবে না। আবার মাথা গরম করেও কথা বলা যাবে না। সবসময় মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে, কারণ আপনি যদি ক্লায়েন্টের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন আর কখনোই আপনার কাছে কোন কাজ দেবে না। মনে রাখবেন, আজকের ক্লায়েন্ট আপনার রিপিট কাস্টমার হয়ে যাবে। ভালো ব্যবহার আর সময় মতো কাজ দিলে মানুষের কাছে আপনার অনেক সুনাম করবে। 

পড়াশোনার পাশাপাশি কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শেখা যায়

ফ্রিল্যান্সিং শিখতে গিয়ে পড়াশোনা বাদ দিলে চলবে না। তাহলে কিন্তু কোনটাই হবে না পড়াশোনা হবে না শেখা যাবেনা। তাই দিন থেকে ছোট একটা সময় বের করে নিবেন। প্রতিদিন এক থেকে দুই ঘন্টা সময় কিন্তু যথেষ্ট। তবে সময়টা যে সুবিধা অনুযায়ী বের করে নিতে হবে। পড়াশোনা শেষ করার পরে মোবাইলে ফালতু সময় নষ্ট না করে মোবাইলে প্র্যাকটিস করবেন youtube ভিডিও দেখে। সপ্তাহে শুক্রবারে দুই ঘন্টা বসে একটা ডেমো কাজ  কমপ্লিট করলে অনেক ভালো হবে। এভাবে আস্তে আস্তে ধাপ  কমপ্লিট করলে দুই মাসে আপনি কাজ শিখে যাবেন। 

তবে তাড়াহুড়া করা যাবে না, অস্থির হওয়া যাবে না, আমার কাজ কেন হচ্ছে না। আমি কবে টাকা ইনকাম করব এইরকম করা যাবে না। পড়ার চাপ যদি বেশি থাকে তাহলে কাজের পরিমাণ বা সময় কমিয়ে দিতে হবে। আবার পরীক্ষার সময় শুধু শেখা বন্ধ রাখেন প্র্যাকটিস টা চালু রাখতে হবে, তা না হলে আবার ভুলে যাবেন। স্কিল ধরে রাখার জন্য প্র্যাকটিসটা চালু রাখতে হবে। মনে রাখবেন রাত জেগে কাজ করবেন না। আগে পড়াশোনা শেষ করবেন তারপরে ফ্রিল্যান্সিং। এভাবে আস্তে আস্তে পড়াশোনার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং চালিয়ে যান এক সময় দেখবেন আপনি অনেক অভিজ্ঞ হয়ে গেছেন। 

নতুনদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার সম্পূর্ণ গাইডলাইন এখন ঘরে বসে

নতুনদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার সম্পূর্ণ গাইডলাইন এখন ঘরে বসে করাই সম্ভব। ঘরে বসে ফ্রিল্যান্সিং মানে বাইরে কোথাও যেতে হবে না। আপনার ঘর, আপনার খাট, আপনার বারান্দা এগুলোই হচ্ছে আপনার অফিস। আর আপনার টেবিলই হচ্ছে আপনার অফিসের টেবিল। এগুলোর যেখানে ইচ্ছা সেখানে বসে থেকে আপনি আপনার কাজ করতে পারেন। প্রথমে ঠিক করে নেবেন আপনি কি কাজ করবেন, যেটা মোবাইল বা কম্পিউটার দিয়ে করা যায়। যেমন ছবি এডিট করা ক্যাপশন লেখা বা ছোট ভিডিও কাটা। প্রথমে ইউটিউবে সার্চ দিয়ে ৪-৫ টাভিডিও দেখে নিবেন। তারপরে নিজে নিজে কয়েকবার ট্রাই করবেন ভুল হলে থামবেন না। 

