গ্রামের কৃষি পণ্য ফেসবুকে বিক্রি করে ইনকাম

গ্রামের কৃষি পণ্য ফেসবুকে বিক্রি করে ইনকাম করার সেরা উপায়। কোন দোকান ছাড়াই ফেসবুক থেকে কিভাবে অন্যের অর্ডার পাবেন, বা মাসে ভালো টাকা ইনকাম করবেন সম্পূর্ণ দেখুন আজকের এই আর্টিকেলের মধ্যে।  

গ্রামের-কৃষি-পণ্য-ফেসবুকে-বিক্রি-করে-ইনকাম

ভূমিকাঃগ্রামের কৃষি পণ্য ফেসবুকে বিক্রি করে ইনকাম করা সত্যি সম্ভব? নাকি এটা শুধু ফেসবুক মামা আর চাপাবাজি। এই প্রশ্ন এখন হাজার হাজার তরুণদের মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। সত্যি কথা বলতে, এটা এখন বাংলাদেশের সব থেকে সহজে এবং লাভজনক ব্যবসা। 

গ্রামের মানুষ ভেজাল খেতে খেতে অতিষ্ট হয়ে গেছে। এখন তারা খোঁজে গ্রামের খাটি জিনিস। শহরের মানুষ খাঁটি সরিষার তেল, মধু আবার খেজুরের গুড় এগুলো বেশি টাকা হলেও কিনে নেয় কারণ এখন খাটি জিনিস পাওয়াটা ভাগ্যের বিষয়। সত্যি কথা বলতে কি,শহরের মানুষ যদি এক মুঠো শাক পায় সেটাও তারা অনেক খুশি মনে গ্রহণ করে গ্রামের টাটকা শাক খাব। 

আপনার গ্রামে থাকা সামান্য পুণ্য দিয়ে আজকে থেকে শুরু করুন আপনার এই নতুন ব্যবসাটা। এর জন্য কোন দোকান ভাড়া দেওয়া লাগবে না আবার পুজিও খুব বেশি লাগবে না। শুধু একটা স্মার্ট ফোন আর সঠিক গাইডলাইন তাহলে আপনি সফল হতে পারবেন। আজকের এই আর্টিকেলে আমি দেখাবো কিভাবে মাসে বিশ হাজার থেকে ত্রিশ হাজার টাকা গ্রামে বসে ইনকাম করতে পারবেন কৃষি পণ্য বিক্রি করে। 

সূচিপত্রঃগ্রামের কৃষি পণ্য ফেসবুকে বিক্রি করে ইনকাম, এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো 

গ্রামের কৃষি পণ্য বিক্রি করে ফেসবুকে ইনকাম করতে কি কি লাগে

গ্রামের কৃষিপূর্ণ বিক্রি করে ফেসবুকে ইনকাম করতে তেমন বেশি কিছু লাগে না। 

  • একটা স্মার্ট ফোন লাগবে তার সাথে নেট সংযোগ থাকতে হবে। 
  • আপনার গ্রামে খাঁটি পণ্যের উৎস থাকতে হবে। সেটা আপনি নিজে করতে পারেন অথবা আপনার এলাকার কৃষকদের কাছে থেকে কিনেও নিতে পারেন। 
  • যেহেতু ফেসবুকে পণ্য বিক্রি করবেন তাই প্রফেশনাল ফেসবুক পেজ লাগবে। পেজের নাম এমন সুন্দরভাবে দিবেন যাতে মানুষ একবার দেখলেই বিশ্বাস করে। 
  • আর ফেসবুক পেজের কভার ফটো টা দিবেন যে পণ্য নিয়ে কাজ করবেন সেই পণ্যের আসল ছবি যেটা আপনি নিজে করছেন। 
  • ফেসবুক পেজের ওপরে এমন আকর্ষণীয় কিছু লিখবেন, মানে facebook পেজের নাম দিবেন রাজশাহীর খাঁটি পণ্য অথবা গ্রামের বাজারের খাঁটি পণ্য  
  • আর অবশ্যই বিকাশ অথবা নগদ একাউন্ট খুলে নিবেন নিজের আইডি কার্ড দিয়ে। 

