আর্টিকেল লিখে প্রতি মাসে টাকা আয় করার উপায়
আর্টিকেল লিখে প্রতি মাসে টাকা আয় করার উপায় জানতে চান? এখন ঘরে বসে মোবাইল দিয়ে আর্টিকেল লিখে মাসে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা ইনকাম করা যায়। তেমন কোন অভিজ্ঞতা লাগবেনা, শুধু বাংলা লেখা জানলেই হবে।
এই কাজটা স্টুডেন্ট, গৃহিণী সবার জন্যই উপযোগী। দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময় দিলেই মাসে ভালো টাকা আয় করতে পারবেন। তাই দেরি নয় আজই শুরু করতে পারেন ।আগামী মাসে পকেটে টাকা চলে আসবে।
সূচি পত্রঃ আর্টিকেল লিখে প্রতি মাসে টাকা আয় করার উপায় সম্পর্কে লিখে দেওয়া হল
- আর্টিকেল লিখে প্রতি মাসে টাকা আয় করার উপায় এখন অনেক সহজ
- নতুন অবস্থায় কার কাছে আর্টিকেল বিক্রি করবে
- দিন দিন আর্টিকেল লেখার চাহিদা বাড়ছে কেন
- আর্টিকেল লিখতে কি ধরনের টুলস আর সেটাপ লাগে
- আর্টিকেল লেখা আয় করার জন্য কি ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন
- কন্টেন রাইটিং কিভাবে শিখব
- বাংলা আর্টিকেল লিখে টাকা আয় করার উপায়
- ফ্রিল্যান্সিং কন্টেন্ট রাইটিং লিখে কিভাবে টাকা আয় করা যায়
- আর্টিকেল লিখে প্রতি মাসে টাকা আয় করার উপায় এখন হাতের মুঠোয়
- ফেসবুক গ্রুপ থেকে প্রথম ক্লাইন্ট ধরার কৌশল
- নতুন রাইটাররা সাধারণত যে ভুলগুলো করে
- শেষকথাঃ আর্টিকেল লিখে প্রতি মাসে টাকা আয় করার উপায় এর শেষ অনুপ্রেরণা
আর্টিকেল লিখে প্রতি মাসে টাকা আয় করার উপায় এখন অনেক সহজ
আর্টিকেল লিখে প্রতিমাসে টাকা আয় করার উপায় এখন আর স্বপ্ন নয়, একবারে বাস্তব। আগে মনে হতো লেখালেখি করার জন্য অনেক পড়াশোনা জানা লাগে। কিন্তু আসলে তা না যদি লেখালেখি করে টাকা আয় করার ইচ্ছা থাকে এটাই যথেষ্ট। লেখালেখি করার জন্য যেটা দরকার এক নাম্বার হচ্ছে ইচ্ছা দুই নাম্বার মোবাইল ফোন। আপনি যদি শুধু ঠিকমতো বাংলা লিখতে পারেন তাহলে এই আর্টিকেল লেখার কাজটা করতে পারেন। এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লেখা শিখলে ফেসবুক গ্রুপ, ফাইবার ,অ্যাপ ওয়ার্ক এই সব থেকে কাজ নেওয়া যায়।
প্রথমে একটা প্রোফাইল খুলে ৪০-৫০ টার মতো কাজ ধরতে হবে। আস্তে আস্তে যখন ক্লান্তের সাথে ভালো যোগাযোগ আর সম্পর্ক হবে, তখন রিপিট ক্লাইন্ট বেড়ে যাবে। আর রিপিট ক্লায়েন্ট মানেই প্রতিমাসে টাকা। সবচেয়ে মজার বিষয় কি হল জানেন? কনটেন্ট লিখে টাকা ইনকাম করতে এখানে কোন ইনভেস্ট লাগেনা। শুধু লাগে এখানে একটু ধৈর্য আর একটু ভালো কোয়ালিটির কনটেন্ট। প্রথমে জানতে হবে কোন ধরনের কনটেন্টের মানুষের চাহিদা বেশি। সেই কনটেন্ট মনোযোগ সহকারে ভালোভাবে লিখতে হবে।