নতুনদের-জন্য-ফ্রিল্যান্সিং-শুরু-করার-সম্পূর্ণ-গাইডলাইন

এক সপ্তাহ  প্র্যাকটিস করলে কাজটা হাতের আওতাই চলে আসবে। এরপরে নিজে যে কাজটা করেছেন ফোনে সেভ করে রাখবেন কয়েকটা কাজ। এটা আপনার পরে কাজে আসবে। এরপরে কাজের কথা মানুষকে জানাতে হবে, না জানালে তো তারা জানবে না আপনি কাজ জানেন কিনা। কেউ যদি প্রথমে কাজ দেয় তাহলে খুব যত্ন সহকারে করবেন। টাকা একটু কম হলেও আপত্তি করবেন না। টাকা অল্প নিবেন আবার খুব অল্পও নিবেন না, তাহলে ক্লায়েন্টের স্বভাব নষ্ট হয়ে যাবে। আর ফ্রি কাজ না করাই ভালো। ক্লাইন্টের সাথে ভালো ব্যবহার করবেন। ক্লায়েন্ট যদি খুশি থাকে তাহলে উনার মাধ্যমেই আপনি পরবর্তীতে আরো অনেক কাজ পাবেন। 

একটা কাজ থেকে লং টার্ম ক্লাইন্ট বানানোর কৌশল

একটা কাছ থেকে ক্লাইন্টকে রেগুলার কাস্টমার বাড়ানো যায়। তার জন্য কিছু কাজ করতে হবে, যেমন ধরুন কাজ ডেলিভারি  দেওয়ার পরে তাদের  সাথে সম্পর্ক শেষ করে দিলে হবে না । যখন ডেলিভারি দিবেন আর ২-৩ দিন পরে, নিজে থেকেই মেসেজ দিবেন বলবেন ভাই ফাইলগুলো সব ঠিকঠাক মতো কাজ করছে তো। আর কোন সমস্যা হলে আমাকে বলবেন আমি ঠিক করে দেওয়ার চেষ্টা করব। শুধু এই ছোট্ট একটা খোঁজ নেওয়াতেই আপনার প্রতি এত পরিমানে বিশ্বস্ত হবে যা আপনি বুঝতেও পারবেন না। সে অনেক খুশি হবে একজন ভালো মানুষ। 

আরো পড়ুন :ল্যাপটপ বা কম্পিউটার ছাড়া অনলাইন আয়ের  সহজ উপায় 

আর কাজ করার সময় ক্লায়েন্টের বিজনেস নিয়ে দুইটা আইডিয়া দিয়ে দিবেন। যদি আপনাকে পোষ্টের কাজ দেয়, তাহলে আপনি বলবেন ভাই সামনে তো ঈদের জন্য এই টাইপ কন্টেন্ট করলে ভালো রিচ আসবে। তখন ক্লাইন্ট বুঝবে আপনি শুধু টাকার জন্য কাজ করছেন না বরং তার ভালো নিয়ে ভাবছেন। তখন আপনার প্রতি আরো বিশ্বাস বেড়ে যাবে। আরেকটা জিনিস হলো কনসিসটেন্সি আজকে এক রেট কালকে আরেক রেট বলবেন না। কথা দিয়ে সব সময় কথা রাখার চেষ্টা করবেন। 

যে রেটে কাজ করবেন আপনি আগে চিন্তা ভাবনা করে দেখবেন তারপরে বলবেন। পরপর যদি টাকার রেট পাল্টান  তাহলে ক্লাইন্ট আপনার ওপরে বিরক্ত  হয়ে আপনার কাছ থেকে কাজ নেওয়া বন্ধ করে দেবে। মাঝে মাঝে গিফট দেবেন যদি পাঁচটা পোস্ট চায় তাহলে তার সাথে আর একটা দিয়ে দিবেন। আবার তার জন্মদিন একটা সুন্দর ডিজাইন বানিয়ে তাকে উইশ করবেন। মানুষ টাকা ভুলে যায় কিন্তু যত্ন ভোলে না। আপনি যদি এরকম ভাবে তাদের খোঁজখবর নেন তাহলে ছয় মাস বা এক বছর ধরে আপনার সাথেই থেকে যাবে। 