এই কয়েকটা জিনিস যদি রেডি থাকে তাহলে আপনি ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। 

ফেসবুকে বিক্রির জন্য ১০ টি লাভজনক কৃষি পণ্য

ফেসবুকে বিক্রির জন্য কিছু কিছু পণ্য আছে যা অনেক লাভজনক সেগুলো হলো -

  1. ঘানি ভাঙা খাঁটি সরিষার তেল। বলতে পারেন এটা এখন ফেসবুকে এক নাম্বার বিক্রি হওয়ার পণ্য। 
  2. চাষ করা খাটি মধু। এখন অরজিনাল মৌমাছির চাক পাওয়া খুব কঠিন। এগুলো এখন দেখা যায় না বললেই চলে। তাই এখন অনেকেই মধুর জন্য মৌমাছি চাষ করে। সেই চাষ করা মৌমাছি থেকে মধু পাওয়া যায় বিভিন্ন ফুল যেমন সরিষা খেতে  এরকম বেশি দেখা যায়। 
  3. খেজুরের খাঁটি গুড় ও পাটালি, এটার কথা আর কি বলব শীত আসলেই মানুষ খাঁটি খেজুরের গুড় পাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে থাকে পিঠা পুলি করে খাওয়ার জন্য। খেজুরের গুড় রাজশাহী, নাটোর, যশোর এগুলোতে খুব বিখ্যাত। 
  4. গরুর খাঁটি দুধের গাওয়া ঘি,ঘি ছাড়া যেন বাঙালির চলে না। আর একটু খাঁটি ঘি পাওয়ার জন্য শহরের মানুষ হন্য খোঁজে, দাম বেশি হলেও খাঁটি জিনিসটাই কিনে। 
  5. হাতে তৈরি আখের লাল চিনি, এখন চিনিতেও ভেজাল, তাই মানুষ এখন লাল চিনি খোঁজে সেটা ভেজাল ছাড়া। 
  6. বিভিন্ন ধরনের ডাল মসুর, কালাই, খেসারি -এইসব ডাল গ্রামের মানুষ বাসাতেই সবকিছু করে বাড়ির জিনিস খাওয়ার স্বাদই আলাদা। 
  7. লাল চাল, বাদামি চাল, কারো জিরা চাল, বাজারে যেমন ভেজাল জিনিসের ছড়াছড়ি হয়েছে, তেমন মানুষও অনেকটাই চালাক হয়েছে তাই স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রেখে তারা সাদা চালটা খেতে চায় না। 
  8. হলুদ মরিচ ও ধনিয়ার খাঁটি গুড়া, কি আর বলব বাজারে এখন একটা জিনিসের মধ্যে ভেজাল। সেজন্য এখন অনেকেই গ্রাম থেকে হলুদ মরিচ ও ধনিয়ার গুড়া নেওয়ার চেষ্টা করে। আর এখন এগুলো অনলাইনে প্রচুর পরিমাণে বিক্রি হয়। 
  9. সিজিনাল ফল যেমন, রাজশাহীর আম দিনাজপুরের লিচু এগুলো অনলাইনে প্রচুর পরিমাণে দিতে হয়। 
  10. হাতে ভাজা মুড়ি ও চিড়া, বর্তমানে হাতে ভাজা মুড়ি ও চিড়া নেই বললেই চলে। আমরা মেশিনে ভাজা মুড়ি খেতে খেতে হাতে ভাজা মুড়ির স্বাদটাই ভুলে গেছি। তাই হাতে ভেজে যদি মুড়ি বিক্রি করা যায় তাহলে সব  হুমরি খেয়ে পড়বে ভাজা মুড়ির স্বাদটা অনেক বেশি। 

সঠিক কাস্টমার কিভাবে খুজে বের করবেন

ফেসবুকে ব্যবসা করতে গেলে কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হয় তাছাড়া ব্যবসাতে সফল হওয়া যায় না। আপনি সবার কাছে পণ্য বিক্রি করতে পারবেন না অনেকেই অনেক ধরনের প্রতারণা করবে। তাই আপনাকে টার্গেট করতে হবে শহরে থাকা মানুষ, প্রবাসীর পরিবার, স্বাস্থ্য সচেতন মা আর যারা খাঁটি খাবার খেতে ভালোবাসে তাদেরকে। 