যদি একটু বুদ্ধি খাটিয়ে নিজের একটা ওয়েবসাইট খুলে ব্লগ কন্টেন্টে লেখা যায়, তাহলে ওখান থেকেও ইনকাম হবে। আবার কনটেন্ট বিক্রি করেও মাসে ডাবল টাকা ইনকাম করা যায়। কিন্তু সমস্যা হল যে কোথায় আর্টিকেল বিক্রি করব কার কাছে করবোএগুলো জানতে হবে। আমার কনটেন্ট এর মধ্যে আমি সবকিছুই বলার চেষ্টা করব। তবে আর দেরি না চলুন আজকে থেকেই ভালো মানের কনটেন্ট লেখা শুরু করি। আর প্রতিমাসে ইনকাম করা শুরু করে দেয়।
নতুন অবস্থায় কার কাছে আর্টিকেল বিক্রি করবে
যারা একবারে নতুন তাদের প্রথম টার্গেটই হবে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস। ফাইবার, upwork, ফ্রিল্যান্সার এই তিনটা সাইটে বিদেশি ক্লায়েন্টরা প্রতিদিন হাজার হাজার কনটেন্ট বা আর্টিকেলের অর্ডার দেয়। এখানে একটা সুন্দর প্রোফাইল খুলে এসইও আর্টিকেল লিখে গিগ দিতে হবে। প্রথমে টাকার দিকে চিন্তা করলে হবে না অল্প টাকা হলেও কাজ ডেলিভারি দিতে হবে। কারণ কি জানেন প্রথমে অল্প টাকার অর্ডার নিয়ে বিশ্বস্ততা লাভ করার পরে, তখন আস্তে আস্তে বেশি টাকা নিলে আর সমস্যা হবে না। তখন ক্লায়েন্ট আপনাকে অনেক বিশ্বাস করবে ।আপনার কাজের প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে, তখন বেশি টাকা চাইলেও তারা দিবে।
মার্কেটপ্লেস ছাড়াও আপনি দেশের ভেতরে ও কাজ করতে পারবেন। ফেসবুক কন্টেন্ট রাইটিং বাংলাদেশ, আর্টিকেল রাইটিং, এইগুলো লিখে সার্চ দিলে অনেক গ্রুপ পাওয়া যায়। সেই গ্রুপগুলো পোস্ট দেয় আর্টিকেল রাইটার লাগবে। তাদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে জব টা নিয়ে নিতে পারেন। তারপরেও নিজের এলাকার ওয়েবসাইটের পেজে মেসেজ দিয়ে জানাতে পারেন। এগুলোর পেমেন্ট নিয়ে ঝামেলা হয় না ।শুরুতে নগদ বিকাশ এগুলোতেই পেমেন্ট দেয়। আর একবার যদি কয়েকজনের সাথে কাজ হয়ে যায় তাহলে উনারাই আপনার কথা অন্যজনের কাছে শেয়ার করবে। এভাবে আস্তে আস্তে অনেক ক্লাইন্ট আপনার হাতে চলে আসবে।
দিন দিন আর্টিকেল লেখার চাহিদা বাড়ছে কেন
আগে একটা ব্যবসার দোকান থাকলেই চলত কিন্তু এখন, আর এখন দোকান না থাকলেও অনলাইনে একটা পেজ বা ওয়েবসাইট থাকাই লাগে। প্রায় অনেক মানুষেরই এখন পেজ আর ওয়েবসাইট আছে। আর গুগলের প্রথম পেজে আসতে হলে প্রতিদিন নতুন নতুন চাহিদা অনুযায়ী আর্টিকেল পাবলিশ করতে হয়। কারণ google এখন অনেক চালাক হয়ে গেছে। আগেকার মত কনটেন্ট কপি পেস্ট করলে সাথে সাথেই ধরে ফেলে। google একদমই পছন্দ করে না কপি কনটেন্ট।