যেসব কারণে একাউন্ট ব্যান্ড হয়ে যায়

অ্যাকাউন্ট ব্যবহার সবচেয়ে বড় কারণ হলো মার্কেটপ্লেস এর নিয়ম না মানা। যেমন ফিবার, আপ ওয়ার্ক এ বাইরে গিয়ে ক্লায়েন্টের সাথে কথা বলা। whatsapp বা বিকাশে  কাছে সরাসরি পেমেন্ট নেওয়া। প্ল্যাটফর্ম এগুলো ধরতে পারলেই সাথে সাথে অ্যাকাউন্ট ব্যান্ড করে দেয়। আবার একই ওয়াইফাই দিয়ে দুই তিনটা একাউন্ট খোলা কপি করা ছবি বার্ডেসক্রিপশন ব্যবহার করা।নেওয়া একটা বড় ভুল।তাই আপনি চালাকি করলেও ধরা খেয়ে যাবেন। 

দ্বিতীয় কারণ হলো ক্লায়েন্টের সাথে খারাপ ব্যবহার করা আর কথা ঠিক না রাখা। তার মানে হচ্ছে আপনি ডেলিভারির যেদিন দিবেন সেদিন না দিয়ে অন্য দিন দেওয়া। ক্লায়েন্টের সাথে ঝগড়া করা, গালাগালি করা সেল করে দেওয়া এত কাজ না দেওয়া এই রিপোর্টগুলো যদি পড়ে তাহলে আপনার অ্যাকাউন্টে স্ট্রাইক পড়ে।এভাবে যদি কয়েকটা স্ট্রাইক পড়ে তাহলে আপনার অ্যাকাউন্ট পার্মানেন্ট ব্যান্ড হয়ে যাবে।আর ভুলেও অন্যের  এনআইডি বা ব্যাংক ইনফো দিয়ে একাউন্ট খুলবেন না । ভেরিফিকেশন এর সময় যদি ধরা পড়ে তাহলে আর কোনদিন ওই নামে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন না। তাই খুব সাবধানের সাথে নিয়ম মেনে কাজ করতে হবে। 

নতুনদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার সম্পূর্ণ গাইডলাইন এর শেষ কথা

নতুনদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার সম্পূর্ণ গাইডলাইন এর শেষ কথা এটাই যে, ফ্রিল্যান্সিং রাতারাতি বড়লোক হওয়ার কোন রাস্তা না। ধৈর্য ধরে লেগে থেকে কাজ করতে হবে। প্রথম এক দুই মাস কাজ নাও পেতে পারেন তাই হতাশ হওয়া যাবেনা। যদি হাল ছেড়ে দেন তাহলে আপনি শেষ। তাই প্রতিদিন একটু একটু নিজের স্কিল বারান প্রোফাইল আপডেট করেন। মানুষের সাথে কথা বলেন। বড় কাজের মাধ্যমেছোট কাজের  সিরিয়াল  নেন। কারণ আজকে ৫ ডলারের ক্লায়েন্ট কালকে ৫০ ডলারের কাজও দিতে পারে। 

আর নিজেকে কখনো অন্যের সাথে তুলনা করবেন না। কেউ এক মাসে সফল হয়, আবার কারো বা ৬ মাস লেগে যায়। আপনার ঘর, আপনার মোবাইল, আপনার ইচ্ছা শক্তি হচ্ছে আপনার আসল পুঁজি। নিয়ম মেনে সময় দেন  সততার সাথে কাজ করেন। দেখবেন একদিন ঘরে বসেই আপনিও অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন। শুরুটা কঠিন কিন্তু থেমে গেলে চলবে না। তাই দেরি নয় আজকেই শুরু করুন নিজের ইচ্ছা শক্তি দিয়ে। 

নতুনদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার  সম্পূর্ণ গাইডলাইন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আলোচনা করতে গিয়ে যদি কোথাও কোন ভুল হয়ে থাকে বা কোন কিছু তথ্য ভুলে যায় তাহলে আমাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। কারণ মানুষ মাত্রই ভুল কেউ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। আমারও ভুল হতে পারে। যদি কোথাও বুঝতেকোন সমস্যা হয় তাহলে আমাকে জানাবেন আমি চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। 



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপনি যদি ইচ্ছা পুরন এর কোন পোস্টে কমেন্ট করতে চান, তাহলে এর নীতি মেনে কমেন্ট করুন। কারন প্রত্যেকটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url