আর তাদেরকে খুঁজে পাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের গ্রুপ আছে যেমন ক্রয় বিক্রয় গ্রুপ আরো গ্রুপ আছে সেগুলোতে আপনি, সেই গ্রুপগুলোতে আপনি বিক্রয়ের পোস্ট না দিয়ে তথ্যমূলক পোস্ট দিবেন। যেমন ধরুন - খাঁটি সরিষার তেল চেনার উপায়, খাঁটি মধু চেনার উপায়,খাঁটি গাওয়া ঘি চেনার উপায় এসব কথা বললে মানুষ অনেক আকর্ষিত হয়। আর মানুষ আপনাকে অনেক বিশ্বাস করবে খুব সহজেই। 

বিশ্বাস বাড়ানোর জন্য করণীয় কি

অনলাইনে ব্যবসা করা মানে বিশ্বাস মূল পুঁজি। আপনার ওপরে যদি বিশ্বাসটা না আসে তাহলে কাস্টমার কখনোই আপনার কাছ থেকে কোন পণ্য নিবে না। তাই আগে আপনাকে কাস্টমারের অর্জন করতে হবে। তাই নতুন অবস্থায় বিশ্বাস বাড়ানোর জন্য কয়েকটি কাজ করবেন। 

  • প্রতিটি ডেলিভারির সময় একটি ধন্যবাদ কার দিবেন 
  • কাস্টমার যে রিভিউগুলো দিবে সেগুলো ভিডিও আকারে ফেসবুকে পোস্ট করবেন। 
  • লাইভে এসে আপনার পণ্য দেখাবেন তাহলে মানুষ এর বিশ্বাসটা আরো বেশি হবে আপনার পণ্যের প্রতি। 
  • এটা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কখনোই খারাপ পণ্য দিবেন না কারন একটা খারাপ রিভিউ আপনার ২০টা ভালো রিভিউতে নষ্ট করে দেবে। 

পন্যের ছবি ও ভিডিও কিভাবে করলে লাভ বেশি হবে

একটা কথা মনে রাখবেন মানুষ ফেসবুকে প্রথমে ছবি দেখে পণ্যের ছবি দেখে তারপরে ক্যাপশন পড়ে। তাই অবশ্যই যখন ছবি তুলবেন তখন দিনের আলোতে পরিষ্কার ছবি আসে সেভাবে তুলবেন।। মানুষ অন্ধকার অন্ধকার ছবি পছন্দ করবে না। আপনি যদি সরিষার তেল নিয়ে কাজ করেন তাহলে সরিষার তেলের বোতলের সাথে সরিষা ক্ষেতের একটা ছবি দিবেন। 

আরো পড়ুনঃপ্রফেশনাল ভিডিও এডিটিং শেখার ফ্রি অ্যাপস 

আবার আপনি যদি মধু নিয়ে কাজ করেন মধুর একটা কাঁচের জার তার পাশে এর একটা ছবি দিবেন। এভাবে করলে কাস্টমার অনেক বিশ্বাস করে। যদি সম্ভব হয় তাহলে পাশে ছোট একটা তৈরি ভিডিও দিবেন। মানুষ ছবি থেকে দেখে বিশ্বাস বেশি করে। আর পণ্য বিক্রি হয় বেশি। তাই আপনার হাতে থাকা মোবাইল দিয়ে সুন্দর করে ৩০ সেকেন্ডের মতো একটা ভিডিও করে পোস্ট করে দেবেন যেকোনোটা নিয়ে কাজ করছেন সে পণ্যটা সম্পর্কে। 