আপনি যেদিকেই তাকান না কেন যেমন facebook, youtube, tiktok, সবাই এসব খোলার পাশাপাশি ওয়েবসাইট খোলে শুধু এডসেন্স আর এফিলিয়েট টাকার জন্য। একটা ওয়েবসাইটে ১০০ টা আর্টিকেল না থাকলে ভিজিটর তেমন আসে না। আর যারা বিভিন্ন ধরনের ব্যবসার সাথে জড়িত আছে তারা নিজেরা কনটন্ট লিখতে পারে ন। কিন্তু তাদের ওয়েবসাইটের জন্য আর্টিকেল অবশ্যই প্রয়োজন। তাই তারা অন্যজনের কাছ থেকে আর্টিকেল লিখে নিজের ওয়েবসাইটে পাবলিস্ট করে। এইজন্য দিন দিন আর্টিকেল লেখার পরিমাণ বেড়েই চলেছে।
এরপর আর একটা কথা বলি যেহেতু এখন এআই দিয়ে মানুষ অনেক কিছুই করতে পারে। তারপরেও মানুষ এমন কি গুগল ও এ আই দিয়ে লেখা পছন্দ করে না মানুষের অরজিনাল লেখাটাই বেশি পছন্দ করে। মানুষ সহজ ভাবে গল্পের আকারে আর্টিকেল করতে বেশি পছন্দ করে। যা চ্যাট জিপিটি তেমন দিতে পারেনা। আর চ্যাট জিপিটি থেকে আর্টিকেল লিখলে google মাসখানেক পরেই সে সাইট ব্যান করে দেয়। আর আগে যেখানে মাসে বারোটা আর্টিকেল লাগতো ওয়েবসাইটে, এখন মাসে ৩০ টা লাগে। তাই কাজের অভাব নেই। আর্টিকেল লেখার ডিমান্ড দিন দিন বাড়তেই আছে।
আর্টিকেল লিখতে কি ধরনের টুলস আর সেটাপ লাগে
আর্টিকেল লিখতে কি ধরনের টুলস লাগে এটা বলতে গেলে আমি প্রথমে বলব একটা মোবাইল অথবা একটা ল্যাপটপ লাগবে তার সাথে নেট সংযোগ অবশ্যই থাকতে হবে। তবে পিসিতে লিখলে এগুলো বেশি ভালো হয়। মোবাইলে কাজ করা যায় তবে একটু লেট হয়। এরপর লাগবে গুগল ডক্স বা এম এস ওয়ার্ড এখানে লিখা মাত্রই অটো সেভ হয়ে যায়। তাই যদি কারেন্ট চলে যায় তাহলেও লেখা হারানোর কোন ভয় থাকেনা। যদি ব্যাকরণ চেক করার প্রয়োজন হয় তাহলে, গ্রামারলি বা ল্যাঙ্গুয়েজ টুল ফ্রি ভার্সন ব্যবহার করতে পারেন।
আর SEO এর জন্য Uber suggest আর Google keyboard planner এটাও ব্যবহার করতে পারেন, এটাও ফ্রি পাবেন। এখন আসি সেটআপ এর বিষয়ে, সেটা বলতে দামি কোন কিছুকে বুঝায় না। সেটাপ বলতে বুঝায় আপনার মাথা ঠান্ডা রাখার উপায় কে বুঝায়। অনেক অনেকেই ভাবে যে চ্যাট ডিপিটি ছাড়া আর্টিকেল লেখা সম্ভব নয়। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। এ আই এর কাছ থেকে বা চ্যাট জিপিটির কাছ থেকে আর্টিকেল লেখার ধারণাটা নিতে পারেন ।তবে পুরো কন্টেন্ট লিখতে হবে আপনার নিজের ভাষায় সহজ করে যাতে মানুষের পড়তে একটুও অসুবিধা না হয়।
আরো পড়ুনঃ চ্যাট জিপিটি ব্যবহার করে ব্লক পোস্ট লেখার সঠিক নিয়ম
নিজের ভাষায় না লিখলে কয়েকদিন পরেই ক্লায়েন্ট আপনাকে বাদ দিয়ে দেব। তাই নিজের ভাষায় সহজ ও সুন্দর করে আঁটিকে লেখার চেষ্টা করবেন। চ্যাট জীবনের কাছ থেকে ধারনা নিতে পারেন ২০ পার্সেন্ট তবে লিখতে হবে আপনাকে। প্রথমে পেইড টুলস গুলো নেওয়ার দরকার নেই। free টুলস দিয়ে প্রথমে কাজ করে মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করা যায়। প্রথম কাজ হচ্ছে কাজ ধরা তারপরে যখন আস্তে আস্তে বেশি কাজ হবে তখন প্রিমিয়াম টুলস কিনে নেবেন।