গ্রামের কৃষি পণ্য ফেসবুকে বিক্রি করে ইনকাম নিয়ে সফল হওয়ার গল্প

গ্রামের কৃষি পণ্য ফেসবুকে বিক্রি করে ইনকাম নিয়ে সফল হওয়ার কথা বলতে গেলে আমি বলব রাজশাহীর তানভীর ভাইয়ের কথা, তিনি আগে একবারে বেকার ছিলেন। তারপরে তিনি তার গ্রামের খেজুরের গুড় নিয়ে ফেসবুক পেজে একটা পোস্ট করলেন নাম দিলেন রাজশাহীর খাঁটি গুড়। প্রথম মাসে তার সাতটা অর্ডার আসে। 

তিনি প্রতিটি কাস্টমারের সাথে ভালো ব্যবহার করেন এবং অনেক ভালো সার্ভিস দিলেন আর রিভিউ নিতে বলেন। আর সেই রিভিউ গুলো ফেসবুক পেজে পোস্ট করার পর দ্বিতীয় মাসে অর্ডার আসে ১২০ টি। এখন তিনি প্রতি শীতে শুধু প্রায় তিন লাখ টাকা ইনকাম করেন। তার এই গল্প থেকে বোঝা যায়  সততাই হচ্ছে ব্যবসার মূল পুঁজি। 

কৃষি পণ্য ফেসবুকে বিক্রির আইডিয়া কেন সেরা

কৃষি পণ্য ফেসবুকে বিক্রির আইডিয়া কয়েকটি কারণে সেরা। এর সবথেকে বড় কারণ হলো খাঁটি জিনিসের চাহিদা কখনোই শেষ হয় না। শহরের মানুষ এখন সুপার সপের প্যাকেটজাত পণ্যের থেকে গ্রামের খাঁটি পণ্য সবথেকে বেশি পছন্দ করে। কারণ মানুষ ভেজাল খেতে খেতে বিরক্ত হয়ে গেছে আর বালায় অসুখ-বিসুখ অনেক বেশি হয় তাই মানুষ একটু খাঁটি জিনিসের খোঁজ পেলে সেখানেই ছুটে যায়। 

গ্রামের-কৃষি-পণ্য-ফেসবুকে-বিক্রি-করে-ইনকাম

একটু খাটি জিনিসের স্বাদ নেওয়ার জন্য, খাওয়ার জন্য, সুস্থ  জন্য, তারা বিশ্বাস করে গ্রামের ইসের মধ্যে ভেজাল থাকে না। তারপরের কারণ হলো এ ব্যবসা করতে দোকান ভাড়া লাগে না। ব্যবসা করার জন্য পুজিও তেমন লাগেনা। তৃতীয় কারণটা হলো আপনি সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে খাঁটি পণ্য কিনে বিক্রি করতে পারবেন। আপনার আর কৃষকের মাঝে কোন লোক থাকবে না লাভ যেটা হবে সেটা পুরোটাই আপনার থাকবে। 

অর্ডার নেওয়া ও প্যাকেজিং করা

ফেসবুকে পণ্য বিক্রি করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে অর্ডার নেওয়া। কাস্টমার যখন আপনাকে মেসেজ করবে যতদূর সম্ভব আপনি তাড়াতাড়ি রিপ্লাই দেওয়ার চেষ্টা করবেন। আবার মেসেজের রিপ্লাই প্রথমে শুরু করবেন সুন্দর নম্র ভদ্রভাবে মেসেজ করবেন। অর্ডার কনফার্ম করার সময় নাম ঠিকানা সম্পূর্ণ লিখে নিন সাথে মোবাইল নাম্বারটাও নিবেন। 

তারপরে আসি প্যাকেজিংয়ের ধাপে, প্যাকেজিং খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। তেল মধু বা ঘি যদি হয় তাহলে প্যাকেজিং করার সময় ভালো করে বাবল রেপ দিয়ে মুড়িয়ে ভালো করে প্যাকেটিং করে দিবেন যাতে করে এই তরল পণ্য গুলি লিক না হয়। চাল বা অন্য কোন শুকনো জিনিস হলে পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে প্যাকেটিং করে দিবেন আর প্যাকেটিং এর গায়ে নাম ঠিকানা সবকিছু লিখে দিবেন। 