আর্টিকেল লেখা আয় করার জন্য কি ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন
আর্টিকেল লেখায় করার দক্ষতার কথা শুনলে অনেকেই ভাবে অনেক বড় বড় ডিগ্রী লাগে বা ইংলিশে মাস্টার্স লাগে। কিন্তু আসলে তা না এসব কিছু লাগেনা। আর্টিকেল লিখতে গেলে প্রথম দক্ষতা হল সহজ বাংলা ভাষায় গুছিয়ে কথা বলার দক্ষতা। ক্লাইন্ট চাই আপনি যেন তার কাস্টমারকে বোঝাতে পারেন, যে বিষয় নিয়ে আর্টিকেল লিখছেন সেই বিষয়টা। এখানে বানান ভুল বা অগোছালো বাক্য থাকলে কেউ টাকা দিবেনা। অগোছালো বা বানান ভুল থাকলে যারা আর্টিকেল পড়ে তারা ও পড়তে চাইবে না।
তাই একটা টপিক বা যে কিওয়ার্ড দিয়ে আর্টিকেল লিখবেন সেটা গুগলে দেখবেন কোন ওয়েবসাইট কিভাবে লিখছে কি পয়েন্ট গুলো দিয়েছে। এইসব দেখে কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট বের করে নিজের ভাষায় লিখতে হবে। কপি করলে কখনোই চলবে না। কারণ গুগল কপি করা কনটেন্ট একদমই পছন্দ করে না। তাই নিজের ভাষায় সুন্দর করে লিখতে হবে যাতে সবার নজর কাড়ে। এর সাথে আরো দুইটা জিনিস লাগবে। একটা হল SEO এর সাধারণ ধারণা। এর মানে হচ্ছে টাইটেলে কিওয়ার্ড দেওয়া, সাবহেডিং ব্যবহার করা ,ব্যাস এতটুকু জানলেই হবে।
আর একটা কথা ক্লায়েন্টের সাথে ভদ্রভাবে কথা বলতে হবে। যাতে ক্লায়েন্ট আপনার ব্যবহারে সন্তুষ্ট থাকে। আপনি ক্লায়েন্টকে যে কথা দেবেন সে কথা রাখার চেষ্টা করবেন। আপনি যদি ১০০% ভালো লিখেন তারপরেও যদি তিন চার দিন কাজ দিতে লেট করেন বা রিপ্লাই না দেন, তাহলে কিন্তু পরবর্তীতে আপনি আর ওই কাজটা পাবেন না। তাই লেখার স্কিল, দায়িত্ববোধ এ দুটাই খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই দুইটা maintens করে যদি আপনি কাজ করতে পারেন নতুন হয়েও মাসে ভালো টাকায় করতে পারবেন ।আর আস্তে আস্তে সব কাজ শিখে যাবেন।
কন্টেন রাইটিং কিভাবে শিখব
কনটেন্ট রাইটিং শিখব এ কথা ভাবতে গেলে প্রথমে ইউটিউবার গুগল এর কাছ থেকে দূরে থাকুন। শেখার সবথেকে ভালো উপায় হল লেখা যত লিখবেন ততই শিখবেন। তাই লেখার প্র্যাকটিসটা বেশি করতে হবে। প্রতিদিন ৩০০ শব্দের একটা আর্টিকেল লিখেন যেকোন বিষয় নিয়ে। যেমন রান্না বান্না, মোবাইল, পড়াশোনা, অনলাইনে ইনকাম আপনার যেটা খুশি সেটা সম্পর্কে। হয়তো কারো ভিডিও দেখবেন সেখান থেকে কিছু শিখলে লেখা শুরু করবেন। এভাবে আস্তে আস্তে লিখতে লিখতে আপনার এমন একটা অভিজ্ঞতা হবে যা এক সময় বিশাল অভিজ্ঞতায় পরিণত হবে।
তারপরে ইউটিউবে এসইও, কনটেন্ট রাইটিং বাংলা টিউটরিয়াল এসব লিখে মাঝে মাঝে সার্চ দিবেন ।দুই একটা ভিডিও দেখবেন। ভিডিও দেখে শুধু বসে থাকবেন না, নিজের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু লিখার চেষ্টা করবেন। হেডিং কিভাবে লিখে, প্যারা কত বড় রাখতে হয়, সর্বোচ্চ কয়টা পারা দিতে হয়, একটা বেড়াতে কয়টা লাইন থাকবে। আবার ফোকাস কি ওয়ার্ড পুরো কনটেন্টে কয়বার ব্যবহার করতে হবে এইসব বিষয়গুলো জেনে একা একাই লেখার চেষ্টা করবেন।
তারপরে দ্বিতীয় পদক্ষেপ হলো অন্যের লেখা পড়ে লিখা। তাই বলে কপি করা না। তারমানে বড় বড় ওয়েবসাইটের আর্টিকেলগুলো পড়ে দেখবেন তারা কি লিখেছে, কিভাবে আর্টিকেলটা সাজিয়েছে, আর্টিকেলের ভিতরে কি আছে এগুলো খুব ভালোভাবে খুঁটিয়ে খুটিয়ে দেখবেন। আর সবচেয়ে জরুরী হল ফিডব্যাক নেওয়া। ফেসবুকের রাইটিং গ্রুপে আপনার লেখা পোস্ট করে বলবেন ভাই ভুল ধরিয়ে দেন তো। যখনই কেউ ভুল ধরিয়ে দেবে তখনই আপনি বড় কিছু শিক্ষা পেয়ে যাবেন। এভাবে করতে করতে যখন আপনি অনেকগুলো ভুল থেকে শিক্ষা পাবেন তখন নিজেই বুঝতে পারবেন এখন আপনি কন্টেন্ট লিখে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।
বাংলা আর্টিকেল লিখে টাকা আয় করার উপায়
বাংলা আর্টিকেল লিখে টাকা আয় করা এখন অনেক মানুষের কাছেই বিশ্বস্ত জায়গা হয়ে গেছে। কারণ অনেকেই ইংলিশ পারেনা। অনেকেই ইংলিশ পারেনা ঠিক আছে কিন্তু বাংলা লিখতে পারে ।তাই তাদের জন্য এটা অনেক সহজ একটা উপায় । বাংলাদেশে হাজার হাজার ব্লগার ইউটিউবার আর ই-কমার্স বিজনেসের জন্য প্রতিদিন বাংলা কন্টেন্ট লাগে। আপনি ফেসবুক গ্রুপ টেলিগ্রাম চ্যানেল আর লোকাল মার্কেটপ্লেসে গেলে দেখতে পাবেন যে বাংলা আর্টিকেল রাইটার লাগবে।
প্রথমে ৫০০ শব্দ ১৫০ থেকে ২০০ টাকা রেটে কাজ ধরে নেবেন। কারণ আপনি নতুন আপনার এখন কাজ হচ্ছে কাজ ধরা টাকার দিকে তাকালে হবে না। যখন আপনি ভাল কাজ দিতে পারবেন তখন আপনার কাজের অভাব হবে না তখন টাকার পরিমাণটা বাড়িয়ে দেবেন। এখন পরিচিতি লাভের সময় টাকার চিন্তা পরে করতে হবে। ক্লাইন্ট যখন দেখবে আপনার লিখা ভালো, সহজ ,নির্ভুল তখন আপনাকে মাসে যতগুলো কাজ লাগে সবটাই আপনাকে দেবে। তারমানে আপনি মাসিক কাজটা পেয়ে গেলেন।
সবচেয়ে ভালো দিক হলো বাংলা লেখার কম্পিটিশন ইংলিশের চেয়ে অনেক কম। তাই নতুন রাও খুব সহজেই কাজ পেয়ে যায়। আপনি চাইলে ওয়েবসাইটের প্রোডাক্ট রিভিউ, নিউজ, ব্লগ ,ফেসবুক পেজের পোস্ট বই লিখতেও পারবেন। পেমেন্ট নিয়ে কোন টেনশন নেই। পেমেন্ট সরাসরি বিকাশ-নগদে চলে আসে। শুধু মনে রাখবেন লেখাটা যেন রোবটের মত মনে না হয় , তার মানে এ আই দিয়ে লিখেছেন এটা যেন মনে না হয়। যখন আপনি সহজ ভাষায় লিখে ক্লায়েন্টের বিশ্বাস পেয়ে যাবেন তখন বাংলা লিখে প্রতি মাসে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা ইনকাম করতে পারবেন।