কাস্টমারের সাথে ভালো ব্যবহার

আপনি যদি অনলাইনে ব্যবসা করতে চান নাকি সব সময় কাস্টমারের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে। কখনো রেগে বা বিরক্ত হয়ে কথা বলা যাবে না। আর একটা কথা মনে রাখবেন একটা কাস্টমারের কাছে একবার জিনিস বিক্রি করে আপনার কাছে শেষ নয়। এই কথাটা মাথায় রেখে ভালো ব্যবহার করবেন। আবার অনেক কাস্টমার আছে ঘার তেরা আপনার সাথে অনেক ফোন ধরে মেসেজে এটা সেটা জিজ্ঞেস করে শেষ পর্যন্ত নিবে না। 

আবার এমনও অনেক কাস্টমার আছে আপনার সাথে অর্ডার কনফার্ম করবে তারপরে মেসেজ ডিলিট করে দিবে, ফোন দিলে ফোন ধরবে না এরকম কিছু বাজে কাস্টমার আছে। তাই বলে খারাপ ব্যবহার করা যাবে না অন্য কাস্টমারের সাথে কারণ ঐগুলাই হচ্ছে আপনার ব্যবসার পুঁজি। তাই একটা কাস্টমার যখন আপনার কাছে থেকে পণ্য কিনবে কিছুদিন পরে মেসেজ দিয়ে জিজ্ঞেস করবেন আপু এমন হলো তাহলে আত্ম বিশ্বাসটা আরও বেড়ে যায়। আপনাকে অনেক ভালো মনে করবে আবার অন্যকেও সাজেস্ট করবে আপনার পণ্যটি নেওয়ার জন্য। 

নতুন ব্যবসায় যে ভুলগুলো করা যাবে না

যারা একদম নতুন ব্যবসা ও নতুন তারা এর বসে কিছু কিছু ভুল করে ফেলে না করাই উচিত সেগুলো হলো -

  • খারাপ কোয়ালিটির পণ্য দেওয়া। 
  • দাম বেশি রাখা। 
  • মেসেজের রিপ্লাই দেরিতে দেওয়া। 
  • একই ছবি বারবার পোস্ট করা। 
  • !কাস্টমারের সাথে খারাপ ব্যবহার করা। 
  • ডেলিভারি চার্জ লুকিয়ে রাখা 
  • অল্পতেই ধৈর্য হারিয়ে ফেলা। 

যারা নতুন তারা এই ভুলগুলো গুলো কখনোই করবেন না। তাহলে আপনার দ্বারা আর ব্যবসা করা সম্ভব হবে না তাই সব কিছু জেনে বুঝে তারপরে একটা ব্যবসা শুরু করবেন তাহলে টিকে থাকতে পারবেন ইনশাল্লাহ। 

কুরিয়ার ও ডেলিভারি সমস্যার সহজ সমাধান

একটা ব্যবসা শুরু করা বললেই শুরু করা নয়। তাই আপনি যে কোন ব্যবসা করেন না কেন প্রথমে ভালোভাবে চিন্তা ভাবনা করবেন পরিকল্পনা একটা ব্যবসা দাঁড় করাবেন। পণ্য কিভাবে কিনবেন কিভাবে কাস্টমার হ্যান্ডেল করবেন কিভাবে পণ্যগুলো কুরিয়ার সার্ভিসে দিবেন। সাপ্লায়ার ভালোভাবে পণ্য পৌঁছাতে পারবে কিনা সব কিছু বিচার করে পরে আপনি একটা ব্যবসা করতে শুরু করবেন।  

তাই প্রথমেই আপনি সুন্দরবন, এস এ পরিবহনে পাঠাতে পারেন। তাদের সাথে কথা বলে মার্চেন্ট একাউন্ট খুলে নিন তাহলে আপনার জন্য অনেক ভালো হবে। এতে করে ডেলিভারি চার্জ কম পড়বে। যদি ঢাকার ভিতরে হয় তাহলে হোম ডেলিভারি দিবেন আর যদি ঢাকার বাইরে হয় তাহলে সার্ভিস থেকে নিতে বলবেন। আর একটা কথা পণ্য পাঠানোর পরে কাস্টমারকে ট্রেকিং নাম্বার দিয়ে দিবেন। 