ফ্রিল্যান্সিং কন্টেন্ট রাইটিং লিখে কিভাবে টাকা আয় করা যায়
এটার জন্য আমি সহজ করে বলি আপনার স্কিল তারপরে প্রোফাইল লাগবে একটা তারপরে নক করতে হবে। প্রথমে ফাইবার, অ্যাপওয়ার্ক আর ফ্রিল্যান্সার ডটকমে একটা ফ্রি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। প্রোফাইলে সুন্দর করে লিখবেন আমি বাংলা এসইও আর্টিকেল লিখি। পরে স্যাম্পল হিসেবে দুই তিনটা আপলোড করে দেবেন আর্টিকেল। এরপর প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় দিয়ে ক্লায়েন্টের জব পোস্টে আবেদন করবেন। প্রথমেই ছোট ছোট কাজ ধরবেন ৫ ডলার এরকম।
তারপরে তিন-চারটা রিভিউ পেয়ে গেলেই দেখবেন ক্লায়েন্ট নিজে থেকেই নক দিচ্ছে। আর টাকা সরাসরি ব্যাংক বা পেপালে চলে আসবে। আসলে ফ্রিল্যান্সিং এ টাকা আসে রিপিট ক্লায়েন্ট থেকে। একবার যদি আপনার কাজ কারো কাছে ভালো লেগে যায় তাহলে উনি সবসময় আপনাকে দিয়ে কাজ করানোর চেষ্টা করবে। আর ক্লায়েন্টদের সাথে সবসময় ভদ্র ও ভালো ব্যবহার করতে হবে। আপনি যে কথা দিবেন সে কথা রাখতে হবে ক্লাইন্ট যদি আপনাকে মেসেজ করে রিপ্লাই দিতে হবে। এভাবে কাজ করলে আস্তে আস্তে আপনি বড় কাজ পেয়ে যাবেন।
আর্টিকেল লিখে প্রতি মাসে টাকা আয় করার উপায় এখন হাতের মুঠোয়
আর্টিকেল লিখে প্রতি মাসে টাকা আয় করার উপায় এখন হাতের মুঠোয় কারণ, আপনার আমার পকেটের মোবাইলটাই এখন সব থেকে বড় অফিস। আগে কাজের জন্য শহরে দৌড়াতে হতো। এখানে সেখানে কত মানুষের হাত পা ধরা লাগতো। এখন অনেক কাজ আছে যা অনলাইনের মধ্যেই আপনি ঘরে বসে করতে পারবেন। তার মধ্যে আর্টিকেল বাংলা আর্টিকেল লিখতে জানলে আর একটু ধৈর্য ধরে লেগে থাকলে ঘরে বসেই আপনি টাকা ইনকাম করতে পারেন। facebook youtube ওয়েবসাইট এদের প্রতিদিন বাংলা আর্টিকেল লাগে।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো কি জানেন এখানে কোন ডিগ্রীর দরকার নেই। ভালো ইংলিশ জানার ও প্রয়োজন নেই। ক্লাইন্ট দেখবে আপনার হাতের লেখা সহজ কিনা। কারণ সহজ না হলে মানুষ বুঝতে পারবে না আপনি কি বোঝাতে চাচ্ছেন। তাই কয়েকটা স্যাম্পল বানিয়ে ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করে দেবেন ।ফ্রিল্যান্সিং সাইটে প্রোফাইল খুলবেন। যাতে মানুষ আপনার পোস্ট দেখে বুঝতে পারে যে আপনার লেখাগুলো কেমন। যদি ভালো লাগে তাদের তাহলে আপনাকে নক দেবে কাজে দেবে। তারপরে যখন বিশ্বস্ততা অর্জন করতে পারবেন তখন আপনারা কাজের কোন অভাব হবে না।
ফেসবুক গ্রুপ থেকে প্রথম ক্লাইন্ট ধরার কৌশল
ফেসবুক গ্রুপ থেকে ক্লাইন্ট ধরা সব থেকে বড় কৌশল হল আগে আপনি কেমন কাজ করতে পারেন সেই বিষয়টা তুলে ধরা তারপরে কোন কিছু চাওয়া। তারমানে কাজ দেন লিখে পোস্ট করলে কেউ রিপ্লাই দিবে না। তার বদলে আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটিং জবস বাংলাদেশ,কনটেন্ট রাইটার বাংলাদেশ ,ফ্রিল্যান্সিং হেল্প এই তাই গ্রুপে জয়েন করেন, তারপরে ওখানে স্যাম্পল হিসেবে খুব সুন্দর করে ডিজাইন করে ছবি বানিয়ে পোস্ট দিয়ে লিখেন যে আমি দুইটা ফ্রি আর্টিকেল লিখে দিতে চাই আমার লেখা কেমন হচ্ছে সেটা দেখানোর জন্য।
যাদের খুব প্রয়োজন তারা সাথে সাথে ইনবক্স করবেন। প্রথম কাজটা ফ্রি বা অর্ধেক প্লেটো করলেও কোন সমস্যা নেই। কারণ প্রথমে তাদের বিশ্বাসটা অর্জন করতে হবে। কারণ ওইটার রিভিউ দিয়ে আপনি পরবর্তীতে আরো অনেকগুলো কাজ পেতে পারেন। এটাই হলো বড় কৌশল। তারপরে আর একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে কমেন্টেই ক্লায়েন্ট ধরা যায়। প্রতিদিন গ্রুপে গিয়ে দেখবেন কেউ আর্টিকেল রাইটার লাগবে এরকম কোন পোস্ট দিচ্ছে কিনা। পোস্ট দেখা মাত্র সুন্দর করে কমেন্ট করবেন ভাইয়া আমি বাংলা এসইও আর্টিকেল লিখি।
আরো পড়ুনঃ কম দামের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং শেখার সেরা ওয়েবসাইট
আবার ২৪ ঘন্টার মধ্যে আমি ডেলিভারি দিতে পারব। স্যাম্পল হিসাবে কয়েকটা আর্টিকেল ইনবক্সে দিয়ে দেবেন। ক্লায়েন্ট মানুষ খুব ভাল করে চেনে, কারণ তারা মানুষকে দিয়ে কাজ করে নেয়। যে দ্রুত কমেন্টের রিপ্লাই দিবে ভদ্রভাবে কথা বলবে কাজ কিন্তু তাকেই দেবে। এভাবে বেশ কিছুদিন লেগে থাকতে হবে। এভাবে কাজ করতে থাকলে দেখবেন অল্প কিছু সময়ের মধ্যেই একটানা কয়েকটা ক্লায়েন্ট আপনার হাতের নাগালের মধ্যে থাকবে।
নতুন রাইটাররা সাধারণত যে ভুলগুলো করে
যারা নতুন আর্টিকেল লিখে তারা যে ভুলগুলো করে সেগুলো হচ্ছে, তারা যে কোন কাজে হ্যাঁ বলে দেয়। ক্লাইন ্ট ১০০ টাকায় ১ হাজার শব্দের আর্টিকেল চাইলেও দিতে রাজি হয়ে যায়। তারা ভাবে কাজ হলেই হল এটা যদি না করি তাহলে পরে যদি আর কোন কাজ না আসে। এভাবে যদি করে তাহলে একটা কনটেন্ট লিখতেই২-৩ দিন সময় লেগে যায় কোন লাভ থাকে না। আর একটা বড় ভুল হল ডেড লাইন। ক্লায়েন্ট্ট যদি রাত দশটায় কাজ দেয় , তাহলে বলে কাল সকালেই দেব ভাই। তারপর সকালে আর তার মেসেজ দেখে না।