মাসে ৩০ হাজার টাকা আয়ের বাস্তব হিসাব

আপনি যদি ইচ্ছা করেন আর ধৈর্য ধরে লেগে থাকতে পারেন তাহলে মাসে ৩০ হাজার টাকা আপনার পক্ষে কোন ব্যাপার হবে না আপনাকে দিয়েই ৩০ হাজার টাকা ইনকাম করা সম্ভব হবে। মনে করুন, আপনি প্রতিদিন ১০ কেজি সরিষার তেল বিক্রি করেন আর প্রতি কেজিতে ১০০ টাকা আপনার লাভ থাকে। তাহলে একদিনে আপনার লাভ হচ্ছে ১০০০ টাকা।  

তাহলে মাসে হয় ৩০ হাজার টাকা। আবার এর সাথে যদি অন্য কিছু আপনি বিক্রি করতে চান? মধু বা ঘি যদি জএর সাথে বিক্রি করতে পারেন এই পণ্যগুলো যদি বিক্রি করেন তাহলে মাসে আপনার ৪০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এটা কোন গল্প নয় বর্তমানে সময়ে অনেক ছেলেমেয়েরা এ কাজ করছে। 

গ্রামের কৃষি পণ্য ফেসবুকে বিক্রি করে ইনকাম নিয়ে শেষ কথা

গ্রামের কৃষি পণ্য ফেসবুকে বিক্রি করে ইনকাম করা এখন কোন কঠিন কাজ নয়। এটা শুধু আপনার একটা সাহসের ব্যাপার। অনেকেই মনে করে অনলাইন বিজনেস মানে অনেক টাকার প্রয়োজন অনেক কিছু জানতে হবে। এসব ভেবে অনেকেই অনলাইনে ব্যবসা করে না। সত্যি কথা বলতে কি আপনার গ্রামে যেসব খাঁটি পণ্যগুলো হয় ওইসব বলে হচ্ছে আপনার আসল পুঁজি। 

আরো পড়ুনঃছাত্রদের জন্য প্রতিদিন ৩০০ টাকা আয় করার সহজ উপায় 

আপনি সাহস করে ২০০০ টাকার পণ্য কিনে নিয়েই শুরু করতে পারেন। নিজের একটা ফেসবুক পেজ সুন্দর করে খুলে আপনার পণ্যের পোস্ট দেন ভিডিও দেন। দেখবেন প্রথম যেদিন অর্ডার পাবেন আপনার কতটা আত্মবিশ্বাস আর খুশি লাগে। একটা কথা সবসময় মাথায় রাখবেন বড় বড় উদ্যোক্তারাও কিন্তু একদিনে বড় হয়নি তারা ও কিন্তু একদিন আপনার মত ছোট ছিল। নিজের আত্মবিশ্বাস আর ধৈর্য দিয়ে পরিশ্রম করেছে তাই আজকে তারা একটা বড় সফল উদ্যোক্তা হয়েছে। 

তাই আপনি যদি ধৈর্য ধরে লেগে থাকতে পারেন তাহলে সফলতা আপনার আসবে ইনশাল্লাহ। আর দেরি নয় আজকে থেকেই শুরু করে দেবেন। আর একটা কথা গ্রামের কৃষি পণ্য ফেসবুকে বিক্রি করে ইনকাম এই সম্পর্কে আমি বিস্তারিতভাবে বলার চেষ্টা করেছি তারপরেও যদি কোন কথা ভুল হয়ে থাকে বা পরিচয় তাহলে আমাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

প্রশ্নোত্তরঃ

প্রশ্ন ১ঃকত টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করা যায়? 

উত্তরঃ২০০০ থেকে ৫০০০ হাজার টাকা দিয়েও শুরু করা যায়। 

প্রশ্ন ২ঃডেলিভারি কিভাবে দেব? 

উত্তরঃকুরিয়ারের মাধ্যমে তারা বাড়ি থেকে আপনার পণ্যটি নিয়ে যাবে। 



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আপনি যদি ইচ্ছা পুরন এর কোন পোস্টে কমেন্ট করতে চান, তাহলে এর নীতি মেনে কমেন্ট করুন। কারন প্রত্যেকটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url