এরকম যদি করে তাহলে কোন ক্লায়েন্ট আর কোনদিন নক দিবে। তাই কাজ কম নিবেন কিন্তু কথা ঠিক রাখতে হবে ।সময় মত কাজ ডেলিভারি দিতে হবে। আর একটা বড় ভুল হল কপি করে কাজ জমা দেওয়া। গুগল থেকে ২-৩ পোস্ট দেখে যদি কপি করে জোড়া লাগিয়ে দেন বা এআই থেকে লিখে কপি করে পেস্ট করে দেন, তাহলে কিন্তু ধরা খেয়ে যাবেন। কারণ এখন সবাই অনেক চালাক হয়ে গেছে । একবার যদি কপি ধরা পড়ে তাহলে আপনি তো আর কোন কাজ পাবেন না, বরং আপনার দুর্নাম হয়ে যাবে।
আবার অনেকেই আছে টাকা নেওয়ার কথা লজ্জায় বলতে পারেনা। কাজ শেষ করে টাকাটা দেন ভাই এ কথাটা বলতেও কয়েকদিন সময় লাগিয়ে দেয়। এভাবে মুখে লজ্জা নিয়ে কাজ করা যাবে না ,মুখ খুলতে হবে। তাই কাজের আগে অর্ধেক এডভান্স নিয়ে নেবেন। একটা কথা সবসময় মনে রাখবেন ,আপনি তাকে সার্ভিস দিচ্ছেন তার কাছে সাহায্য বা ভিক্ষা চাচ্ছেন না । তাই লজ্জা না করে কাজের আগে অ্যাডভান্স খেয়ে নেবেন, আর যে ভুলগুলোর কথা বলা হল সেগুলো এড়িয়ে চলবেন।
শেষকথাঃ আর্টিকেল লিখে প্রতি মাসে টাকা আয় করার উপায় এর শেষ অনুপ্রেরণা
আর্টিকেল লিখে প্রতি মাসে টাকা আয় করার উপায় এর শেষ অনুপ্রেরণা হল, আজকে যারা প্রতিমাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা ইনকাম করছে, তারাও কিন্তু একসময় আপনার আমার মত নতুন ছিল। আপনি একাই না আপনার মত নতুন। হাজার হাজার মানুষ ছিল যারা আস্তে আস্তে এই অবস্থায় এসেছে। তারাও একসময় আপনার আমার মত ভাবতো মোবাইল হাতে নিয়ে কি ভাবে ইনকাম করা যায়। পার্থক্য শুধু একটাই তারা কখনো থেমে থাকে না আজকের কাজ আজকে করে ফেলেছে।
তারমানে আজকে একটা পোস্ট করে ফেলেছে এরকম ভাবে কাজ করেছে। কাজকে ভালোবেসেছি অধৈর্য হয়নি ধৈর্য সহকারে কাজ করে গেছে। মনে রাখবেন এখানে কেউ কারো বস না। নিজেকে কখনো ছোট মনে করবেন না। এখানে কেউ বকাঝকার নেই কেউ ধমক দেওয়ার মত কেউ নেই। আপনি যত পরিশ্রম করবেন তত পারিশ্রমিক পাবেন। একমাস আগে টাকার জন্য যে টেনশন করতেন এই কাজ করলে সেই টেনশন আর করা লাগবে না ইনশাআল্লাহ।
যাইহোক আর্টিকেল লিখে প্রতি মাসে টাকা আয় করার উপায় সম্পর্কে আমি বিস্তারিত বলার চেষ্টা করেছি। কিভাবে আর্টিকেল লিখতে হয় কিভাবে ক্লায়েন্ট ধরতে হয়, সবকিছুই বলার চেষ্টা করেছি। তারপরেও যদি কোন কিছু বলা বাকি থাকে বা কোন জায়গায় লেখা ভুল থাকে, তাহলে আমাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। কারণ মানুষ মাত্রই ভুল। মানুষ ভুলের উর্ধ্ব নয়। তাই যদি কোথাও বুঝতে অসুবিধা হয় তাহলে আমাকে জানাবেন বুঝিয়ে দেয়ার চেষ্টা করব আমি।


আপনি যদি ইচ্ছা পুরন এর কোন পোস্টে কমেন্ট করতে চান, তাহলে এর নীতি মেনে কমেন্ট করুন। কারন প্রত্যেকটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url